আজঃ শুক্রবার ২৬ জুন, ২০২৬

নোয়াখালী:

ঘরে ডুকে যুবককে গুলি করে হত্যার রহস্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন গ্রেপ্তার ২

রিপন মজুমদার স্টাফ রিপোর্টার:

সোনাইমুড়ী:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ জসিম নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের বারাহীনগর গ্রামের পাইকের বাড়ির মৃত মোস্তফা সর্দারের ছেলে মো.লোকমান (৫৫) ও একই ইউনিয়নের সাতঘরিয়া গ্রামের সর্দার বাড়ির শেখ আব্দুল আজিজের ছেলে আশরাফুল ইসলাম রাব্বি ওরফে শেখ রাব্বি (২৪।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সোনাইমুড়ী ও চাঁদপুর থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত মো. জসিম উদ্দিন (৩৫) উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাতঘরিয়া গ্রামের সর্দার বাড়ির মনু মিয়ার ছেলে। গত সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাতঘরিয়া গ্রামের সর্দার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ আসামি রাব্বির বরাত দিয়ে জানায়, দেড় মাস আগে আসামি সায়মনের একটি ইয়ামাহা আর ওয়ান ফাইভ মোটরসাইকেল ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ভিকটিম মৃত জসিম উদ্দিন নিয়ে যায়। পরবর্তীতে এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে জসিম সায়মনের মোটরসাইকেল ও মোবাইল দিয়ে দেওয়ার শর্তে ত্রিশ হাজার টাকা নেয়। টাকা নেওয়ার পরেও মোটরসাইকেল ও মোবাইল না দিলে সায়মন গোপনে জসিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পুলিশ আরও জানায়, গত ১৪ জুলাই মামলার ১ নং আসামি সায়মন তার অজ্ঞাত দুই বন্ধুসহ একটি মোটরসাইকেল যোগে জসিমের বাড়িতে গিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা প্রদানের বিষয় নিয়ে তাকে হত্যার হুমকি ধামকি দিয়ে যায়। ঘটনার দিন ১৫ জুলাই দুপুর ৩টার দিকে ভিকটিম জসিম হঠাৎ তার নিজ বসতঘরে এলে সায়মনকে কল করে জসিমের বাড়িতে আসার সংবাদটি জানায় রাব্বি। এর কিছুক্ষণ পরেই সায়মন একটি মোটরসাইকেল যোগে আরো ২ জনকে নিয়ে জসিমের বাড়িতে যায়। এরমধ্যে সায়মনের বাবা গ্রেপ্তারকৃত আসামি লোকমান অন্য একটি মোটরসাইকেলে ভিকটিম জসিমের বাড়ির সামনে যায়। হঠাৎ বাড়ির ভেতরে গুলির শব্দ হয়। তারপর আসামি সায়মন তার অজ্ঞাত ২ বন্ধুসহ দৌঁড়ে এসে দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।

রাব্বি আরো জানায়, সে ২০ হাজার টাকার প্রলোভনে সায়মনের বড় ভাই দুলালের কথা মতো সায়মনকে ভিকটিম জসিম উদ্দিনের বাড়িতে আসার খবর জানায়।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, মামলা দায়েরের ১২ ঘন্টার মধ্যে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যা মামলার এজাহারামীয় ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে ১৬৪ ধারায় আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। অপর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে মা-মেয়ে হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে আসামি একজন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মা-মেয়ে হত্যা মামলায় গ্রেফতার তেজপ্রিয় বড়ুয়া রিমনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে ২২ জনকে। ঋণের টাকা নিয়ে মতবিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের আরেকটি নজির সৃষ্টি হয়েছে। আনোয়ারায় এই মা-মেয়ে হত্যা মামলার তদন্ত মাত্র ১০ দিনে শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। এর আগে নগরীর বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের মামলা মাত্র ১৩ দিনে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দিয়েছিল পুলিশ।

আনোয়ারা থানার ওসি মোহাম্মদ জুনায়েত চৌধুরী জানালেন, গত বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম আদালতে জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক জুয়েল অভিযোগপত্র জমা দেন।
এর আগে গত ১৩ জুন আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের পূর্ব কন্যারা গ্রামের বড়ুয়াপাড়ায় ছুরি মেরে মা-মেয়েকে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। আহত হয় এনির ছেলে পিয়াস বড়ুয়া (৫)। ঘটনার সময় এনির স্বামী সুজন বড়ুয়া কর্মস্থলে ছিলেন। নগরীর খাতুনগঞ্জে একটি ভবনের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কর্মরত তিনি।
সুজনের বাড়ি ও আসামি তেজপ্রিয়র বাড়ি পাশাপাশি। দুজন সম্পর্কে চাচাতো ভাই। ঘটনার পরদিন ১৪ জুন রাতে তেজপ্রিয়কে পুলিশ পটিয়া থেকে গ্রেফতার করে। হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি।
পুলিশের ভাষ্য, আসামির স্বীকারোক্তি ও নিহত এনি বড়ুয়ার মৃত্যুকালীন জবানবন্দির ভিডিও, ময়নাতদন্ত ও

মেডিকেল প্রতিবেদন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩০৭ ও ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে৷অভিযোগপত্রে হত্যার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, অটোরিকশা কেনার জন্য সুজন বড়ুয়ার কাছ থেকে সুদে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তেজপ্রিয়। ওই ঋণের বিপরীতে স্বাক্ষর করা একটি স্ট্যাম্প এনি বড়ুয়ার কাছে সংরক্ষিত ছিল। ঋণ পরিশোধ নিয়ে সুজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।
এর জেরে স্ট্যাম্পটি এনির কাছ থেকে নিয়ে ঋণের প্রমাণ নষ্ট করতে চেয়েছিলেন তেজপ্রিয়। স্ট্যাম্প নিতে বাধা দেওয়ায় এনি ও প্রিয়ন্তীকে হত্যা করা হয়।

পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার ২৫ জুন, সকালে বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদের হল রুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান ফারুক এর সভাপতিত্বে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ জহির উদ্দিন ভূঁইয়া সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন বোয়ালখালী ইউসিসি (বিআরডিবি) র চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ নুরুন্নবী চৌধুরী।আহলা কড়লডেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হামিদুল হক মান্নান। পৌরসভা বিএনপি সাবেক আহবায়ক শহীদুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক সদস্য সচিব ইউসুফ চৌধুরী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এ এম কামাল উদ্দিন।

সভায় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় দিবসটি আগামী ৬ জুলাই সোমবার সকাল ১১টায় যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাঈম হাসান, উপজেলা সমবায় অফিসার মো. রাসেল চৌধুরী, উপজেলা স প্রা শিক্ষা অফিসার শিবলু দাশ, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ হাসান চৌধুরীসহবিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, সমবায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংবাদিক অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মী।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ