চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাত্রদলকর্মী হত্যার অভিযোগে সাবেক সংসদ ওদুদসহ ১৬ জনের নামে মামলার আবেদন

বদিউজ্জামান রাজাবাবু  চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

২০১৫ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাত্রদলকর্মী তোফায়েল আহমেদ মিলনকে অপহরণের পর গুলি করে হত্যার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ৩ আসনের সাবেক সংসদ আব্দুল ওদুদ ও র‍্যাবের সাবেক ডিজি বেনজীর আহমেদসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলার আবেদন করা হয়েছে।চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় তোফায়েল আহমেদ মিলনের চাচা ও রানিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা রহমত আলী বাদী হয়ে এই মামলার আবেদন করেন।ছাত্রদলকর্মী তোফায়েল আহমেদ মিলন সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুরহাট গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে।

আসামিরা হলেন- রানীহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও রানিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মহসীন আলী, নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাক ইসলাম পিন্টু, রাজশাহী র‍্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব আলম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্প কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোবাশ্বের রহিম, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ওয়ালিউল ইসলামসহ আরও স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা।

এজাহারে বলা হয়, ছাত্রদলকর্মী মিলনকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ আব্দুল ওদুদ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের যোগসাজশে ২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর বাড়ি থেকে র‍্যাব সদস্য পরিচয়ে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ১৩ দিন পর ২ ডিসেম্বর পাশের গ্রামে গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্বার করে স্থানীয়রা।

মামলার বাদী বিএনপি নেতা রহমত আলী জানান, বিএনপি পরিবারের সন্তান হওয়ায় মিলনকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর থানা ও আদালতে বারবার যোগাযোগ করলেও মামলা নেওয়া হয়নি। আশা করি, সুষ্ঠু তদন্ত হলে ন্যায়বিচার পাব।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম জাকারিয়া বলেন, মামলার আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে তদন্ত সাপেক্ষে মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে বাসা থেকে হিজড়াদের ‘গুরুমা’ মৌসুমীর লাশ উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিজ বাসা থেকে হিজড়া সম্প্রদায়ের এক নেত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর খুলশী থানার আমবাগান রেলওয়ে কলোনি সংলগ্ন হিজড়া কলোনি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার নাম মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়া। প্রাথমিকভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। ৫২ বছরের মৌসুমী হিজড়া চট্টগ্রামে বসবাসরত হিজড়া সম্প্রদায়ের একটি গ্রুপের কাছে ‘গুরুমা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হিজড়া কমিউনিটির লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা হত্যার বিচার দাবি করে বিক্ষোভও করেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোহাম্মদ নাসিম জানালেন, মৌসুমী বাসায় একা থাকতেন। সকালে প্রতিবেশীরা ঘুম থেকে উঠে তার বাসার দরজা খোলা দেখতে পান। পরে শয়নকক্ষে বিছানার ওপর তাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। পরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এসআই নাসিম জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। মৌসুমীর গলায় গুরুতর জখমের চিহ্ন আছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জানা গেছে, মৌসুমীর বাসার পেছনে একটি গরুর খামার আছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) খামারের একটি গরু বিক্রি করা হয়। গরু বিক্রির টাকা তার কাছে ছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। ওই টাকা ও তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে গরু বিক্রির টাকা লুটের জন্যই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে প্রতিবেশী কয়েকজন জানিয়েছেন, রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত মৌসুমী তাদের সঙ্গে গল্প করেন। এরপর তিনি ঘুমাতে যান। পাশের কক্ষের বাসিন্দারা তার বাসার সামনে এক জোড়া জুতা দেখতে পান। ভোররাতের দিকে ওই বাসা থেকে বাকবিতণ্ডার শব্দও শুনতে পান তারা। তবে কলোনির কারও সঙ্গে কথা বলছেন মনে করে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। সকাল ১০টা পর্যন্ত মৌসুমী ঘুম থেকে না ওঠায় প্রতিবেশীরা তাকে ডাকতে যান। এ সময় তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানিয়েছেন, নিহত মৌসুমী হিজড়া সম্প্রদায়ের একজন নেতা ছিলেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি জানান।

চট্টগ্রামে অভিযানে সুড়ঙ্গপথে পালালো শীর্ষ সন্ত্রাসী বগা, পুলিশের ওপর হামলায় আহত ৬

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে (৪২) গ্রেফতারে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এসময় তার বাসার ভেতরে থাকা একটি গোপন সুড়ঙ্গপথ দিয়ে পরিবারের সহযোগিতায় পালিয়ে যান তিনি। তবে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের গাড়ি আটকে ছোড়া হয় ইট-পাটকেল। পুলিশ গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে পালিয়ে যায়
হামলাকারীরা।

এ ঘটনায় খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিমসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর খুলশী থানার ওয়্যারলেস মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। নাম প্রকাশে অনাগ্রহী একাধিক পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন, অভিযানের খবর আগেই পৌঁছে যাওয়ায় অনুসারীদের দিয়ে পুলিশকে ঠেকানোর সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন ওয়াকিল।

পুলিশ জানায়, পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধর এবং অধ্যক্ষকে ভিডিও কলে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ২ নম্বর আসামি বগা। তাকে গ্রেফতারে অভিযানে গেলে অনুসারীরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও ককটেল সদৃশ বস্তু ছোড়ে। এসময় খুলশী থানার ওসির সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

জানা গেছে, ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সিএমপির তালিকাভুক্ত এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক, বিস্ফোরকসহ ১৭টি মামলা আছে। সরকারি জমি দখল, গোলাগুলিসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত ৮ জুন তাকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পুলিশ আরো জানায়, গত ২৯ আগস্ট পাহাড়তলী কলেজের অস্থায়ী শিক্ষক মিজানুর রহমানকে পিটিয়ে আহত করে একদল সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় ওয়াকিলকে আসামি করে মামলা হয় খুলশী থানায়।

ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম বললেন, মামলার পর ওয়াকিল ক্রমাগত আমার সরকারি ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে গালিগালাজ করেন। হুমকিও দেন। এ অবস্থায় আমরা তাকে গ্রেফতারে অভিযানে নামি। থানা থেকে বেরিয়ে ১৫-২০ গজ দূরে ওয়্যারলেস কলোনির মোড়ে পৌঁছাতেই দেখি রাস্তায় ব্যারিকেড। কয়েকশ লোক সেখানে। আমাদের গাড়ি আর এগোতে পারেনি। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি ও পুলিশ লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, কাচের বোতল নিক্ষেপ শুরু করে। ককটেলের বিস্ফোরণও ঘটানো হয়।

আত্মরক্ষার্থে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে হয়েছে। ইটের আঘাতে আমি, আমার বডিগার্ড এবং আরও ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আমার সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জানা গেছে, ওয়াকিল হোসেন বগা ওয়্যারলেস কলোনির মোহাম্মদ জাবেদের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে খুলশী, পাহাড়তলী ও আকবর শাহ এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক, দখলবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৭টি মামলা রয়েছে। গত ৮ জুন শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ