আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম:

থানায় নিয়ে চাঁদা-চেক আদায়, তিন পুলিশসহ ৫ জনের নামে মামলা

চট্টগ্রাম অফিস:

চন্দনাইশ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাদা পোশাকে তুলে থানায় নেওয়া হয় এক মাদরাসা শিক্ষককে। এরপর তাকে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে প্রাণে মারার ভয়ভীতি দেখান। ভয়ে ধারে ওই পুলিশ সদস্যদের এনে দেন এক লাখ টাকা। তাতেও রেহাই মিলেনি। আরও টাকা দাবি করেন তারা। পরে ইসলামী ব্যাংকের দেড় লাখ টাকার খালি স্ট্যাম্পেও সই দিয়ে কোনোমতে ফিরে আসেন ওই মাদ্রাসা শিক্ষক। তবে শুনে আসেন ঘটনা কাউকে বললে মামলায় ফাঁসবার হুংকার।

এমনকাণ্ডের অভিযোগে খুলশী থানার দুই উপ-পরিদর্শক ও এক সহকারী উপ-পরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান জিনিয়ার আদালতে। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ওই শিক্ষক তিন পুলিশসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন, নগরের খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমিত বড়ুয়া, ইকবাল বিন ইউসুফ ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. এমদাদ এবং নগরের খুলশীর আমবাগান এলাকার ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর ও মো. ইয়াসিনকে।

মামলার বাদী আজিজুল হক নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার জালালাবাদ তালিমুল কোরবান বড় মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি ওই মাদরাসার স্টাফ কোয়ার্টারে থাকেন। তার গ্রামের বাড়ি চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী এলাকায়।

মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার পরিচিত মো. তৌফিকের কাছ থেকে গত ৭ এপ্রিল ৪০ হাজার টাকা দিয়ে একটি এয়ারকন্ডিশন (এসি) কেনেন। কিন্তু বিদ্যুতের সমস্যার কারণে সেটি চালু করতে পারেননি। পরে তিনি ওই এসি তৌফিককে ফেরত দিতে চান। তিনি সেটি নিতে দেরি হবে বলায় তার আরেক পরিচিত গোলজার বাবুর মাধ্যমে সেই এসিটি একটি দোকানে বিক্রির জন্য পাঠান। তখন গোলজার বাবু খুলশী থানার আমবাগান এলাকার জাহাঙ্গীর ও ইয়াসিনের মালিকানাধীন উত্তরা রেফ্রিজারেটর নামক দোকানে এসিটি বিক্রির জন্য নিয়ে যায়।

ওই দোকানের লোকজন দাবি করেন, তাদের দোকান থেকে সম্প্রতি চুরি হওয়া কয়েকটি এসির মধ্যে এটিও আছে। তখন বাদী আজিজুল হককেও সেই দোকানে ডেকে নেন গোলজার বাবু। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে জাহাঙ্গীর, ইয়াছিন ও তাদের কর্মচারীরা আজিজুলকে মারধর করেন।

এরইমধ্যে সেখানে সাদাপোশাকে হাজির হন খুলশী থানার এসআই সুমিত বড়ুয়া ও এএসআই এমদাদ। তারা আজিজুলকে পুলিশের গাড়িতে করে থানায় নিয়ে আসেন। এরপর থানা হাজতে নিয়ে আজিজুলকে মারধর করেন তারা।

ওইদিন রাতেই বাদীকে থানায় আটকে রেখে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে এএসআই এমদাদ আড়াই লাখ টাকা নগদ দিলে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে প্রস্তাব দেন আজিজুলকে। পরে বাধ্য হয়ে ৮ এপ্রিল রাত ১টার দিকে আজিজুলের এক বন্ধু এক লাখ টাকা এনে পাঁচ আসামির উপস্থিতিতেই এএসআই এমদাদকে দেন।

এতেও তারা থেমে থাকেননি। বাকি দেড় লাখ টাকার জন্য আজিজুলকে নির্যাতন করতে থাকেন তারা। পরে ইসলামী ব্যাংকের দেড় লাখ টাকার একটি চেকও দেওয়া হয় পুলিশ কর্মকর্তাদের। পরে তারা খালি স্ট্যাম্পেও সই নেন। এই ঘটনা কাউকে বললে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। পরে চেকটি ফেরত চাইলে তারা দেননি। এক লাখ টাকার কথা বললে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীর আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, আদালত বাদীর অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

এ প্রদঙ্গে জানতে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমিত বড়ুয়াকে একাধিকবার কল করা হলেও তার মুঠোফোনের সংযোগ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সৌদিফেরত এক প্রবাসীর ১৬ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় গত ১৯ মে খুলশী থানার উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুমিত বড়ুয়া। বারবার একই থানার পুলিশের বিরুদ্ধে ঘটা এমন সব বিব্রতকর ঘটনায় নগরজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে র‌্যাব সদস্য হত্যা মামলার আরও দুই আসামি গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার নরুমপুর এলাকার শাহজাহান মোল্লা প্রকাশ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মিজান (৫৩) ও সন্দ্বীপ থানার কালাভানিয়া এলাকার মৃত বোরহান উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন (৩৮)।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, র‌্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৫ জানুয়ারি নগরের খুলশী থানার ইস্পাহানি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১৬ নম্বর এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ২৬ জানুয়ারি ভোরে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বগুড়া নিবাস এলাকায় পৃথক অভিযানে সন্দেহভাজন পলাতক আসামি মো. মামুনকে গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাব-৭ জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানোর সময় দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে চারজন র‌্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজন র‌্যাব সদস্যকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।এ ঘটনায় র‌্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ২৯ জনকে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ