পাইকগাছায় খুশি নার্সারীতে শোভা ছড়াচ্ছে ফুল!

এম জালাল উদ্দীন:পাইকগাছা 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

খুলনার পাইকগাছায় বাণিজ্যিক ভাবে ফুল চাষ শুরু হয়েছে। আর ফুল চাষে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা। স্থানীয় ফুল ব্যবসায়ীরা খুশি নার্সারী থেকে ফুলসহ তাজা গাছ পাইকারি ক্রয় করে পাইকগাছার বিভিন্ন হাট বাজারে ফেরি করে বিক্রি করছে। শীতের সময় পাইকগাছায় খুশি নার্সারীতে নানা জাতের রঙ বেরঙ এর ফুলের সমারোহ। ফুলের হাসিতে ভরে উঠেছে ক্ষেত।
ফুল কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেও চাষ হচ্ছে ফুলের। ভালবাসার প্রতিক ফুল। শ্রদ্ধা নিবেদন, অভ্যর্থনা আর একে অন্যের প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ফুল অন্যন্য। শীত মৌসুমে ফুল চাষের উপযুক্ত সময়। আর সারা বছরে ফেব্রুয়ারী মাসকে ঘিরে ফুলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশী দেখা যায়। এ মাসেই ফুলের দিবস আর ভালবাসা দিবসসহ একুশে ফেব্রুয়ারি দিন রয়েছে। আর শীতের এ মাস ঘিরে ফুল চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন বুনে ফুল চাষীরা।
খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর নার্সারী জন্য দেশ খ্যাত। গদাইপুর এলাকা থেকে ফলদ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা ট্রাক, পরিবহন ও অনালাইনে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সরবরাহ করা হয়। উপজেলায় প্রায় চার শতাধিক নার্সারী রয়েছে। গদাইপুর খুশি নার্সারীতে ফুল, ফলদ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা উৎপাদন ও বিক্রিয় করা হচ্ছে। এখানে ইস্টেবেরি, ড্রাগন, থাইকুল, আপেলকুল, বলসুন্দরি কুল, থাইআপেল কুলসহ বিভিন্ন জাত। কালো মরিচ, কালার ফুজি মরিচ, ব্যানানা মরিচ, ক্যাপসিক্যাম, আঙ্গুর, আপেল, বেদানা, মিস্টি জলপাই, আমলকি, বিভিন্ন জাতের পেয়ারা, বারি মালটা, আম, জামসহ শতাধিক প্রজাতির গাছের কলম পাওয়া যায়। এখন শীতের সময় রং-বেরং এর নানা ফুল।
গদাইপুর ইউনিয়নের হিতামপুর খুশি নার্সারীতে গেলে দেখা মিলবে নয়নতাঁরা, ডালিয়া, জিনিয়া, কসমস, চন্দ্রমল্লিকা, ইকরা গাদা, সেলসোলিয়া, পুতলিকা, সূর্যমুখি ইন্ডিয়ান গোলাপ, কালার গোলাপ, জারবেরা, রজনীগন্ধা গাঁদা ফুলসহ দৃষ্টিনন্দন ফুলে সমারোহ। প্রতিবছর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী-মার্চ পযর্ন্ত কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায় ফুল চাষিদের। ক্ষেতে চারাসহ জারবেরা ফুল ২০ টাকা, গ্লাডিওলাস, গোলাপ, নয়নতাঁরা, সেলসোলিয়া, পুর্তলিকা, সূর্যমুখি ১৫ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা ৩০, ইন্ডিয়ান গোলাপ, কালার গোলাপ ৪০ টাকা, ডালিয়া ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন ক্ষেত থেকে ফুলসহ চারা বিক্রি হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও ফুল প্রেমিরা বাড়িতে ও ছাদে ফুলের গাছ লাগাতে চারা ক্রয় করছে। তাছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, সরকারি-বেসরকারি অফিসে ফুলের বাগান করতে এসব নার্সারী থেকে ফুলসহ চারা সরবরাহ করা হয়।
খুশি নার্সারীর মালিক মো: মিজানুর রহমান জানান, প্রায় ১৫ বছর নার্সারীতে চারা উৎপাদন ও বিক্রি করছেন। ৫ বিঘা জমিতে তার নার্সারীর ক্ষেত ও প্রায় ৫ শতক জমিতে ফুলের চারা তৈরি করেন। ছোট রেনু চারা এনে প্যাকেট বা টবে লাগিয়ে ফুলের গাছ তৈরি করা হয়। গাছে ফুল ধরলে বা ফুটলে চারা বিক্রি করা হয়। শীতের সময় ফুলের চাষের জন্য জায়গার পরিমাণটা বাড়ে। এবার ফুলে দাম ভালো হওয়ায় অধিক লাভের আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল ইসলাম বলেন, শীত মৌসুমে কিছু কিছু নার্সারীতে ফুলের চাষ হচ্ছে। ফুল চাষ লাভজনক হওয়ায় চাষিদের ফুল চাষে উদ্বুদ্ব করা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে চাষিদের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং ফুল চাষের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঢালিউড তারকা পূর্ণিমার জন্মদিন আজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌন্দর্য আর নিখুঁত অভিনয় পূর্ণিমা এখনো জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান অটুট রেখেছেন ঢালিউড জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমা। বয়স বাড়ার পরও তার সৌন্দর্য ভক্তদের মুখ শুধু একই কথা—পূর্ণিমার বয়স বাড়ছে, সৌন্দর্যও বাড়ছে।
আজ এই নন্দিত অভিনেত্রীর শুভ জন্মদিন। তার জন্ম ১৯৮১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে । সেই হিসেবে আজ তিনি ৪৫ বছরে পা রাখলেন (৪৪ বছর পূর্ণ করলেন)।

‘এ জীবন তোমার আমার’এসিনেমার মধ্যদিয়ে
১৯৯৮ সালে ১৫ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু পূর্ণিমার। জাকির হোসেন রাজু‘ পরিচালিত এসিনেমায় রিয়াজের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার।
প্রায় ২৮ বছরের অভিনয়জীবনে প্রায় ৮০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন পূর্ণিমা।দীর্ঘ ক্যারিয়ারে চলচ্চিত্রের ধারা ও সময়ের পরিবর্তন ঘটলেও পূর্ণিমার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি।

দেশে ৩১টি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড গ্রিন লাইসেন্স অর্জন করেছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বর্তমানে দেশে ৩১টি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড গ্রিন লাইসেন্স অর্জন করেছে বলে জানালেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, জাহাজভাঙা শিল্পে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে সরকার। গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া ভবিষ্যতে কেউ শিপ রিসাইক্লিং ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না। এজন্য সরকার প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নীতিগত সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

সোমবার (৬ জুলাই) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিভিন্ন শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এসময় জাহাজ রিসাইক্লিং (শিপ ব্রেকিং) শিল্প মালিক সমিতির সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, একসময় বিশ্বে জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল শীর্ষে। বর্তমানে সেই অবস্থান সাময়িকভাবে পিছিয়ে গেলেও সরকার আবারও বিশ্বে এক নম্বর অবস্থান পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। বর্তমানে দেশে ৩১টি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড গ্রিন লাইসেন্স অর্জন করেছে। এসব ইয়ার্ড আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে পরিবেশবান্ধব উপায়ে জাহাজ পুনর্ব্যবহার করছে। যারা এখনও গ্রিন লাইসেন্স পায়নি, তাদেরও একই মানদণ্ডে আসতে হবে।সরকার তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, একসময় শিপ ব্রেকিং শিল্প নিয়ে পরিবেশ দূষণ, শ্রমিক শোষণ ও অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশের নানা অভিযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে গ্রিন ইয়ার্ডগুলোতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।

মন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প খাতে বিদ্যমান গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এ সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। রাতারাতি গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার বিশেষ কর্মসূচি (ক্র্যাশ প্রোগ্রাম) বাস্তবায়নে কাজ করছে।তিনি বলেন, বর্তমান পাইপলাইন অবকাঠামোর সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় এ মুহূর্তে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ সম্ভব নয়। শুধু আমদানির মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান করা যাবে না। তাই দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

শিপ ব্রেকিং শিল্পের চাঁদাবাজি, ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যায় পড়লে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান গ্যাস সংকট দীর্ঘদিনের। দেশে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সংকট দূর করা সম্ভব নয়। তবে সরকার জরুরি কর্মসূচির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ ও সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ শিল্প খাতের বিভিন্ন নীতিগত সমস্যা সমাধানেও কাজ চলছে।

আলোচিত খবর

নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন ৩১ জুলাই পর্যন্ত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন নিবন্ধিত না হওয়া নাগরিকরা। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন গ্রহণ করা হবে। ইসি জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে তালিকাটি প্রদর্শন করা হবে। তালিকায় নাম বাদ পড়া বা তথ্যগত ভুল থাকলে সংশ্লিষ্টরা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত নতুন অন্তর্ভুক্তি বা তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। সব আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১০ আগস্ট খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর আপত্তি গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে আগস্টের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন

আরও পড়ুন

সর্বশেষ