আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

এক জমি দুই ব্যাংকে বন্ধক আত্মসাৎ ১০৫ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আবু সাঈদ চৌধুরী সম্রাট একই জমির দলিল দুই ব্যাংকে বন্ধক রেখে ১০৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। যার ফলে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা করা হয়েছে।সম্রাট মেসার্স সিদ্দিক ট্রেডার্স ও সাঈদ ফুডস লিমিটেডের মালিক। নগরের জুবিলী রোডে টাওয়ার ইন হোটেলের পাশে ২৮ শতক সম্পত্তি আছে তার, যেখানে পাঁচতলা ভবন নির্মাণাধীন। এই জমি দেখিয়েই তিনি দুই ব্যাংকের টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংক দুটি তার কাছে এখন পাচ্ছে ৩৬০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

জানা গেছে, ছাতা ব্যবসার পাশাপাশি ২০০৭ সালের দিকে খাতুনগঞ্জে ভোগ্যপণ্য ব্যবসা শুরু করে ছিদ্দিক ট্রেডার্সের কর্ণধার আবু সাঈদ চৌধুরী সম্রাট। মূলত বাবার প্রতিষ্ঠিত ছিদ্দিক ট্রেডার্সের সুনামকে পুঁজি করে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা নেন তিনি।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত (নম্বর-৬৫৩৮) বন্ধকি দলিলমূলে ২৮ শতক সম্পত্তি দেখিয়ে ওয়ান ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে ২০১১ সালের ১৩ এপ্রিল মেসার্স সিদ্দিক ট্রেডার্সের নামে ৪৯ কোটি টাকা ঋণ নেন সম্রাট। এরপর ১৬ জুন সাঈদ ফুডস লিমিটেডের নামে ঋণ বাড়িয়ে নেন ৫৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ওয়ান ব্যাংকের ঋণ সুদ-আসলে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১৮১ কোটি টাকা। অপরদিকে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে একই জমির আরেকটি

(নম্বর-৭০৬৪) বন্ধকি দলিল তৈরি করে সোনালী ব্যাংক লালদীঘি করপোরেট শাখায় বন্ধক রেখে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মেসার্স সিদ্দিক ট্রেডার্সের নামে ৫১ কোটি টাকা ঋণ নেন সম্রাট। সুদ-আসলে সোনালী ব্যাংকের ঋণ বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১৭৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ঋণখেলাপি সম্রাট টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় সোনালী ব্যাংক তার বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে তুলে। জালিয়াতির মাধ্যমে একই সম্পত্তি দুই ব্যাংকে বন্ধক রাখার কারণে গত ৩০ জানুয়ারি আদালতে সম্রাটের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এরপর বিষয়টি নজরে আসে ওয়ান ব্যাংক কর্তৃপক্ষের। তারা সম্রাটের কাছে পাওনা দাবি করলে গত ৯ মে তিনি বন্ধক রাখা সম্পত্তি বিক্রি করে ঋণ সমন্বয় করতে আবেদন করেন। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এতে রাজি হয়নি।

আবু সাঈদ চৌধুরী সম্রাট তার সম্পত্তি বিক্রি করে ঋণ সমন্বয় করার জন্য ওয়ান ব্যাংকে আবেদন করেছেন দাবি করে বলেন, এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
সোনালী ব্যাংক লালদীঘি করপোরেট শাখার ডিজিএম আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ঋণখেলাপি সম্রাটের কাছে ব্যাংক পাচ্ছে ১৭৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। বারবার অবগত করার পরও তিনি ঋণ পরিশোধ করেননি।

পরে তার বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে তুললে দেখা যায়, তিনি একই জমি দুই ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ নিয়েছেন। ওয়ান ব্যাংকের লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স ম্যানেজার জুয়েল দাশ জানান, সম্রাট ২৮ শতক জমি বন্ধক রেখে ৫৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার পর পরিশোধ না করায় অর্থঋণ আদালতে মামলা করা হয়। এরইমধ্যে সোনালী ব্যাংকের মামলার নথি দেখে দুই ব্যাংক থেকে সম্রাটের ঋণ নেওয়ার বিষয়টি জানতে পারি। তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর ডিসি হিলে এই কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে। তার আগেই যদি আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসী উপকৃত হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সরকার এ কাজে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাসব্যাপী চলছে। এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা ও পরিষ্কার করা। চট্টগ্রামে যেসব জায়গা বেশি অরক্ষিত, যেখানে ডেঙ্গু বেশি বিস্তার ঘটতে পারে সেগুলো আমরা পরিষ্কার করব এবং নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম আমরা গড়ে তুলব।
বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্কাউটের সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অংশ নেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে’ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

চট্টগ্রামে রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে আগুন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম
নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে আগুন
ছবি-৩
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মহানগরে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের (সিসিএস) কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থিত এই কার্যালয়ে শুক্রবার রাতে কার্যালয়ের একটি অংশে হঠাৎ করে আগুন লাগে। খবর পেয়ে রাত ১১টা ২৫ মিনিটে আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম কন্ট্রোল রুম। এদিকে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
পাহাড়তলীতে অবস্থিত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের এই কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় মালামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ