মহানবী (সা.) নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে রাজশাহীর বাগমারায় বিক্ষোভ সমাবেশ

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর বাগমারায় স্থানীয় মুসল্লীদের উদ্যোগে ভারতের ধর্মগুরু ও বিজেপি নেতা নিতেশ রানে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) নিয়ে কটূক্তি করায় তার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। সমাবেশে বিশ্বনবীর অপমানের এবং ফিলিস্থিনি ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদ করা হয়।উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ উপজেলা মসজিদ প্রাঙ্গণ হতে আলেম ওলামা পরিষদ ও বাগমারা উপজেলার সর্বস্তরের তাওহদি জনগণের এক ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।এ সময় মুসল্লীরা নারেহ তাকবীর, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ; রাসুলের অপমান, সইবে না মুসলমান’; রাসুলের ইজ্জত, রক্ষা করবো; ইসরাইলের কবর খুড়ো, ফিলিস্তিন মুক্ত করো, ভারতের দালালরা হুঁশিয়ার, সাবধান, ইসলামের শত্রুরা সাবধান হুঁসিয়ার ইত্যাদি শ্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় বক্তব্য দেন, উপজেলা কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মাও: হাফিজুর রহমান, উপজেলা মসজিদের ইমাম মাও: আব্দুস সোবহান, মাও: আরিফুল ইসলাম, মুফতি হাসান আল মামুন, ক্বারী মোকলেছুর রহমান মুকুলসহ স্থানীয় মুসল্লী ও ছাত্র-জনতা।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভারতের ধর্মগুরু ও বিজেপি নেতা নিতেশ রানে হিন্দু পুরোহিত মহানবী (সা.) নিয়ে মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়েছে। আমরা মুসলিমরা বেঁচে থাকতে এই অপমান সহ্য করা হবে না। ভারতে মুসলমানদেরকে মসজিদে প্রবেশ করে নির্যাতিত করেছে। ভারতের বিজেপি দলের ছত্রছায়ায় পুরোহিত কর্তৃক বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সা:) নিয়ে কটূক্তি ও অপমানের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মুসল্লীরা সেই পুরোহিতকে দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করা হয়।

তারা আরো বলেন, বিশ্বের প্রতিটা জাতির অভিভাবক থাকলেও আজ মুসলিমদের কোনো অভিভাবক নেই। আজ কোনো সেনাবাহিনীর মার্চ ছাড়া ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া বা কাশ্মীরকে মুক্ত করা সম্ভব না। একজন ইসলামের সিপাহী দরকার যিনি বিশ্বের মুসলিমদের একত্র করে সব জুলুম থেকে মুসলমানদের রক্ষা করবেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে চট্টগ্রামে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শোক মজলিস ও শোক র‌্যালি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে কারবালার শোকাবহ ঘটনা স্মরণে চট্টগ্রামে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শোক মজলিস ও শোক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ইমাম হোসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগের আদর্শ তুলে ধরার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, বিশ্ব শান্তি এবং জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া র‌্যালীতে শোকাবহ কারবালার নানা ঘটনাবলি তাজিয়া, প্রতীকী কফিন, পতাকা, স্লোগান, মাতম ও কথামালায় তুলে ধরেন। শুক্রবার নগরের সদরঘাট হোসাইনিয়া ইমামবারগাহ থেকে হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে শোক মিছিল বের হয়। মিছিলটি নিউমার্কেট, জিপিও, কোতোয়ালী মোড়সহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সদরঘাট হোসাইনিয়া ইমামবারগাহে এসে শেষ হয়।

শোক মিছিলে শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর অংশ নেন। তারা ইমাম হোসাইন (আ.)-এর প্রতীকী কফিন ও বিভিন্ন লেখা সম্বলিত পতাকা (আলাম) বহন করেন। মিছিলজুড়ে কারবালার শহীদদের স্মরণে নওহা ও মার্সিয়া পাঠ করা হয়। ‘ইয়া হোসাইন’ ও ‘লাব্বাইক ইয়া হোসাইন’সহ বিভিন্ন শোকধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় সদরঘাট হোসাইনিয়া ইমামবারগাহে মাসায়েব মজলিস অনুষ্ঠিত হয়। এতে হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা আমজাদ হোসেন কারবালার প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) ও তাঁর পরিবার-পরিজনের শাহাদাতের হৃদয়বিদারক ঘটনা তুলে ধরেন। তাঁর বয়ানে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে অংশগ্রহণকারীরা বুক চাপড়ে মাতমের মাধ্যমে শোহাদায়ে কারবালার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

নিউমার্কেট এলাকায় অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মাওলানা আমজাদ হোসেন মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, ‘কারবালার শিক্ষা কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি সত্য, ন্যায়বিচার ও মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর এক চিরন্তন আহ্বান। আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানসহ নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর ওপর হত্যা, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, আমরা সকল প্রকার যুদ্ধ, আগ্রাসন ও নিরপরাধ মানুষের রক্তপাতের তীব্র নিন্দা জানাই। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং সব ধরনের জুলুম-নির্যাতনের অবসানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা কামনা করছি। একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে হত্যাকারীদের কঠিন শাস্তি কামনা করি ও ধিক্কার জানাই। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কারবালার মহান আদর্শ আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং শান্তি, ন্যায় ও মানবতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে শিক্ষা দেয়।’

মিছিলে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘ইয়া হোসেন’, ‘লাব্বায়িক ইয়া হোসেন’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়। হৃদয়গ্রাহী কণ্ঠে ‘আখেরি সালাম লও ওহে নানাজান, তোমারি হোসেন যায় কারবালা ময়দান’সহ ধর্মীয় নাত, গজল পরিবেশন করে যুবকরা মাতম করেন।পিপাসার্ত পথচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয় শরবত।
মিছিলটি কালীবাড়ি মোড়, নিউমার্কেট মোড়, কোতোয়ালী মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমাম বাড়িতে ফিরে যায়। সেখানে দিনব্যাপী শিয়াদের চিরায়ত ঐতিহ্য অনুযায়ী আচার-অনুষ্ঠান, আলোচনা আর প্রার্থনা হয়।

বাবা তার ছোট্ট সন্তানকে কাঁধে নিয়ে শরিক হয়েছেন মিছিলে। ছোট্ট শিশুটির হাতে কালো পতাকা। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এই বাবা বলেন, ১০ মহরম হৃদয়বিদারক ঘটনা। ইমাম হোসাইন সপরিবারে কারবালার মরু প্রান্তরে শহীদ হয়েছেন। আজ আমার বাচ্চাকে নিয়ে হাঁটছি কিন্তু সেদিন ছয় মাসের সন্তানও রেহাই পাননি ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে। সেই স্মৃতি বুকে ধারণ করে আমার সন্তানকে নিয়ে কারবালার জুলুসে এসেছি।

একজন নারী বলেন, আজ ১০ মহররম। আমাদের পবিত্র আশুরা। কারবালায় ইমাম হোসাইন শহীদ হয়েছেন, তাঁর স্মরণে আমরা শোক পালন করছি। ইসলামের জন্য, হক প্রতিষ্ঠার জন্য নবীজীর বংশধর জীবন দিয়েছেন। এমনকি ছোট্ট আলি আজগর পিপাসার্ত অবস্থায় শহীদ হয়েছেন। উনাকে তীর মেরে শহীদ করা হয়েছে। ইমামের মিছিলে যে নারীরা ছিলেন, তাঁদের ওপর জুলুম করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর ১০ মহরম পবিত্র আশুরার দিনে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা স্মরণে নগরীর সদরঘাট থেকে এই শোক মিছিলের আয়োজন করে শিয়া সম্প্রদায়। এ উপলক্ষে সদরঘাট হোসাইনিয়া ইমামবারগাহে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও পালন করা হয়।

চরণদ্বীপ দরবার শরীফে তিন দিন ব্যাপী শোহাদায়ে কারবালা মাহফিলের দ্বিতীয় দিন সম্পন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীর ঐতিহ্যবাহী চরণদ্বীপ দরবার শরীফে আহলে বায়তে রাসূল (দঃ) স্মরণে গাউসিয়া রহমানিয়া বশরিয়া শহীদিয়া ত্বরিকত কমিটির ব্যবস্থাপনায় তিন দিন শোহাদায়ে কারবালা মাহফিলের দ্বিতীয় দিবস গতকাল ২৪ জুন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। অত্র মাহফিলে দো’আ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন চরণদ্বীপ দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহসূফী শেখ আবু মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ফারুকী (ম.) উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অত্র দরবারের নায়েবে মোন্তাজেম বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন লেখক ও গবেষক হযরত মাওলানা শাহজাদা শেখ আবু মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ ফারুকী (ম.), স্বাগত বক্তব্য দেন অত্র দরবারের নায়েবে মোন্তাজেম শাহজাদা শেখ আবু মুহাম্মদ সানাউল্লাহ ফারুকী (ম.)। মাহফিলে আহলে বায়তে রাসূল (দঃ)’র শানে তাৎপর্যপূর্ণ তকরীর পেশ করেন হযরতুলহাজ্ব আল্লামা ড. এস এম বোরহান উদ্দিন, হযরতুলহাজ্ব আল্লামা আ.ন.ম. নাজমুল হোসাইন নঈমী (ম.), মাওলানা মুহাম্মদ এনামুল হক কুতুবী। এছাড়াও আরো অসংখ্য উলামায়ে কেরাম, বুজুর্গানে দ্বীন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন ৩১ জুলাই পর্যন্ত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন নিবন্ধিত না হওয়া নাগরিকরা। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন গ্রহণ করা হবে। ইসি জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে তালিকাটি প্রদর্শন করা হবে। তালিকায় নাম বাদ পড়া বা তথ্যগত ভুল থাকলে সংশ্লিষ্টরা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত নতুন অন্তর্ভুক্তি বা তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। সব আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১০ আগস্ট খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর আপত্তি গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে আগস্টের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন

আরও পড়ুন

সর্বশেষ