আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে নদীর তলদেশে উদ্ধারকৃত জাহাজটির বয়স প্রায় দেড়শ বছর

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কর্ণফুলী নদীর চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল থেকে উদ্ধার হওয়া বাণিজ্যিক জাহাজটি প্রায় দেড়শ বছরের পুরানো বলে জানা গেছে। এটি উদ্ধারের কাজ করছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান। বন্দরের ৬ ও ৭ নম্বর জেটির মধ্যবর্তী ডাঙ্গারচর এলাকায় নদীর তলদেশে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের ওই জাহাজটি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন করিদ উদ্দিন বলেন, কর্ণফুলী চ্যানেলে ডুবন্ত জাহাজ উদ্ধারের জন্য আমরা হিরামনি স্যালভেজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়েছি। তারা সম্প্রতি অনেক পুরোনো একটি জাহাজ নদীর তলদেশ থেকে উদ্ধার এবং অপসারণ করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন করিদ উদ্দিন বলেন, কর্ণফুলী চ্যানেলে ডুবন্ত জাহাজ উদ্ধারের জন্য আমরা হিরামনি স্যালভেজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়েছি। তারা সম্প্রতি অনেক পুরোনো একটি জাহাজ নদীর তলদেশ থেকে উদ্ধার এবং অপসারণ করেছে।
ইতোমধ্যে কয়লাচালিত ইঞ্জিনের এই জাহাজটির আংশিক উদ্ধার হওয়ায় সেখানে রয়েছে তামা, পিতল ও রূপার তৈরি থালা-বাটি, হাড়ি-পাতিল, গ্লাস, পানির পাত্র, চামচ, বিভিন্ন নকশা করা শৌখিন জিনিসও। এ ছাড়াও রয়েছে মোমবাতিদানি, ফুলের টব, হ্যারিকেন ও কুপিবাতি, হাতির দাঁত, দূরবীনসহ অনেক জিনিসপত্র।
এসব উদ্ধারকৃত জিনিসের ধরন দেখে ধারণা করা যায়, জাহাজটি ব্রিটিশ আমলের। ধারনা করা হচ্ছে, ভারত উপমহাদেশে জাহাজটি বাণিজ্য করতে এসে কর্ণফুলী নদীর এই স্থানে ডুবে যায়। এছাড়া জাহাজটিতে এখনো অনেক কয়লা মজুদ রয়েছে বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ৬ ও ৭ নম্বর জেটির মধ্যবর্তী স্থানে খনন কাজ করার সময় ডুবন্ত একটি জাহাজের সন্ধান পায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই জাহাজটি উদ্ধার ও অপসারণ করার জন্য দুটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ হিরামনি স্যালভেজ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দিলে তারা জাহাজটি উদ্ধার করে।
হিরামনি স্যালভেজ লিমিটেডের কর্ণধার মো. আবুল কালাম বলেন, বন্দরের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আমরা এই জাহাজটি উদ্ধার ও অপসারণ করেছি। এ ছাড়াও নদীতে আরও দুটি ডুবন্ত জাহাজ রয়েছে। সেই দুটিও উদ্ধার ও অপসারণে কাজ চলমান রয়েছে। ডুবন্ত জাহাজগুলো অপসারণ করা গেলে চট্টগ্রাম বন্দর তথা কর্ণফুলী চ্যানেল নিরাপদ ও গতিশীল হবে।
জাহাজটির উদ্ধার কাজে নিয়োজিত সিনিয়র ডুবুরি মো. জহির বলেন, জাহাজটি নদীর তলদেশের ৬০ ফুট গভীরে ছিল। এই জাহাজের কারণে নদীতে পলি জমে চর জেগে উঠেছে। পরে আমরা ড্রেজিং করে জাহাজটি উন্মুক্ত করি। অর্ধেক অংশ উদ্ধারের জন্য ৪টি স্যালভেজ বার্জ নিয়োজিত করি। বার্জের মাধ্যমে উদ্ধার করা অংশটি নদীর তীরে আনার পর আমরা বিভিন্ন জিনিসপত্র দেখে নিশ্চিত হই এটি ব্রিটিশ আমলের জাহাজ।
চট্টগ্রাম জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরের উপ-পরিচালক ড. আতাউর রহমান বলেন, ভারতবর্ষে যখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় তখন রানি ভিক্টোরিয়া এই উপমহাদেশের দায়িত্ব নিজ হাতে নেন ১৮৫৮ সালে। তখন রানি ভিক্টোরিয়া ভারতবর্ষের মানুষের কল্যাণে কাজ শুরু করেন। ভিক্টোরিয়ার শাসনামলের প্রথম দিকের মুদ্রা এগুলো। হয়তো জাহাজটি আরও পুরোনো।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ