নেত্রকোনা:

ইউপি উপনির্বাচনকে ঘিরে বারহাট্টায় বইছে ভোটের হাওয়া

রিপন গুন নেত্রকোনা প্রতিনিধি:

বারহাট্রা:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উপজেলা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদ উপনির্বাচনকে ঘিরে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। ছুটে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ উপনির্বাচনে শূন্য হওয়া চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীক নিয়ে কাজী সাজ্জাদ হোসেন এবং ঘোড়া প্রতীক নিয়ে মনোরঞ্জন সরকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যানার-পোস্টার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এ ছাড়াও হাট-বাজার, চায়ের দোকান ও বিভিন্ন মহলের আড্ডায় জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা, বিতরণ করা হচ্ছে লিফলেট। গণসংযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চালাচ্ছেন ব্যাপক প্রচারণা। প্রার্থীদের পক্ষে চলছে মাইকিং। একই সময়ে প্রার্থীদের একাধিক মাইকিংয়ে সরগরম হয়ে উঠছে গোটা জনপদ।

বারহাট্টা উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদ উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কাজী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদে আমার বড় ভাই কাজী সাখাওয়াত হোসেন সর্বস্তরের জনগণের ভালবাসায় টানা তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি চলতি মেয়াদে সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইয়ের মতো আমিও নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করবো। আমি আশাবাদী জনগণ তারুণ্যের প্রতীক হিসাবে আমাকে প্রথম বারের মতো চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী করবেন ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আমি নির্বাচিত হলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসাবে- ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বারহাট্টা সদর ইউনিয়নের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত “স্মার্ট বাংলাদেশ” গড়ার ভিশন দৃশ্যমান করতে চাই। বারহাট্টা সদর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, উন্নত সমৃদ্ধ স্মার্ট ও আধুনিক পরিষদ গঠনে নিরলস কাজ করে যাবো।

অপর প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান পদে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী মনোরঞ্জন সরকার বলেন, আমি গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ভোটারদের ভালো সাড়া পেয়েছিলাম। এবার আশা করছি সদর ইউনিয়ন পরিষদ উপনির্বাচনে জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।

উপজেলা সদরের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীরই জনপ্রিয়তা রয়েছে। এখনও নিশ্চয়তা দেয়া যাচ্ছে না কে হবেন সদর ইউনিয়ন পরিষদের কান্ডারী?

উল্লেখ্য যে, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে চলতি মেয়াদে সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদ থেকে গত ২১ এপ্রিল পদত্যাগ করেন কাজী সাখাওয়াত হোসেন। পরদিন শূন্য হওয়া চেয়ারম্যান পদে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসাবে ইউপি সদস্য নূরুল আমিনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতির ফেসবুক পোস্ট তীব্র বিতর্ক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিলেট ও হবিগঞ্জে এনসিপি নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের ফেসবুক পোস্ট তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।পোস্টে হামলার পেছনে ‘সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্য’ থাকতে পারে বলে মন্তব্য করায় শুরু হয় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। পরে পোস্টটি সরিয়ে নেয়ার পরও বিতর্ক থামেনি।

একদিকে এপোস্টকে নিয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ একাধিক নেতা জাহিদুল ইসলামের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। মনিরা শারমিন নিজের ফেসবুক পোস্টে জামায়াতের সাম্প্রতিক বিতর্কিত একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে হামলার প্রতিবাদ না জানিয়ে ‘ডিপ প্ল্যান’ খোঁজার প্রবণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

অন্যদিকে, শিবির-সমর্থিত বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জাহিদুল ইসলামের বক্তব্যের পক্ষের পোস্টও যথেষ্ট দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে এনসিপি ও জামায়াত-সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে।

ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে এনসিপি ছাড়লেন মাহমুদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে দল ছাড়লেন এনসিপি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব ইব্রাহিম মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই নিজের ফেসবুকে আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘আমি ইব্রাহিম মাহমুদ, যুগ্ম সদস্য সচিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), কুলাউড়া উপজেলা।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ