আজঃ সোমবার ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

মাস্টারদা সূর্যসেনকে মুছে ফেলা যাবে না- বাসদ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের সেনানায়ক বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের ৯১ তম ফাঁসি দিবসে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও সমাবেশ করে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ চট্টগ্রাম জেলা শাখা। নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ জেএমসেন হল প্রাঙ্গনে সূর্য সেনের আবক্ষ ভাস্কর্যে পুষ্পমাল্য অর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাসদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার ইনচার্জ আল কাদেরী জয়, সদস্য আকরাম হোসেন, আহমদ জসীম, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম চট্টগ্রাম জেলা সদস্য সুপ্রীতি বড়ুয়া, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন, চট্টগ্রাম নগর শাখার সভাপতি মিরাজ উদ্দিন, উম্মে হাবিবা শ্রাবণীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় বক্তারা বলেন, ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ এদেশের জনগণের সংগ্রামের এক অনন্য ইতিহাস। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের দু’শ বছরের লড়াইয়ে চট্টগ্রামকে স্বাধীন করার এই ঘটনা সেদিন পুরো ভারতবর্ষের জনগণকে শক্তি ও সাহস সঞ্চার করে। সাম্রাজ্যবাদী শোষণ, লুন্ঠন ও উপনিবেশিক পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার স্বপ্ন জাগিয়েছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেন ও তাঁর সহযোদ্ধারা। একটা গণতান্ত্রিক, শোষণ ও বৈষম্যহীন দেশের জন্য তাদের সেই লড়াই এখনো চলছে।
আজ গণভ্যুত্থানে আওয়ামী ফ্যাসীবাদী সরকারের পতন হলেও সেই ব্যবস্থা এখনো পাল্টায় নি।দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, সিন্ডিকেট-শেয়ার বাজারে কারসাজি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি,নারী নির্যাতন, মন্দির- মাজারে হামলাসহ জনগণের জীবন ও জীবিকার প্রতিনিয়ত সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। একইসাথে আমাদের দেশের সংবিধান, জাতীয় সঙ্গীত, মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে চলছে বিতর্ক ও বিকৃতির ঘৃণ্য প্রয়াস। মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা, মুজিববাদী সংবিধান ছুড়ে ফেলা ইত্যাদি কথার আড়ালে ইতিহাসকে বিস্মৃতি ও বিকৃতি করতে চায়ছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিগুলো ক্ষমতার আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে মাথাচাড়া দিচ্ছে।

এই অবস্থায় দেশের জনগণের সামনে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। পতিত স্বৈরাচার কিংবা যুদ্ধপরাধী রাজাকার এবং গনবিরোধী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতের লড়াই সংগ্রামের পথে বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করতে হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে পহেলা বৈশাখ ঘিরে উপজেলা প্রশাসনের বর্ণিল আয়োজন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ কে স্বাগত জানাতে উন্মুখ পুরো দেশ। সারাদেশের মতো বাঙালির এ প্রাণের উৎসবে মেতে ওঠার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে।

উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নানা আয়োজন নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আজ চৈত্র সংক্রান্তি। আগামী মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন। পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের আয়োজন নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ব্যস্ত সময় পার করছেন।

প্রতি বছরের ন্যায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সকাল ৯টায় বৈশাখী শোভাযাত্রা, রশি টানা, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ৯টায় কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে নববর্ষের আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া সম্মিলিত বর্ষবরণ উদ্যাপন পরিষদের উদ্যোগে উপজেলার দাশের দীঘির পাড়ে সকাল ৯টা থেকে সংগীতানুষ্ঠান, বলিখেলা, কাওয়ালী গানের আসর, গীতা আলেখ্য ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সাজানো হয়েছে অনুষ্ঠানস্থল, মঞ্চ ও আশপাশের এলাকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা এখন উৎসবমুখর হয়ে উঠবে।

বাংলা বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি, আনন্দ ও আত্মপরিচয়ের এক উজ্জ্বল প্রতীক। পুরোনোকে পেছনে ফেলে নতুনকে বরণ করার এ দিনটি যুগে যুগে বাঙালির জীবনে নিয়ে এসেছে নতুন আশার বার্তা। প্রকৃতির রঙে রঙিন এই সময়টাতে শহর থেকে গ্রাম, দেশ থেকে প্রবাস সবখানেই এক অনন্য উৎসবমুখর আবহ তৈরি হয়। লাল-সাদা পোশাক, পান্তা-ইলিশ, মঙ্গল শোভাযাত্রাসব মিলিয়ে বৈশাখ হয়ে ওঠবে এক মহামিলনমেলায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, “বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের অংশ বাংলা নববর্ষ বরণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। এখন অপেক্ষা প্রাণের এ উৎসবে মেতে ওঠার।”

এলপিজি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এল তিন জাহাজ, পথে আরও দুইটি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এলপিজি (তরল পেট্টোলিয়াম গ্যাস) বোঝাই তিনটি জাহাজ পৌঁছেছে। একইসঙ্গে আরও অন্তত দুইটি গ্যাসবাহী জাহাজ আসার কথা রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে এসেছে ‘ডিএল লিলি’।
এছাড়া ভারত থেকে এলপিজি নিয়ে এসেছে ‘গ্যাস ক্যারেজ’। জাহাজ দুইটি বহির্নোঙরের চার্লি ও ব্রাভোতে অবস্থান করছে। এছাড়া রোববার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) নিয়ে ‘কংটং’ নামে আরো একটি জাহাজ এসেছে। সোমবার মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে আসবে ‘পল’।

১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে দেশে ঢুকবে ‘মারান গ্যাস হাইড্রা’। ১৮ এপ্রিল আসবে এলএনজিবাহী ‘লবিটো’।মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব কাটাতে বিভিন্ন দেশ থেকে তেল-গ্যাস আমদানি করছে সরকার।

আলোচিত খবর

পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত ৩১ জন নাবিকের হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি ‘বাংলার জয়যাত্রা’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ ৪০ দিন আটকে থাকার পর যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পেয়ে আবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে ফিরে যাওয়ার পথে রয়েছে।বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় শারজায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন চালু রাখতে হওয়ায় রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা যাত্রা শেষে শুক্রবার সকালে প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তেহরান সেই অনুমতি দেয়নি। ফলে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে নিরাপদে শারজায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছে। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ১১ মার্চ জেবেল আলীতে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতে নতুন পণ্য বোঝাইয়ের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ