আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন ‘ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি’র জমি অধিগ্রহণে ব্যয় প্রায় ৫২ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো ‘ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি’ প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগ নেয় সরকার। এজন্য নগরীর বাকলিয়ার কল্পলোক আবাসিক সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীর পাড়ে আড়াই একর ভূমি চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো। এতে জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ সব টাকা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এলএ শাখাকে প্রদান করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। কিন্তু জমির মালিকানা নিয়ে বাকলিয়ার জনৈক ব্যক্তি আদালতে মামলা করলে অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়ে যায় প্রকল্পটি। এরপর দ্বিতীয় দফায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মেরিন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য নগরীর বাকলিয়ায় অপর একটি জায়গা বাছাই করে। পরে সেটি অধিগ্রহণের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু সেটিরও মালিকানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। শেষমেষ এটিও মামলায় গড়ায়। পরে অবশ্য সব জটিলতা কাটিয়ে জায়গা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়।

 

এ প্রসঙ্গে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মহেন্দ্র চাকমা বলেন, আমরা ভূমি অধিগ্রহণ সমন্বয় করছি। এরপর গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সেখানে ভবন নির্মাণে কাজ করবে।
এদিকে প্রকল্প গ্রহণের এক দশকেও বাস্তবায়ন হয়নি চট্টগ্রামে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি) নির্মাণ কাজ। ভূমি সংক্রান্ত দুই দফায় জটিলতার কারণে এটি বাস্তবায়ন পিছিয়ে যায়।
প্রকল্পের সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে জমি সংক্রান্ত আর কোনো জটিলতা নেই। প্রকল্পের জন্য বাকলিয়ায় আড়াই একর ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এখন ইনস্টিটিউট অব মেরিন টকনোলজি’তে (আইএমটি) কী ধরনের প্রশিক্ষণ হবে, কোন কোন ট্রেডে পড়ানো হবে, তা নিয়ে পিজিবিলিটি স্টাডি চলছে। এসব কাজ শেষ হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন মাঠে গড়াবে।

 

জানা গেছে, এটি নির্মাণে নগরীর বাকলিয়া এলাকায় আড়াই একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। কিন্তু ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে যথাসময়ে ভূমি অধিগ্রহণ করা যায়নি। তাতে প্রকল্পটি হুমকির মুখে পড়ে। শেষমেষ জটিলতা কাটিয়ে সম্প্রতি প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বতীরে বন্দর থানা সংলগ্ন এলাকায় ১৯৫৮ সালে একটি মেরিন ইনস্টিটিউট গড়ে ওঠে। এটির নাম- বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (বিআইএমটি)। এখানে পড়াশোনা করেন ২ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী। ১০ একর জমির ওপর এই ইনস্টিটিউট অবস্থিত, যার তিন দিকেই শীতলক্ষ্যা নদী এবং ত্রিবেনী খাল অবস্থিত। এটি হল একটি সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, যেখানে মেরিন এবং শিপ বিল্ডিং প্রযুক্তিতে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে শিক্ষাদান করা হয়। বিআইএমটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নের জন্য চারটি পৃথক কোর্সও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

 

এছাড়াও একই বিষয়ে দুই বছর মেয়াদি ট্রেড কোর্স ও শর্ট কোর্স করা হয়। ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির জন্য মাধ্যমিক বা সমমান পাস হতে হয় এবং ট্রেড কোর্সে ভর্তির জন্য উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পাস হতে হয়। মূলত নারায়ণগঞ্জের আদলে চট্টগ্রামে ‘ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি’ নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করে স্বল্প খরচে দেশে-বিদেশে চাকরির সুযোগ পাবে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার সুযোগও রয়েছে।
বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, জার্মানি, জাপান, ইংল্যান্ড, কাতার, অস্ট্রেলিয়া, দুবাইয়ে চাকরির অবারিত সুযোগ থাকবে। এছাড়াও দেশি-বিদেশি জাহাজ, শিপ ইয়ার্ড ও ডক ইয়ার্ড,′ পাওয়ার প্লান্ট, ডিজাইন সেকশন, সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে কাজের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এখান থেকে খুব কম খরচে পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের উদীয়মান জাহাজ নির্মাণ শিল্পে এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে।

 

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে সারাদেশে ৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং চট্টগ্রামে ১টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন প্রকল্প গ্রহণ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। পুরো প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৬৬৭ কোটি ৭ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে ৪০টি টিটিসি নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে ১০ বছরেও শুরু করা যায়নি চট্টগ্রামে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি নির্মাণের কাজ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অপতথ্য ও গুজবের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা নিতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বলেছেন, গুজব ও অপতথ্য মোকাবেলায় সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা নিতে হবে।তিনি সোমবার ১৫ জুন ময়মনসিংহের নান্দাইলে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত
১৩-১৫ জুন তিন দিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।

অপতথ্য ও গুজব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় ব্যক্তিগতভাবে অপতথ্যের শিকার হয়েছি। এখন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুজব ও অপতথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এটি মোকাবেলায় সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়িয়ে সাংবাদিকদের দক্ষ করে তুলতে সারা দেশে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নেওয়া হবে। সমাজে নানান বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।

নান্দাইল উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত সাংবাদিকদের মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট চেক ও এআই বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন (জুম মাধ্যমে) পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এবং নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত। প্রশিক্ষণটি সমন্বয় ও সভা সঞ্চালনা করেন পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল হক বাবুল এবং প্রেসক্লাব নান্দাইলের সভাপতি হান্নান মাহমুদ। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা জান্নাত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নান্দাইল উপজেলার ৩৫ জন সাংবাদিকের হাতে আনুষ্ঠানিক সনদপত্র তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার সাথে দিল্লিতে যা হয়েছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন-
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সাথে দিল্লিতে যা হয়েছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। সোমবার ১৫ জুন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান একটি সম্মেলনে যোগ দিতে রোববার ১৪ জুন ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যান। রোববার বিকেল ৩ টা ২০ মিনিটে সাধারণ পাসপোর্ট নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে যাত্রা করে দিল্লি এয়ারপোর্টে নামার পরই তাকে ভারতের নজরদারি তালিকা অনুযায়ী আটকে দেয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে উপদেষ্টা নিজেই পাসপোর্ট ফেরত চান এবং পরবর্তী ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতি নেন।

পরে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাকে সসম্মানে দেশটিতে প্রবেশের অনুরোধ জানালেও প্রটোকল বজায় রাখতে তা প্রত্যাখ্যান করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তথ্য উপদেষ্টা শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে প্রবেশ না করে তৃতীয় দেশ হয়ে আজ সোমবার সকালে দেশে ফিরেন ।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ