আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্যদের ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ডাকাত গ্রেফতার।

নিজস্ব প্রতিবেদক

টার্গেট চট্টগ্রাম শহরের বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ‘চিহ্নিত’ ডাকাতের আস্তানায় চালানো অভিযানে দুই পুলিশ সদস্য ছুরিকাঘাতে আহতের ঘটনায় চক্রের মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৫০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ওই ডাকাতের নাম

আরিফ হোসেন ওরফে মেহেদী হাসান। বৃহস্পতিবার সকালে নগরের ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানিয়েছেন, আরিফ হোসেন পুলিশের নজরে ছিল। সে একজন পেশাদার অপরাধী এবং অস্ত্রসহ এলাকায় আতঙ্ক ছড়াত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বারেক বিল্ডিং এলাকায় ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত হন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আহলাত ইবনে জামিল ও মো. নজরুল ইসলাম। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় মো. তারেক, মো. জুয়েল ও জাহেদুল ইসলাম নামের তিন ছিনতাইকারীকে।
পুলিশ তখন জানিয়েছিল, বারিক বিল্ডিং মোড়ে একটি টিনশেড ঘরে ছিনতাইয়ের টাকা ভাগাভাগির জেরে ছিনতাইকারীদের মধ্যে হাতাহাতি চলছিল। থানার দুই এসআই ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটকের চেষ্টা করেন। ওই সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করেন ছিনতাইকারীরা। অভিযানে তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা গেলেও ঘটনার মূলহোতা আরিফ হোসেনসহ কয়েকজন পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলাও দায়ের করেছিল।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া বলেন, মেহেদী, মনির এবং ‘পিচ্চি’ জাহিদ। প্রত্যেকের নামেই আছে ডজন ডজন মামলা। তাদের টার্গেট চট্টগ্রাম শহরের বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে চুরি-ডাকাতির জন্যে তাদের নেতৃত্বেই আছে ১০ জনেরও অধিক সদস্যের দল। মূল ‘আস্তানা’ নগরের ডবলমুরিং থানার বারিক বিল্ডিং হলেও গোটা নগরজুড়েই যেন তাদের ‘অপরাধ সাম্রাজ্য’। সম্প্রতি নগরের ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডে ডাকাতি, আগ্রাবাদের ‘ক্যাট’ নামক প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি এবং পাঁচলাইশের একটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনাতেও জড়িত ছিল এই সিন্ডিকেট।

তিনি জানান, সম্প্রতি বারিক বিল্ডিং এলাকায় ডাকাতির টাকা ভাগাভাগির খবর পেয়ে অভিযানে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের ছুরিকাঘাত করা হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই এই চক্রকে ধরতে নজরদারি বৃদ্ধি করে তারা। ঘটনার সাথে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তারের পর তারা জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে এই চক্রের আদ্যোপান্ত। চক্রের অন্যতম হোতা আরিফ হোসেন মেহেদীকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও অধরা রয়ে গেছেন অন্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ কবির বলেন, বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং কমার্শিয়াল হাবগুলোতে সম্প্রতি ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সেই অপরাধী চক্রকে শনাক্ত করা হয়। সকালে বারিক বিল্ডিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফ হাসান মেহেদী ওরফে পলাশকে পিস্তলসহ গ্রেফতার করি। তার আস্তানা থেকে আমরা একটি টিপ ছোরা, চায়নিজ কুড়াল, দুটি ছুরি, একটি করে গামছা ও বালিশ এবং চারটি লোহার রড জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও উদ্ধার করা হয় ৫০ রাউন্ড কার্তুজও।

তিনি বলেন, গত ১ তারিখে রাত ৩টা থেকে ৪টার দিকে পাঁচলাইশ থানার সুগন্ধা এলাকার একটি বাসা থেক ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ৭ লাখ টাকা এবং ৫ হাজার ইউএস ডলার এই সংঘবদ্ধ চক্র নিয়ে যায়। এরই প্রেক্ষিতে আমরা এই চক্রকে শনাক্ত করার চেষ্টা করি। একপর্যায়ে দেখা যায়, শ্রাবণ নামে এই চক্রের এক সদস্য প্রাইভেটকারে করে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকার বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রটি রামগড় দিয়ে হাটহাজারী এসে চলে যায় কর্ণফুলী এলাকায়। সেখানে সার্কেল এসপির নেতৃত্বে আমরা টিম পাঠাই।

হাটহাজারীতেও তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় উল্লেখ করে ডিসি বলেন, সেখানে চক্রের অন্যতম হোতা মেহেদী হাসান আরিফের মা ও বাবাকে পাওয়া যায়। এরমধ্যেই তারা আমাদের পরিকল্পনা টের পেয়ে যায়। আরিফের বাবা তাকে হাত দিয়ে ইশারা করে পালানোর জন্য ইশারা দেয়। ওখান থেকে আরিফ, রাজু এবং মেহেদী পালিয়ে যায়। তাদের সহযোগীদের মধ্য থেকে রিয়াদ হোসেন বাচ্চু, জয়নাল আবেদীন, জসিম উদ্দিন, তৌহিদ রাকিব, বাদশা মিয়াকে আমরা গ্রেফতার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষিতে জানা যায়, তাদের মূলহোতা ডাকাত মেহেদী এবং মনির। তারা চট্টগ্রাম শহরে বড় বড় কমার্শিয়াল হাবে ডাকাতি করে যাচ্ছে। তাদের সাথে আরও আছে পিচ্চি জাহিদ।

সিএমপিতেই যার বিরুদ্ধে ৪০ থেকে ৪২টি মামলা আছে’ যোগ করেন হোসাইন মোহাম্মদ কবির।
চক্রের সদস্যরা জামিনে বের হয়ে দল ভারি করার পরিকল্পনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আজ যাকে গ্রেফতার করেছি মেহেদি, তার বিরুদ্ধে পঞ্চাশটিরও বেশি মামলা আছে। মাস দুয়েক আগে বারিক বিল্ডিং মোড়ে অভিযান চালানোর সময় আমাদের দুজন পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে তারা পালিয়ে যায়। সেখান থেকেও আমরা দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিলাম। তারা ডাকাতির টাকা সেখানে বসে ভাগ করছিল। আবার জামিনে বের হয়ে চক্রটি আরও বড় করেছে। এই চক্রের সাথে আরও জড়িত আছে রাতুল, হানিফ, নুরুন্নবি, শ্রাবণ এবং বদর।

আরিফের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি ৫ আগস্ট থানা থেকে লুটের অস্ত্র জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া বলেন, আমরা আরিফের কাছ থেকে যে অস্ত্রটি উদ্ধার করেছি সেটি ডবলমুরিং থানায় বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের জমা রাখা একটি অস্ত্র। সেটি ইতালির তৈরি ৭ পয়েন্ট ৬৫ এমএম; থানা থেকে গত ৫ আগস্ট লুট হয়েছিল। কার্তুজগুলোও থানা থেকে লুট করা। এই চক্রটি ৫ আগস্টের আগেও ছিল। তাদের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। যাদের আমরা এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছি; তারা ৯০ শতাংশই চট্টগ্রামের বাইরের।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেহেদী-মনির ও জাহিদের গ্রুপ নামে পরিচিত। ওরা বড় বড় ফাইনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানগুলো টার্গেট করে। তাদের দেহ খুবই স্লিম। তারা রড কেটে ঢুকে যায়। বিভিন্ন জায়গায় এমন কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপও আমরা পেয়েছি। তাদের টার্গেটই থাকে বড় বড় ডাকাতি। অন্য কোনো পেশায় এরা জড়িত না। তবে মেহেদী অটোরিকশা চালায়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে র‌্যাব সদস্য হত্যা মামলার আরও দুই আসামি গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার নরুমপুর এলাকার শাহজাহান মোল্লা প্রকাশ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মিজান (৫৩) ও সন্দ্বীপ থানার কালাভানিয়া এলাকার মৃত বোরহান উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন (৩৮)।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, র‌্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৫ জানুয়ারি নগরের খুলশী থানার ইস্পাহানি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১৬ নম্বর এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ২৬ জানুয়ারি ভোরে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বগুড়া নিবাস এলাকায় পৃথক অভিযানে সন্দেহভাজন পলাতক আসামি মো. মামুনকে গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাব-৭ জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানোর সময় দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে চারজন র‌্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজন র‌্যাব সদস্যকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।এ ঘটনায় র‌্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ২৯ জনকে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

কসাইকে ‘খুনের পর টুকরো লাশ ছড়িয়ে দেয়া প্রেমিকা’ গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ এলাকায় পরকীয়া প্রেমের জেরে এক কসাইকে হত্যার পর তার লাশ টুকরো করে তার প্রেমিকা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার দিনভর নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শহীদনগর ও লোহারপুল এলাকার খাল ও বিভিন্ন স্থান থেকে খুন হওয়া আনিসের লাশের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত মো. আনিছের (৩৮) সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা সুফিয়া আক্তার (৩৯) নামে এক নারীর পরিকল্পনায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আনিছকে অভিযুক্ত নারী বাসায় ডেকে নিয়ে সহযোগীদের সহায়তায় পাথরের শীল ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নারী সুফিয়া আক্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নিহত আনিছ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার চিকদাইর এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সুফিয়া আক্তার নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন পাঠানপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার শহীদনগর চারতলার মোড় এলাকায় একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো মানবদেহের দুটি কাটা হাত পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পরপরই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে উদ্ধারকৃত জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্রে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, আনিছ গত ২০ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষে পুলিশ অভিযান শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় রাত আনুমানিক চারটার দিকে শহীদনগর এলাকা থেকে সুফিয়া আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ উত্তর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সুফিয়া আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, নিহত আনিছের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল।

পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তিনি আনিছকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি বিকেলে আনিছকে পাঠানপাড়ার বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পাথরের শীল দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করা হয়।

পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ টুকরা টুকরা করে কালো পলিথিনে ভরে আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে শহীদনগর ও শীতলকর্ণা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত ব্যক্তির মরদেহের খণ্ডিত বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ