আজঃ বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওযয়ে মিলন হত্যার বিচার দাবিতে গ্রামবাসীর সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল।

রেজাউল ইসলাম মাসুদ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মিলন হোসেন (২৩) হত্যার বিচার দাবিতে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধে স্থবির হয়ে পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের জনজীবন। গতকাল রোববার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাঁও ইউনিয়নের চাপাপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ ও শোলগান দিতে থাকে। এর ফলে, শহরের পুরাতন

বাসস্ট্যান্ড থেকে ঠাকুরগাঁও রোড পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হন। পরে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গ্রামবাসীরা জড়ো হলে জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে গ্রামবাসী বাড়ি ফিরে যায়। এ সময় ডিসি ইশরাত ফারজানা গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া সুষ্ঠ হওয়ার জন্য ধৈর্য ধারণ করুন। মিলন হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি যেনো নিশ্চিত কর যায় সে বিষয়ে প্রশাসন সব রকম সহযোগিতা করবে।

এদিকে মিলন হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৫ দিনে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা ডিবি পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সদর উপজেলার মহেশপুর গ্রামের সেজান আলী (২৫), তার মা শিউলি বেগম, একই উপজেলার আরাজি পাইকপাড়া গ্রামের মুরাদ ওরফে নাসিম (২৫), সেজানের ভাগ্নে মহেশপুর গ্রামের মনিরুল হক (১৭) ও সেজানের ভাগনি পৌর শহরের তেলিপাড়া মহল্লার রত্না আক্তার ইভা (১৯)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক নবিউল ইসলাম জানান, হত্যায় জড়িত সেজান, মুরাদ ও ইভাকে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে তোলা হবে।
বিখোভে অংশ নিয়ে মিলনের মা সাবিনা বেগম ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে বলেন, “আমার বুকের মানিককে যারা কেড়ে নিয়েছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। আমার ছেলের হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি রাস্তায় থাকব।”মিলনের ভগ্নিপতি রবিউল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার চাই। ৯০ দিনের মধ্যে যদি বিচার না হয়, তাহলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যাব।” স্থানীয় বাসিন্দা রহিম মিয়া বলেন, “মিলন খুব ভালো ছেলে ছিল। যারা এই

হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিকের পেছন থেকে নিখোঁজ হন মিলন হোসেন। অপহরণকারীরা মিলনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। মিলনের বাবা পাঞ্জাব আলী জানান, ৯ মার্চ মুক্তিপণ হিসেবে ২৫ লাখ টাকা দিলেও তার ছেলের খোঁজ মেলেনি। পরে, গত বুধবার রাতে সদর উপজেলার শিবগঞ্জ মহেশপুর গ্রামের সেজান আলীর বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটের স্ল্যাব থেকে মিলনের লাশ উদ্ধার করে জেলা ডিবি পুলিশ। মিলন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাঁও চাপাপাড়া এলাকার পাঞ্জাব আলীর ছেলে। তিনি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) বিএসসি-তে ভর্তির জন্য গাজীপুরে একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শরীয়তপুরে ব্যাগভর্তি টাকাসহ জামায়াত নেতা আটক, ২ বছরের কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শরীয়তপুরে ব্যাগভর্তি টাকাসহ জামায়াত নেতা আটক, ২ বছরের কারাদণ্ড।

নরসিংদীর ৫টি আসনের ভোট কেন্দ্রে যাচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নরসিংদীর ৫টি আসনের ৬৬৩ ভোট কেন্দ্রে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সরঞ্জাম ও ব্যালট পেপার। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টা থেকে ৬টি উপজেলার সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় হতে এসব সরঞ্জাম বুঝে নিচ্ছেন ভোট গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জেলার ৫টি আসনের ৬৬৩ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৩৯৩ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন।

৫টি নির্বাচনী এলাকার ৫টি পৌরসভা ও ৭১ টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৭১ হাজার ২ শত ৩৭ জন। এরমধ্যে পুরষ ভোটার সংখ্যা ১০ লাখ ৩ শত ৪ জন, নারী ভোটার ৯ লাখ ৭০ জন হাজার ৯ শত ৮৭ জন। হিজড়া ভোটার ৩৬ জন।

আলোচিত খবর

নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ৮ লাখ। কর্মকর্তা- ইসি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিশাল এক কর্মীবাহিনী মাঠে নামিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের কর্মযজ্ঞ সফল করতে সারা দেশে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা সরাসরি নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বিশাল তালিকায় প্রিজাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে পোলিং অফিসার পর্যন্ত সর্বমোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন দক্ষ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।  

নির্বাচন পরিচালনার ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার। মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে প্রায় ৯ লাখ পোস্টাল ব্যালট প্রতিটি কেন্দ্রের প্রধান দায়িত্ব সামলাবেন একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার, সেই হিসেবে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার এখন কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়াও ভোটকক্ষগুলোতে দায়িত্ব পালনের জন্য ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসারকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ