আজঃ সোমবার ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেলসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগকে অপমানিত করছে বলে মন্তব্য এসেছে চট্টগ্রামের এক সমাবেশ থেকে। সমাবেশ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল পুনর্বিবেচনা করে পুনরায় প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ভর্তি পরীক্ষায় কোটা বৈষম্য নিরসনের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোহাম্মদ রাসেল আহমেদসহ কয়েকজন সংগঠক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোহাম্মদ রাসেল আহমেদ বলেন, আমরা কোটা বৈষম্য দূর করার জন্য রাজপথে নেমেছিলাম। এখনো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় কোটা আছে। আমরা মনে করছি এ ব্যবস্থার মাধ্যমে
আমাদের শহীদদের অপমান করা হচ্ছে। আমাদের সেসব শহিদের আত্মত্যাগকে অপমান করা হচ্ছে। রাজপথে যারা রক্ত ঝরিয়েছে সেসব রক্তকে অপমান করা হচ্ছে। আমরা চাই সকল ভর্তি পরীক্ষায় সবার সমান সুযোগ থাকুক।
তিনি বলেন, সে সঙ্গে অবশ্যই উপজাতি ও প্রতিবন্ধী কোটা ন্যায্যতার ভিত্তিতে নূন্যতম মাত্রায় রাখতে হবে। আমরা চাই ভর্তি পরীক্ষায় সকল ধরণের কোটা নিরসন করে সবাইকে সুযোগের সমান অধিকার দিয়ে বৈষম্যহীন, সুষ্ঠু ও সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে এ সরকার কাজ করবে। আমাদের যেন আবারও রাজপথে এসে কোটামুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আওয়াজ তুলতে না হয়। আমরা আজই আমাদের দাবির বাস্তবায়ন চাই। সরকারকে আজই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সকল ধরণের ভর্তি পরীক্ষায় কোটা তুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের সমান অধিকারের সুযোগ করে দিতে হবে।

সমাবেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক উদ্দিন মোহাম্মদ তাসকিন বলেন, গণ অভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল কোটা আন্দোলন থেকে। বিগত দিনে কোটা ব্যবস্থার নাম দিয়ে অরাজকতা ও বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে আমরা ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত দিয়েছে। আমাদের অনেক ভাই শহিদ হয়েছে। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। অন্তর্র্বতী সরকারের অধীনে কোটা ব্যবস্থায় আজ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা হল। নতুন বাংলাদেশে কেন আমাদের এ ধরণের বৈষম্য দেখতে হবে।

আমরা দেখেছি ১৭৩ পেয়েও অনেক শিক্ষার্থী মেডিকেলে চান্স পাননি। আবার ১৩০ বা ১৩২ পেয়েও কোনো কোনো শিক্ষার্থী মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। আমরা চাই, এ ধরণের বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা আর না থাকুক। নতুন বাংলাদেশে এ ধরণের বৈষম্য প্রত্যাশা করি না। অনগ্রসর গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য কিছুটা কোটা থাকবে। আর বাকি সকল ধরণের কোটা যে কোনো নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষা থেকে বাতিল করা হোক। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার যে ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সেটাকে পুনর্বিবেচনা করে নতুন করে প্রকাশ করা হোক।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার আমলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য দুই শতাংশ কোটা রাখা হয়েছিল। এবার সেটা রাখা হয়েছে পাঁচ শতাংশ। গতবছর ১০৮ জনকে কোটার মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করানো হয়েছিল। এ বছর সেটা বাড়িয়ে ২৬৯ এ নিয়ে যাওয়া হল। ফলাফলে দেখে গেছে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ১৭৩ নম্বর পেয়েও কোনো মেডিকেল কলেজে চান্স পায়নি।

সাকিব হোসেন আরো বলেন, অথচ একজন কোটাধারী শিক্ষার্থী ১৩৭ নম্বর পেয়েও সরকারি মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়ে গেল। তাহলে বৈষম্য নিরসনের জন্য আমরা যে গণঅভ্যুত্থান করলাম, সে নতুন বাংলাদেশে কীভাবে ১৩৭ নম্বর পেয়ে একজন শিক্ষার্থী মেডিকেলে চান্স পায়। আমরা মেডিকেলের যে ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সেটা বাতিল করে আবার নতুন করে প্রকাশের দাবি জানাই।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এলপিজিবাহী ‘মর্নিং জেলি’ এলো চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে আরো ৪ জ্বালানিবাহী জাহাজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ কমতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে অন্তত ৪টি জাহাজ আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছাবে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে এসব জ্বালানিবাহী জাহাজ দেশের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শিপিং এজেন্টরা।

তথ্য অনুযায়ী, এ চালানে মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের জন্য একাধিক এলএনজি জাহাজ এবং চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য এলপিজি জাহাজ রয়েছে।
শুক্রবার মালয়েশিয়া থেকে ২ হাজার ৪৭০ টন এলপিজি নিয়ে ‘মর্নিং জেলি’ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এদিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৬৯ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘ইএমইআই’ নামের আরেকটি জাহাজ মহেশখালীর এফএসআরইউ টার্মিনালে ভিড়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) একই পরিমাণ কার্গো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি এলএনজি জাহাজ ‘কংটং’ মহেশখালীতে পৌঁছানোর কথা। ১৩ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ‘পল’ নামে জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করবে। এরপর ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬৪,৬৭৮ টন এলএনজি নিয়ে ‘ম্যারান গ্যাস হাইড্রা’ দেশে আসার নির্ধারিত সময় রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়েত হামিম জানান, জাহাজগুলো বর্তমানে সমুদ্রপথে রয়েছে এবং আগমনের ঘোষণা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে, এর আগে গত বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামে একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলেই ডলফিন জেটিতে নোঙর করে শুরু হয়েছে খালাসকরণ। একই রাতে মালয়েশিয়া থেকে হাই সালফার ফুয়েল অয়েল নিয়ে ‘ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের আরেকটি ট্যাংকারও বহির্নোঙরে পৌঁছায়।

তথ্য অনুযায়ী, গত ২ ও ৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকে দুই দফায় মোট প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার টন এলএনজি দেশে এসেছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহে চাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ কবির বলেন, চলতি মাসে মোট ৯টি এলএনজি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে পৌঁছে খালাস চলছে।

চট্টগ্রামের হিজরা খালে মিলল যুবকের মরদেহ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে চকবাজার থানার কাপাসগোলা এলাকার হিজরা খাল থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে স্থানীয়রা লাশ দেখে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।জানা গেছে, নিহত যুবকের নাম বিদ্যুৎ মিয়া। তার বয়স আনুমানিক ২৫-৩০ বছর। তার বাড়ি গাইবান্ধায় বলে জানিয়েছে চকবাজার থানা পুলিশ। ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রকল্পে শ্রমিক হিসাবে কাজ করছিলেন বিদ্যুৎ মিয়া।

এই বিষয়ে স্থানীয় আহসান হাবিবুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ওই যুবকের লাশ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদ বলেন, এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিদ্যুতায়িত হয়ে ওই যুবকের মৃত্যু হতে পারে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আলোচিত খবর

পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত ৩১ জন নাবিকের হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি ‘বাংলার জয়যাত্রা’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ ৪০ দিন আটকে থাকার পর যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পেয়ে আবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে ফিরে যাওয়ার পথে রয়েছে।বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় শারজায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন চালু রাখতে হওয়ায় রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা যাত্রা শেষে শুক্রবার সকালে প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তেহরান সেই অনুমতি দেয়নি। ফলে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে নিরাপদে শারজায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছে। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ১১ মার্চ জেবেল আলীতে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতে নতুন পণ্য বোঝাইয়ের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ