মাহে রমজানের পবিত্রতা ও শুদ্ধতা মাথায় রেখে , জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধাদের এক অন্যরকম হৃদয়গ্রাহী সংবর্ধনা প্রদান করে লালমোহন উপজেলা প্রশাসন ।

হৃদয়সংবেদী আয়োজনে ভোলার লালমোহনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত।

রিপন শান

আপনারা জীবনবাজি রেখে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন বলেই আজ আমরা বড়ো বড়ো চেয়ারে আসীন ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩

অত্যন্ত হৃদয়তাপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভোলা জেলার লালমোহনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে । ২৬ মার্চ ২০২৫ সকালে লালমোহন সরকারি হাইস্কুল মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, প্যারেড পরিদর্শন, পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দিবসের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহ আজিজ । এসময় অভিবাদন মঞ্চে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন- লালমোহন থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ সিরাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত

ছিলেন- বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা মোঃ রণি, লালমোহন পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক মোঃ সাদেক মিয়া জান্টু, লালমোহন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ আব্দুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই একাত্তরের বীরমুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে বরেন করেন লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহ আজিজ সহ নেতৃবৃন্দ।

মাহে রমজানের পবিত্রতা ও শুদ্ধতা মাথায় রেখে ,
জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধাদের এক অন্যরকম হৃদয়গ্রাহী সংবর্ধনা প্রদান করে লালমোহন উপজেলা প্রশাসন । উপজেলা পরিষদের দোতলায় অবস্থিত কনফারেন্স লাউঞ্জে বীরমুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে- উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহ আজিজের সভাপতিত্বে, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- লালমোহন পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক মোঃ সাদেক মিয়া জান্টু ; বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মুল্যবান বক্তব্য রাখেন- লালমোহন থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তৈয়বুর রহমান,উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মোঃ ফরিদ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম

আহবায়ক ও লালমোহন প্রেসক্লাব আহ্বায়ক সোহেল আজিজ শাহীন , বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস শহীদ, লালমোহন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মোঃ আব্দুল হক প্রমুখ। বক্তব্য রাখেন- লালমোহন উপজেলা জাসাস সভাপতি ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজাদুর রহমান হাওলাদার, বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহজাহান মিয়া, ভোলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের আহবায়ক প্রভাষক শাহাবুদ্দিন রিপন শান, লালমোহন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সিনিয়র সদস্য প্রভাষক জাহিদুল ইসলাম নোমান পাটোয়ারী, লালমোহন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি মোঃ বজলুর রহমান,গণ অধিকার পরিষদ লালমোহন উপজেলা শাখার আহবায়ক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা যুবদলের অন্যতম নেতা মোঃ নিজাম উদ্দিন মিয়াসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।


সভাপতির বক্তব্যে মোঃ শাহ আজিজ বলেন- মুক্তিযুদ্ধ শুধু একাত্তরের নয়মাসে হয়নি। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগে শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হাজার হাজার মাইল দুরত্বকে মাঝখানে রেখে যে অসম পাকিস্তান রাষ্ট্র তৈরি করা হয়েছিল এবং পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক দুই পাকিস্তানের মধ্যে যে বৈষম্যের পাহাড় তৈরি করা হয়েছিল; তার অবসানকল্পেই বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের সূচনা।
এসময় বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে তিনি আরো বলেন-আপনারা জীবনবাজি রেখে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন বলেই আজ আমরা বড়ো বড়ো চেয়ারে আসীন । আপনাদের শ্রম ঘাম রক্তের ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারবোনা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাইসালের বৈঠার ছন্দে মাতোয়ারা নৌকা প্রেমী দর্শক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গুমানি নদীর বুকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক সরদার পানশী নৌকা বাইচ উৎসব-২০২৬; সিজন-১’। তিন দিন ব্যাপি ১০,১১ ও ১৩ অক্টোবর ভাঙ্গুড়া উপজেলার নৌবাড়িয়া এলাকায় আয়োজিত এ উৎসব কে ঘিরে গুমানি নদীর দুই পাড়ে লাখো মানুষের ঢল। ঢাক ঢোলের বাদ্য, বাইসালের বৈঠার ছন্দে গুমানির নদীর পানির ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, মাঝির হালের বৈহারিক চাপ, চরনদারের হুংকার, ঝাঁজের সতর্কবাণী আর দর্শকের মুহুর মুহুর করতালিতে পানশী নৌকা প্রতিযোগীদের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে উৎসব মুখর হয়ে ওঠে পুরো গুমানি নদীর দুই পাড় এলাকা।

শনিবার,রবিবার ও মঙ্গলবার এই তিন দিন ব্যাপী এই আয়োজনে দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীরা ভীড় করেন। গুমানি নদীর বুকে সারিবদ্ধ পানশী নৌকার প্রতিযোগিতা দেখতে নদীর দুই তীরে অবস্থান নেন অসংখ্য নৌকা বাইচ প্রেমী সাধারণ দর্শক। পানশী নৌকার গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের উল্লাস ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে গুমানি নদীর দুইপাড়। স্থানীয়দের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নৌকা বাইচ প্রেমীদের উপস্থিতিতে নৌবাড়িয়া পরিণত হয় এক মহা মিলন মেলায়।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়- প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক পানশী নৌকা বাইচ উৎসব ২০২৬; সিজন-১’ এর প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। উদ্বোধন করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক নুর মুজাহিদ স্বপন। উক্ত প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক পানশী নৌকা বাইচ উৎসব-২০২৬, সিজন-১’ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল মতিন রাজু।
সার্বিক আয়োজনে ছিলেন উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মোঃ আখিরুজ্জামান মাসুম।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ, ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাকিউল আজম, ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক সরদার, ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম কমিশনার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান, সাবেক আহ্বায়ক রাজিউল হাসান বাবু প্রমূখ।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বরাত, আবু হেনা মুস্তফা কামাল রেজা,আলতাব হোসেন খান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুল ইসলাম বুরুজ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল ইসলাম,যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শাহিনুর রহমান শাহীন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস এম হুমায়ুন কবির,উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হুমায়ুন আহমেদ মুন ও সদস্য সচিব মোঃ লিখন সরকার, সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক বায়েজিদ হোসাইন, সদস্য সচিব নিহাজ অভি ডাবলু, ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ শামসুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আহমেদ, খানমরিচ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ খোকন, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোহাম্মদ আল-আমিন হোসেন, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মালেক, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুব রহমান সরদার, দিলপাশার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ লিয়াকত হোসেন লিটন, আসন্ন নির্বাচনে দিলপাশার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ হুমায়ুন কবির সহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। পুরস্কার ঘিরে প্রতিযোগীদের বাড়তি উৎসাহে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা কে আকর্ষণীয় করে তুলতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় নগদ অর্থ সহ বিভিন্ন পুরস্কার। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, প্রথম স্থান অধিকারী পানশী নৌকার জন্য এক লাখ, দ্বিতীয় স্থানের জন্য ৬০ হাজার, তৃতীয় স্থানের জন্য ৩০ হাজার ও চতুর্থ স্থানের জন্য ২০ হাজার টাকা পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী পানশী নৌকার জন্য রাখা হয় আকর্ষণীয় উপহার বক্স।
আয়োজকদের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, দুপুর ২ টা থেকে নৌকা বাইচের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ১৩ অক্টোবর ফাইনাল নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে।।

প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের জন্য রেজিষ্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল দুই হাজার টাকা। রেজিষ্ট্রেশনের শেষ সময় ছিলো ৮ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত।
রেজিষ্ট্রেশনের দায়িত্বে ছিলেন বিডি নৌকা বাইচ গ্রুপের সভাপতি জিএম শান্ত মন্ডল, উপদেষ্টা প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার ও প্রধান সমন্বয়ক মোঃ শফিকুল ইসলাম।

ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগে নৌকা বাইচ বাংলার নদীমাতৃক জনপদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এক সময় বর্ষা মৌসুমে গ্রাম বাংলার নদী-নালা ও জলাশয়ে নৌকা বাইচ ছিল মানুষের অন্যতম প্রধান বিনোদন। সময়ের পরিবর্তনে আধুনিক বিনোদনের বিস্তারে অনেক এলাকায় এ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। এমন পরিস্থিতিতে নৌবাড়িয়ার গুমানি নদীতে প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক পানশী নৌকা বাইচের আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
উৎসবে আসা দর্শনার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং বর্তমানে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। নিয়মিত নৌকা বাইচ উৎসব আয়োজন করা হলে স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।
সব মিলিয়ে, পাবনার ভাঙ্গুড়ার নৌবাড়িয়া এলাকায় গুমানি নদীর বুকে আয়োজিত” প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক পানশী নৌকা বাইচ উৎসব–২০২৬; সিজন-১’ হয়ে ওঠে ঐতিহ্য, আনন্দ ও সম্প্রীতির এক বর্ণিল আয়োজন। গুমানি নদীর ঢেউয়ে বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় গ্রাম বাংলার চিরচেনা নৌকা বাইচের ঐতিহ্য।

প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক পানশী নৌকা বাইচ উৎসব-২০২৬; সিজন-১’ এর বাঁশি বাজিয়ে নৌকা বাইচ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার ও মোঃ খাইরুল ইসলাম সরদার। সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় ছিলেন বিডি নৌকা বাইচ গ্রুপ।

 

গণমাধ্যমে সংবেদনশীল সাংবাদিকতার চর্চা জোরদারে চট্টগ্রামে বিভাগীয় সংলাপ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠা, নেতিবাচক জেন্ডার-বিষয়ক ধ্যানধারণা চ্যালেঞ্জ করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সংবেদনশীল সাংবাদিকতা: সংলাপ ও করণীয়’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপ। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী অংশ নেন।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি), প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের যৌথতায় আয়োজিত এ সংলাপে সাংবাদিকতায় জেন্ডার-সংবেদনশীলতা, নৈতিক সংবাদ পরিবেশন, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মর্যাদাপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব এবং সংবাদমাধ্যমে প্রচলিত জেন্ডারগত স্টেরিওটাইপ চ্যালেঞ্জ করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকেরা তাঁদের পেশাগত অভিজ্ঞতা, বাস্তব চ্যালেঞ্জ ও উত্তম চর্চা বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তিনি বলেন, “গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশন করে না, মানুষের চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সংবাদ পরিবেশনে জেন্ডার-সংবেদনশীলতা, নিরপেক্ষতা এবং সব মানুষের মর্যাদা ও অভিজ্ঞতার যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক মানুষই সমাজের পাহারা কিন্তু সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকেরা প্রতিনিয়ত ইতিহাসের একটি অংশ নির্মাণ করেন। সংবাদে ভুল তথ্য পরিবেশিত হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাস সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে পারে। তাই সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের প্রতিটি পর্যায়ে তথ্যের যথার্থতা, দায়িত্বশীলতা এবং সংবেদনশীলতা বজায় রাখা জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদে ভুক্তভোগীদের প্রতি সংবেদনশীলতার পরিবর্তে তাঁদের চরিত্র ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে নারী-পুরুষসহ সব মানুষের বিষয়ে পক্ষপাত থেকে বেরিয়ে এসে তাঁদের বক্তব্য ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মাহীন নেওয়াজ চৌধুরী বলেন, “জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় তরুণদের পাশাপাশি গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ ও গল্প বলার ধরনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলে ক্ষতিকর সামাজিক ধ্যানধারণা চ্যালেঞ্জ করা এবং আরও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের পথ সুগম হবে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ ও সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, “সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা ও পেশাগত উৎকর্ষের সঙ্গে সংবেদনশীলতা এবং দায়িত্বশীলতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। জেন্ডার-সংবেদনশীল সাংবাদিকতার চর্চা জোরদার করতে সাংবাদিকদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

সংলাপে ‘সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা” বিষয়ক ব্যবহারিক নির্দেশিকা নিয়ে আলোচনা পরিচালনা করেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিন। তিনি বলেন, “জেন্ডার-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা মানে শুধু নারী বা নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সংবাদ করা নয়; বরং সংবাদে সব মানুষের অভিজ্ঞতা, পরিচয় ও মর্যাদাকে যথাযথভাবে তুলে ধরা। সংবাদ সংগ্রহ, ভাষা, ছবি, শিরোনাম, তথ্যসূত্র নির্বাচন এবং উপস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে সচেতনতা জরুরি। এই নির্দেশিকা সাংবাদিকদের দৈনন্দিন কাজে সেই চর্চাকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক হবে।”

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সালেহ নোমান। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের পাশাপাশি ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের কনসোর্টিয়াম অংশীদার জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের বিভাগীয় সমন্বয়ক সুজয় বড়ুয়া অংশ নেন। এছাড়া প্রকল্পের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজার হুসাইন শাকির, মিডিয়া স্পেশালিস্ট সৈয়দ মো. তাফহিম এবং জেন্ডার স্পেশালিস্ট ফারজানা রূপা।

চার বছর মেয়াদি ‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইকুয়ালিটি’ প্রকল্পটি নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে ১ ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশের আটটি বিভাগের সব বৈচিত্র্যপূর্ণ তরুণ জনগোষ্ঠী—যার মধ্যে কিশোরী ও তরুণীরাও অন্তর্ভুক্ত—যেন সহিংসতামুক্ত জীবনযাপন করতে পারে, নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং নিজ নিজ সম্প্রদায়, গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জেন্ডারগত স্টেরিওটাইপ চ্যালেঞ্জ করার জন্য নিজেদের উদ্যোগ ও কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

চট্টগ্রামের এ সংলাপের মাধ্যমে সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক শেখা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল সাংবাদিকতার চর্চা বিস্তারে সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ধারাবাহিক বিভাগীয় সংলাপের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের গণমাধ্যমে আরও দায়িত্বশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক সংবাদচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলা।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ