কৃষক দল নেতা হত্যার ছয় বছর পর মামলা

:মোঃ গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  1. রাজশাহীতে কৃষক দল নেতা হত্যার ছয় বছর পর মামলা হয়েছে।রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষক দলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি নজরুল ইসলামকে হত্যার ছয় বছর পর মামলা করেছে পরিবার। এ মামলায় পুলিশ স্থানীয় এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এই মাদক কারবারির নাম সেতাবুর রহমান বাবু (৩৬)। তার বাবার নাম আতাউর রহমান। বাড়ি উপজেলার মাটিকাটা গ্রামে। তিনি মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারি এই সেতাবুর রহমান বাবু। তার নামে একাধিক মাদক মামলাও রয়েছে। আওয়ামী লীগের এই কর্মী এতদিন দাপটের সঙ্গেই মাদক ব্যবসা করেছেন।

নিহত নজরুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম কুসুম উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তার আরেক ছেলে আসাদুজ্জামান সরকার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।

পুলিশ জানায়, আসাদুজ্জামান মাসুম সম্প্রতি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলার আবেদন করেন। তখন আদালত গোদাগাড়ী থানা পুলিশকে প্রাথমিক তদন্তের জন্য নির্দেশ দেয়। এরপর পুলিশ তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে যে বাদীর অভিযোগ সঠিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী শনিবার রাতে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এরপর ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে এ মামলার প্রধান আসামি বাবুকে গ্রেফতার করা হয়।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে রবিউল সরকার কুসুম মাটিকাটা ভোটকেন্দ্রে যান। এ সময় আওয়ামী লীগের ওই কর্মীরা বাবা-ছেলেকে পিটিয়ে আহত করেন। ভোট দিতে গেলে প্রাণেই মেরে ফেলা হবে বলে তাদের হুমকিও দেওয়া হয়। তবে বাবা ছেলে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন।

এরপর ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আসামিরা নজরুল ইসলামের বাড়িতে হামলা করেন। তারা ব্যাপক ভাঙচুর চালান। দুই লাখ টাকার মালামালও লুট করেন। বাধা দিতে গেলে আসামিরা নজরুল ইসলামকে লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যান। ওই সময় আসামিরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই নজরুল ইসলামের মরদেহ দাফন করতে বাধ্য করেন। আসামিদের ভয়ে তখন পরিবারের সদস্যরা মামলাও দায়ের করতে পারেননি।গোদাগাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, শনিবার রাতে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর মামলার প্রধান আসামিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাত -সাদ্দামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একই রায়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তারা। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।

চট্টগ্রামে কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন, যুবকের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যায় আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। দণ্ডিত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মিঠুর (৩২) বাড়ি হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মির্জাপুর গ্রামে।একই রায়ে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের খিল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছোট্ট মিয়ার মেয়ে মোছাম্মৎ কলি আক্তার (১৫) নিখোঁজ হন। পরদিন সন্ধ্যায় তার লাশ বাড়ির অদূরে পুকুরপাড়ে পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকে অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া যায়।অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করে রাখার অভিযোগে ১৮ অক্টোবর থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নজরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আসামি। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা হাটহাজারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জলিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
তাতে বলা হয়, নজরুল ও কলি তালতো ভাই-বোন। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন নজরুল তাকে পুকুরপাড়ে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকে ফেলে রেখে যায়।

ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী জানালেন, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (২) ধারায় আসামিকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন। তবে একই আইনের ৭ ধারায় অপহরণের অভিযোগ থেকে আসামিকে খালাস দিয়েছেন। লাশ গুমের অভিযোগ প্রমাণ হলেও একই ঘটনার ধারাবাহিকতা বিবেচনায় আদালত দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় আসামিকে কোনো সাজা দেননি।

তিনি বলেন, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হলেও আসামিকে মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার বিষয়টি আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন। এতে বলা হয়েছে, আদালতের কাছে ঘটনাটি আগে থেকে পরিকল্পিত মনে হয়নি। আসামি ছিলেন নিরস্ত্র। ঘটনার সময় বয়স ছিল মাত্র ২৪। গ্রেফতারের পরদিনই দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। আগের কোনো সাজাও নেই। ইতোমধ্যে আসামির আট বছর হাজতে কেটেছে। ভবিষ্যতে সংশোধনের অযোগ্য এমন কিছু রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে উপস্থাপন করেননি আসামি।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ