আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থিদের জয়

স ম জিয়াউর রহমান :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। সভাপতি পদে সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল ও সাধারণ সম্পাদক পদে জোবায়ের বখ্ত জুবের নির্বাচিত হয়েছেন। তারা দুইজনই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পদধারী সাবেক নেতা ছিলেন। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ তারেক।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামীপন্থি আইনজীবী অ্যাডভোকেট সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল ৭৭০ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন। এই পদে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ উদ্দিন পেয়েছেন ৬৫৮ ভোট।

সহ-সভাপতি-১ পদে প্রতিদ্বন্দ্বী চার জনের মধ্যে জ্যোতির্ময় পুরকায়স্থ কাঞ্চন অ্যাডভোকেট ৫৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জ্যোৎস্না ইসলাম পেয়েছেন ৩৫৫ ভোট।

সহ-সভাপতি-২ পদে চার প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে অ্যাডভোকেট মখলিছুর রহমান ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট আব্দুস সোয়েব আহমদ পেয়েছেন ৩৮২ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে অ্যাডভোকেট জোবায়ের বখ্ত জুবের ৩০৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন দিলু পেয়েছেন ২৮৫ ভোট।

এছাড়া যুগ্ম সম্পাদক-১ পদে অ্যাডভোকেট অহিদুর রহমান চৌধুরী ৭০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইকবাল আহমদ পেয়েছেন ৪৭৮ ভোট।

যুগ্ম সম্পাদক-২ পদে অ্যাডভোকেট রব নেওয়াজ রানা ৪২০ ভোট, সমাজ বিষয়ক সম্পাদক পদে মিজানুর রহমান ৭৮৯ ভোট, সহ-সমাজ বিষয়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ রাব্বী হাসান তারেক ৭২৮ ভোট, লাইব্রেরি সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট হেনা বেগম ৭৩১ ভোট, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে অ্যাডভোকেট ছয়ফুল আলম অ্যাডভোকেট ৮২৫ ভোট, সহকারী নির্বাচন কমিশনার পদে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল হেলাল ৬৫৭ ভোট ও কাওছার জুবায়ের ৫০৩ ভোট, সহ সম্পাদকীয় ৩টি পদে যথাক্রমে অ্যাডভোকেট এমাদ উদ্দিন মোহাম্মদ এমদাদ ১০৫৯ ভোট, সাহেদ আহমদ ৯৭৪ ভোট, কাওছার আহমদ ৭৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যের ১১টি পদের বিপরীতে ১৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বিজয়ীরা হলেন- অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন ৯৮৫, এ এস এম আব্দুল গফুর ৯২৩ ভোট, এ কে এম ফখরুল ইসলাম ৯১৬ ভোট, জামিলুল হক জামিল ৯১৪ ভোট, আব্দুল মালিক ৮৯১ ভোট, কল্যাণ চৌধুরী ৮১৬ ভোট, আশিক উদ্দিন আশুক ৭৭৯ ভোট, জুবের আহমদ খান ৭৩৯ ভোট, আবু মো. আসাদ ৬৬৩ ভোট, আলীম উদ্দিন ৬৬০ ভোট এবং ছয়ফুল হোসেন ৬২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ তারেক ছাড়াও সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অ্যাডভোকেট আব্দুল করীম আকবরী ও জামিল আহমদ।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) দিনব্যাপী উৎসব মুখর পরিবেশে সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আইনজীবী সমিতির ০২ নম্বর হলের ২য় ও ৩য় তলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমিতির ১৮৫০ জন ভোটারের মধ্যে ১৪৬০ জন আইনজীবী ভোটার এই নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এবারের বার্ষিক নির্বাচনে ২৬টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৬৫ জন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে শেষ সময়ে ঘরমুখো মানুষের স্রোত, রেল ষ্টেশন-টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদের সাতদিনের ছুটিকে কেন্দ্র পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ বাগাভাগি করতে বন্দরনগরী ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ। মহানগরের বাস টার্মিনালগুলো ও রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখ পড়ার মতো। বুধবার ভোর থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। যথাসময়ে ছেড়ে যাচ্ছে একের পর এক ট্রেন। এছাড়া ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বাস টার্মিনালেও ভিড় করেন যাত্রীরা।

পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এদিকে চট্টগ্রাম অনেকটা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। নগরের বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তায় নেই আগের চিরচেনা যানজটের দৃশ্য। যানজটহীন স্বস্তিতে গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন নগরবাসী।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) শেখ মো. সেলিম বলেন, এখানে নিরাপত্তার কোনও শঙ্কা নেই। পুলিশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার জন্য। প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা করা দরকার তা নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনেও পুলিশ কাজ করছে। যাত্রীদের ভাড়ার বিষয়েও আমরা তদারকি করছি।

বুধবার মহানগরের কদমতলী, বহদ্দারহাট ও নতুন ব্রিজ জিইসি বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীর চাপ বেশি। টিকিট পাচ্ছেন না অনেকে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা পর সকালে ছেড়ে যাওয়া ফিরতি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন কেউ কেউ। যাত্রীর চাপের তুলনায় বাস টার্মিনালে গাড়ির সংকট দেখা গেছে। তবে কাউন্টার বসে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, যে গাড়িগুলো গেছে সেগুলো ফিরে এলেই এই টিকিটের সংকট থাকবে না। যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রীরা বলছেন, কোনও ভোগান্তি নেই। তারা নির্বিঘ্নে যথাসময়ে ট্রেনে উঠছেন এবং ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যাত্রীরা যেতে পারছেন। সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন। অন্য ট্রেনগুলোও যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। তাই স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও খোলা ট্রাকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছে লোকজন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে বিআরটিএ’র সতর্ক সংকেত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন বাস চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অস্থায়ী পতাকা নয়-স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাঁকের উভয় পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ফলে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ