চট্টগ্রামে ভোটার হালনাগাদের তালিকায় ৬০ হাজার ভোটার মৃত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ভোটার হালনাগাদে তালিকা থেকে ৬০ হাজার ৪৮৫ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে নগরের ৪১ ওয়ার্ডে ২ হাজার ২৪ জন এবং ১৫ উপজেলা থেকে ৫৮ হাজার ৪৬১ জন মৃত ভোটার বাদ পড়েছেন। নতুন ভোটারদের তথ্য সংগ্রহে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জানা যায় এসব ভোটার মৃত।

জানা গেছে, নতুন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ শেষে এলাকাভিত্তিক নিবন্ধন কেন্দ্রে ছবিসহ নিবন্ধন করা হচ্ছে। ইসির এ নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। এই সময়ে মধ্যে যারা বাদ পড়েছেন তারা অনলাইনে তথ্য পূরণ করে নিবন্ধন কেন্দ্রে গিয়ে ভোটার হতে পারবেন। এর আগে, গত ৫ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নগরের পাঁচলাইশ এলাকায় ৪৯৯ জন, চান্দগাঁওয়ে ৬০৬ জন, কোতোয়ালী এলাকায় ১৯৮ জন, ডবলমুরিং এলাকায় ১৩১ জন, পাহাড়তলী এলাকায় ১০১ জন ও বন্দর এলাকায় ৪৮৯ জন মৃত ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

১৫ উপজেলার মধ্যে বোয়ালখালীতে ৮ হাজার ২২৭ জন, বাঁশখালীতে ৬ হাজার ৮০৬ জন, আনোয়ারায় ৫ হাজার ১০৩ জন, সীতাকুণ্ডে ৪ হাজার ৪৮৮ জন, ফটিকছড়িতে ৩ হাজার ৮৫৭ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৩ হাজার ৬৪২ জন, পটিয়ায় ৩ হাজার ৬৩৪ জন, হাটহাজারীতে ৩ হাজার ৬২১ জন, লোহাগাড়ায় ৩ হাজার ৫৬২ জন, মিরসরাইয়ে ৩ হাজার ৫৫৭ জন, সাতকানিয়ায় ৩ হাজার ১৭ জন, সন্দ্বীপে ২ হাজার ৯৪৯ জন, রাউজানে ২ হাজার ৪০৩ জন, চন্দনাইশে ২ হাজার ১৭৩ জন এবং কর্ণফুলীতে ১ হাজার ৪২২ জন মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

৮০ হাজার কর্মী বছরে বেতন পায় ২ হাজার ৮২০ কোটি টাকা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বা ‘কেইপিজেড’। প্রতিদিন এখানে বিশ্বমানের কারখানাগুলোতে তৈরি হয় আন্তর্জাতিক বাজারের সব ব্র্যান্ডের পণ্য। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে আসল শক্তি একটাই-নগদ অর্থ। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন তিনটি কারখানা চালু হবে। এতে আরও ২০ হাজার কর্মী যুক্ত হয়ে মোট জনবল উন্নীত হবে এক লাখের মাইলফলকে। তখন মাসিক বেতনও পৌঁছাবে ৩০০ কোটি টাকায়।বর্তমানে ৮০ হাজার কর্মীর হাতে প্রতি মাসে পৌঁছায় ২৩৫ কোটি টাকা। তা-ও মাসের ১ থেকে ৮ তারিখের মধ্যে। গড়ে প্রতি কর্মীর বেতন প্রায় সাড়ে ২৯ হাজার টাকা।বছরে এই বেতনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। কর্মীদের বেতনের এই টাকায় মাত্র ৪ থেকে সাড়ে ৪ বছরেই একটি কর্ণফুলী টানেলের পুরো নির্মাণ খরচ তোলা সম্ভব!

এদিকে পতেঙ্গা এলাকায় মাস শেষে নগদে বেতন নেওয়ার পুরনো দৃশ্য এখন আর নেই। সেখানে ঘটেছে এক নীরব ‘ডিজিটাল বিপ্লব’। মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যাংকগুলোর স্বয়ংক্রিয় পে-রোল সিস্টেমের মাধ্যমে সরাসরি ৮০ হাজার শ্রমিকের অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায় ২৩৫ কোটি টাকা। এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে বেতনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে। এটিএম বুথ ও ডিজিটাল ওয়ালেটে টাকা পৌঁছে যাওয়ায় কেনাকাটা ও দ্রুত গ্রামে টাকা পাঠানো এখন সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত।

কেইপিজেডের ৮০ হাজার কর্মীর মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী। অর্থাৎ প্রায় ৪৮ হাজার নারী শ্রমিক প্রতি মাসে সরাসরি প্রায় ১৪১ কোটি টাকা বেতন পান। এই আয় দিয়ে নারীরা পরিবারের মূল চালকের ভূমিকা নিচ্ছেন। একই সঙ্গে সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের সঞ্চয় নিশ্চিত করে নিজেদের সামাজিক মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলছেন।

কর্ণফুলী ইপিজেডে শ্রীলঙ্কাভিত্তিক বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ক্যানপার্ক বাংলাদেশের পরিচালক খলিলুর রহমান (মিল্টন) জানালেন, ‘এই নারীরাই আমাদের কারখানার প্রাণ। সব ধরনের সমান সুযোগ-সুবিধা তারা পান। আমাদের এমন অনেক নারী কর্মী আছেন, যারা শুরু থেকে টানা ২০ বছর ধরে সুনামের সাথে কাজ করছেন।

জানা গেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের বৃহত্তম সরকারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম স্টিল মিলের ২২২ একর জমিতে ২০০৬ সালে এই শিল্পনগরীর সূচনা হয়। ২৫৮টি শিল্পপ্লটের ওপর এখন চালু রয়েছে ৪০টি বিশাল কারখানা। এর ২৯টিই শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও থামেনি কেইপিজেডের অগ্রযাত্রা। ভোরের আলো ফোটার আগেই হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা শুরু হয় পতেঙ্গায়। পাশে কর্ণফুলী নদী। একটু দূরেই বঙ্গোপসাগর। নদী-সাগরের হাওয়ায় ভেসে আসে তখন হাজারো মানুষের পায়ের শব্দ। জোরে হাঁটছেন, কেউ ছুটছেন গন্তব্যে। কারণ এখানে যন্ত্রের টুকটাক গুঞ্জন, মেশিনের অবিরাম শোঁ শোঁ শব্দ আর সুচ-সুতোর বুননে প্রতিদিন এখানে তৈরি হয় আন্তর্জাতিক বাজারের বিশ্বখ্যাত সব ব্র্যান্ডের পণ্য।

কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক জানালেন, ৮০ হাজার কর্মীর প্রতি পরিবারে চারজন সদস্য ধরলে ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ সরাসরি এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই আয় বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনে অভাবনীয় সামাজিক ও আর্থিক স্বস্তি এনে দিয়েছে। বেতনের সিংহভাগ টাকা স্থানীয় আবাসন, কাঁচাবাজার ও দৈনন্দিন কেনাকাটায় খরচ হয়। এতে পুরো পতেঙ্গা ও ইপিজেড মোড় এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহন ও সার্ভিস সেক্টরে সচল অর্থনীতির চাকা।

কেইপিজেড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেইপিজেড থেকে প্রতি মাসে গড়ে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা) মূল্যের পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। জাপানের হাই-টেক অপটিক্যাল লেন্স, দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত ক্যাম্পিং প্রোডাক্টস এবং চীন ও শ্রীলঙ্কাসহ ১৪টি দেশের কারখানায় তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য এই আয়ের মূল উৎস। চট্টগ্রাম বন্দরের ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে পরিচালিত কেইপিজেডের এই ধারাবাহিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।

কর্ণফুলী ইপিজেডের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ খালিদ চৌধুরী বললেন, ইপিজেডে পদোন্নতি না হলেও প্রতিবছর নিশ্চিত ৯ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট মেলে। বাৎসরিক নিশ্চিত আয় বৃদ্ধি, উন্নত চিকিৎসাসহ কমপ্লায়েন্সভিত্তিক নিরাপদ কর্মপরিবেশ থাকার কারণে শ্রমিকদের চাকরি ছাড়ার প্রবণতাও অনেক কম।

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আগামী মাসে যুক্ত হচ্ছে আরও ১টি আন্তঃনগর ট্রেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম: ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেনে যাতায়াতের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এ কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই রুটে আগামী মাসে আরও একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করা মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন রুটে ট্রেনটি চলাচল শুরু করতে পারে। বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে দুই জোড়া এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে।

এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেনগুলোর মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বর্তমানে দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করলেও একটি মাত্র রেক দিয়ে চারটি ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে প্রায়ই সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত বিশ্বাস বলেন, কক্সবাজার রুটে বিপুল যাত্রীর চাহিদা রয়েছে। এ কারণে মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত চালানোর প্রস্তুতি চলছে। এতে যাত্রীরা আরও স্বস্তি ও নিরাপদে পর্যটন শহরে যাতায়াত করতে পারবেন। একই সঙ্গে রেলওয়ের আয়ও বাড়বে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত সাড়ে ৮টায় ছেড়ে সকাল ৬টার দিকে কক্সবাজার পৌঁছাতে পারে। ফিরতি ট্রেনটি সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। একদিকে যেতে সময় লাগতে পারে প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা। বর্তমানে মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পথে বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও কুমিরাসহ বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি রয়েছে। কক্সবাজার পর্যন্ত রুট বাড়ানো হলে এসব এলাকার যাত্রীরাও সরাসরি পর্যটন নগরীতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।তবে রুট সম্প্রসারণের আগে কক্সবাজারে ট্রেনটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন রুটে চলাচলের সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতাগুলো পর্যালোচনা করছে রেলওয়ে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ