আজঃ মঙ্গলবার ২৩ জুন, ২০২৬

বন্যায় দূর্গত কৃষকদের জন্য ধানের বীজ বপন করলেন দুর্বার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্মরনকালের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় চট্টগ্রামের মরসরাই উপজেলায়। বলা চলে সে ক্ষতিতে কৃষকদের হাত মাথায় উঠেছে । জলের বানে ডুবে গেছে আমন ধানের বীজতলা। কৃষকদের এরূপ দুশ্চিন্তায় পাশে দাঁড়ালেন দুর্বার’র সদস্যরা। “দুর্যোগে ঐক্য গড়ি, কৃষিতে স্বপ্ন বুনি” এই স্লোগানে নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে দুই সেপ্টেম্বর মিঠানালা ইউনিয়নে ২৫ শতক জমিতে তৈরী করেন বীজতলা। জমি চাষ থেকে শুরু করে, পানি সেচ ও জমির আলও করেন তারা। এরপর নামেন প্রতি আলে ধানের বীজ ছিটাতে। সেটাও করেন। দেখে মনে হচ্ছে তারা কৃষি বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাদের এ বপনকৃত ধান বীজ থেকে উৎপাদিত ধানের চারা কৃষকরা ৫ একর জমিতে লাগাতে পারবেন। তারা বিআর-২২ জাতের ষাট কেজি ধানের বীজ বপন করেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে এ ধানের চারাগুলো বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। সমাজ উন্নয়ন সংস্থা দুর্বার প্রগতি সংগঠন ও কৃষি উন্নয়ন সংগঠন পত্র-পল্লব যৌথভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
দুর্বার’র এ কৃষি উদ্যোগ দেখতে আসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজা জেরিন, এসময় তিনি বলেন- এবারের বন্যায় আমাদের কৃষিতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে। কৃষকদের আমন ধানের বীজ তলা নষ্ট হয়ে গেছে। দুর্বার’র নিজস্ব উদ্যোগে কৃষকদের বিন্যামূল্যে ধানা চারা বিতরণ আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সামান্য হলেও অবদান রাখবে। পুরো এ উদ্যোগ তত্ত্বাবধান করেন উপজেলা কৃষি অফিসার প্রতাপ চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে রুবেল চক্রবর্তী, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও তারেক আহমেদ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বীজ বপন কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে কৃষি অফিসার প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন- ‘কৃষি ও কৃষকদের কল্যাণে দুর্বার’র এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ আমন চাষী কিছুটা হলেও উপকৃত হবে তাদের এ উদ্যোগ থেকে।
এছাড়া গত ২১ আগস্ট থেকে বন্যায় মিরসরাইতে ফেনী নদীর পানি বাড়তে থাকলে পানি বন্দি হয়ে পড়ে শত শত মানুষ। চারদিকে যখন বাড়ছে পানির স্রোত। বাঁচার আকুতিতে যখন ভারি হয়ে উঠছে আকাশ- বাতাস। একে অপরের সাথে যখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আর দেরি না করে দুর্বার রেসকিউ টিম ২২, ২৩ ও ২৪ আগস্ট চারটি উদ্ধারকারী বোট ও পিকাপ নিয়ে ছুটে যান ফেনীর নিজকুঞ্জরা পিএইচপি কারখানার সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে ও মিরসরাইয়ের শান্তির হাট, গোলকের হাট, নাহেরপুর, ওসমানপুর, আবুরহাট কাজীগ্রাম , লুদ্দাখালী, এছাক ড্রাইভার হাট ও ঝুলনপোল এলাকায়। স্রোতের তীব্রতা ও গলা পানি উপেক্ষা করে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে তিন দিন, রাত ৩ টা পর্যন্ত প্রাণ-পণ চেষ্টা চালিয়ে প্রায় দুই শতাধিক পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেন দুর্বার স্বেচ্ছাসেবীরা। মীরসরাইয়ের মিঠানালা, কাঁটাছড়া, ওসমানপুর, দূর্গাপুর, ধুম, মঘাদিয়া ও ইছাখালী ইউনিয়নের আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত মানুষ ও দূর্গত এলাকায় পানিবন্দি প্রায় ৫০০০ জনের মাঝে রাত ও দুপুরের খাবার, শুকনা ও ভারি খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইন ও ঔষুধ বিতরণ করে দুর্বার।
সংগঠনের সভাপতি রিপন কুমার দাশ বলেন- ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে আমরা আগাম শীতকালিন সবজি বীজ বিতরণ করবো। যাতে কৃষকদের ক্ষতি কিছুটা লাঘব হয়।’ সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন- ‘৫০ জন দুর্বার স্বেচ্ছাসেবী টানা ১০ দিন এ বিশাল কর্মযজ্ঞে স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন এবং সংগঠনের সদস্য, পৃষ্ঠপোষক ও শুভাকাঙ্খীগণ আর্থিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আল্লাহর ঘরে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক- সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাদ্রাসায় ও মসজিদে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মিটিং নিষিদ্ধ করতে আইন পাসের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ। বাজেট আলোচনায় সংসদে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি তোলেন।

সোমবার ২২ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশনের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ এ কথা বলেন।

সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে : জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জীবনমানের উন্নয়ন নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। রোববার চট্টগ্রাম প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের জন্য আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অফিস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। জেলা প্রশাসক বলেছেন, কেবল নিজের চাকরি জীবনে কে কত সুবিধা পেয়েছেন বা নিজের জীবনে কত পরিবর্তন এনেছেন, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজকে কী দিতে পেরেছেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আমরা সবাই একটি সুন্দর সমাজ ও সুন্দর রাষ্ট্র চাই।কিন্তু নিজের পরিবর্তনের প্রশ্নে আমরা অনেক সময় অনাগ্রহী থাকি। আমি চাই অন্যদের পরিবর্তন হোক, কিন্তু নিজের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন চাই না। এই সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেখা একটি চলমান প্রক্রিয়া।প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে বাস্তব কাজে প্রয়োগ করতে না পারলে তার কোনো মূল্য থাকে না। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি যেমন পরিবর্তিত হচ্ছে, তেমনি পরিবর্তিত হচ্ছে মানুষের প্রত্যাশা ও সেবার মানদণ্ডও।

ফলে সরকারি সেবাকে মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের (এনআইএলজি) আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের ১৬০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা রহমান মীমের সঞ্চালনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আমিরুল মোস্তফা, চট্টগ্রামের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আমি চাকরি জীবনে কী পেলাম, আমার জীবনের কত উন্নতি হলো, আমার সন্তান কোথায় পড়াশোনা করল-এসবের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আমি রাষ্ট্রকে কী দিলাম। জনগণের করের অর্থে বেতন নিয়ে, রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আমরা সমাজের জন্য কী অবদান রাখতে পেরেছি, সেটি প্রত্যেকের ভেবে দেখা উচিত।তিনি বলেন, সরকারি চাকরি কেবল একটি পদ বা দায়িত্ব নয়; এটি জনগণের প্রতি অঙ্গীকার। তাই সেবাগ্রহীতারা যেন সরকারি দপ্তরে এসে হয়রানি বা অবহেলার শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মানুষ পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আসার সুযোগ পায় না। তাই কর্মজীবন শেষে যেন আফসোস না থাকে যে আরও ভালো কিছু করা যেত। সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক অবদান রেখে যাওয়ার মধ্যেই একজন মানুষের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। কোনো প্রশিক্ষণ, কোনো নির্দেশনা বা কোনো আইন একা পরিবর্তন আনতে পারে না। পরিবর্তন তখনই আসে, যখন মানুষ নিজের ভেতরে দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা, মানবিকতা ও বিবেককে ধারণ করে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ