লামায় কাঠ ব্যাবসায়ী দু গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

বিপ্লব দাশ,বান্দরবান প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বান্দরবানের লামায় সরকারি রিজার্ভের গাছ খেকো, অসংখ্য বন মামলার আসামী,অবৈধ গরু ব্যবসায়ী, একটি বিশেষ বাহিনীও বন বিভাগের নামধারী কথিত সোর্স ও চাঁদাবাজ ‘ওমর ফারুক বেচু’ এর নিয়মিত চাঁদাবাজি ও গাছ ব্যবসায়ীদের নামে-বেনামে অভিযোগ করে হয়রাণীর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে লামা উপজেলা জোত মালিক,বিভিন্ন এলাকার গাছ ব্যবসায়ী, বাগান মালিক ও গাছ-বাঁশের জড়িত শ্রমিক। লামা প্রেস ক্লাব হলরুমে রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্যে সুলতান আকবর মোমিন জানান,আমরা বাগান মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে বাগান সৃজন করে বিক্রি করি, কেউ ক্রয় করেন এবং হাজার হাজার শ্রমিকরা। এ কাজে শ্রম দিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। উপজেলায় শ্রমজীবি মানুষের গাছ-বাঁশ ছাড়া তেমন কোন পেশা নেই। হাজার মানুষের জীবিকা যেখানে জড়িত সেই সেক্টরটি আজ কতিপয় চাঁদাবাজের দ্বারা ব্যাবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সম্প্রতি সময়ে দেশে যখন পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে সেই সুযোগে মো.ওমর ফারুক প্রকাশ (বেচু) বিভিন্ন সময় লামা বন বিভাগের তৈন রিজার্ভ হতে ফরেস্টার মোজাম্মেল হক এর সহযোগিতায় বিভিন্ন সময় রাতে ও দিনে একদল গাছ কর্তনকারী লেবার এর মাধ্যমে প্রায় ৫০০ গাছ কর্তন করে নিয়ে আসে। যার প্রমান স্বরুপ লেবার এর জবানবন্দি আছে। বন বিভাগ কর্তৃক ওমর ফারুক এর বিরুদ্ধে ৬/৭টি বন মামলা রয়েছে। বর্তমানে ওমর ফারুক বন মামলা হতে জামিনে আছে। প্রকৃতপক্ষে ওমর ফারুক একজন রিজার্ভ এর গাছ পাচারকারী, ওমর ফারুক প্রতিনিয়ত রিজার্ভের গাছ কর্তন করে বর্তমানে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ এ রুপান্তর হয়েছে। ওমর ফারুক বেচু কিছু দৃষ্কৃতিকারী লোকজনের সহযোগিতায় বিভিন্ন দপ্তরের মোবাইল নাম্বার, ই-মেইল
নাম্বার ও বিভিন্ন কর্মকর্তার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে, লামা বন বিভাগের বিভিন্ন জোত পারমিট করার তথ্য সরবরাহ করে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য প্রদান করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যবসায়ী হতে নগদ অর্থ চাঁদা দাবি করেন ও হুমকি প্রদান করছে। সে বলে যে, আপনারা আমাকে নগদ অর্থ প্রদান না করিলে আমি আপনাদের জোত পারমিট এর বিরুদ্ধে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা,সিএফ, সিসিএফ এর বরাবরে মিথ্যা অভিযোগ করিব। এসব বলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভুয়া অভিযোগও করেন এবং নগদ অর্থ প্রদান করিলে তাহা প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে ওমর ফারুক হতে নামা বন বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন ব্যবসায়ীর নিকট হতে মাসিক মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছেন আরো বলছেন

আমি একজন লামা বন বিভাগ এর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সোর্স হিসাবে কাজ করি। কথা না মানলে আপনাদের বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য প্রদান করিব। আজ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ওমর ফারুক দ্বারা অতিষ্ট হয়ে ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় গৃহহারা। যারা গাছ এর কাজ করেন শ্রমিক হতে শুর করে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে। আরোও উল্লেখ্য যে, লামা বন বিভাগ এর বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ও অভিযোগ করিয়া নগদ অর্থ গ্রহণ করিয়াছেন যাহার স্বাক্ষীও আছে। আজ ওমর ফারুক প্রকাশ বেচুর চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট সাধারন ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা নিরুপায়। ওমর ফারুক একজন রিজার্ভ এর গাছ চোর। গাছ চুরি করে চকরিয়া, ডুলহাজারা, ও কক্সবাজার সহ বিভিন্ন রিসোর্টে গাছ প্রদান করে আজ কোটি টাকার মালিক।এদিকে বর্তমানে ৫ আগস্ট এর পরে নিজেকে বিএনপি নেতা বলেও দাবি করেন। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়,ওমর ফারুক বিএনপি’র বা কোন অংগ সংগঠনে তাহার নাম নাই। এই মর্মে প্রশাসনিক ভাবে এই চাঁদাবাজ ও রিজার্ভ এর গাছ চোর কে যথাযথ ভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহনে সকলের দৃষ্টি আকর্ষন কামনা করছি আমরা ব্যবসায়ীরা ও সচেতন নাগরিক সমাজ।

এদিকে ওমর ফারুক বেচু বিকাল ৩টায় উক্ত সংবাদ সম্মলনের বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্যে বলেন লামা জোত মালিক কর্তৃক অবাধ কাঠ ব্যবসা চালু রাখার জন্য আমি মোঃ ওমর ফারুক ও আমার ছেলেকে হত্যা করে তাদের ব্যবসা চালু করার জন্য বিগত ২৬-০৯-২০২৪ইং জোত মালিক সমিতির অফিসে গভীর রাতে মিটিং করে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে। গত ২৮-০৯-২০২৪ইং তারিখ টিটি এন্ডডিসির কাঠ ব্যবসায়ী কিছু সংখ্যক সন্ত্রাসীরা আনুমানিক বিকাল ৩.৪০ ঘটিকার সময় কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্ট এর সামনে আমাকে প্রাণ নাশের উদ্দ্যেশে মারধর করে একপর্যায়ে সেখান থেকে সন্ত্রাসী কায়দায় আমাকে তুলে নিয়ে লামা উপজেলা পরিষদের সম্মুখে প্রধান সড়কে আসলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে আমাকে উদ্ধার করে। কিছুক্ষণ পরে লামা কলা বাজারে আমার ছেলেকে মারধর করে। জোত মালিকের সমিতির কিছু সংখ্যক সদস্যরা। লামা জোত মালিকের ব্যবসা যদি বৈধ হয় তাহলে লামা বন বিভাগ কেন তাদের ব্যবসা হস্তক্ষেপ করবে। তারা বিগত ১৫/১৬ বছর ধরে লামা ফরেন্ট অফিসকে সৈরাচারী শেখ হাসিনার মনোভাব নিয়ে লুটপাট ও অবৈধ ব্যবসা করতেন লামা জোত মালিক সমিতি। আমাকে ও আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে যেতেই নেতেত্ব দেন (হারুন, সেলিম, খোকন, বাবুল, শামসু, ফতেহ আলী আরো সমিতির অন্যান্য সদস্যরা, আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে যে সকল অভিযোগ করেছে এসব অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট আমি প্রশাসনের নিকট এই হামলার সুষ্ঠ বিচার দাবী করছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট ও রং মেশানো চানাচুর বিক্রি চট্টগ্রামে জরিমানা গুনল ৩ প্রতিষ্ঠান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট ও রং মেশানো চানাচুর বিক্রি, নকল চাল বাজারজাত এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাসহ বিভিন্ন অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী বাজারে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ জরিমানা করা হয়।
অভিযানে এ বি এম ফুডকে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট ও রং মেশানো চানাচুর বিক্রির দায়ে আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। হাজী শফিউল বশর নামের প্রতিষ্ঠানকে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।এ ছাড়া মেঘনা স্টোরকে নামবিহীন প্যাকেটে নকল চাল বিক্রি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।বাজারে ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম বিভাগে কিশোর গ্যাং-ছিনতাইকারীসহ গ্রেফতার-৮৫৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৮৫৭ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধে পরিচালিত অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন ১২০ জন। একই সময়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৪৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, আটক ৪৩৪ কিশোরের মধ্যে ৩৭২ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রামে ৭৩, কক্সবাজারে ৩২, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯, চাঁদপুরে ৬৯, নোয়াখালীতে ৯১, ফেনীতে ১২, লক্ষ্মীপুরে ৯৫, রাঙামাটিতে ১৬ এবং খাগড়াছড়িতে ২৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিয়মিত মামলায় ৮৪, পূর্ববর্তী মামলায় ৫৭, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ৩২, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সাত এবং ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।এছাড়া পরোয়ানামূলে ১২৮, সাজা পরোয়ানামূলে ২৯ এবং মাদক মামলায় ৫৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মাদক মামলায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন মাদক বহনকারী ও ৫৭ জন সেবনকারী।
নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় আরও ৬১ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মাদকবিরোধী অভিযানে মোট গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ১২০ জনকে।

এদিকে মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৭০০ টাকা। এ সময়ে ৪৮টি মাদক মামলা করা হয়েছে।অভিযানে ২ হাজার ৭৬১টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯০ কেজি ৪২০ গ্রাম গাঁজা, ৩৫ লিটার চোলাই মদ, ৯০ বোতল বিয়ার, ৫৮ বোতল বিদেশি মদ এবং ৬৭ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া গাঁজা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মিনি কাভার্ডভ্যান জব্দ করা হয়েছে।কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১৩ সদস্যকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামে চার, কুমিল্লায় দুই, নোয়াখালীতে পাঁচ, ফেনীতে একজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।

আলোচিত খবর

২৯ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হতে পারে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। আগামী ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সংশ্লিষ্ট বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সোমবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের সম্ভাবনাই বেশি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়।

এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ