আজঃ শনিবার ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

ইছামতিতে বাংলাদেশ-ভারতের নিজ নিজ সীমানায় প্রতিমা বিসর্জন

ইব্রাহীম হোসেন দেবহাটা প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যেবর্তী ইছামতি নদীতে স্ব স্ব কিনারায় বিজয়া দশমীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে দুর্গা উৎসব। বিগত বছরগুলোর মত এ বছরও হয়নি দু’দেশের মিলন মেলা। আর তাই দু-দেশের মানুষ মিলে মিশে একাকার হতে পারেনি কেউই। এতে দু-দেশের মানুষের অংশগ্রহণের মিলন মেলাটি বন্ধ হওয়া সর্ব শ্রেণি মানুষের মাঝে আমেজ কমেছে। তবে বুক ভরা আশা নিয়ে অনেকে নদী পাড়ে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল অসসংখ্য মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, একটা সময় সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলাধীন ইছামতি নদীর টাউনশ্রীপুর এবং ভারতের টাকি পৌরসভা এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে এই মেলা বসত এই মেলা। এতে অংশ নিতে দুই বাংলার লাখও মানুষ। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিমা বিসর্জনাস্থল দেবহাটার ইছামতি নদী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ব বৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। বিগত দিনগুলোতে এই বিসর্জন কে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয় মিলন মেলা। দেশ বিভাগের অনেক আগে থেকেই সীমান্তের ইছামতি নদীর উভয় তীরে দুর্গা পূজার শেষ দিন বিজয়া দশমীতে মেলা বসে আসছে। দেশ বিভাগের পরও বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি সীমান্তের সীমারেখা। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে এ মেলা কখনও বন্ধ হয়নি। সারা বছর ধরে শুধু ইছামতি নদীর পাড়ের মানুষ নয়, বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ দিনটির জন্যে থাকে অপেক্ষায়। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে ইছামতির উভয় পাড়ে বসে নানারকমের দোকান। আত্বীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাত ছাড়াও এখানে আসা মানুষ উভয়ের মধ্যে ভাব বিনিময় শেষে সন্ধ্যার পরে ফিরে যায় যে যার দেশে, যে যার ঘরে।

এবছর (১৩ অক্টোবর) রবিবার বাংলাদেশ-ভারত দু’দেশের মধ্যে মিলন মেলা দেখতে না পাওয়া গেলেও নিজ নিজ সীমা রেখার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন। নদীর জিরো পয়েন্টে ডিঙি নৌকায় লাল ফ্লাগ উড়িয়ে দু’দেশের সীমানা নির্ধারণ করতে দেখা যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে।

এদিকে বেলা গড়ার সাথে সাথে নদীর দেবহাটার টাউন শ্রীপুর ও ভারতের টাকির দু’পারে জড়ো হতে থাকে অসংখ্য মানুষ। একই সাথে বিভিন্ন এলাকার দুর্গা প্রতিমাকে বিসর্জনের জন্য নিয়ে আসা হয় সীমান্ত নদীর পাড়ে। অপরদিকে ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাসনাবাদ, টাকী ও হিঙ্গলগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিমাও নিয়ে আসা হয়। তবে ভারতের সীমানায় আনন্দের তরী নামলেও বাংলাদেশের পাড়ে কাউকে নামতে দেয়নি আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনী। বিগত বছরগুলোতে এই দিনে ইছামতি নদীর তীরে আন্তর্জাতিক সীমারেখাসহ দ্বিধা-দ্বন্দ ভুলে মিলন মেলায় মিলিত হয় প্রতিবেশী দু’দেশের হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু কয়েক বছর আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে মিলন মেলা বন্ধ করে নেওয়া হয় কঠোর ব্যবস্থা। তারই পরিপেক্ষিতে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠিন সিদ্ধান্তে ঐতিহ্যবাহী এই মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। এবছর নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর অবস্থান নেয় বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নীল ডুমুর ১৭ ব্যাটেলিয়নের সহকারী অধিনায়ক (এডি) শাহ মোহাম্মদ খালেদের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তের বেঁড়িবাধে কঠোর অবস্থান নেয়। বাংলাদেশী কোন মানুষ যাতে ইছামতি নদীতে নামতে না পারে সে বিষয়ে টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করে। এবছর সীমান্ত এলাকার ৮ কিলো মিটারের মধ্যে সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটায় ১৫টি, কালিগঞ্জের ১৬টি ও শ্যামনগর উপজেলায় ৮টি পূজা মন্ডপ রয়েছে। সর্বমোট সীমান্ত এলাকায় ৩৯টি পূজামন্ডপ ছিল। যেখানে বিজিবি টহলদলকে ২টি টাক্সফোর্সে বিভক্ত করে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দ্বারা ৮টি সেকশনে ভাগ করে নিরাপত্তা প্রদান করে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনা, পুলিশ, বিজিবি সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়ায় এবছর শান্তিপূর্ণ ভাবে দুর্গাপূজা শেষ হয়েছে। এদিকে, সন্ধ্যার পর অশ্রæসিক্ত চোখে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানায় দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ।

দিনটি ঘিরে বাংলাদেশ পাড়ে হাজারও মানুষ জড়ো হতে থাকে। মিলন মেলার স্বাদ না পেয়ে অনেকে হতাস হয়ে বাড়িতে ফেরেন। বাংলাদেশ সীমান্তপাড়ে এসময় উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান, দেবহাটা থানার ওসি ইদ্রিসুর রহমান, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল সহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ইইউ ও ট্রাম্প মুখোমুখি অবস্থানে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ইইউ ও ট্রাম্প মুখোমুখি অবস্থানে। একদিকে সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অন্যদিকে শুল্ক আরোপের হুমকি। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন – গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবির বিরোধিতা করলে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর আরোপিত শুল্কেের শতভাগ বাস্তবায়ন করবেন।এদিকে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একজোট হয়েছে ইউরোপের মিত্র দেশগুলো।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন- হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্কের অধীনে থাকা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের মালিক হতে পারে না।

‎মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে ‎তাযকেরা-এ-চেরাগে উম্মতে আহমদী (দঃ) মাহফিল ২০২৬ সম্পন্ন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

‎গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী প্রবর্তিত ত্বরিকার আদর্শের কিংবদন্তী পরিচর্যাকেন্দ্র জাতি-ধর্ম নির্বশেষে খোদা তালাশী বান্দাগণের মমতাময় আশ্রয় কেন্দ্র গাউসিয়া হক মঞ্জিল।‎সপ্তম “তাযকেরা-এ-চেরাগে উম্মতে আহমদী (দঃ) মাহফিল-২০২৬” এ সভাপতির বক্তব্যে মাইজভাণ্ডার শরিফ দরবারে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক মঞ্জিল’র সাজ্জাদানশীন ও ‘শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি শাহ্ সুফি সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.) এ গুরুত্বপূর্ণ অভিমত ব্যক্ত করেন।

‎বাংলার জমিনে প্রবর্তিত একমাত্র ত্বরিকা, বিশ্বসমাদৃত ত্বরিকা “ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া”র প্রবর্তক খাতেমুল আউলিয়া গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র দ্বিশততম জস্মবার্ষিক ও ১২০তম ‘মহান ১০ মাঘ উরস শরিফ’ উপলক্ষে মাইজভাণ্ডার শরিফ ‘দরবার-ই গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী’র গাউসিয়া হক মঞ্জিল-এর ব্যবস্থাপনায় ‘মাইজভাণ্ডার শরিফ শাহি ময়দান’-এ সপ্তম “তাযকেরা-এ-চেরাগে উম্মতে আহমদী (দঃ) মাহফিল-২০২৬” গত ১৭ জানুয়ারি রোজ শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎মাওলানা মুহাম্মদ মুজিবুল হক মাইজভাণ্ডারী ও মাওলানা মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা কাযী আব্দুল আলীম রেজভী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাওলানা মোহাম্মদ জাফর উল্লাহ, মাদ্রাসা-এ-গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী’র অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আবুল কাছেম। উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন। মাইজভাণ্ডার শাহি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ বশিরুল আলম মাইজভাণ্ডারী ও সাবেক খতিব আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম ফোরকানী।

‎মাহফিলে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদের সম্মানিত সভাপতি আলহাজ্ব রেজাউল আলী জসীম চৌধুরী, তাজকিয়ার কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আবু নাসের অন্তুু, নারায়নহাট ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আ.ও.ম. ফারুক হোসাইন, ফটিকছড়ি জামেউল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ হুমায়ন কবির মজুমদার, মুনিরুল উলুম বারীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার আধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ফখরুদ্দীন, মহি উসুন্নাহ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলী আজম হাশেমী, সমিতিরহাট ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস খান, নানুপুর মহিলা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আহমদ উল্লাহ, আশেকানে আউলিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রিদুয়ানুল হক।
‎‎
‎এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার বিভিন্ন দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহ-প্রধান, মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, মাদ্রাসা-এ-গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী এবং উম্মুল আশেকীন
‎মুনাওয়ারা বেগম এতিমখানা ও হেফজখানার শিক্ষকমণ্ডলী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ।

‎মিলাদ-কিয়াম ও তাওয়াল্লোদে গাউসিয়া পরিচালনা করেন বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) রওজা শরীফের খাদেম মাওলানা হাবিবুল্লাহ।

আলোচিত খবর

জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় বেশি সময় লাগতে পারে- ইসি সচিব।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের দুই ধরনের ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং প্রার্থীর সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ভোটগ্রহণ ও গণনা—উভয় প্রক্রিয়াতেই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক ও বিএনসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি আরও জানান, এবারের নির্বাচনে প্রবাসী ভোটার ও দেশের অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য আলাদা ব্যালট ব্যবহৃত হবে। এর সঙ্গে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় ভোট গণনায় অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট গণনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে সচিব বলেন, ফেনী-৩ আসনে পোস্টাল ভোটার ১৬ হাজার ৩৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭৪ জন এবং কুমিল্লা জেলায় ১৩ হাজার ৯৩৯ জন ভোটার পোস্টাল পদ্ধতিতে নিবন্ধিত। একটি কেন্দ্রে সাধারণত তিন হাজার ভোটার থাকলেও পোস্টাল ব্যালটের চাপ পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি, যা ফল প্রকাশে বিলম্ব ঘটাতে পারে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ