আজঃ বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামে কিশোরী ধর্ষণ, যুবককে পুলিশে তুলে দিল জনতা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১৬ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে নাছির উদ্দীন মুন্না (২২) নামে এক যুবককে স্থানীয় লোকজন হাতেনাতে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বুধবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটার খোয়াজনগর ৪ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দুয়ার গোষ্ঠি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. তাহের।

এদিকে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ বলেন, এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক যুবককে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। বর্তমানে থানায় রয়েছে দুজনেই। আমরা বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেব। এই ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান।

কিশোরীকে ধর্ষণের খবর পেয়ে থানা ওসির নির্দেশে কর্ণফুলী থানা পুলিশের এসআই মো. কামরুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর আগেই স্থানীয় লোকজন বাড়িটি ঘিরে ধর্ষক ও কিশোরীকে আটক করেন।

স্থানীয় সূত্রে ও তথ্যে জানা যায়, কিশোরীর বয়স ১৬ বছর ৪ মাস ১৮ দিন। ধর্ষক নাছির উদ্দীন মুন্নার বয়স ২২ বছর ১ মাস ৪ দিন। কিশোরীর পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা চাঁদপুর জেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের ধলিয়ারচর হলেও, বর্তমানে তারা খোয়াজনগর গ্রামে বসবাস করছেন।

ধর্ষকের স্থায়ী ঠিকানা নোয়াখালী জেলায় হলেও, তার পরিচয়পত্রে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন পশ্চিম ষোলশহর হামজারবাগ কলোনীর ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে। কিশোর ও যুবকের পরিচয়পত্রে একই ঠিকানা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত আনুমানিক ১টার দিকে কিশোরীর পরিবারের কেউ বাসায় ছিল না। কিশোরীর মা বড় বোনের বাসায় গিয়েছিলেন। এ সুযোগে যুবক বাড়িতে প্রবেশ করেন।স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবকের পরিবারকে খবর দিলে তারা আসতে অস্বীকৃতি জানায়। কিশোরীর বয়স কম হওয়ায় এবং নানা জটিলতা বিবেচনায় স্থানীয় জনতা যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে ইউপি সদস্য মো. তাহের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের আবাসিক হোটেলে অভিযানে গ্রেফতার-১১

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকায় মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে রাজাখালীর ইউনিপার্ক হোটেলে এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. শাহীন (২০), মো. কামাল উদ্দীন (২৫), মো. নয়ন (২৬), শারমিন আক্তার (১৯), রিনা আক্তার (৩৮), বিউটি আক্তার (২০), শারমিন আক্তার (২০), মো. ইউসুফ (৩২), মনি আক্তার (২৫), মো. শাহাদাত হোসেন (২৫) এবং মনি আক্তার (১৯)।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, এদের বিরুদ্ধে সিএমপি অধ্যাদেশের ৭৬ ধারায় নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নম্বর মূলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে বিধি মোতাবেক আদালতে সোপর্দ করা হয়।

চট্টগ্রামে অভিমানে ঘরছাড়া কিশোর, নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি পেয়ে টাকা দাবি প্রতারক চক্রের

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ঘর ছেড়েছিল কিশোর মুহিন। নিখোঁজ ছেলের সন্ধানে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দেয় তার পরিবার। আর এই বিজ্ঞপ্তির সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বসে একটি প্রতারক চক্র!

এরপর থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে চট্টগ্রাম নগরের রেলস্টেশন এলাকার একটি কুলিং কর্নার থেকে ওই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়।উদ্ধার হওয়া কিশোর মো. মুহিন (১৫) চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুনছুর আলীর ছেলে। সে নগরের কালামিয়া বাজার এলাকায় একটি কার ও মাইক্রো গ্যারেজে কাজ করত।এর আগে, গত ১৯ এপ্রিল সকালে চরলক্ষ্যা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় মুহিন।

জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরকে উদ্ধার করা হয় এবং পরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মুক্তিপণ দাবি করা প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত চলছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, কিশোর মুহিন একসময় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। এক বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে সে গ্যারেজে কাজ শুরু করে। কিন্তু গ্যারেজে নিয়মিত না যাওয়ায় মায়ের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। এর জেরেই অভিমান করে সে বাড়ি থেকে চলে যায়। পরে সে নগরের চট্টেশ্বরী রোডের একটি চায়ের দোকানে কাজ করত বলে জানতে পারে পরিবার।

এদিকে, মুহিন নিখোঁজ হওয়ার পর তার সন্ধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি দেখে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি চক্র। এমনকি ফোনে কিশোরের কণ্ঠস্বরও শোনানো হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে উদ্ধারের পর জানা যায়, অপহরণের ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এটি একটি প্রতারণা।

কিশোরের মামা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, মুহিন মূলত অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে নগরের ভেড়া মার্কেট এলাকায় কয়েক দিন অবস্থান করে রেলস্টেশন-সংলগ্ন একটি কুলিং কর্নারে আশ্রয় নেয় সে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ নিয়ে একটি প্রতারক চক্র ফোন করে নিজেদের ‘অপহরণকারী’ পরিচয় দিয়ে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এমনকি সর্বশেষ অন্য একটি নম্বর থেকে ২ হাজার ২০০ টাকাও দাবি করা হয়।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ