আজঃ সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয়”শীর্ষক বিভাগীয় সম্মেলন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

‘গ্রাম আদালত’ একটি সরকারী সেবা। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী (ইউএনডিপি) ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আর্থিক ও কারিগরী সহযোগিতায় বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পটি চালু করে। প্রকল্পটি শুরুর পর থেকে তৃণমূল পর্যায়ে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী ও পিছিয়ে পড়া মানুষের ন্যায়বিচার সহজলভ্য করে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে পরিবর্তন করেছে।শনিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগ

আয়োজিত ‘গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক বিভাগীয় সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য অল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে স্থানীয় ছোটখাটো বিরোধ মীংমাসা এবং গ্রামীণ জনগণের মাঝে বিচারিক সেবা গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রকল্প এলাকার ৮টি জেলার ৮৩৫ ইউনিয়নে গ্রাম আদালতগুলোকে আরো সক্রিয় করতে বিভাগীয় পর্যায়ে দিক-নির্দেশনা লাভ করা।
চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত ৮টি জেলার প্রতি উপজেলা হতে ২ জন করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/প্যানেল চেয়ারম্যান,

প্রতি জেলা হতে ৪ জন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সকল উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার উপস্থিত ছিলেন।
বিভাগীয় সম্মেলনের প্রধান অতিথি এ.কে.এম. তারিকুল আলম, অতিরিক্ত সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক বলেন, গ্রাম আদালত বিচারিক সেবার একটি কার্যকর মাধ্যম, যা তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি গ্রাম আদালত কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং স্থানীয় সরকার, ইউএনডিপি ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে এ প্রকল্পে সহযোগিতায় জন্য ধন্যবাদ জানান।

সম্মেলনে স্থানীয় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেসোইন মোহাম্মদ কবির ভুইয়া, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ; স্থানীয় মোঃ আহসান হাবীব পলাশ, ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জ; ফরিদা খানম, জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রাম। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দিয়েছেন মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) ও পরিচালক, স্থানীয় সরকার, চট্টগ্রাম। দাতা সংস্থা ইউএনডিপি’র পক্ষে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ – ৩য় পর্যায় প্রকল্পের টিম লিডার (প্ল্যানিং এমএন্ডই এন্ড রিপোর্টিং) মোহাম্মদ সিরাজুল হক । এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা রির্সোস টিমের সদস্যগণ, জেলা তথ্য ও লিগ্যাল এইড অফিসার, বিভাগীয় কমিশনার অফিসের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিনিধি। গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ – ৩য় পর্যায় প্রকল্পের চট্টগ্রাম বিভাগের কার্যক্রম ও এর অগ্রগতি নিয়ে উপ¯’াপনা করেন জনাব মো: নোমান হোসেন, উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার, চট্টগ্রাম।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, স্থানীয় প্রশাসন বিশেষত: জেলা প্রশাসক, উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণের নেতৃত্ব এবং নির্দেশনায় চট্টগ্রাম বিভাগের ৮টি জেলার (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী – পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩টি জেলা ব্যতীত) ৭৮টি উপজেলায় প্রকল্পটির স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। এর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মাঝে গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর সেবা গ্রহণে জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করতে প্রকল্প এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণের নেতৃত্ব ও ভূমিকা প্রশংসনীয়।

বক্তারা প্রকল্প এলাকাসহ দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় গ্রাম আদালতগুলোকে আরো সক্রিয় করতে জেলা উপজেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালত স্থানীয় কমিটির সভা নিয়মিতকরণ ও এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুপারিশ করেন। একইসঙ্গে তারা গ্রাম আদালতে নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে চেয়ারম্যানদের অনুকরণীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার উপরও জোর দেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী চেয়ারম্যানগণ গ্রাম আদালতের কার্যকরীকরণে গ্রাম আদালতের আর্থিক বিচারিক এখতিয়ার বৃদ্ধি, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসনের সকল পর্যায়ে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

উল্লেখ্য, এ প্রকল্প স্থানীয়ভাবে সহজে, কম খরচে, দ্রুত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তি করা এবং অন্যায়ের প্রতিকার লাভের লক্ষ্যে তৃণমূলের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষতঃ নারী ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের ন্যায় বিচার প্রাপ্তির জন্য কাজ করছে। প্রকল্পটি বর্তমানে এর ৩য় পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ৬১ জেলার (পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩টি জেলা ব্যতিত) ৪৬৮টি উপজেলার ৪,৪৫৩ টি ইউনিয়নে গ্রামীণ জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য কাজ করছে।

প্রসঙ্গত, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ান ও ইউএনডিপি উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক, বিশেষ করে গ্রামীণ জনগণের কাছে গণতান্ত্রিক সুশাসন ও বিচারিক সুবিধা নিশ্চিত করতে, অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে থাকে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চরফ্যাশনে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় রসুলপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম ভুট্টোকে (৪৫) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১০টার দিকে উপজেলার নজরুলনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলেরহাট সড়কের মাথায় এ ঘটনা ঘটে।

মধুুমাস ঋতুরাজ বসন্ত মাসে প্রকৃতি তার নিজেকে সাঁজাতে ব্যস্ত থাকে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শীতের মাসী যখন বিদায় নিতে ব্যস্ত ঠিক তখনই মধুমাস ঋতুরাজ তার ফাল্গুনী হওয়ার শুভেচ্ছার আগমনী নিয়ে হাজির বসন্ত।
প্রতি বছরের ন্যায় এই ফাল্গুন মাসে প্রকৃতি তার নিজেকে সাঁজাতে ব্যস্ত থাকে।

সারা বাংলাদেশের ন্যায় পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়ায় মধু মাস ঋতুরাজ বসন্ত আসার আগাম বার্তা নিয়ে এসেছে আম গাছে মুকুল,সজ্জিনা গাছে ফুল। বর্তমানে পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতে আমের মুকুলের গন্ধে মৌমাছি,মৌ মৌ করে উড়ে উড়ে ফুলের মধু সংগ্রহ করছে।
প্রকৃতির দিকে তাকালে অনেক রকম ফুল চোখে পড়ছে ও দৃষ্টিনন্দন পাগল করা মুকুল এর ঘ্রাণে মন ভরে উঠছে।

প্রকৃতি তার ব্যস্ত সময় পার করছে।প্রকৃতিতে বসন্তের আপন মহিমায় ফোটা শুরু করেছে আমের মুকুল, ফুটেছে সজ্জিনা ফুল,প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই চোখ জুড়ানো আমের মুকুল,সজ্জিনা ফুল ফুটেছে।
বিভিন্ন বাড়ীর ছাদবাগানের আমের গাছগুলো ভুল করেনি প্রকৃতি শোভায় মুকুল ছড়াতে। পাবনা জেলার প্রতিটি উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে হরেক রকমের সুস্বাদু আমের চাষ। বাংলাদেশ সহ বাঙালির হৃদয়ের স্পন্দনে মিশে থাকা
বিশ্ব কবি,কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের একটি লাইন..
“ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রানে পাগল করে..
মরি হায়, হায় রে-
“ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রানে পাগল করে”..

পল্লীকবি জসীম উদ্দিন তার মামার বাড়ি কবিতার লিখেছেন..
আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা ফুল তুলিতে যাই..
ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ি যাই।
ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ..
পাকা আমের মধুর রসে রঙিন করি মুখ…।
মধুমাসের স্বাদ নিতে বাকি আর মাত্র কয়েক মাস।
তবে মুকুলের ঘ্রাণ বইতে শুরু করেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মানুষ। গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল ও সজ্জিনার ফুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ ফুলের গন্ধ।
যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল। ভাঙ্গুড়ার বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে দেখা মিলছে আমের মুকুল ও সজ্জিনা ফুলের, গ্রামগুলোর মধ্যে খালি জায়গা, পুকুর পাড়, রাস্তার ধারে ও বাড়ির আঙ্গিনার গাছগুলোতে শোভা পাচ্ছে কেবলই আমের মুকুল ও সজ্জিনা ফুল।

আলোচিত খবর

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে তার বাসায় ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে তার বাসায় যান।এ সময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে জামায়াত আমিরের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় পৌঁছান তিনি। এ সময় তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।বাসায় জামায়াতের নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত রয়েছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ