আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদের ভাই রনির নির্দেশে সাংবাদিক সরওয়ারকে অপহরণ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সাংবাদিক গোলাম সরওয়ারকে অপহরণের পর নির্মম নির্যাতনের বিচার এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।শনিবার সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। সাংবাদিক গোলাম সরওয়ারের পরিবার এবং তাঁর সহকর্মীদের আয়োজনে ওই কর্মসূচিতে দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিন সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ওমর ফারুক, প্রতিদিনের বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার সুবল বড়ুয়া, পূর্বদেশের এম এ হোসাইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সরওয়ারের স্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য দেন বাংলাদেশি জার্নালিস্ট ইন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া—বিজেআইএমের কনভেনর স্যাম জাহান এবং বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান শামসুদ্দিন ইলিয়াস।
গোলাম সরওয়ার বলেন, ২০২০ সালের ২৮ অক্টোবর সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদের ভাই আনিসুজ্জামান রনির নির্দেশে আমাকে অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়। আমাকে অপহরণের ঘটনায় মামলার পর পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। তারা তাদের তদন্ত দাখিল থেকে শুরু করে আমাকে হয়রানি সব করেছে। মামলার সুষ্ঠ তদন্ত না করে মনগড়া রিপোর্ট দিয়ে সেটি খারিজ করায়। আমার মামলার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী পরিবার সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদের ভাই আনিসুজ্জামান রনি দুটি মামলা দায়ের করে। যে মামলাগুলো দীর্ঘ ৪ বছর ধরে চলমান রয়েছে। মামলায় আমিসহ আমার সহকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। আমাদের দোষ ছিল সংবাদ প্রকাশ করা। সংবাদ প্রকাশের জন্য আমাদের নির্যাতন, মামলা ও হামলাসহ সমস্ত কিছু দিয়ে জুলুম করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘রনির দায়ের করা মামলা চার বছর ধরে এখনো ঘানি টানছি। আদালত কোন রহস্যে বা কি কারণে মামলাগুলো চলমান রেখেছে আমরা এখনো তা বলতে পারি না। তাই আমি আমার বিরুদ্ধে করা এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে সরওয়ার বলেন, তারা আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেছিল সাংবাদিকদের ভয়-ভীতি দেখানোর জন্য। আমি যেন আর নিউজ না করি সেজন্য আমাকে হুমকি-ধমকি থেকে শুরু করে অত্যাচার করা হয়। আমার শরীরে সেই নির্যাতনের দাগ এখনো রয়েছে। যা আমি বহন করে চলছি। আমাকে হাত, পা ও চোখ বেঁধে একটি রুমে রেখেছিলো। সেই রুমটি ছিল রেললাইনের পাশে। ট্রেন আসলে তারা আমাকে টর্চার করতো। এরপর আমাকে জিজ্ঞেস করতো ‘আর নিউজ করবি কিনা বল’। তাদের মামলার হয়রানি আর সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়ে আমি দেশ ছেড়েছিলাম। সাবেক ভূমিমন্ত্রী এবং তার পরিবার সাংবাদিকদের কব্জায় নিয়ে নিজেদের মতো পরিচালনা করার চেষ্টা করেছে।’ বলেন তিনি।
এর আগে ২০২০ সালের ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি ভিআইপি টাওয়ারের সামনে থেকে সাংবাদিক গোলাম সরওয়ারকে অপহরণ করা হয়। ১ নভেম্বর রাতে সীতাকুণ্ডের কুমিরা বাজারস্থ খালের পাশে অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। গোলাম সরওয়ার আজকের সূর্যোদয় চট্টগ্রাম ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার এবং অনলাইন পোর্টাল সিটি নিউজ বিডি ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি, এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। একটি হলো, মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দিইনি। রোববার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম মহানগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আগামীতে সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আরেকটি বিষয়টি হচ্ছে দুর্নীতি। বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে।


অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই আগামীতে দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তারেক রহমান বলেন, আগামীতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষে ভোট দিন।
এবার ভোটের আগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। গত ১৫ বছর আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আবার এরকম একটি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই এবার ধানের শীষে ভোট দেন।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।


তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের একটি বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আমরা খাল কাটতে চাই। আপনারা কী আমাদের সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চান?। চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো বিএনপির আমলে হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আরও ইপিজেড করা হবে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।

ফরিদপুরে স্কুল শিক্ষার্থী সুরাইয়া হ-ত্যা-র বিচার দাবিতে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মানববন্ধন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোছা. সুরাইয়া খাতুন হ-ত্যা-র প্রতিবাদ ও হ-ত্যা-র সাথে জড়িতদের ফাঁ-সি-র দাবিতে বি-ক্ষো-ভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।
ফরিদপুর উপজেলার জন্তিহার খেলার মাঠে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীদের আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।


এ সময় জন্তিহার গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা, শিক্ষক সাংবাদিক ও সমাজকর্মী এস এম নাহিদ হাসানের ছায়া নির্দেশনায়, মানববন্ধনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কালিয়াকৈর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও ফরিদপুর উপজেলার জন্তিহার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে। ব্যানার-ফ্যাস্টুন হাতে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানবন্ধনে বক্তারা নি-হ-ত সুরাইয়ার হ-ত্যা-র সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের দাবি জানান। তা না হলে, আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন বক্তারা।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ