আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

আগামী নির্বাচন ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের মত গ্রহণযোগ্য হবে-প্রধান নির্বাচন কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিগত ১৫ বা ১৬ বছর ধরে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জেল জুলুম ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই ভোটের অধিকারের কথা বলেছেন। এছাড়া আমাদের নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা সকলের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা। সুতরাং এ প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই আমাদের এগোতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের উপর কোন চাপ নেই। আশা করছি সকলের সহযোগিতায় আগামীতে একানব্বই, ছিয়ানব্বই ও ২০০১ এর মত সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারবো।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নগরির সার্কিট হাউসে সোমবার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ, এম, এম নাসির উদ্দিন এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা চট্টগ্রাম থেকে শুরু করলাম। নির্বাচনী প্র¯‘তির মাঠ পর্যায়ের সার্বিক কার্যক্রমও এখান থেকে শুরু হবে। খসড়া ভোটার তালিকা জানুয়ারির ২ তারিখ প্রকাশ হবে এবং মার্চে এটা ফাইনাল হবে। এটাকে আরো গ্রহণযোগ্য করতে আমাদের নির্বাচন কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতার কথা শুনবো। তাদের কাছে পরামর্শ চাইবো কিভাবে সাধারণ মানুষের অসন্তুষ্টি দূর করা যায় এবং নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর আস্থা ফিরিয়ে আনা যায়।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ কখন শেষ হবে- এ প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোটার রেজিস্ট্রেশন আইনে বলা আছে প্রত্যেক বছরের জানুয়ারির ১ তারিখে যাদের বয়স ১৮ বছর হবে তাদের ভোটার করে ২ তারিখে একটি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। মার্চের ২ তারিখে এটা ফাইনাল হয়ে যাবে এটা আইনের বিধান।

 

আর সেটা পালন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তবে নির্বাচনী সিডিউল ঘোষণা করার আগ পর্যন্ত এ তালিকা সংশোধন করা যায়। তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে মৃত মানুষ ভোট দিয়েছে এমন অনেক আভিযোগ ছিল। কাজেই তালিকা হতে মৃত ভোটার বাদ দেওয়া এবং মহিলাদের ভোটার করতে ও নির্বাচনী ব্যব¯’ার উপর আ¯’া ফিরিয়ে আনতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণের কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আশা করছি এ কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে শেষ করতে পারবো।

আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়া বিষয়ক সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আবার কোন রাজনৈতিক দল যাতে নির্বাচনে আসতে না পারে সেজন্য কেউ যদি কোর্টে মামলা করে সেক্ষেত্রে কোর্ট কি সিদ্ধান্ত দেয় তার উপর নির্ভর করবে কারা নির্বাচনে আসবে, কারা আসবে না। কিংবা সরকার যদি কোন দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা না করে আমাদের পক্ষে কোন দলকে বাতিল বা নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়। সুতরাং কারা নির্বাচনে আসবে – সেটি রাজনৈতিক এবং কোর্টের সিদ্ধান্ত অথবা সরকার কোন দলকে নিষিদ্ধ করছে কিনা সে সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। এক্ষেত্রে আমাদের কোন মতামত নেই।

অনেক বিশেষজ্ঞ এবং ২০২৪ এর অভ্যুত্থানকারীদের দাবি ১৭ বছর বয়সে ভোটার করা – এ প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, কত বছর বয়সে ভোটার করা যাবে সেটি সংবিধানে লেখা আছে। সংবিধান সংস্কার কমিশন এটি নিয়ে কাজ করছে। তারা যদি ১৭ বছরে ভোটার করার বিধান সংবিধানে সংযোজন করে তবেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ১৭ বছর বয়সীদের ভোটার করা সম্ভব হবে।
বিগত তিনটা নির্বাচনে যারা দিনের ভোট রাতে

করেছে তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করছি না। এটি নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বা সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো: ইউনুচ আলীর সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো: নোমান হোসেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদ, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীসহ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে ইইউ,র ১৪ মিলিয়ন ইউরো অনুদান ঘোষণা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় অতিরিক্ত ১৪ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে অংশীদারত্বের মেয়াদ নবায়নের মাধ্যমে এই অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে, যা জরুরি মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় করা হবে।

আজ ১৮ জুন ইইউ ও ইউএনএইচসিআরের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই অর্থায়নের আওতায় কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা এবং প্রায় ৭০ হাজার স্থানীয় বাসিন্দা উপকৃত হবেন। বিশেষভাবে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিয়েছে। তাই শুধু জরুরি ত্রাণ নয়, শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জীবিকা অর্জনের সুযোগ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন ইইউর ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন- বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য এমন সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি তাদের সুরক্ষা, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০ জুন উপলক্ষে এই সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অপতথ্য ও গুজবের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা নিতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বলেছেন, গুজব ও অপতথ্য মোকাবেলায় সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা নিতে হবে।তিনি সোমবার ১৫ জুন ময়মনসিংহের নান্দাইলে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত
১৩-১৫ জুন তিন দিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।

অপতথ্য ও গুজব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় ব্যক্তিগতভাবে অপতথ্যের শিকার হয়েছি। এখন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুজব ও অপতথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এটি মোকাবেলায় সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়িয়ে সাংবাদিকদের দক্ষ করে তুলতে সারা দেশে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নেওয়া হবে। সমাজে নানান বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।

নান্দাইল উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত সাংবাদিকদের মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট চেক ও এআই বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন (জুম মাধ্যমে) পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এবং নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত। প্রশিক্ষণটি সমন্বয় ও সভা সঞ্চালনা করেন পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল হক বাবুল এবং প্রেসক্লাব নান্দাইলের সভাপতি হান্নান মাহমুদ। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা জান্নাত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নান্দাইল উপজেলার ৩৫ জন সাংবাদিকের হাতে আনুষ্ঠানিক সনদপত্র তুলে দেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ