আজঃ মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটিতে পদ বঞ্চিত এনামুল হকে অনুসারীরা প্রেসক্লাবের সামনে নতুন বিএনপির আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে মানববন্ধন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

মানববন্ধনে যোগ দিতে আসা অধিকাংশই এস আলম গ্রুপের কারখানায় কর্মরত শ্রমিক, এমনটাই অভিযোগ প্রতিপক্ষের।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এস আলম গ্রুপের ‘গাড়িাকান্ড’র কারণে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটিতে পদ বঞ্চিত এনামুল হকে অনুসারীরা প্রেসক্লাবের সামনে নতুন বিএনপির আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধনে যোগ দিতে আসা অধিকাংশই এস আলম গ্রুপের কারখানায় কর্মরত শ্রমিক।
বৃহস্পতিবার (৬ ই ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটায় মিছিল সহকারে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকে তারা। এসময় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নতুন আহবায়ক ইদ্রিস মিয়া ছবি সম্বেলিত প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায় এনামের অনুসারীদের।
এরআগে দুপুর একটায় প্রেসক্লাবের সামনে একদফা জড়ো হবার চেস্টা করে তারা। তবে স্থানীয় বিএনপির পূর্বঘোষিত ফ্যাসিবাদ বিরোধী মিছিলের কারণে তারা বেশি সময় অবস্থান করতে ব্যর্থ হয়। পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলা থেকে বাসযোগে এনামের অনুসারীরা জামালখান এলাকায় এসে স্থানীয় ছাত্রদল-যুবদল কর্মীদের বাঁধার মুখে পড়ে। প্রেসক্লাবের সামনে ছাত্রলীগ – আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে চলা মিছিলের মুখোমুখি হয় এনামের অনুসারীরা। পরে তারা এলাকা ত্যাগ করে। পুনরায় বেলা তিনটার দিকে প্রেসক্লাবের সামনে এসে জড়ো হয় তারা। তবে পুলিশের বাধার মুখে পনের মিনিটেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এনামুল হকের অনুসারীরা।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির নতুন আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে করা মানববন্ধনে অংশ নিতে আসা কয়েকজন জানান ‘ইলিয়াস কন্ট্রাক্টর’ ও ‘ মাহবু ‘ নামের দুই ব্যক্তি তাদেরকে পাঠিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুইজনই এস আলম গ্রুপের ঠিকাদার। তারা এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক সরবরাহ করে থাকেন।
আবু আহমেদ ও বশির উদ্দিন নামের দুই বিক্ষোভকারী জানান, বিএনপি কি নিয়ে মানববন্ধন করেছে তাদের জানা নেই। তবে ইলিয়াস বাসযোগে তাদের শহরে পাঠিয়েছেন। তাদের সাথে কথা বলার সময় পাশ থেকে কয়েকজন লোক এসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে নিষেধ করেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নতুন ঘোষিত আহবায়ক কমিটির আহবায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সম্বলিত প্লেকার্ড বহন করে তারা। সাবেক সিটি মেয়র প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ‘ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ‘ সাথে ইদ্রিস মিয়ার সখ্যতার অভিযোগ তোলে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে নতুন আহবায়ক ইদ্রিস মিয়ার সখ্যতা ছিলো। তিনি মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না।
পুলিশের অনুরোধে তারা সাড়ে তিনটার দিকে প্রেসক্লাব এলাকা ত্যাগ করে চেরাগি পাহাড়ের দিকে মিছিল নিয়ে সরে যান।
৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর ‘এস আলম’ গ্রুপের লক্ষাধিক কোটি টাকা পাচারের বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতা এনামুল হক, আবু সুফিয়ান,মামুন মিয়াসহ দলটির নেতাদের সাথে দেশের অর্থ লুটপাটকারী এস আলম গ্রুপের সখ্যতার বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দেয়। নতুন কমিটি ঘোষণার পর মানববন্ধনে এস আলম গ্রুপের শ্রমিকদের অংশগ্রহণ করা নিয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির কোন নেতা কথা বলতে রাজি হন নি। মুঠোফোনে এনামুল হকের সাথে যোগাযোগ করা করা হলে তিনিও সাড়া দেন নি।
গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর দেশের আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলমের বিলাসবহুল গাড়িকাণ্ডে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের কালুরঘাট এলাকার একটি ওয়্যারহাউস থেকে একে একে ১৪টি বিলাসবহুল গাড়ি বের হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। আলোচিত-সমালোচিত শিল্প গ্রুপ এস আলমের গাড়িগুলো পার করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে দক্ষিণ জেলা বিএনপির তখনকার তিন নেতার বিরুদ্ধে। তাঁরা হলেন আগের কমিটির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক ও সদস্য মামুন মিয়া। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ওই তিন নেতাকে দল থেকে শোকজ করা হয়। পরে তাঁদের তিনজনের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। অভিযুক্ত এনামুল হকসহ ওই নেতাদের নতুন আহবায়ক কমিটিতে পদে রাখা হয়নি। পদবঞ্চিত এনামুল হকের অনুসারীরা নতুন আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে জড়ো হয় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে।
প্রসঙ্গত, গত রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় আলী আব্বাসকে। আংশিক এই কমিটিতে আরও আছেন লিয়াকত হোসেন ও মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। তাদের দুজনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।এর মধ্যে আহবায়ক ইদ্রিস মিয়া দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এবং সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কুতুবদিয়ায় ছোটন চেয়ারম্যানের ১০০ কর্মদিবস উদযাপন ! উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট এলাকাবাসী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. ন. ম শহীদ উদ্দিন ছোটনের দায়িত্ব গ্রহণে (১৫ ডিসেম্বর) ১০০ দিন পূর্ণ হওয়ায় কর্মদিবস উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে এলাকাবাসী চেয়ারম্যানের উন্নয়ন মূলক কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে পরিষদ কার্যালয় বর্ণিল সাজে সাজানো হয় এবং সন্ধ্যায় আনন্দঘন পরিবেশে কেক কেটে ১০০কর্মদিবস উদযাপন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম, ইউপি সদস্য যথাক্রমে মাহাবুব আলম, মোঃ জামাল হোসেন, মো: সালাহ উদ্দিন, মো: আজিজুল হক, রেজাউল করিম ও এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ।

বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. ন. ম শহীদ উদ্দিন ছোটনের দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ কর্মদিবস উপলক্ষে ইউনিয়নজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তার গৃহীত নানা উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই চেয়ারম্যান ছোটন ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছেন। বিশেষ করে রাস্তা সংস্কার, অসহায় ও দুস্থদের সহায়তা প্রদান এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত সমাধানে তার আন্তরিকতা এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান আ.ন.ম শহীদ উদ্দিন ছোটন বলেন, “এই ১০০ দিনে আমি চেষ্টা করেছি জনগণের পাশে থাকতে এবং ইউনিয়নকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও উন্নয়নমুখী এলাকায় রূপ দিতে। আগামীতেও বড়ঘোপ ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যেতে চাই।”

এলাকাবাসী জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রতি নতুন আশার সঞ্চার করেছে। চেয়ারম্যান ছোটনের এই কার্যক্রম বড়ঘোপ ইউনিয়নের উন্নয়ন যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইরান ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইরান ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে । তেলবাহী জাহাজটিতে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার ১৮ নাবিক রয়েছে। ইরানি গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়- ছয় মিলিয়ন লিটার চোরাচালানকৃত ডিজেল বহনকারী একটি তেলবাহী জাহাজ ওমান উপকূলে আটক করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ