আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

মহানগরীর ১০ পশুর হাট চালু, ক্রেতা নেই

চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬৫টি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে এবার সব মিলিয়ে ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬৫টি কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। এ লক্ষ্যে মহানগরে শুরু হয়েছে কোরবানির পশুর হাট। তবে উপজেলায় এখনও সবকটি হাটের চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি।চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে ১০টি পশুর হাট বসছে নগরে। এর বাইরে জেলার ১৫টি উপজেলায় স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে বসবে আরও দুই শতাধিক হাট। এদিকে, নগরে স্থায়ী-অস্থায়ী হাটের বাইরে অবৈধ হাট প্রতিরোধে মাঠে থাকবেন চসিকের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এই বিষয়ে চসিকের সহকারী ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বৈধ হাটের বাইরে এবার কোনো অবৈধ হাট নগরে বসতে পারবে না। অবৈধহাট প্রতিরোধে আমাদের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। ইজারা দেওয়ার সময় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য আমাদের কিছু শর্ত ছিল, সবগুলো হাটেই সেসব শর্ত নিশ্চিত করা হয়েছে। সব হাটের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে পুরোদমে পশু বেচা-কেনা চলবে।
গতকাল শনিবার বিবিরহাট, নূর নগর হাউজিং স্টেট বাজারসহ নগরের একাধিক পশুর হাট পরিদর্শন করে দেখা যায়, বাজারে কিছু কিছু গরু উঠতে শুরু হয়েছে। বৃষ্টির জন্য অনেক বাজারে বাঁশের কাঠামো দিয়ে তৈরি চালে দেওয়া হয়েছে ত্রিপলের ছাউনি। নিরাপত্তার জন্য বসানো হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা। হাটের ভেতর বৃষ্টিতে কাদা এড়াতে চলাচলের পথে দেওয়া হয়েছে বালি। ইটও বিছানো হয়েছে কোথাও কোথাও। বেশ কয়েকজন শ্রমিককে পশুর বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন তৈরি করা হয়েছে। তবে বাজারগুলো ক্রেতা শূন্য। গরু বেপারী আর কিছু কিছু ক্রেতা ভীড় করেছে। চট্টগ্রামের আশপাশের জেলা ও উত্তরবঙ্গ থেকে গরুসহ নানা কোরবানির পশু নিয়ে আসতে শুরু করেছেন বিক্রেতারা। ভিড় জমাতে শুরু করেছেন ক্রেতা ও উৎসুক দর্শনার্থী। এদিন নগরীর নূর নগর হাউজিং এস্টেট বাজারে কুষ্টিয়া থেকে বেশ কয়েকটি গরু নিয়ে আসেন আব্দুস সামাদ। তিনি বলেন, প্রথম দফায় আমি ১৪টি ষাঁড় এনেছি। খামারে আরও বেশ কিছু গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত আছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে সবগুলো নিয়ে আসা হবে। কিছু গরু ঢাকায়ও পাঠানো হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, এবার সব মিলিয়ে ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬৫টি কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে চট্টগ্রামে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৯ হাজার ৬৩৮টি পশুর চাহিদা রয়েছে সন্দ¦ীপ উপজেলায়। সবচেয়ে কম ১৩ হাজার ৬৯৮টি পশুর চাহিদা রয়েছে নগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকায়। এবার চট্টগ্রামে কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রস্তুত করা হয়েছে সব মিলিয়ে ৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৫১টি পশু। সেই হিসেবে ৩৩ হাজার ৪০৬টি পশুর ঘাটতি রয়েছে এবার। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫১ হাজার ৩৬৬টি পশুর ঘাটতি রয়েছে ডবলমুরিং এলাকায়। আর চাহিদার চেয়ে সবচেয়ে বেশি ১৯ হাজার ১৯১টি পশু উদ্বৃত্ত আছে ফটিকছড়ি উপজেলায়।
সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৩৩ হাজার পশুর ঘাটতি থাকলেও বন্দরনগরীর হাটে আশপাশের জেলা ও উত্তরবঙ্গ থেকে খামারিরা চট্টগ্রামে পশু বিক্রির জন্য নিয়ে আসায় সেই ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬৫টি পশুর মধ্যে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ২৭৬টি ষাঁড়, ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৫৫টি বলদ, ৩৭ হাজার ৮৪৪টি গাভী, ৭১ হাজার ৩৬৫টি মহিষ, ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮৩টি ছাগল, ৫৮ হাজার ৬৯২টি ভেড়া এবং ৪৪টি অন্যান্য পশু রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ