আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির স্বরণ সভায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বিদেশে নয়, দেশের ভেতরেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের সমস্যা বাংলাদেশের মাটিতেই সমাধান করতে হবে। দেশের বাইরে গিয়ে বেশি কথা না বলে দেশের ভেতরেই বলা উচিত। কারণ সমস্যার সমাধান দেশের মানুষের হাতেই। কোনো বাইরের শক্তির কাছে এর সমাধান নেই। সংস্কার, বিচার সব কিছুর সমাধান একটাই, তা হলো বাংলাদেশের জনগণ। সমাধান দেওয়ার আর কেউ নেই। সমাধান দেওয়ার দ্বিতীয় কোনো অস্ত্র নেই। মাত্র একটাই অস্ত্র, সেটা জনগণ।

তিনি শুক্রবার (৩০ মে) বিকালে নগরীর মুরাদপুরস্থ এলজিইডি ভবন মিলনায়তনে শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির স্বরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের পরিচালনায় সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এস এম আবদুল আউয়াল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম।

নির্বাচিত সরকার ছাড়া জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয় জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, আমরা নির্বাচনের অপেক্ষায় আছি। কারণ, একটি নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়। অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে এসব বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। জনগণের সমর্থনব্যতীত কোনো কিছুই সম্ভব না।

তিনি বলেন, তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশে একটা নির্বাচিত সরকারের প্রয়োজন। এটা কোনো দল চায় কি চায় না, সেটাই মুখ্য নয়, বাংলাদেশের মানুষ আজ গণতন্ত্রের জন্য অপেক্ষা করছে, প্রত্যাশা করছে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে তুলনা করে আমীর খসরু বলেন, বিশ্বের অল্প কয়েকজন ব্যক্তিত্বের মধ্যে মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন। জিয়াউর রহমান প্রথমে একটি দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। একটি দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করতে যে সাহস, সে দূরদর্শিতা, যে ঝুঁকি একজন লিডার নেন, সেটা একটা বিশাল ব্যাপার। দ্বিতীয়ত হচ্ছে তিনি একজন বিশ্বমানের সংস্কারক, একজন রাজনীতিবিদ, উনি একজন দার্শনিক, একজন সমাজ গড়ার কারিগর। উনি বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় দিয়েছেন, একটি জাতির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দিয়েছেন, জাতির দিকদর্শন দিয়েছেন। সবকিছুর সমন্বয়ে চিন্তা করলে দেখা যাবে এই মানের বিশ্বে মাত্র কয়েকজন মানুষ রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন জর্জ ওয়াশিংটন। বাংলাদেশের কারও সঙ্গে জিয়াউর রহমানের তুলনা করার প্রয়োজন নেই। আগামী দিনের জন্য মেধাভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে আগামী দিনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আমির খসরু বলেন, আমাদের বিরূদ্ধে যারা আছে তাদের পরাজিত করতে হলে মেধাভিত্তিক রাজনীতি করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি সরকার মানে শুধু মন্ত্রী, এমপি, পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনী নয়। একটি সরকারের মেরুদণ্ড হচ্ছে দেশের জনগণ। এই জনগণের শক্তির ওপর ভিত্তি করেই চলে সরকার।

বিএনপিকে দেশপ্রেমিক দল আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই দলটি দেশপ্রেমের ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশকে গড়ার জন্য এই দলের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিএনপি সৃষ্টি হয়েছে। এটি সবার মধ্যে ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে সংস্কৃতি সবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমাদের সংস্কৃতির জায়গাটি অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি’ নামক একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে নাটক, সংগীত, চিত্রশিল্প, কামার-কুমার, তাতি যারা সংস্কৃতিভিত্তিক কাজ করেন, তাদের একটি বিশাল অর্থনৈতিক পরিসরে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাইরের সংস্কৃতি থেকে মুক্তি পেতে হলে নিজেদের সংস্কৃতিকেই এগিয়ে আনতে হবে।

ক্ষমতায় গেলে দেশিয় সংস্কৃতি ও সৃজনশীল অর্থনীতিকে মূলধারায় আনার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, সংস্কৃতি একটি দেশের অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ খাতকে অবহেলা করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

দেশ পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি এখন যে প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা অত্যন্ত পরিকল্পিত। জনগণ যদি আমাদের নির্বাচিত করে, তাহলে আমরা প্রথম দিন থেকেই কাজ শুরু করতে পারব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আমরা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছি। এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে শহীদ জিয়াউর রহমানের দর্শন।

ঢাকার তারুণ্যের সমাবেশের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, লাখো মানুষের অংশগ্রহণে এমন ভিড় হয়েছিল যে আমাকে রিকশায় যেতে হয়েছিল, পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম। এটা প্রমাণ করে আমাদের নেতাকর্মীরা এখনও উদ্দীপ্ত। এই স্পিরিট আমাদের ধরে রাখতে হবে। দেশকে যদি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের চিন্তাধারায় গড়তে চাই, তাহলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো দ্বিধা নয়, সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে ড. এস এম আবদুল আউয়াল বলেন, ২৫ মার্চের সেই কালোরাত্রিতে জাতি যখন দিশেহারা তখনই নেতৃত্বশূণ্য জাতিকে মুক্তি দিতে এগিয়ে এসেছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান। চট্টগ্রামের ষোলশহর বিপ্লব উদ্যান থেকে তিনি পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করেন। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়ে তিনি চুপ করে বসে ছিলেন না। তিনি মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন আবার অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের মাঠে থেকে দেশকে স্বাধীন করেছেন। স্বাধীনতার পরের সরকারের একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে দেশকে বের করে নিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। খাদ্যশস্যের উৎপাদন দিগুণ করেছিলেন। নতুন কুড়ির মাধ্যমে শিশুদের মননের বিকাশ ঘটিয়েছেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদান ছিল শহীদ জিয়ার। তিনি আওয়ামী লীগের তলা বিহীন জুড়ি থেকে দেশকে স্বনির্ভর বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ইতিহাসের অংশ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন বলেই আমরা একটি বাংলাদেশ পেয়েছি। তিনি বাকশালী দুঃশাসন থেকে জাতিকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।এখন পর্যন্ত দেশের যে মৌলিক উন্নয়নগুলি হয়েছে তার ভিত্তি শহীদ জিয়া গড়েছিলেন। বিএনপি দীর্ঘ সতের বছর একটি ভোটবিহীন স্বৈরাচারর শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে এখনও মাঠে ঠিকে আছে। যদি আবার কোন নতুন ষড়যন্ত্র দেখতে পায় তাহলে জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথেই অবস্থান নিবে বিএনপি। ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। তা নাহলে জনগণ রাস্তায় নামবে। বাংলাদেশে আন্দোলনের সুনামী বয়ে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বলেন, শহীদ জিয়া ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। তার সততা ও দেশপ্রেমের ব্যাপারে তার শত্রুরাও প্রশ্ন তুলতে পারেনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সম্মুখ সমরে তাঁর বীরোচিত অংশগ্রহণ জাতিকে স্বাধীনতা অর্জনে অনুপ্রাণিত করেছিল। তাঁর শাসনামলে দেশে অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ দেশের আপামর জনসাধারণকে এক নতুন পরিচয়ে পরিচিত করেছিল।

এ এম নাজিম উদ্দীন বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। স্বাধীনতা উত্তর দুর্ভিক্ষ পীড়িত জনগণ যখন হতাশা আর অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত ঠিক তখনি শহীদ জিয়ার আবির্ভাব ঘটেছিল ধুমকেতুর মত। তিনি ছিলেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা।

আবুল হাশেম বক্কর বলেন, দেশের সংকটময় মুহূর্তে ত্রাণ কর্তা হিসেবে শহীদ জিয়া বার বার দেশকে মুক্ত করেছেন। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন আবার অস্ত্রহাতে যুদ্ধও করেছেন। তিনি ছিলেন জেড ফোর্সের অধিনায়ক ও দুটি সেক্টরের কমান্ডার। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শহীদ জিয়ার অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে।

নাজিমুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বিদ্রোহ চট্টগ্রাম থেকেই হয়েছে। শহীদ জিয়া কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে নীরব ছিলেন না। এদেশের সেনাবাহিনীকে সংগঠিত করে তিনি পাক সেনাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করেছেন চট্টগ্রাম থেকেই। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়ার অবদান মানুষের হৃদয়ে।

স্বরণ সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আবদুস সাত্তার, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, মহিলাদলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক বেলায়েত হোসেন বুলু, ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, কাজী বেলাল উদ্দিন, সফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, আর ইউ চৌধুরী শাহিন, শওকত আলম খাজা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহম্মেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মুবিন, মনজুরুল আলম, আহবায়ক কমিটির সদস্য ইসকান্দর মির্জা, মো. কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মো. জাফর আহম্মদ, গাজী আইয়ুব, মাহবুব রানা, মোহাম্মদ আবু মুসা, মোহাম্মদ আজম, মো. ইসমাইল বালি, মো. মোহাম্মদ আবু ইউছুপ, মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, বিভাগীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহার, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রাজনীতি, নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক গভীর বিশ্বাস সংকটে উপনীত। রাজনীতি কি সত্যিই জনগণের কল্যাণের জন্য, নাকি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার কৌশল—এই প্রশ্নটি এখন আর তাত্ত্বিক নয়, এটি বাস্তব ও জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ দেখছে, নির্বাচনের নামে প্রক্রিয়া আছে, কিন্তু ভোটাধিকার নিয়ে আস্থা নেই; রাষ্ট্র আছে, কিন্তু জবাবদিহিতা দুর্বল।এই বাস্তবতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক আয়োজন নয়, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে একটি বড় পরীক্ষা।

একটি নির্বাচন তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন জনগণ সেখানে স্বাধীনভাবে অংশ নিতে পারে, বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ পায় এবং ভোটের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন থাকে না। ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের কাঠামোতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন জনগণের প্রকৃত রাজনৈতিক মতামত কতটা প্রতিফলিত করবে—এই প্রশ্নের স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য উত্তর এখনো মেলেনি।

গণতন্ত্রের মূল শক্তি অংশগ্রহণ। অথচ অংশগ্রহণহীন বা সীমিত অংশগ্রহণের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না; বরং তা সংকটকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। এই বাস্তবতায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। কিন্তু দেশের ভেতরের রাজনৈতিক বাস্তবতা আন্তর্জাতিক সুনামের চেয়েও কঠিন। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা—এই তিনটি বিষয়ের ওপরই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করছে।

প্রশ্ন হলো, তিনি কি রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে উঠে একটি সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন? নাকি এই নির্বাচনও অতীতের মতোই ‘প্রক্রিয়াগত’ নির্বাচনের তালিকায় যুক্ত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সদিচ্ছায় নয়, রাষ্ট্রযন্ত্রের সম্মিলিত আচরণের ওপর নির্ভর করছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ড. ইউনুস যদি দৃঢ় অবস্থান নিয়ে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পারেন, তবে নির্বাচন একটি গ্রহণযোগ্য পথে এগোতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন—তিনি কি রাজনৈতিক চাপ, দলীয় প্রভাব এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক বাস্তবতা সামাল দিতে পারবেন?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি দীর্ঘ আন্দোলনের প্রতীক। গত প্রায় ১৭ বছর ধরে দলটি নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে রয়েছে। এই আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিল একটি মৌলিক দাবি—ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার।

সমালোচকরা বিএনপির আন্দোলন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুললেও একটি বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই—দেশে আজ যে নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক, আস্থাহীনতা ও আন্তর্জাতিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তা বিএনপির দীর্ঘদিনের দাবিকেই প্রমাণ করে। বিএনপির আন্দোলন ক্ষমতার জন্য নয়—এটি একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি।

অতীতে নির্বাচন না হওয়ার দাবিতে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবতা হলো, সেই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যও ছিল অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা। গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস না করার রাজনৈতিক অবস্থানই বিএনপির মূল শক্তি।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই সহজ নয়। এই লড়াইয়ে দমন, মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপ এসেছে বারবার। তবুও বিএনপি রাজপথ ছাড়েনি। কারণ গণতন্ত্র কোনো দল বা ব্যক্তির সম্পত্তি নয়—এটি জনগণের অধিকার।

আজ যারা বিএনপির আন্দোলনকে ‘দ্বন্দ্বের রাজনীতি’ বলে আখ্যা দেন, তাদের মনে রাখা দরকার—গণতন্ত্রের ইতিহাস কখনোই নির্বিঘ্ন ছিল না। গণতন্ত্র এসেছে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই। প্রশ্ন হলো, সেই সংগ্রামকে রাষ্ট্র কি স্বীকৃতি দেবে, নাকি দমন করবে?

দেশের তরুণ ভোটাররা আজ সবচেয়ে বেশি হতাশ। তারা চায় একটি ভোট, যার মূল্য থাকবে; একটি সরকার, যার কাছে জবাবদিহিতা থাকবে। বিএনপির আন্দোলন এই তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেই যুক্ত—কারণ ভোটাধিকার ছাড়া কোনো ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে পারত। কিন্তু অংশগ্রহণ, আস্থা ও নিরপেক্ষতা ছাড়া কোনো নির্বাচনই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ খুলে দিতে পারে না।

এই বাস্তবতায় বিএনপির আন্দোলন কোনো দলীয় স্বার্থের নয়—এটি রাষ্ট্র ও জনগণের অধিকারের প্রশ্ন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, গণতন্ত্র কখনো দানে আসে না, তা আদায় করে নিতে হয়।এই নির্বাচন কি সত্যিই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ খুলবে, নাকি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে আরও দীর্ঘ করবে?
jahangirfa@yahoo .com

ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়ায় আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি’ সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবীরা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়ায় কোন প্রকার আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি। আইনের সকল বিধিবিধান মেনে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন। একটি গোষ্ঠী এনিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে যা আইনসঙ্গত নয়।বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন সরওয়ার আলমগীরের আইনজীবী এডভোকেট রেজাউল করিম রণি।

তিনি বলেন, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মঙ্গলবার সরওয়ার আলমগীরের রিট শুনানী শেষে তাঁর প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করে অবিলম্বে প্রতীক বরাদ্দের জন্য রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ দেন। আদেশ অনুযায়ী আইনজীবী প্রত্যয়ণপত্রের মাধ্যমে প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং অফিসার। সুপ্রীম কোর্টের ৪৪ ডিএলআর (এডি) ২১৯ পৃষ্টার আদেশ অনুযায়ী আইনজীবী প্রত্যয়ণপত্রের ভিত্তিতে অর্ডার কার্যকর করা বৈধ। এটা মানতে সকলে বাধ্য।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হাসান আলী চৌধুরী বলেন, রিটার্নিং অফিসার সরওয়ার আলমগীরকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ সম্পূর্ণ আইনের মধ্য দিয়েছেন। তিনি কোন বেআইনি কাজ করেননি।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আপিল আদেশে সকালে সরওয়ার আলমগীের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলেও বিকালে অবৈধ ঘোষণা করে। সেটাও আইনজীবী প্রত্যয়ণপত্রের মাধ্যমেই করা হয়েছে।

এডভোকেট রেজাউল করিম রণি বলেন, সরওয়ার আলমগীরের প্রার্থীতা ঠেকাতে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন নানাভাবে চেষ্টা করেছেন। একের পর এক মামলা করেছেন। তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী তিনি ৫টি ব্যাংকের ঋণ রিসিউল করেছেন। কোন কোন ব্যাংকে অনেক আগেই ঋণ পরিশোধ করেছেন। তারপরও ব্যাংকের পক্ষ হয়ে নুরুল আমিন মামলা করেছেন। অথচ যারা পাওনাদার তারা কোন মামলা করেনি। ব্যাংক এশিয়া ও প্রিমিয়ার লিজিং তাদের মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ড ফটিকছড়ি  (চট্টগ্রাম -২) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে। একইদিন বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি ছাড়াই লয়ার সার্টিফিকেট জমা দিয়ে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে এক সপ্তাহ ভোটের প্রচারণার মাঠের বাইরে থাকার পর মঙ্গলবার হাইকোর্টের আদেশে বিএনপির প্রার্থী  সরওয়ার আলমগীর তার প্রার্থীতা ফিরে পান। কিন্তু একটি গোষ্ঠী লয়ার সার্টিফিকেট ও হাইকোর্টের অনলাইন ডকুমেন্টস অনুযায়ী বিএনপির প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেবার কারণে চট্টগ্রামের  জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে নিয়ে অপপ্রচার শুরু করে ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক  এডভোকেট হাসান আলী বলেন, ‘ লয়ার সার্টিফিকেটকে গুরুত্ব দেবার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবজারভেশন আছে। মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও আসিফ হাসানের বেঞ্চ বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা ও প্রতীক ফিরিয়ে দেবার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার লয়ার সার্টিফিকেট ও  অনলাইনে কোর্ট অর্ডারের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিঞা সরওয়ার আলমগীরকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন। এখানে আইনের কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। ‘
আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, গত ১৮ জানুযারী নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ড একই দিন দুই ধরনের আদেশ দিয়েছেন। একবার সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিলেন।

পরে আবার চেম্বার জজের স্থগিতাদেশ সামনে এনে মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন। গত ১৮ জানুয়ারী জামাতের প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে নির্বাচন কমিশনে লয়ার সার্টিফিকেট ও অনলাইনের স্কিনশট উপস্থাপন করা হয়েছিলো, চেম্বার জজের স্বাক্ষরিত কোন নির্দেশনা নির্বাচন কমিশনে না পৌঁছার পরও সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিলো। তখন বিষয়টি নিয়ে কথা না তুললেও হাইকোর্টের রায়ে বিএনপির প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেবার পর এই বিষয়ে  বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে একটি গোষ্ঠী। তারা আসলে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছেন। ‘
আইনজীবীরা বলেন, ব্যাংকের একটি মামলায় জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন চেম্বার জজ আদালতে ৮ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ আদেশ দিলে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে আইনজীবী প্রত্যয়ণপত্র জমা দেন তারা। এটার ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করে। আইনজীবী প্রত্যয়ণপত্র তাদের বেলায় বৈধ হলে আমাদের বেলায় অবৈধ হবে কেন? এক দেশে কি দুই আইন হয়?

প্রিমিয়ার লিজিং লিমিটেডের সাথে সরওয়ার আলমগীরের মালিকানাধীন এনএফজেড টেরি টেক্সটাইলের পুরোনো আইনী লড়াইকে পূঁজি করে জামাতের প্রার্থী নুরুল আমিন নির্বাচনে মাঠের বাইরে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানটি চেম্বার জজ আদালতে  তাদের পিটিশন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এছাড়া বিবদমান এনএফজেড টেরি টেক্সটাইলের ঋন রিসিডিউল করেছেন। চট্টগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা  সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার করার দিন বিএনপির প্রার্থীন সব ঋন রিসিডিউল করা ছিলো । তিনি ঋণ খেলাপী ছিলেন না, এখন ঋণ খেলাপী নন। এবিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ রয়েছে। এতকিছুর পর প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে  অপপ্রচার করা, গণমাধ্যমকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত ছাড়া আর কিছু নয়। ‘
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হাসান আলী, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট  এনামুল হক, এডভোকেট  রেজাউল করিম রনি, এডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ, এডভোকেট হাসান উদ্দিন প্রমুখ ।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ