আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে মৎস্য সম্পদের গুরুত্ব অপরিসীম: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা মিজ্ ফরিদা আখতার বলেছেন, মেরিন ফিশারিজ একাডেমি হতে প্রশিক্ষিত হয়ে ক্যাডেটরা হতে চলেছে গভীর সমুদ্রের অকুতোভয় কান্ডারী। কঠোর অধ্যবসায় এবং প্রগাঢ় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত এ জ্ঞান ক্যাডেটদের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। মঙ্গলবার সকালে মেরিন ফিশারিজ একাডেমি চট্টগ্রামের ৪৩তম ব্যাচের ক্যাডেটদের পাসিং আউট প্যারেড-২০২৪ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

উপদেষ্টা বলেন, কর্মজীবনে উন্নতির প্রধান ভিত্তি হলো কঠোর পরিশ্রম, সময়ানুবর্তিতা, সততা, কর্মদক্ষতা, মূল্যবোধ এবং দেশ ও জাতির প্রতি কর্তব্য নিষ্ঠা। এই বোধগুলো আত্মস্থ করে ভবিষ্যত কর্মক্ষেত্রে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, দেশের জনসাধারণের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানিআয় বৃদ্ধিসহ দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্য সম্পদের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও প্রশিক্ষণ সুবিধাদির উন্নয়নের মাধ্যমে এ একাডেমিকে যুগোপযোগী মেরিটাইম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে।
উপদেষ্টা আরো বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদের আধার বঙ্গোপসাগর প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের জনগণের আমিষের চাহিদা মিটাতে বিপুল পরিমাণ মৎস্য সম্পদ যোগান দিয়ে যাচ্ছে। এই বঙ্গোপসাগর হতে মৎস্য সম্পদ আহরণ, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণসহ এর জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশ দূষণ রোধে ক্যাডেটদের সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। এছাড়া, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে ক্যাডেটরা যোগদান করে আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধশালী করবে এবং একই সাথে জাতীয় সুনীল অর্থনীতির লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করবে।
এর আগে এ বছর একাডেমির ৪৩তম ব্যাচে সর্বমোট ১০৬ জন (১২ জন মহিলা) ক্যাডেট পাসড আউট হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সাফল্যের স্বীকৃতি পুরস্কার হিসেবে ক্যাডেটদের মধ্যে পদক বিতরণ করেন। এ বছর ৪৩তম ব্যাচের ক্যাডেটদের মধ্যে সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী ক্যাডেট হিসেবে মেরিন ফিশারিজ বিভাগের ক্যাডেট মোহাম্মদ আহসান উল আনোয়ার ‘বেস্ট অল রাউন্ডার গোল্ড মেডেল’ প্রাপ্ত হয়। তিন বিভাগের সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী ক্যাডেট হিসেবে নটিক্যাল সায়েন্স বিভাগ হতে ক্যাডেট মোঃ রায়হান হোসেন মজুমদার, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ হতে ক্যাডেট মোঃ জোবায়ের আব্দুল্লাহ্ এবং মেরিন ফিশারিজ বিভাগ হতে ক্যাডেট মোহাম্মদ আহসান উল আনোয়ার ‘বেস্ট ইন প্রফেশনাল ট্রেনিং সিলভার মেডেল’ পদক প্রাপ্ত হয়। এছাড়াও মহিলা ক্যাডেটদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মহিলা ক্যাডেট হিসেবে নটিক্যাল সায়েন্স বিভাগের ক্যাডেট শারমিন সুলতানা ‘বেস্ট ফিমেইল ইন প্রফেশনাল ট্রেনিং সিলভার মেডেল’ পদক প্রাপ্ত হয়।
মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ হাসান,(জি), বিসিজিএমএস, পিএসসি,বিএন এর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ, অতিরিক্ত সচিব আমেনা বেগম, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো: জিয়াউদ্দীন, বিএফডিসি’র চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) সুরাইয়া আখতার জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: জিল্লুর রহমান, মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কমোডর মো:মনির উদ্দিন মল্লিক, বিএন, মেরিন একাডেমির কমান্ডেন্ট ক্যাপ্টেন মো: ইবনে কায়সার তৈমুর, ন্যশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান, ক্যাডেটদের অভিভাবকবৃন্দ, বিভিন্ন শিপিং এজেন্সি প্রতিনিধি এসময় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ