আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে ‘রোড ক্র্যাশের অন্যতম ঝুঁকি গতি’ বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাঠপর্যায়ে সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পুলিশের। সেজন্য সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো উদ্যোগ গ্রহণের আগে তাদের পরামর্শ গ্রহণ করা হলে সেটি আরো কার্যকর হবে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মাননীয় কমিশনার (অ্যাডিশনাল আইজিপি) জনাব কৃষ্ণ পদ রায়, বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) মহোদয় আজ ‘রোড ক্র্যাশের কারণ হিসেবে গতি’ শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এ মন্তব্য করেন।

ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে, গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (জিআরএসপি) ৪ ও ৫ জুন দুই ব্যাচে ৭০ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ৪ জন প্রকৌশলীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মান্যবর সিএমপি কমিশনার (অ্যাডিশনাল আইজিপি) জনাব কৃষ্ণ পদ রায়, বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)। এসময় তিনি চট্টগ্রাম নগরীর সড়কগুলোকে নিরাপদ করতে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পুলিশের একার পক্ষে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিরাপদ সড়ক অবকাঠামোর নির্মাণের দায়িত্ব চসিক ও সিডিএ’র এবং যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিআরটিএর মতো অংশীদার সংস্থা রয়েছে। পুলিশ শুধু আইন প্রয়োগ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে। সেজন্য নগরীতে যথাযথ সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবগুলো সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জনাব মাসুদ আহাম্মদ, বিপিএম, পিপিএম এবং জনাব নাসির উদ্দিন, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ)। জিআরএসপি’র সিনিয়র রোড পুলিশিং উপদেষ্টা জনাব রাসেল নাইম্যান ও জনাব পল সিমকক্স প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেন। এই প্রশিক্ষণে তারা রোড ক্র্যাশ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের ভূমিকা, ক্র্যাশের ক্ষেত্রে যানবাহনের উচ্চ গতির ভূমিকা, গতি নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব, গতি নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ও কৌশল এবং রাস্তার পাশের চেকপয়েন্টগুলোর নিরাপদ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদির উপর আলোচনা করেন। এসময় অংশগ্রহণকারীদের হাতেকলমে স্পিড ক্যামেরার ব্যবহারও শেখানো হয়।

প্রসঙ্গত, দেশে রোড ক্র্যাশে মৃত্যু ও হতাহত কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের যানবাহনভেদে সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি হবে ৪০ কিমি/ঘণ্টা, যদিও মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে তা ৩০ কিমি/ঘণ্টা।
কর্মশালায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, পুলিশ পরিদর্শক, ট্রাফিক সার্জেন্ট ও উপ-পরিদর্শক পদবির কর্মমর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালা শেষে মান্যবর সিএমপি কমিশনার অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিআইজিআরএস চট্টগ্রামের ইনিশিয়েটিভ কোঅর্ডিনেটর জনাব লাবিব তাজওয়ান উৎসব, এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর কাজী হেলাল উদ্দিন, ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেটর সুতপা তাসনিম ও কমিউনিকেশন অফিসার মাহামুদুল হাসান।
এর আগে এবছরের মার্চে জিআরএসপি সিএমপির ৭৮ পুলিশ কর্মকর্তাকে রোড ক্র্যাশ তদন্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছিল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কলমাকান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাতজনিত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।৫ মে (মঙ্গলবার) দুপুরে তিনি উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের চিকন মাটিয়া, তেলেঙ্গা ও মেদি বিলসহ দমদমা খাল এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, খারনৈ ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, সমাজসেবক মজিবুর রহমান এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে আছি। ভারী বৃষ্টিপাত শুরুর দিন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জিআর ক্যাশ ও চাল বিতরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকেই এসব সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খালের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পূর্বধলায় বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের দেওটুকোন বাজারে বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১ টায় এ অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান।

পূর্বধলা জোনাল অফিসের ডিজিয়েম মোঃ শাহিনুর আলম জানান, মোট ১২ জনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর মধ্যে চারজন তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার ২০ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি আটজনের কাছে প্রায় এক লক্ষ ৪৩ হাজার ৮০২ টাকা বকেয়া ছিল।

তিনি আরও জানান, জারিয়া, ধলামুলগাঁ ও ঘাগড়া ইউনিয়নের আওতায় মোট ১৩৭টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বেশি বকেয়া বিল আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ