আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

আবরার হত্যাকাণ্ডের ৫ বছর।।সন্তানের স্মৃতি আঁকড়ে দিন কাটে মা রোকেয়ার

হৃদয় রায়হান কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আবরার হত্যাকাণ্ডের ৫ বছর সন্তানের স্মৃতি আঁকড়ে দিন কাটে মা রোকেয়ার‘ছেলের ব্যবহৃত হাতঘড়ি, দুটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, নামাজের টুপি, তসবি, ব্রাশ, না খাওয়া চকলেট, জুতা, জামাকাপড়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড, নিত্যব্যবহার্য জিনিসগুলি স্বযত্নে রেখেছেন মা রোকেয়া খাতুন।

এছাড়াও আলমারিতে সুরক্ষিত আছে ছেলের অর্জিত বিভিন্ন পুরস্কার। সর্বশেষ কিনে দেয়া অক্ষত মোড়কের নতুন জামাটিও রয়েছে মায়ের সংগ্রহশালায়। হলে থাকা কাপড় চোপড় পরম যত্নে রেখেছেন বাড়িতে যে কক্ষটি ছিল আরবারের থাকার জন্য। থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন ছেলের পড়া বই। আবরার ফাহাদ মারা গেলেও তার মা তার স্মৃতি গুলোকে সংরক্ষণ করে আগলে রেখেছেন।

রোববার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের শাখা বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদ সড়কের ৫নং ওয়ার্ডের ৩নং বাড়িতে বড় ছেলে প্রয়াত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের রেখে যাওয়া স্মৃতির সাথে বিড়বিড় করে নিজের মনেই কথা বলে একাকী দিন কাটান মা রোকেয়া খাতুন।

পুলিশের কাছ থেকে ফেরত পাওয়া এন্ড্রয়েট মোবাইলটি এবং আসুস ল্যাপটপটি নাড়াচাড়া করতে করতে প্রলাপ করে বলেন, এই মোবাইলটাই ওর জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ালো, আমি কি জানতাম যে মোবাইলে ফেসবুকে পোস্ট করে ওর জীবন যাবে তাহলে তো মোবাইল কিনে দিতাম না।

আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ ব্র্যাকে কর্মরত নিরীক্ষক হিসেবে ঢাকায় থাকেন। মূলত, ছোট ছেলে ফায়াজের পড়ালেখার জন্যই তিনি পোস্টিং নিয়ে থাকেন ঢাকায়। কুষ্টিয়ার বাসায় শুধু থাকেন আবরার ফাহাদের মা।

রোকেয়া খাতুন আবরারের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করে বলেন, যেদিন আমার ছেলে বাড়ি থেকে গিয়েছিলো সেদিন ছিল ৬ তারিখ রোববার। ৫ বছর পরে আজকে ঠিক সেই রোববার এবং ৬ তারিখ। আজকের এই দিনেই সকালে বাসে উঠিয়ে দিয়ে এসেছিলাম। বার বার ফোন দিয়ে বলছিলো কোথায়। জ্যাম ছিল না তাও বার বার বলছিলো যে দেরি হচ্ছে। হয়তো এটাই ছিল ওর জীবনে শেষ যাত্রা।

তিনি বলেন, সেদিন কেউ এগিয়ে আসে নাই। কত ছাত্র ছিল দারোয়ান ছিল কেউ এগিয়ে আসেনি। আমার ছেলেকে ওরা শিবির বলে মেরে ফেলেছে। আমার ছেলেকে অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছে। আমার ছেলের কথা গুলো আমার কানে বাজে। আজ ৫ বছর চলে গেছে আমি কিছুই ভুলতে পারিনি।

তিনি বলেন, নিম্ন আদালতে মামলার রায় হয়েছিল। ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন আদালত। আসামিদের মধ্যে এখনও যে ৩ জন পলাতক রয়েছে তাদের যেন দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয় এবং দ্রুত রায়টা কার্যকর করা হয়। তবে জেল থেকে আবরারের খুনিরা পালিয়ে গেলো কিনা সেটাও আমি আশঙ্কা করছি।

আবরারের মা জানান, আমার ছেলে দেশের মানুষের জন্য ফেসবুকে ইলিশ মাছ নিয়ে লিখেছিলো। পানি চুক্তির অসমতা নিয়ে লিখেছিলো ও দেশকে অনেক ভালোবাসতো। ও কোন দল বা রাজনীতির কারণে ফেসবুকে লিখেছিলো না। আমরা সবাই চাই দেশের সাধারণ মানুষগুলো ভালো থাক।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মতিউর রহমান চৌধুরী নোয়াব সভাপতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী  মালিকদের সংগঠন- নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ