চসিক’র একের পর এক ঘাট ইজারা চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে প্রতিবাদমুখর ১২ শতাধিক সাম্পান মাঝি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) একের পর এক ঘাট ইজারা দেওয়ায় প্রতিবাদের ফেটে উঠেছে প্রায় ১২ শতাধিক সাম্পান মাঝি। কর্ণফুলী নদীর ১০ ঘাটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বৈঠা বর্জন ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করছে কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের অন্তর্ভূক্ত একাধিক সংগঠন। সোমবার সকাল ৬টা থেকে কর্ণফুলী নদীর ঘাটগুলোতে সাম্পান চলাচল বন্ধ রেখে প্রতিবাদ করছে ১২ শতাধিক সাম্পান মাঝি। বংশ পরম্পরাই জন্মগত পেশাদার পাটনিজীবী (সাম্পান মাঝি) সমিতি গুলোকে চসিকের সদরঘাট, অভয়মিত্রঘাট ও বাংলাবাজার নৌ ঘাট তিনটি না দিয়ে বহিরাগতদের খাস আদায়ের দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিবাদে মাঝিরা এ কর্মসূচী পালন করছে।
এতে নতুনব্রিজঘাট, তোতারবাপের হাট, বিডব্লিউ ঘাট, দক্ষিণপাড় পুরাতন ব্রিজঘাট, সদরঘাট, অভয়মিত্র, কর্ণফুলী ঘাট, বাংলা বাজার ঘাট, সল্টগোলা ঘাটে (পাটনিজীবী নাই) ইঞ্জিনচালিত সাম্পান চলাচল বন্ধ দেখা যায়। তবে জরুরি রোগী সেবা ও খাদ্যদ্রব্যের পারাপারে মানবিকতা দেখাচ্ছেন মাঝিরা। নদীর অন্যান্য ঘাটে যাত্রী পারাপার চলছে।
সোমবার সকালে সরেজমিনে নৌ ঘাটে উপস্থিত সাম্পান মাঝিরা জানান, ২০০৩ সালের পাটনিজীবী নীতিমালা তোয়াক্কা না করে একের পর এক অবৈধভাবে মাঝিদের ঘাট ছাড়া করছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এতে দেয়ালে মাঝিমাল্লাদের পিট ঠেকে যাওয়ায় বাধ্য হয়েছে বৈঠা বর্জন ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করতে।
চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান চালক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পেশাগত সাম্পান মাঝি (পাটনিজীবী) থেকে ঘাট কেড়ে নিয়ে পাটনিজীবী নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ইজারা দিচ্ছে। ঘাট হারা মাঝিরা চসিকে লিখিত অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না। তাই বৈঠা বর্জন চলছে।
অপরদিকে, বিগত ২০২০ সালের ২৯ এপ্রিল সরকার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ পেশাদার জন্মগত পাটনিজীবী সমিতিকে নৌ ঘাটগুলো ইজারা দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু চসিকের প্রধান রাজস্ব নির্দেশনাটিও মানছেন না বলে মাঝিদের দাবি।
জানতে চাইলে চসিকের রাজস্ব কর্মকর্তা সাব্বির রাহমান সানি বলেন, ঘাটগুলোর বিষয়ে আপনারা প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন। এসব উনি ডিল করেন। আমার বরাবরে আসে না এসব বিষয়। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, হাইকোর্টের আদেশ মানতে হবে। কিছু করার নেই। খাস কালেকশনে ঘাট চলছে। যেহেতু আদালতের নির্দেশে স্থগিত ইজারা। রিট শুনানির জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে অভয়মিত্র ঘাটের খাস কালেকশনের জন্য চসিক এস্টেট শাখার বাজার পরিদর্শক দূর্বাদল চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এমনকি এ কাজে লোকবল, যাত্রী পারাপারে নৌকা, সাম্পান সরবরাহ-সহ অন্যান্য সহযোগিতার জন্য ২১ অক্টোবর থেকে আবু নাসের সাজ্জাদ ও আব্দুল কাদের ফিরোজ নামে দু’ব্যক্তিকে নিয়োজিত করেন। যারা ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ড বিএনপি নেতা। এতেই ক্ষেপে গিয়ে বৈঠা বর্জন ও অবস্থান ধর্মঘটের ঘোষণা দেন কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন।
এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন ও ইছানগর সদরঘাট সাম্পান মালিক সমিতির সভাপতি এসএম পেয়ার আলী ও চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল হোসেন।
ইছানগর বাংলাবাজার সাম্পান মাঝি সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ লোকমান দয়াল বলেন, চসিকের বোঝা উচিত ঘাট হারালে শত শতা মাঝিরা তাঁদের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করবে। অনেকের বাপ দাদা তিন পুরুষের এই পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য না করার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি চসিকের প্রশাসকের প্রতি। এছাড়াও, অভয়মিত্র ঘাটের অনেক মাঝিদের অভিযোগ চসিকের ১৯টি ঘাট নিয়ে যখন যেমন ইচ্ছা খেলা খেলছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সকল অনিয়মের হেডকোয়ার্টার এই রাজস্ব কর্মকর্তা। এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মাঝিরা।
চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান চালক সমিতি ও বাংলা বাজার সদরঘাটের মাঝিরা জানান, প্রতি বছর ১৯ ঘাট থেকে রাজস্ব আদায় হতো প্রায় ৬ কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু চৌদ্দশত একত্রিশ বাংলায় এসে আইনি জটিলতায় এবার ঘাটগুলো ইজারা দিতে পারেনি চসিক। সে সুযোগে খাস কালেকশনের নামে চমিকের একাধিক অসাধু কর্মকর্তারা নিজের আখের গোছাচ্ছেন।
দৈনিক আদায়কৃত টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। সাদা কাগজে চসিক সিল দিয়ে টাকা পরিশোধের সার্টিফিকেট দেওয়া হলেও সেখানে টাকার পরিমাণ উল্লেখ নেই। রাজস্বের টাকা লুটপাট করতেই চসিকের গুটিকয়েক কর্মকর্তা এমন অপকৌশল বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে অভয়মিত্র ঘাটের সহযোগি হিসেবে নিয়োজিত ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাসের সাজ্জাদ বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে সিটি কর্পোরেশন থেকে ঘাট নিয়েছি। কোন অবৈধ ভাবে নিইনি। আজ (সোমবার) থেকে খাস কালেকশন করার কথা দৈনিক সাড়ে তিন হাজার করে। কিন্তু ঘাটে এসে দেখি অবস্থান ধর্মঘট। সাম্পান চলছে না। এতে সাধারণ মানুষজন কষ্ট পাচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এটির সমাধান হোক। ইতিমধ্যে সাম্পান সমিতির মাঝিদের প্রস্তাব দিয়েছি বসার। তবে কোন আশঙ্কা নেই ভাড়া বাড়ার।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন সভাপতি এস.এম পেয়ার আলী বলেন, ‘বৈঠা যার ঘাট তার’ এই দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন করবো। প্রতিটি ঘাটের সকল সাম্পান মাঝিদের নিয়ে গঠিত সমিতির অনুকূলে ঘাট ইজারা দিতে হবে। বহিরাগতদের ঘাট দিয়ে খাস কালেকশন চলবে না।
নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরাম উল্লাহ বলেন, বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন স্যারদের জানিয়েছি। এটি যেহেতু চসিকের রাজস্ব শাখার বিষয়। তবে নৌ পুলিশ মাঠে রয়েছে।
বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা গবেষক ডাক্তার মাহফুজুর রহমান মাঝিদের সাথে একাত্ত্বতা ঘোষণা করে বলেন, যার পেশা যেটা তাকে সেটা করার সুযোগ করে দেয়ার নাম স্বাধীনতা ও স্বদেশ প্রেম। কিন্তু কিছু অসাধু দূর্বৃত্ত এই গরীব মাঝিদের পেশা কেড়ে নিয়ে নদীতে অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করছে। যা দুঃখজনক।
এই বিষয়ে কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতির ফেডারেশনের উপদেষ্টা সাংবাদিক আলীউর রহমান বলেন, ২০১৬ সালে হাইকোর্টে রিট মামলার আদেশ অনুাযাায়ী পাটনিজীবী নীতিমালার ভিত্তিতে কর্ণফুলীর সাম্পান ঘাট ইজারা দেয়ার বিষয়টি মিমাংষীত। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হাইকোর্টের আদেশের তোয়াক্কা না করে হঠাৎ বহিরাগত কিছু ব্যক্তিদের মাঝিদের ঘাট পরিচালনা করার দায়িত্ব দেন। এতে উ্দ্ভূদ পরিস্থিতিতে ঘাট বন্ধ থাকায় উভয় তীরের হাজার হাজার যাত্রী চরম বেকায়দায় পড়ে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পুলিশের যোগসাশসে ইটভাটার জন্য প্রবাসীর জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটার জন্য এক দুবাই প্রবাসীর বসতভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদীয়া ব্রিকফিল্ডের মালিক মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। জমি দখলে বাধা দেওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও শ্যালককে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার তিন উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধেও ইটভাটার মালিকের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জমি বন্ধক দিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী বিলকায়েছ আরা বেগম ও শ্যালক নূর হোসেন মানিক।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুল গোফরানের কেনা বসতভিটার জমিতে ইটভাটা সম্প্রসারণ করতে চান জাকির হোসেন। এ জন্য জমির সীমানায় থাকা টিনের বেড়া ভেঙে দখলের চেষ্টা করছেন তিনি। জমি বিক্রি কিংবা তার কাছে বন্ধক না দিলে পরিবারটিকে এলাকায় বসবাস করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

পরিবারটির দাবি, গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাতে জাকিরের লোকজন গোফরানের জমির দক্ষিণ পাশের টিনের বেড়া ভেঙে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গোফরানের স্ত্রী বিলকিস আরা বেগম থানায় মামলা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলেও দাবি পরিবারের।

তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর রাত ৮টার দিকে এসআই নজরুল প্রবাসীর স্ত্রী ও তার বড় ভাইকে থানায় ডেকে নেন। সেখানে জাকিরের কাছে জমিটি বন্ধক দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তারা তাতে রাজি হননি। এর চার দিন পর, ১৬ অক্টোবর স্বামীর কেনা জমিতে ২১ ফুট বাই ১৬ ফুট আয়তনের টিন ও কাঠ দিয়ে একটি দোচালা ঘর নির্মাণ শুরু করেন বিলকায়েছ আরা বেগম। এ সময় কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই নজরুল, এসআই সুমন ও এসআই আনোয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলেন। একই সঙ্গে জাকিরের সঙ্গে সমঝোতা করে জমিটি তার কাছে বন্ধক দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ পরিবারের। অন্যথায় তাদের বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের।

পরিবারটির ভাষ্য, পুলিশের কথায় রাজি না হয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ওই দিন রাতেই জাকিরের লোকজন নির্মাণাধীন দোচালা ঘর ও টিনের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গত ২৬ অক্টোবর দুবাই দূতাবাসের মাধ্যমে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল গোফরান। অভিযোগটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে জাকিরের লোকজন আবারও ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেঙে ফেলা ঘর ও সীমানাপ্রাচীরের কাঠ ও টিন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

পরিবারটির আরও অভিযোগ, জাকির দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি ও বিধিমালা উপেক্ষা করে উপজেলা প্রশাসনের নিরবতায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ‘মোহাম্মদীয়া’ নামের ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে শ্রমিক পরিচয়ে লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইটভাটার মালিক জাকির হোসেন বলেন, ইটভাটার ভেতরে প্রবাসীর ৯ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির ওপর আমার মাটির স্তূপ রয়েছে। আমি তাদের বকেয়া টাকা থাকলে নিয়ে যেতে এবং জমিটি বিক্রি করে দিতে বলেছি। কিন্তু তারা আমার কাছে জমি বিক্রি করতে রাজি হননি। পরে তাদের জায়গায় রাখা আমার মাটি ও ইটের খোয়া দিয়ে দিতে বললে তারা বাধা দেন। এরপর তারা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীর স্ত্রী প্রথমে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর এসআই সুমন ও আনোয়ারও সেখানে যান। উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযোগকারী পক্ষ সেখানে ঘর নির্মাণ করতে গেলে ইটভাটার লোকজন বাধা দেন। পরে প্রবাসীর পরিবারসহ দুই পক্ষ বিষয়টি বর্তমান ওসিকে অবহিত করে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে পরে জানানো হবে।

দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু: বিচার ও যৌতুকপ্রথা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


চট্টগ্রামের পটিয়ায় দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং যৌতুকপ্রথা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্র শক্তি পটিয়া উপজেলা শাখা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে পটিয়া থানার মোড় চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতাকর্মী, নিহত দুই নারীর পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্র শক্তি পটিয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম তৌকির, মুখ্য সংগঠক মিছকাত আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সাকিবুল ইসলাম সাকিব এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল্লাহ আশরাফুল (সিফাত)।বক্তারা বলেন, যৌতুকের দাবিতে নারীর ওপর নির্যাতন ও প্রাণহানির ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যৌতুকপ্রথা নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা। এ সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তারা আরও বলেন, পটিয়ায় দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে হবে। তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
সমাবেশ থেকে যৌতুকপ্রথা নির্মূল, নারীর প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধ এবং দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ