আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী দুঃশাসনের অবসানের পর গনতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রায় একটি গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মানের প্রত্যাশা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গত ৫ আগষ্ট আওয়ামী দুঃশাসনের অবসান পরবর্তী চট্টগ্রামের সর্বশেষ পরিস্থিতি বিষয়ে সোমবার (১২ আগষ্ট) ২০২৪, বিকাল ৩ টায় নগরীর লালখান বাজারস্থ পিট স্টপ রেষ্টুরেন্টের হলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময়ের আয়োজন করা হ‌য়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।এতে তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

লিখিত বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, দেশজুড়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সারাদেশে ছাত্র জনতা মিলে স্বৈরাচারি দুঃশাসনের বিরদ্ধে যে অভূতপূর্ব সংগ্রাম গড়ে তুলেছেন, অনেক রক্ত ও ত্যাগতিতিক্ষার বিনিময়ে সেই সংগ্রাম পূর্ণতা পেয়েছে। গত ৫ আগষ্ট বাংলাদেশের আপামর ছাত্র জনতা অসাধ্য সাধন করেছেন। স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়েছেন। অভূতপূর্ব এক জনবিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। গত ১৫ বছরের আওয়ামী দুঃশাসনের কারণে দেশের ছাত্র জনতার মধ্যে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, এ জনবিস্ফোরণ তারই বহিঃপ্রকাশ। এ গণঅভূত্থান আবারও প্রমাণ করল যে, জনগণের শক্তির কাছে কোনো স্বৈরশাসকই টিকে থাকতে পারে না। দীর্ঘ ১৫ বছর পর আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি ফ্যাসিবাদের অক্টোপাশ থেকে মুক্ত হয়েছে। শত শত ছাত্র জনতার প্রাণের বিনিমযে বাংলাদেশ আজ আবার নতুন করে স্বাধীন হয়েছে। আমরা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি, এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী দুঃশাসনের অবসানের পর গনতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রায় একটি গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মানের প্রত্যাশায় জাতি যখন ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তখনি পতিত স্বৈরাচারের সক্রিয় দোসররা পর্দার অন্তরাল থেকে দুর্বৃত্ত আর সুবিধাবাদীদের ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, দখলদারি, হামলা, লুটতরাজের মাধ্যমে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির অপকর্মে মেতে উঠেছে। এর বহুমাত্রিক কুমতলবের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিজয়ের সুমহান অর্জনকে ম্লান করা, আর গণহত্যা, দুর্নীতি ও লুটপাটের দায় থেকে রক্ষা করার পরিবেশ সৃষ্টি। সর্বত্র ভয় আর আতংকের পরিশের সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে ভুণ্ডুল করা। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার লক্ষ্যে সমাজকে বিভক্ত করাই এই মুহূর্তে তাদের ষড়যন্ত্র। জনগণের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টায়ও তারা মরিয়া হয়ে ওঠেছে। একইসঙ্গে এসব ঘৃণ্য অপরাধের দায় সুকৌশলে বিএনপির উপরে চাপানোর জন্য চেষ্টা করছে। কিন্তু মহান আল্লাহর রহমত আর জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় কুচক্রি মহলের এ অপচেষ্টা প্রাথমিক ভাবে সফল হয়নি।

তিনি বলেন, ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ ধরনের গণ বিপ্লব পরবর্তী কিছু বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য আর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয় না। তবে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, যেভাবে আশংকা করা হয়েছিল তার ছিটেফোটাও সংঘটিত হয়নি। বিএনপি সহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিকদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভাই বোনদের সক্রিয় পদক্ষেপ আর নবগঠিত অন্তবর্তী সরকারের যথাসাধ্য প্রয়াসে দেশ বড় ধরনের বিশৃংখলা ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, দেশের অন্যান্য স্থানের মত চট্টগ্রামেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য পতিত স্বৈরাচারের দোসররা নানা ধরনের জঘন্য অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। প্রতিবেশী একটি দেশের কতিপয় গণমাধ্যম কর্তৃক অব্যাহত অপপ্রচার আর উস্কানীর সাথে পতিত হাসিনা সরকারের এ দেশীয় এজেন্টরা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরুত্থানের অনুকূল পরিবেশ তৈরীর জন্য সাম্প্রাদায়িক কার্ড নিয়ে মাঠে নেমেছে। পতিত সরকারের সময়ও তারা এ কার্ড ব্যবস্থা করে হিন্দু সম্প্রদায়ের সহায় সম্পত্তি লুট করেছিল। আর এখন রাজনৈতিক পুনবার্সনের পথ নিষ্কন্টক করতে শান্তিপ্রিয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মিছিল সমাবেশে ছাত্রলীগ যুবলীগের চিহ্নিত খুনী সন্ত্রাসীদের সংখ্যালঘুর মুখোশে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নৈরাজ্য ও আতংক সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা তাদের সরকার পতন হলে ২-৫ লাখ নেতাকর্মী খুন হবে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় শান্তিতে দেশে থাকতে পারবেনা বলে জুজুর ভয় দেখিয়ে ফ্যাসিবাদ পাকাপোক্ত করার অপকৌশল গ্রহণ করেছিল।

কিন্তু দেশবাসী ও পুরো বিশ্ব দেখলো, গণবিপ্লব পরবর্তী এ ধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি বরং বিএনপিসহ আলেম ওলেমা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভাইয়েরা রাত জেগে সংখ্যালঘুদের পাড়া মহল্লা, মন্দির পাহারা দিয়ে যাচ্ছে। তাদের নিরাপত্তাহীনতার শংকা দূরীভূত করার জন্য চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অব্যাহত ভাবে হিন্দু বৌদ্ধ ধর্মীয় স্থাপনা পরিদর্শন, ধর্মীয় নেতাদের সাথে সৌজন্য বৈঠক করে সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। এ অভূতপূর্ব অসম্প্রদায়িকতা ও আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির নজির দেশ বিদেশে অকুণ্ঠ প্রশংসা পাচ্ছে। হিন্দু ধর্মীয় নেতারা এবং পুরোহিতরা আমাদের এসব প্রয়াসের উচ্চসিত প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, তারা এ পর্যন্ত কোন ধরণের হামলা বা আক্রমনের শিকার হননি। লক্ষ লক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী খুন আর সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে পুরোদেশ কুরুক্ষেত্র বানানোর আওয়ামী অপকৌশল ব্যর্থ হবার পর এখন এ পতিত শক্তি চিহ্নিত খুনীদের জড়ো করে শান্তিপ্রিয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নানা ব্যানার ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা আর গণবিপ্লবের মহান লক্ষ ব্যর্থ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সাময়িক অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় মধ্যরাতে চিৎকার চেচামেচির মাধ্যমে ডাকাতি হামলার ঘটনা ঘটানোর পায়তারা করছে। দলীয় পরিচয়ে সন্ত্রাস, খুন খরাবিসহ নানা অপরাধ অপকর্ম করে অপরাধের দায় থেকে নিজেকে বাঁচাতে ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে আনার “ডাবল আইডেনটিটি” আইনের দৃষ্টিতে যেমন অগ্রহণযোগ্য, তেমনি অপরাধের যারা ভিকটিম তারাও ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের এ অপকৌশল মেনে নেবে না।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসামপ্রদায়িকতার ক্ষেত্রে বিশ্বে অন্যন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটা আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য। বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডের সকল নাগরিকের পরিচয় একটাই আমরা বাংলাদেশী। কখনো সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু বলে কোন কিছুতে আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা এও আশ্বস্থ করতে চাই যে, পরিস্থিতির উত্তরনের পর একটি গনতান্ত্রিক সরকার গঠন হলে বিগত ১৫ বছর ধরে আওযামী লীগ ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা সংস্যালঘু ভাইদের যে সহায় সম্পত্তি অবৈধ ভাবে দখল-লুটপাট করছে তাদের বিচারের উদ্যোগ নেয়া হবে। একই সাথে ছাত্রলীগ, যুবলীগ স্বেচ্চাসেবক লীগের নেতৃত্বে যারা ছাত্র জনতা হত্যা নির্যাতনের অভিযুক্ত চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসিরা যে ধর্মের পরিচয়ই বহন করুক না কেন তারা স্বস্ব অপরাধের দায় থেকে সাম্প্রদায়ীকতার কার্ড ব্যবহার করে কোন ভাবেই রেহাই পাবে না।

এরশাদ উল্লাহ বলেন, ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসন সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। সেজন্য আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে আমরা অতীতের মত আওয়ামী দানবীয় পুলিশ বাহিনী চাইনা। আমরা চাই, মানবীয় পুলিশ প্রশাসন। যারা দেশ ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে এবং পুলিশের আইন অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনার জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ খুবই প্রয়োজন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, বিএনপির নামে কেউ কোন ধরনের অপকর্ম করলে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয় এমন কোনো কাজ কেউ করতে পারবে না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য। তাদের ওপর যে কোনো ধরনের আঘাত প্রতিরোধ করতে হবে। যে কোনো অপপ্রচার ও অপচেষ্টার বিরদ্ধে চট্টগ্রামবাসীকে সচেতন থাকতে হবে। আমরা আমাদের বিজয়ী ছাত্র জনতাসহ চট্টগ্রামবাসীকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

এতে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি নেতা আলহাজ্ব এম এ আজিজ, এডভোকেট আবদুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, হারুন জামান, শফিকুর রহমান স্বপন, নিয়াজ মো. খান, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, মো. শাহ আলম, ইস্কান্দার মির্জা, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, মো. কামরুল ইসলাম, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন প্রমূখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কুতুবদিয়ার তরকারি ব্যবসায়ীকে বাঁচাতে ছোটন চেয়ারম্যান মানুষের দ্বারে দ্বারে, দ্বীপ জুড়ে প্রশংসা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুতুবদিয়ায় বড়ঘোপ বাজারের ফারাজ, পিতা- আবুল কাসেম, দক্ষিণ মগডেইল এক অসহায় তরকারি ব্যবসায়ী পেকুয়া সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। তার পাশে দাঁড়াতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় বড়ঘোপ ইউপি চেয়ারম্যান আ.ন.ম শহীদ উদ্দিন ছোটন। তাঁর সাথে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন বাজার কমিটির সেক্রেটারি জাফর আলম কন্ট্রাক্টর ও সদস্যবৃন্দ।

দীর্ঘদিন ধরে সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা ওই ব্যবসায়ী সম্প্রতি আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি ও আর্থিক সংকটে পড়ে তার পরিবার চিকিৎসার বিষয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগছেন ।এ অবস্থায় তার দুর্দশার খবর জানতে পেরে ছোটন চেয়ারম্যান বড়ঘোপ বাজারের ব্যবসায়ী, বিভিন্ন ব্যক্তি, সমাজসেবক ও বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি ব্যবসায়ীকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা সংগ্রহে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ছোটন চেয়ারম্যান বলেন, “একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবন-জীবিকা রক্ষা করা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। সমাজের সবাই এগিয়ে এলে তিনি আবারও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।” তরকারি ব্যবসায়ী ফারাজের চিকিৎসার জন্য মোট ২,২৫,২৫০/= টাকা আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেছে। ওই টাকা দিয়ে তার চিকিৎসা করা হচ্ছে। সহায়তাকারী সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি বড়ঘোপ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সকল সদস্যবৃন্দকে যারা আর্থিক সহায়তা সংগ্রহের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।

স্থানীয়রা ছোটন চেয়ারম্যানের এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, জনপ্রতিনিধির এমন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং অসহায় মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করবে।এদিকে, ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সদস্যরা সহযোগিতার জন্য ছোটন চেয়ারম্যানসহ সকল শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

চট্টগ্রামে পারিবারিক মন্দির ও সদস্যদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীরতে পারিবারিক ভাবে নিয়মিত দেবদেবীর উদ্দেশ্যে নৈবদ্য প্রদান সহ পূজা অর্চণার সম্পাদনের স্থান শ্রী শ্রী মাতা কামরুপ কামাখ্যা মন্দিরের সাবেক পুরোহিত (সেবায়েত) উৎসব চক্রবর্তী নামের একব্যক্তিকে গুরুতর অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রতারণার দায়ে পারিবারিক সিদ্ধান্তে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করায় সদস্য ও মন্দিরে আগত ভক্তদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ভিডিও এবং অপপ্রচার ও অনলাইনে প্রচার করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মন্দিরের সদস্য ও ভক্তবৃন্দরা।গতকাল সকালে মন্দির প্রতিষ্ঠিত সদস্যদের নীজ ভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মন্দির প্রতিষ্ঠিতা মৃত সুনীল বরণ দেব এর সন্তান ডা: যীশুময় দেব।

এসময় সাংবাদিকদের লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আমার পিতা আসামের নীলাপর্বতে অবস্তিত শক্তিপীঠ কামরূপ কামাখ্যা মায়ের মন্দির দর্শনে যান, সেসময় আমার পিতার ভক্তি বিশ্বাসে মায়ের কাছে প্রতিশ্রুতি দেন যে যুদ্ধ শেষে দেশ স্বাধীন হলে মাকে নিজের গৃহে প্রাণ প্রতিষ্টিত করে পূজো করবেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে নিজ জায়গায় মায়ের প্রতিষ্টা করেন। আমার পিতা স্বর্গীয় শ্রী সুনীল বরন দেব। পরে শ্রী শ্রী মাতা কামরূপ কামাখ্যা মন্দিরের নিত্য দিনে পূজার জন্য একজন পুরোহিতের মাধ্যমে নিত্য পূজা পাঠ চলে আসছে অনেক বছর ধরে।

এমতাবস্থায় ২০২২ সালে পুরোহিতের অনিয়ম অনৈতিক আচরন চুরি সহ নানা অপকর্ম প্রমানিত হলে কর্মরত পুরোহিত ইষান চক্রবর্তীকে মন্দির হতে অব্যহতি দেই। তিনি আরও জানান, উৎসব চক্রবর্তীকে আমি চিনতাম না। সে পূর্বে ইশান চক্রবর্তী মাধ্যমে মন্দিরে মাঝে মধ্যে পূজা করতে দেখতাম। ইশান চক্রবর্ত্তীকে তার কৃতকার্যের জন্য মন্দিরের পূজো হইতে অব্যহতি দিলে একদিন অভিযুক্ত উৎসব চক্রবর্তী আমার কাছে তার পারিবারিক অসচ্ছলতা, বাবা মারা গেছে কাকাতো ভাইয়ের কাছে মানুষ হয়েছে বলে জানায় এবং তার কাছে পূজাপাঠ শিখে এবং আমাদের মন্দিরে পুরোহিত হিসেবে চাকরি করার আগ্রহ প্রকাশ করে। সে এখন বেকার তার একটি চাকরি খুব প্রয়োজন বলে জানায়। তাই তার দারিদ্রতা ও মানবিক দৃষ্টি থেকে চিন্তা করে তাকে আমাদের পারিবারিক মন্দিরে নিত্য দিনের পূজা করতে মাসিক বেতনে নিয়োগ দিই।

তিনি আরও জানান, প্রথম কিছু দিন অভিযুক্ত
উৎসব চক্রবর্ত্তী নিয়মিত ও যতাযত পূজা অৰ্চনা করলেও, কিছুদিন যেতে না যেতে মন্দিরে আমার মাতা একাধিক বার উৎসব চক্রবর্ত্তী আচরনের বিষয়ে অভিযোগ দেন। তারপর উৎসব চক্রবর্ত্তী বিরুদ্ধে পুজোর অনিয়মসহ
নারীদের হেনস্তা ও ভক্তদের মনে ধর্মীয় আবেগে পূজি করে প্রতারনার কথা জানতে পারলে আমি প্রথম দিকে বিষয়টি এত গুরুত্ব না দিলে ভক্তবৃন্দরা বিষয়টি আমাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলেন।

অভিযোগের পরে মন্দিরে তার অবস্থানকালে উৎসব চক্রবর্ত্তীর গতিবিধি সিসি ক্যামেরাই আমি নজরে আনি এবং দেখতে পাই যে, কোনো নারী ভক্ত মন্দিরে আসলে তার সাথে অশালীন আচরণ করতে থাকে। আমার মা উৎসব চক্রবর্ত্তীর বিষয়গুলো উল্লেখ করে তাকে মন্দির হতে চলে যেতে বললে আমার মায়ের উপর ক্ষিপ্ত হন। অনেক ভক্ত অভিযুক্ত উৎসব চক্রবর্ত্তীর বিরুদ্ধে তার অপকর্মের প্রমাণ দেন। সে মন্দিরে ঘটের জল ফুল বিপ্লপত্র বিক্রি করলে আমি তাকে হাতে নাতে ধরি এবং সতর্ক করি। এমনকি সে ভক্তদের কাছ হতে বিকাশে অর্থ নেবার অভিযোগ পাই।

আমাদের পারিবারিক মন্দির নিয়ম নীতি শৃংখলা ও সততার মধ্যে পারিবারিক ভাবে পরিচালিত হয়। তাই ভক্তদের সাথে কোন রকম ব্যবসা, প্রতারনা, বা অনৈতিকভাবে কাজ করার সুযোগ নেই। এছাড়ার আমাদের পারিবারিক মন্দির
সন্ধ্যারাতির পর মায়ের প্রধান দরজা বন্ধ থাকে তাই অন্ধকার জগতের কোন সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, এক পর্যায়ে প্রতারক উৎসব চক্রবর্ত্তী আমাদের পারিবারিক নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করে মন্দিরে তান্ত্রিকতা মাধ্যমে ভক্তদের সাথে পুনরায় প্রতরনা করতে থাকে। এমনকি তার প্রতারণার জন্য আমি তাকে আবার হাতে নাতে ধরি এবং তাকে শেষ বারের মতো সতর্ক করি। কিন্তু সেই তাও কোন গুরুত্ব দেই না।

এর মধ্যে জানতে পারি তার আপন কাকাতো ভাই কাজল চক্রবর্তীর স্ত্রীর সাথে সে পরকীয়য়া শুরু করে। বিষয়টি জানার পর আমি কাজল চক্রবর্তী আনিত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তাকে ডেকে বিষয়টা জানতে চাইলে সে এড়িযে যাবার চেষ্টা করে উল্টো তার ভাইের নামে অভিযোগ করেন। তাই বিষয়টা নিয়ে আমি কর্নপাত না করে আমরা পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নিই এবং তাকে চাকরি হতে অব্যাহতি দিই। বিষয়টি সে জানতে পেরে আমাকে নানান প্রকার ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন ও অভিশাপ দেওয়ার ভয় দেখান। যেহেতু সে দারিদ্র সনাতনী হিন্দু ব্রাক্ষ্মন তাই অভিযুক্ত উৎসব চক্রবর্ত্তীকে তার দুমাসের পারিশ্রমিক অগ্রীম বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় করি।

এসময় তিনি আরও বলেন, আমরা তাকে পারিবারিক সিদ্ধান্তে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করি ২০২২ সালে। এরপর গত ৮ জুন সকালে সামাজিক যোগাযোগে মাধায়ে একটি ভিডিও নজরে আসে। সেখানে দেখতে পাই ৩ বছর আগে বিদায় করা উৎসব চক্রবর্তী হঠাৎ করে কেন বা কি উদ্দেশ্য আমার ও আমার পরিবারিক মন্দিরকে নিয়ে কুৎসা, নোংরা কুঠক্তি প্রচার করছে। এছাড়া অভিযুক্ত উৎসব চক্রবর্ত্তী ভিডিওতে এমন কিছু কুরুচিপূর্ণ শব্দ প্রয়োগ করেছে যা আমার চিকিৎসার পেশায় এবং আমার ছোট ভাই এড. বিশুময় দেবের মানহানি ঘটে। পরে আমি গত ১৬ জুলাই কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারন ডাইরি লিপিবদ্ধ করি। যাহার জিডি নং- ১৩৮৫। এছাড়া আমি সব রকমের প্রশাসনিক ভাবে আইনের আশ্রয় নিয়েছি যাতে তার যথাযথ বিচার ও শান্তি হয়। তার ফেসবুক আইডি পোষ্টটি প্রশাসনের কাছে দিয়েছি। তার ভিডিও বার্তা সত্য মিথ্যা যাচাই বাচাই করার জন্য এবং আমরা ডিজিটাল সাইবার আইনে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছি, পুলিশ প্রশাসন এই ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

এছাড়া উৎসব চক্রবর্তী সাথে যারা যারা জড়িত হয়ে মিথ্যা ও সাইবার ছলিং করেছেন তাদের সকলকে আইনের আওতায় এনে প্রশাসন যথাযোগ্য শাস্তির ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান ডা: যীশুদেব। একই সঙ্গে সকল সনাতনী পরিবারকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন এবং ধর্মীয় ও সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার জন্য সকলের প্রতি বিনীত জানান। এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, এড. বিশুময় দেব, নেভী দাশ অথৈ, সম্পদ চক্রবর্তী ও সঞ্জয় চক্রবর্তী সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ