বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সড়ক হচ্ছে ইশমামুল হকের নামে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ইশমামুল হকের (১৭) নামে সড়কের নামকরণ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় নিহত ইশমামের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তিনি এ কথা জানান।
এর আগে গত ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির মিছিলে গুলিবিদ্ধ হন ইশমামুল হক (১৭)। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন (৬ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে লোহাগাড়া উপজেলায় গিয়ে ইশমামুল হকের কবর জিয়ারত করেন জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। এর পর তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইশমামের পরিবারকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি ইশমামের বড় ভাইকে একটি চাকরিতে নিয়োগের আশ্বাস দেন। এ সময় তার সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলন, চট্টগ্রামের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফিসহ আন্দোলনের অন্যন্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত লোহাগাড়ার কৃতি সন্তান ইশমামের স্মরণে তার বাড়ির কাছে থাকা কাঁচা সড়কটি যা অনেকদিন ধরে ইশমামের পরিবারসহ এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কারণ, সেখানে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হবে এবং তা ইশমামের নামে নামকরণ করা হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রামের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, আমাদের আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে একটি কুচক্রী গোষ্ঠী হামলা চালাচ্ছে। এ কাজ শিক্ষার্থীদের হতে পারে না। আমি সবাইকে অনুরোধ করব ছাত্র আন্দোলনের নামে কেউ যেন আপনাদের দিকভ্রান্ত করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম জেলাকে তিনটি ভাগ করে উত্তর জেলা, দক্ষিণ জেলা ও মহানগরে আমাদের তিনটি প্রতিনিধি দল নিয়োজিত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের এ প্রতিনিধিরা জনজীবন স্বাভাবিক করতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে এবং করবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একেএম গোলাম মোর্শেদ খান, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইনামুল হাছান, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন গেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রবেশপথ অবমুক্ত করতে অবৈধভাবে নির্মিত দুটি দোকান ঘর ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই স্থানে একটি দৃষ্টিনন্দন ও প্রশস্ত গেট নির্মাণেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
​আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিশিষ্ট অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক উপস্থিত থেকে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।

​অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, “নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি মূলত দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। বিগত সরকারের আমলে পৌরসভার মেয়র শহীদ মিনারের প্রবেশপথ দখল করে অবৈধভাবে দুটি দোকান নির্মাণ করেন এবং নিয়মিত ভাড়া আদায় করতেন।”

​তিনি আরও বলেন, “২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ বিভিন্ন সরকারি ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে এখানে প্রচুর জনসমাগম হয়। সরু পথ হওয়ার কারণে প্রায়ই অপ্রীতিকর ঠেলাঠেলির ঘটনা ঘটত। জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে শহীদ মিনারের নিরাপত্তা, সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং সর্বস্তরের মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য অবৈধ স্থাপনা দুটি ভেঙে এখানে একটি দৃষ্টিনন্দন ও প্রশস্ত গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
​নতুন এই গেট নির্মাণকাজ দ্রুত ও সঠিকভাবে বাস্তবায়নে সাংবাদিকসহ সকল শ্রেনী-পেশার মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

​উচ্ছেদ অভিযানকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নূরু, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ মজিবুর রহমান খান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শফিকুল কাদের সুজা, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি তাজেজুল ইসলাম ফারাস সুজাত, সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মনিরুজ্জামান দুদু, মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ফকির, জেলা কৃষক দলের সভাপতি সালাহউদ্দিন খান মিল্কী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন, বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাক আহমেদ এবং দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মজিবুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

চট্টগ্রামে ব্যাংক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ‘আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে দেখে রাইখেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে জনতা ব্যাংকের এক সহকারী ব্যবস্থাপকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে হালিশহরের এ ব্লকের নিজ বাসা থেকে মোহাম্মদ আবুল হোসাইন (৪৬) নামে ওই ব্যাংকারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নে আবুল হোসাইনের বাড়ি। জনতা ব্যাংক মুরাদপুর শাখার ঋণ শাখার দায়িত্বে ছিলেন।

মরদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়। চিরকুটে ব্যাংকের ঋণ বিতরণ নিয়ে চাপ, একটি মামলার কারণে দুশ্চিন্তা এবং নিজের আর্থিক সংকটের কথাও উল্লেখ করেছেন আবুল হোসাইন।চিরকুটে লেখা রয়েছে, আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমাকে সবাই ক্ষমা করে দেবেন। আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে আপনারা দেখে রাখবেন। আবুল হোসাইন অফিসের ‘চাপ ও হতাশা’ থেকেই আত্মহত্যা করেছেন ধারণা পুলিশের।

হালিশহর থানার ওসি মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ বাসা থেকে ব্যাংক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। মরদেহের পাশ থেকে একটি চিঠি পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মরদেহের পাশ থেকে পাওয়া চিঠিতে লিখেছেন, মুরাদপুর শাখার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নানাবিধ প্রেশার, লোন দেওয়া না দেওয়া, ফাইল আরও কত কী?
এতে আরও লেখা হয়, ব্যবসার বকেয়া ও মানুষের কাছে পাওনা টাকা আদায় না হওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন।’ ওই সংকটের মধ্যে গত ৪ আগস্ট স্ত্রীর নামে থাকা একমাত্র ফ্ল্যাটটিও বিক্রি করতে বাধ্য হন বলে উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

চিঠিতে ২০২১ সালের একটি ঋণ বিতরণের বিষয়ও এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ওই ঋণ বিতরণকে কেন্দ্র করে লালদীঘি শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক হিসেবে তার এবং আরও তিন সহকর্মীর বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা করা হয়েছে।আমি নির্দোষ ও নিরপরাধ শতভাগ। এ চিন্তায় গত দুই সপ্তাহ যাবৎ আমি ঘুমাতে পারি নাই-উল্লেখ ছিল চিঠিতে।নিজের স্ত্রী সম্পর্কে আবুল হোসাইন লিখেছেন, আমার স্ত্রীর মতো এত মমতাময়ী, দরদি স্ত্রী পাওয়া আমার সৌভাগ্য।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ