আজঃ বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামে ঈদ উৎসবে মেতেছে পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষের।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষজন ঈদ উৎসবে মেতে উঠেছে। নগরীর বিপ্লব উদ্যানে তাদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে কোরবানির মাংস দিয়ে বিরিয়ানি,পায়েসের পাশাপাশি নাগরদোলাসহ বিভিন্ন রকমের ঐতিহ্যবাহী আনন্দ আয়োজন।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ২ দিনব্যাপী এই আয়োজন করেছে। গত রোববার সকাল সাড়ে ১১ টায় সিটি মেয়র এই উৎসবের উদ্বোধন করেন।অনুষ্ঠানে আগতদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, শিশুদের মাঝে ঈদ সালামি ও ৫ জন উদ্যোমী নারীদের মাঝে ব্যবসার সামগ্রী প্রদান করেন।

মেয়র তার বক্তব্যে বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসনে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন যে ভূমিকা পালন করছে তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। সমাজের বিত্তবানেরা ছিন্নমূল প্রতিবেশীদের হক আদায় করলেই একটি ইনসাফের সমাজ কায়েম করা সম্ভব হবে।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর জামাল উদ্দিন বলেন, প্রতি বছর ঈদ আমাদের কাছে হাজির হওয়ার কথা সাম্য, সম্প্রীতি ও ত্যাগের বারতা নিয়ে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, গাহি সাম্যের গান-যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান। কিন্তু বর্তমান সময়ে ঈদসহ বিভিন্ন উৎবে যেন বাধা-ব্যবধান বেড়েই চলেছে। কারও নুন আনতে পান্তা ফুরায়।

কেউ ঈদ বাজারসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজার হাজার টাকা উড়ায়। ঈদ আসলেই ধনী-গরীবের বৈষম্য নগ্নভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়ে আমাদের সমাজে। পরিবারের সদস্যদের মুখের অন্ন জোগাতেই যারা হিমশিম খাচ্ছেন ঈদ আসলে তাদের পরিবারে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। তাদের নিঃশব্দ কাতর চোখ কোন সাহায্য প্রার্থনা করেনা, তারা চায় সামাজিক সম্মান ও আত্নমর্যাদা। তাদের সেই সামাজিক সম্মান ও আত্নমর্যাদা নিশ্চিত করতেই আজকের এই আয়োজন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের উন্নয়নে গণমাধ্যমকে পাশে চান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামকে একটি বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, এই শহর শুধু আমার একার নয়, এটি আমাদের সবার শহর। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমি একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি গড়ে তুলতে চাই।

বুধবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরীর কাজীর দেউরী ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মানে নৈশ ভোজ ও এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানটি চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। সন্ধ্যায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা সপরিবারে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নিজে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে অসময় ব্যান্ড ও চসিকের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের গান ও নাচের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

মেয়র বলেন, গত ১৬ মাসে সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় নতুন বছরেও বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর মতামত, সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব।তিনি আরও বলেন, আপনারা আমাদের কাজের ভুল ধরিয়ে দেবেন, সমালোচনা করবেন, এভাবেই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

বর্জ্য থেকে সম্পদ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা নিয়ে মেয়র জানান, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে দুইটি ল্যান্ডফিল থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এছাড়া একটি ল্যান্ডফিল থেকে ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ল্যান্ডফিলগুলোকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসইভাবে উন্নয়ন করা হবে।

জলাবদ্ধতা সমস্যার বিষয়ে মেয়র বলেন, গত বছর আমরা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমাতে পেরেছি। এ বছর খাল ও ড্রেন পরিষ্কারে ৪৫ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ হয়েছে এবং হিজড়া খাল ও জামালখান খালের কাজ চলমান রয়েছে।
মেয়র জানান, স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্কুল হেলথ স্কিম’ চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা ৫০-৬০ শতাংশ ছাড়ে চিকিৎসা সুবিধা পাবে।এছাড়া শহরের বিভিন্ন মাঠ উন্নয়ন, নতুন খেলার মাঠ তৈরি এবং কিশোরদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কিশোর গ্যাং ও মাদক সমস্যা মোকাবিলা করা যায়।
মেয়র বলেন, নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ

স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি।‘চট্টগ্রাম অ্যাপ’ চালুর ঘোষণা দিয়ে মেয়র জানান, নগরবাসীর অভিযোগ দ্রুত সমাধানে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি সমস্যার ছবি তুলে পাঠাতে পারবেন।

স্বাস্থ্যখাতে মেয়র জানান, ইতোমধ্যে ১০ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যান্সার সচেতনতা কর্মসূচি, স্বল্পমূল্যে এনআইসিইউ ও ডায়ালাইসিস সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বন্দর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনসহ সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।শেষে মেয়র বলেন, নগর সরকার শক্তিশালী না হলে পরিকল্পিত নগরায়ন সম্ভব নয়। সবাই মিলে কাজ করলে আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, বাসযোগ্য শহর উপহার দিতে পারব।

এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম ১০ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আল নোমান, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজিব রঞ্জন, বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, দৈনিক পূর্বকোণের পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক,

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজ নাজমুল হাসান, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, সিএমপির উপ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, এডিসি শামসুজ্জামান, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা মুরাদ, সাবেক সভাপতি সালাউদ্দীন রেজা, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, সিইউজে’র সভাপতি রিয়াজ হায়দার, সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ সহ বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী।

চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে ডিজেল-জেট ফুয়েল নিয়ে আসা ৩ জাহাজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে মালয়েশিয়া থেকে দুটি জাহাজে করে ডিজেল এবং সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজে জেট ফুয়েল (বিমানের জ্বালানি) এসেছে। এর মধ্যে এমটি গ্রেট প্রিন্সেস নামে জাহাজটি গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ডলফিন জেটি-৬-এ জ্বালানি খালাস করছে। জাহাজটি সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী এমটি লুসিয়া সোলিস জাহাজটি ৯ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে রওনা দিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। জাহাজটিতে প্রায় ৩৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল রয়েছে।বর্তমানে লাইটারেজ প্রক্রিয়ায় জ্বালানি খালাস চলছে এবং বুধবার দুপুরে এটি ডলফিন জেটি-৫-এ ভিড়েছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের গভীরতাজনিত সমস্যা থাকায় বড় জাহাজ প্রথমে বহির্নোঙরে পৌঁছে কিছু তেল খালাস করে৷ পরে বাকিগুলো জেটিতে ভেড়ানোর পর খালাস করা হয়।
বিপিসির সহকারী ব্যবস্থাপক ফারজিন হাসান মৌমিতা বলেন, ডেনমার্কের পতাকাবাহী এমটি টর্ম দামিনি জাহাজটি প্রায় ৩২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে মঙ্গলবার রাত থেকে বহির্নোঙরে জ্বালানি খালাস করছে। জাহাজটি বুধবার ডলফিন জেটি-৬-এ পৌঁছেছে। জাহাজটি ৯ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিল বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ গত রোববার ১২ এপ্রিল বিকালে তেল পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এরপর ক্রুড তেলের সংকটের কারণে মজুত ক্রুড তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে গত প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে এমনটাই জানা যায়।

পরিশোধনের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয় সংকট মোকাবিলায় মার্চ মাস থেকেই। যেখানে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করা হতো, সেখানে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মজুত শেষ হওয়ায় সম্পূর্ণভাবে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ