আজঃ বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেলসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগকে অপমানিত করছে বলে মন্তব্য এসেছে চট্টগ্রামের এক সমাবেশ থেকে। সমাবেশ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল পুনর্বিবেচনা করে পুনরায় প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ভর্তি পরীক্ষায় কোটা বৈষম্য নিরসনের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোহাম্মদ রাসেল আহমেদসহ কয়েকজন সংগঠক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোহাম্মদ রাসেল আহমেদ বলেন, আমরা কোটা বৈষম্য দূর করার জন্য রাজপথে নেমেছিলাম। এখনো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় কোটা আছে। আমরা মনে করছি এ ব্যবস্থার মাধ্যমে
আমাদের শহীদদের অপমান করা হচ্ছে। আমাদের সেসব শহিদের আত্মত্যাগকে অপমান করা হচ্ছে। রাজপথে যারা রক্ত ঝরিয়েছে সেসব রক্তকে অপমান করা হচ্ছে। আমরা চাই সকল ভর্তি পরীক্ষায় সবার সমান সুযোগ থাকুক।
তিনি বলেন, সে সঙ্গে অবশ্যই উপজাতি ও প্রতিবন্ধী কোটা ন্যায্যতার ভিত্তিতে নূন্যতম মাত্রায় রাখতে হবে। আমরা চাই ভর্তি পরীক্ষায় সকল ধরণের কোটা নিরসন করে সবাইকে সুযোগের সমান অধিকার দিয়ে বৈষম্যহীন, সুষ্ঠু ও সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে এ সরকার কাজ করবে। আমাদের যেন আবারও রাজপথে এসে কোটামুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আওয়াজ তুলতে না হয়। আমরা আজই আমাদের দাবির বাস্তবায়ন চাই। সরকারকে আজই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সকল ধরণের ভর্তি পরীক্ষায় কোটা তুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের সমান অধিকারের সুযোগ করে দিতে হবে।

সমাবেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক উদ্দিন মোহাম্মদ তাসকিন বলেন, গণ অভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল কোটা আন্দোলন থেকে। বিগত দিনে কোটা ব্যবস্থার নাম দিয়ে অরাজকতা ও বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে আমরা ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত দিয়েছে। আমাদের অনেক ভাই শহিদ হয়েছে। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। অন্তর্র্বতী সরকারের অধীনে কোটা ব্যবস্থায় আজ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা হল। নতুন বাংলাদেশে কেন আমাদের এ ধরণের বৈষম্য দেখতে হবে।

আমরা দেখেছি ১৭৩ পেয়েও অনেক শিক্ষার্থী মেডিকেলে চান্স পাননি। আবার ১৩০ বা ১৩২ পেয়েও কোনো কোনো শিক্ষার্থী মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। আমরা চাই, এ ধরণের বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা আর না থাকুক। নতুন বাংলাদেশে এ ধরণের বৈষম্য প্রত্যাশা করি না। অনগ্রসর গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য কিছুটা কোটা থাকবে। আর বাকি সকল ধরণের কোটা যে কোনো নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষা থেকে বাতিল করা হোক। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার যে ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সেটাকে পুনর্বিবেচনা করে নতুন করে প্রকাশ করা হোক।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার আমলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য দুই শতাংশ কোটা রাখা হয়েছিল। এবার সেটা রাখা হয়েছে পাঁচ শতাংশ। গতবছর ১০৮ জনকে কোটার মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করানো হয়েছিল। এ বছর সেটা বাড়িয়ে ২৬৯ এ নিয়ে যাওয়া হল। ফলাফলে দেখে গেছে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ১৭৩ নম্বর পেয়েও কোনো মেডিকেল কলেজে চান্স পায়নি।

সাকিব হোসেন আরো বলেন, অথচ একজন কোটাধারী শিক্ষার্থী ১৩৭ নম্বর পেয়েও সরকারি মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়ে গেল। তাহলে বৈষম্য নিরসনের জন্য আমরা যে গণঅভ্যুত্থান করলাম, সে নতুন বাংলাদেশে কীভাবে ১৩৭ নম্বর পেয়ে একজন শিক্ষার্থী মেডিকেলে চান্স পায়। আমরা মেডিকেলের যে ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সেটা বাতিল করে আবার নতুন করে প্রকাশের দাবি জানাই।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হালদা নদীর চার জায়গায় কার্প-জাতীয় রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ প্রজাতির মা মাছ প্রজনন মৌসুমের প্রথম দফায় নমুনা ডিম ছেড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ও দুপুরে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র এই হালদা নদীর গড়দুয়ারা, আজিমের ঘাট, মাছুয়া ঘোনা ও কাগতিয়া এলাকাসহ কয়েকটি অংশ থেকে নমুনা ডিম সংগ্রহ করেন সংগ্রহকারীরা।ডিম সংগ্রহকারীদের কেউ কেউ ১০০ গ্রাম থেকে ২০০ গ্রাম করে ডিম পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আবার দুপুরে এক থেকে দেড় কেজি ডিম পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন জেলে।

হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শওকত আলী বলেন, প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুলাই এই চার মাস হালদায় কার্প জাতীয় মাছের প্রজনন মৌসুম। এই মৌসুমের যেদিন বজ্রসহ বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল নামে, সেদিন ডিম ছাড়ে মা মাছ। প্রজনন মৌসুমে মা মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহের অপেক্ষায় থাকেন ৫০০ থেকে ৭০০ জন সংগ্রহকারী। তবে গত কয়েকবছর ডিমের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় ডিম সংগ্রহকারীর সংখ্যা কমে এসেছে।

হালদা-গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়ার আগে অল্প পরিমাণ ডিম ছাড়ে। এর কারণ ডিমভর্তি মা মাছেরা বজ্রপাতের কারণে বা জোয়ার–ভাটার পানির চাপে কিছু কিছু ডিম ছেড়ে দেয়। এগুলোকে নমুনা ডিম বলি আমরা। নমুনা ডিম পাওয়া গেলে বোঝা যায় পুরোদমে ডিম ছাড়ার সময় আসন্ন।
মৎস্য অধিদফতর জানিয়েছে, এই নদী থেকে গত বছর ১৪ হাজার কেজি মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করে আহরণকারীরা। এর আগে ২০২০ সালে রেকর্ডসংখ্যক ২৫ হাজার কেজি ডিম পাওয়া যায়।

প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন : জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, প্রবাসীরা অকুতোভয় যোদ্ধার মতো পরিবার থেকে দূরে থেকে দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠান। তাঁদের পাঠানো অর্থেই দেশের অর্ধেকের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো হয়।তাঁদের এই ত্যাগ ও অবদানকে সম্মান জানাতেই আমরা এই গণশুনানির আয়োজন করেছি।বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উদ্যোগ ‘প্রবাসীদের জন্য অনলাইন গণশুনানি’ আয়োজন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।গণশুনানিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

এতে বিদেশে অবস্থানরত ১১ জন প্রবাসী সরাসরি অংশ নিয়ে জমিজমা বিরোধ, অর্থ আত্মসাৎ, পারিবারিক জটিলতা, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।

অভিযোগ শোনার পরপরই জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। যেসব বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন, সেগুলোতে পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত তিনটি খাত-গার্মেন্টস, প্রবাসী আয় ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের প্রায় ১৬৫টি দেশে বসবাসরত দেড় কোটির মতো প্রবাসী বাংলাদেশি অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন।গণশুনানিতে কাতারপ্রবাসী রাঙ্গুনিয়ার রানা সুশীল আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের আবেদন জানান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট থানা ও উপজেলা প্রশাসনকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রবাসে কঠোর পরিশ্রমের পরও অনেক প্রবাসী পরিবার ও সম্পত্তি–সংক্রান্ত সমস্যার কারণে মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। এসব সমস্যা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি জানান, প্রবাসীদের লিখিত অভিযোগ আগেই সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

শুধু অভিযোগ শোনা নয়, দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রযুক্তির কল্যাণে প্রবাসীরা দূরে থেকেও আমাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারছেন। আমরা তাঁদের জানাতে চাই—তাঁরা দূরে নন, আমরা তাঁদের পাশেই আছি।
প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতি বুধবার নিয়মিত গণশুনানির পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে এক ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজন হলে সময় আরও বাড়ানো হবে।জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ, মিথ্যা মামলা ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত। অনেক প্রবাসী দেশে থাকা সম্পত্তি দখল ও হয়রানির শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

ওমানপ্রবাসী নুর মোহাম্মদ সম্পত্তি জবরদখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন। কাতারপ্রবাসী মোহাম্মদ আনোয়ার নিজস্ব সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির কথা জানান। সৌদি আরব, দুবাই ও আবুধাবিপ্রবাসী আরও কয়েকজন একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেন।এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তাঁদের সম্পত্তি ও অধিকার রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এ সময় উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ