আজঃ বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ, ২০২৬

নেত্রকোনা নাশকতা মামলা: যা বললেন বাদী-সাংবাদিক।

মোঃ নুর উদ্দিন মন্ডল দুলাল নেত্রকোনা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনায় জিয়াউর রহমান জীবন নামের এক এ বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে গত সোমবার কেন্দুয়া থানায় এ মামলা করেন উপজেলার মোজাফফরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা শ্রমিক দলের বর্তমান জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সবুজ মিয়া। তবে মামলার বাদী বলেছেন, সাংবাদিক জিয়াউরকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। অন্যদিকে সাংবাদিক জিয়াউর বলছেন, তাঁকে অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে।

মামলায় কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মো. আসাদুল হক ভূঁইয়াকে প্রধান আসামি করে ১৯৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। আর অজ্ঞাত আসামি করা হয় ৩০০ জনকে। মামলায় ৭২ নম্বর আসামি করা হয় জিয়াউর রহমানকে।

কেন্দুয়া পৌর শহরের কুণ্ডলী এলাকার বাসিন্দা জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ইত্তেফাক পত্রিকায় কেন্দুয়া উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন। এ ছাড়া তিনি দেশ টিভি ও প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছড়াকার জিয়াউর রহমান ‘চর্চা সাহিত্য আড্ডা’ নামের একটি সংগঠনের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত ৪ আগস্ট সকাল ১০ থেকে বিকেল পর্যন্ত আসামিরা পৌরসভার চিরাংমোড়, খেলার মাঠের পাশে সিএনজি স্টেশন, সাউদপাড়া মোড়, বাদে আঠারো বাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভয়ভীতি দেখানোসহ রাস্তা বন্ধ করে যানবাহন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করেন। ওই ঘটনার কিছুটা দেরিতে হলেও তিনি মামলাটি দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারে ৭২ নম্বর আসামি সাংবাদিক জিয়াউর রহমান জীবনের বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দলীয়ভাবে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়। তাই আমি মামলাটির বাদী হয়েছি। এজাহারে উল্লেখ করা আসামি অনেককেই আমি চিনি না। সাংবাদিক জিয়াউর রহমানকেও আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। এটা দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি বাদী হয়েছি।’ অপর প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মামলা নিয়ে অভিযোগ থাকলে দলীয়ভাবে সমাধান করা হবে।’ এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে সাংবাদিক হিসেবে মামলা দেওয়া হয়নি। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত। গত ডিসেম্বরেও একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষে জয়বাংলা স্লোগান দেন তিনি। এ সময় জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন, পরে বুঝিয়ে-শুনিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে অনেক অনেক ফেসবুক পোস্ট ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার অসংখ্য ছবি রয়েছে। এর প্রমাণস্বরূপ হোয়াটসঅ্যাপ সাবেক এমপি অসীম কুমার উকিল, অপু উকিল, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুল হক ভূঁইয়াসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে জিয়াউরের ছবি পাঠান তিনি।’

সাংবাদিক জিয়াউর রহমান দাবি করেন, এজাহারে যে সময় ও ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, সে সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি কোনো ছবিও তোলেননি। তাঁর বিষয়ে কোনো সংবাদও মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়নি। তাঁকে অহেতুক এসব তকমা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, গত সরকারের আমলেও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ করাসহ উপজেলার বলাইশিমুল খেলার মাঠে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর তৈরিতে বাধা দেওয়ায় তাঁকে বিএনপির ঘরানা সাংবাদিক হিসেবে হয়রানি করা হতো। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ফেসবুক প্রোফাইল লাল করাতেও ক্ষমতাসীনদের কাছে তাঁকে হয়রানি পোহাতে হয়েছিল।

কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সভাপতি যুগান্তর প্রতিনিধি মামুনুর রশিদ বলেন, ‘জিয়াউর রহমান একজন পেশাদার সাংবাদিক। সহিংসতা-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ এনে তাঁকে এভাবে আসামি করাটা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। এটা তাঁর জন্য এটা অত্যন্ত অসম্মানের।’

অধিকারকর্মী আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, ‘একজন পেশাদার সংবাদকর্মীকে মিথ্যা রাজনৈতিক মামলায় আসামি করা উদ্বেগের। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশ ও মানবাধিকার পরিপন্থী কাজ। এই হয়রানিমূলক মামলা থেকে জিয়াউর রহমানের নাম অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক।’

আজ শুক্রবার দুপুরে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এ মামলার প্রধান আসামিসহ কয়েকজন ইতিমধ্যে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। আমরা তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। যাদের সংশ্লিষ্টতা নেই তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সীতাকুণ্ডের ঘটনায় অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে : মীর হেলাল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীতাকুণ্ড উপজেলায় সম্প্রতি সংগঠিত পৈশাচিক ঘটনায় অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার কথা জানালেন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ বোস্তামী আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ ধরনের ঘটনা আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অবগত আছেন এবং তিনি গভীরভাবে ব্যথিত। বিচার নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন, তা করা হবে।সীতাকুণ্ড উপজেলায় সম্প্রতি সংগঠিত পৈশাচিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশু কন্যার পরিবারের খোঁজ খবর ও সমবেদনা জানাতে বুধবার কুমিরা বাজার এলাকায় গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে জানিয়ে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি করার সাহস না পায়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনা আমাদের সবাইকে মানসিকভাবে আঘাত করেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আছি এবং থাকবো।
শিশু-কিশোরদের নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তারা যেন নিরাপদে খেলাধুলা করতে পারে এবং স্বাভাবিক শৈশব-কৈশোর কাটাতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে গত সোমবার সীতাকুণ্ড পৌর সদরের ইকোপার্কে গলা কাটা অবস্থায় জান্নাতুল নাইমা ইরা (৭) নামের এক শিশুকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ১ মার্চ রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে হাসপাতালের আইসিইউতে শিশুটির মৃত্যু হয়। এদিন বাবু শেখ ওরফে মাহবুব আলম (৪৫) নামের এক ব্যাক্তিকে গ্রেফতারের পর পুলিশ জানায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করা হয়। পরে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তাকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা করা হয়।

পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে বদলি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া, সিলেট, বরিশাল, জামালপুর, ময়মনসিংহ ও খাগড়াছড়ি— এই ৬ জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে সরকার।বুধবার (৪ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার উপ-সচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেনকেপাশাপাশি ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে নোয়াখালীর পিটিসিতে, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পহেলা বৈশাখের আগেই চালু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’ 
সেইসঙ্গে সিলেটের পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমকে এপিবিএনে বদলি করা হয়েছে, জামালপুরের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেককে সিলেট জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনকে জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বরিশালের পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামকে নৌ পুলিশে বদলি করা হয়েছে, এবং পুলিশ সদর দপ্তরের এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমানকে বরিশালের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে প্রতিনিধি নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন- জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার ২ মার্চ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি জানান, রাজনৈতিক ঐকমত্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের জন্য একটি নাম প্রস্তাব করতে অনুরোধ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে মৌখিক ও সরাসরি যোগাযোগও করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্পিকার নির্বাচনের দিনই ডেপুটি স্পিকার পদেও নির্বাচন সম্পন্ন করা যেতে পারে। এতে সংসদ পরিচালনায় ভারসাম্য ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়- জাতীয় সনদের আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ