ডা. কথক দাশ তিন দিনের রিমান্ডে

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর হাজারী গলিতে যৌথবাহিনীর কাজে বাধা দান ও অ্যাসিড নিক্ষেপের মামলায় ডা. কথক দাশকে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলাম রিমান্ড মঞ্জুরের এ আদেশ দেন। সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার ডা. কথক দাশ হাজারী গলিতে যৌথবাহিনীর কাজে বাধা দান ও অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলারও আসামি।

এ মামলায় পুলিশের পক্ষ থেকে তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতসূত্র জানা যায়, নগরীর হাজারী গলিতে যৌথবাহিনীর কাজে বাধা দান ও অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনাটি ঘটে ৫ নভেম্বর। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ৪৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৫০০ থেকে ৬০০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, মো. ওসমান নামের এক দোকানদারের ফেসবুকে দেওয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে মো. ওসমানের দোকানে হামলার ঘটনা ঘটে। বিশৃঙ্খল এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং জনগণের জানমাল রক্ষার্থে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে গেলে কিছু বিক্ষুব্ধ লোকজন যৌথবাহিনীর ওপর হামলা করে। এসময় দুষ্কৃতকারীরা যৌথবাহিনীর সদস্যদের ওপর ইটপাটকেল ও অ্যাসিড ছোড়ে। এতে সেনাবাহিনীর ৫ জন সদস্যসহ ১২ জন আহত হয়।

আদালত সুত্রে জানায়, গত বছরের ৫ অগাস্ট গণঅভুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতা নিউমার্কেট মোড়ে একটি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। এরপর গত ২৫ অক্টোবর লালদীঘি মোড়ে সমাবেশের দিন ওই পতাকার উপর ইসকনের গেরুয়া রঙের ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ৩০ অক্টোবর মো. ফিরোজ খান নামের এক ব্যক্তি নগরীর কোতোয়ালী থানায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাশসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন, চট্টগ্রামের হিন্দু জাগরণ মঞ্চের
সমন্বয়ক অজয় দত্ত, নগরীর প্রবর্তক ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলা রাজ দাশ ব্রহ্মচারী, গোপাল দাশ টিপু, ডা. কথক দাশ, প্রকৌশলী অমিত ধর, রনি দাশ, রাজীব দাশ, কৃষ্ণ কুমার দত্ত, জিকু চৌধুরী, নিউটন দে ববি, তুষার চক্রবর্তী রাজীব, মিথুন দে, রুপন ধর, রিমন দত্ত, সুকান্ত দাশ, বিশ্বজিৎ গুপ্ত, রাজেশ চৌধুরী ও হৃদয় দাস। প্রসঙ্গত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি ইউকে যাওয়ার চেষ্টাকালে রাষ্ট্রদ্রোহের উক্ত মামলায় ডা. কথক দাশকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পরিচ্ছন্নতাকে কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে : ডিসি জাহিদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু প্রশাসন বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একার প্রচেষ্টায় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি পরিচ্ছন্নতাকে সাময়িক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক জানান, গত ২৫ জুলাই থেকে জেলায় ধারাবাহিকভাবে এ কার্যক্রম চলছে। প্রথম দিনে ৬ হাজার ২২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অংশগ্রহণে সরকারি অফিস ও প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ১৩৫ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। আজকের অভিযানে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সের পাশাপাশি চাঁদগাঁও ও পটিয়ার বিভিন্ন স্থানেও পরিচ্ছন্নতা চালানো হয়েছে।

প্রায় ১৬ একর ৩৮ শতক জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা ‘মিনি বাংলাদেশ’ খ্যাত জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে দর্শনার্থীবান্ধব করতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সংস্কারে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংস্কার কাজ শুরু করবে।
অভিযানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, সিএমপি কমিশনারসহ জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদউল্লাহ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

চট্টগ্রামে বাসা থেকে হিজড়াদের ‘গুরুমা’ মৌসুমীর লাশ উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিজ বাসা থেকে হিজড়া সম্প্রদায়ের এক নেত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর খুলশী থানার আমবাগান রেলওয়ে কলোনি সংলগ্ন হিজড়া কলোনি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার নাম মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়া। প্রাথমিকভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। ৫২ বছরের মৌসুমী হিজড়া চট্টগ্রামে বসবাসরত হিজড়া সম্প্রদায়ের একটি গ্রুপের কাছে ‘গুরুমা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হিজড়া কমিউনিটির লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা হত্যার বিচার দাবি করে বিক্ষোভও করেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোহাম্মদ নাসিম জানালেন, মৌসুমী বাসায় একা থাকতেন। সকালে প্রতিবেশীরা ঘুম থেকে উঠে তার বাসার দরজা খোলা দেখতে পান। পরে শয়নকক্ষে বিছানার ওপর তাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। পরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এসআই নাসিম জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। মৌসুমীর গলায় গুরুতর জখমের চিহ্ন আছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জানা গেছে, মৌসুমীর বাসার পেছনে একটি গরুর খামার আছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) খামারের একটি গরু বিক্রি করা হয়। গরু বিক্রির টাকা তার কাছে ছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। ওই টাকা ও তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে গরু বিক্রির টাকা লুটের জন্যই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে প্রতিবেশী কয়েকজন জানিয়েছেন, রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত মৌসুমী তাদের সঙ্গে গল্প করেন। এরপর তিনি ঘুমাতে যান। পাশের কক্ষের বাসিন্দারা তার বাসার সামনে এক জোড়া জুতা দেখতে পান। ভোররাতের দিকে ওই বাসা থেকে বাকবিতণ্ডার শব্দও শুনতে পান তারা। তবে কলোনির কারও সঙ্গে কথা বলছেন মনে করে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। সকাল ১০টা পর্যন্ত মৌসুমী ঘুম থেকে না ওঠায় প্রতিবেশীরা তাকে ডাকতে যান। এ সময় তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানিয়েছেন, নিহত মৌসুমী হিজড়া সম্প্রদায়ের একজন নেতা ছিলেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি জানান।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ