আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্যদের ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ডাকাত গ্রেফতার।

নিজস্ব প্রতিবেদক

টার্গেট চট্টগ্রাম শহরের বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ‘চিহ্নিত’ ডাকাতের আস্তানায় চালানো অভিযানে দুই পুলিশ সদস্য ছুরিকাঘাতে আহতের ঘটনায় চক্রের মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৫০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ওই ডাকাতের নাম

আরিফ হোসেন ওরফে মেহেদী হাসান। বৃহস্পতিবার সকালে নগরের ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানিয়েছেন, আরিফ হোসেন পুলিশের নজরে ছিল। সে একজন পেশাদার অপরাধী এবং অস্ত্রসহ এলাকায় আতঙ্ক ছড়াত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বারেক বিল্ডিং এলাকায় ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত হন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আহলাত ইবনে জামিল ও মো. নজরুল ইসলাম। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় মো. তারেক, মো. জুয়েল ও জাহেদুল ইসলাম নামের তিন ছিনতাইকারীকে।
পুলিশ তখন জানিয়েছিল, বারিক বিল্ডিং মোড়ে একটি টিনশেড ঘরে ছিনতাইয়ের টাকা ভাগাভাগির জেরে ছিনতাইকারীদের মধ্যে হাতাহাতি চলছিল। থানার দুই এসআই ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটকের চেষ্টা করেন। ওই সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করেন ছিনতাইকারীরা। অভিযানে তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা গেলেও ঘটনার মূলহোতা আরিফ হোসেনসহ কয়েকজন পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলাও দায়ের করেছিল।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া বলেন, মেহেদী, মনির এবং ‘পিচ্চি’ জাহিদ। প্রত্যেকের নামেই আছে ডজন ডজন মামলা। তাদের টার্গেট চট্টগ্রাম শহরের বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে চুরি-ডাকাতির জন্যে তাদের নেতৃত্বেই আছে ১০ জনেরও অধিক সদস্যের দল। মূল ‘আস্তানা’ নগরের ডবলমুরিং থানার বারিক বিল্ডিং হলেও গোটা নগরজুড়েই যেন তাদের ‘অপরাধ সাম্রাজ্য’। সম্প্রতি নগরের ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডে ডাকাতি, আগ্রাবাদের ‘ক্যাট’ নামক প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি এবং পাঁচলাইশের একটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনাতেও জড়িত ছিল এই সিন্ডিকেট।

তিনি জানান, সম্প্রতি বারিক বিল্ডিং এলাকায় ডাকাতির টাকা ভাগাভাগির খবর পেয়ে অভিযানে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের ছুরিকাঘাত করা হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই এই চক্রকে ধরতে নজরদারি বৃদ্ধি করে তারা। ঘটনার সাথে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তারের পর তারা জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে এই চক্রের আদ্যোপান্ত। চক্রের অন্যতম হোতা আরিফ হোসেন মেহেদীকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও অধরা রয়ে গেছেন অন্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ কবির বলেন, বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং কমার্শিয়াল হাবগুলোতে সম্প্রতি ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সেই অপরাধী চক্রকে শনাক্ত করা হয়। সকালে বারিক বিল্ডিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফ হাসান মেহেদী ওরফে পলাশকে পিস্তলসহ গ্রেফতার করি। তার আস্তানা থেকে আমরা একটি টিপ ছোরা, চায়নিজ কুড়াল, দুটি ছুরি, একটি করে গামছা ও বালিশ এবং চারটি লোহার রড জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও উদ্ধার করা হয় ৫০ রাউন্ড কার্তুজও।

তিনি বলেন, গত ১ তারিখে রাত ৩টা থেকে ৪টার দিকে পাঁচলাইশ থানার সুগন্ধা এলাকার একটি বাসা থেক ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ৭ লাখ টাকা এবং ৫ হাজার ইউএস ডলার এই সংঘবদ্ধ চক্র নিয়ে যায়। এরই প্রেক্ষিতে আমরা এই চক্রকে শনাক্ত করার চেষ্টা করি। একপর্যায়ে দেখা যায়, শ্রাবণ নামে এই চক্রের এক সদস্য প্রাইভেটকারে করে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকার বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রটি রামগড় দিয়ে হাটহাজারী এসে চলে যায় কর্ণফুলী এলাকায়। সেখানে সার্কেল এসপির নেতৃত্বে আমরা টিম পাঠাই।

হাটহাজারীতেও তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় উল্লেখ করে ডিসি বলেন, সেখানে চক্রের অন্যতম হোতা মেহেদী হাসান আরিফের মা ও বাবাকে পাওয়া যায়। এরমধ্যেই তারা আমাদের পরিকল্পনা টের পেয়ে যায়। আরিফের বাবা তাকে হাত দিয়ে ইশারা করে পালানোর জন্য ইশারা দেয়। ওখান থেকে আরিফ, রাজু এবং মেহেদী পালিয়ে যায়। তাদের সহযোগীদের মধ্য থেকে রিয়াদ হোসেন বাচ্চু, জয়নাল আবেদীন, জসিম উদ্দিন, তৌহিদ রাকিব, বাদশা মিয়াকে আমরা গ্রেফতার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষিতে জানা যায়, তাদের মূলহোতা ডাকাত মেহেদী এবং মনির। তারা চট্টগ্রাম শহরে বড় বড় কমার্শিয়াল হাবে ডাকাতি করে যাচ্ছে। তাদের সাথে আরও আছে পিচ্চি জাহিদ।

সিএমপিতেই যার বিরুদ্ধে ৪০ থেকে ৪২টি মামলা আছে’ যোগ করেন হোসাইন মোহাম্মদ কবির।
চক্রের সদস্যরা জামিনে বের হয়ে দল ভারি করার পরিকল্পনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আজ যাকে গ্রেফতার করেছি মেহেদি, তার বিরুদ্ধে পঞ্চাশটিরও বেশি মামলা আছে। মাস দুয়েক আগে বারিক বিল্ডিং মোড়ে অভিযান চালানোর সময় আমাদের দুজন পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে তারা পালিয়ে যায়। সেখান থেকেও আমরা দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিলাম। তারা ডাকাতির টাকা সেখানে বসে ভাগ করছিল। আবার জামিনে বের হয়ে চক্রটি আরও বড় করেছে। এই চক্রের সাথে আরও জড়িত আছে রাতুল, হানিফ, নুরুন্নবি, শ্রাবণ এবং বদর।

আরিফের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি ৫ আগস্ট থানা থেকে লুটের অস্ত্র জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া বলেন, আমরা আরিফের কাছ থেকে যে অস্ত্রটি উদ্ধার করেছি সেটি ডবলমুরিং থানায় বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের জমা রাখা একটি অস্ত্র। সেটি ইতালির তৈরি ৭ পয়েন্ট ৬৫ এমএম; থানা থেকে গত ৫ আগস্ট লুট হয়েছিল। কার্তুজগুলোও থানা থেকে লুট করা। এই চক্রটি ৫ আগস্টের আগেও ছিল। তাদের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। যাদের আমরা এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছি; তারা ৯০ শতাংশই চট্টগ্রামের বাইরের।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেহেদী-মনির ও জাহিদের গ্রুপ নামে পরিচিত। ওরা বড় বড় ফাইনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানগুলো টার্গেট করে। তাদের দেহ খুবই স্লিম। তারা রড কেটে ঢুকে যায়। বিভিন্ন জায়গায় এমন কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপও আমরা পেয়েছি। তাদের টার্গেটই থাকে বড় বড় ডাকাতি। অন্য কোনো পেশায় এরা জড়িত না। তবে মেহেদী অটোরিকশা চালায়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ : পুলিশের জালে ১০ নারী-পুরুষ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানাধীন চাক্তাই ভেড়া মার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর বাকলিয়া থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে চাক্তাই ভেড়া মার্কেটের স্বপ্নীল আবাসিক হোটেলের চতুর্থ তলার কয়েকটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়।এ সময় অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিএমপি বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান।
আটককৃতরা হলো, মাইনউদ্দিন (৩০), মোরশেদ (৩২), ইয়াছমিন (২২), সেতু আক্তার (১৮), সাদিয়া আক্তার সালমা (২৫), রুম্পা শীল (৩০), শারমিন আক্তার (২০), বেবি আক্তার (৩০), আব্দুল গফুর (৩৮) ও বাবুল মিয়া (৩৫)।

চট্টগ্রামে দেশীয় অস্ত্রসহ ৭ ডাকাত গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কোতোয়ালী থানা এলাকায় সোমবার গভীর রাতে পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর হলো, মো. আলমগীর হোসেন প্রকাশ আলম (৩৬), মো. তসলিম (৩৯),মো. রাসেল (২২), আরাফাত হোসেন (২২), মো. আয়াত বাদশা (২২), মো. হাসান (২২) ও মো. হৃদয় (২১)। পুলিশ জানায়, এদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা রয়েছে।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪টি স্টিলের ফোল্ডিং টিপ ছোরা, ১টি লাল-নীল হাতলযুক্ত ফোল্ডিং ছোরা, ১টি লাল রঙের প্লাস্টিকের হাতল ও কভারযুক্ত স্টিলের ছোরা এবং ১টি স্টিলের চেইন উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা করা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তিনি মন্ত্রিপরিষদের নতুন সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা জানান।

জানা যায়, এরপর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার কথা রয়েছে। এ সময় তারা উভয় নেতার মাজার জিয়ারতও করবেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ