আটকের পর দুই চোরচক্রের হোতাকে ছেড়ে দিল থানা পুলিশ।

পাবনা প্রতিনিধিঃ

পাবনার শরিফ হাসপাতালে ডাক্তার-মালিকের যোগসাজশে নবজাতক চুরি-

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনা প্রতিনিধিঃগত ২৩ জুন রাতে ভাঙ্গুড়া থানার খানমরিচ ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান তার প্রসূতি স্ত্রীকে নিয়ে শরীফ হাসপাতালে ভর্তি হন। রাত দশটার দিকে তার স্ত্রীর সিজারিয়ান অপারেশন হয়। অভিযোগ উঠেছে, অপারেশনের সময়ই ডাক্তার সাবরিন ইসলাম, ডাক্তার নাসিম এবং ক্লিনিকের মালিক শরিফ ও শরিফের স্ত্রী যোগসাজশ করে শিশুটিকে চুরি করে পাবনার আওতাপাড়া এলাকার মিনা খাতুন নামের এক মহিলার কাছে বিক্রি করে দেন।

প্রেসক্লাব পাবনার সদস্যরা এই ঘটনা জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধানে নামেন। তাদের দীর্ঘ পরিশ্রমের ফলস্বরূপ বাচ্চাটিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং তার প্রকৃত মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এই বিষয়ে ডাক্তার সাবরিন ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং এড়িয়ে যান। তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অপারেশনের সময় ডাক্তার সাবরিন ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তার সঙ্গে শরীফ হাসপাতালের মালিক শরিফ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া, ডাক্তার নাসিমও এই ঘটনার সাথে যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে পাবনা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আবুল কালাম আজাদ শরিফ হাসপাতালের বিষয়ে জানান, নানা ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে গত ৪ মে ২০২৫ তারিখে শরীফ হাসপাতালকে নোটিশ দিয়ে বন্ধ করা হয়। যেহেতু কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়া পুনরায় হাসপাতাল চালু করেছে তাই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চুরি হওয়া নবজাতকের বাবা সিদ্দিকুর রহমান জানান, তার চারটি কন্যা সন্তান রয়েছে। পুত্র সন্তানের আশায় প্রহর গুনছিলেন তিনি। একমাত্র পুত্র সন্তান চুরি হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। তিনি বলেন, আজ আপনাদের জন্য আমার সন্তানকে ফিরে পেয়েছি, আপনাদের কোটি কোটি ধন্যবাদ। মায়ের সন্তান মায়ের কোলে ফিরে এসেছে।

ভুক্তভোগী সিদ্দিকুর রহমান আরো জানান, চোরচক্রের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া কালে পাবনা সদর থানা পুলিশ তাকে নানা ধরনের হুমকি ও ভয় ভীতি দেখিয়ে মামলা করতে বাঁধা দেয়। এমনকি সিজারিয়ান অপারেশনের চিকিৎসাধীন স্ত্রী ও সদ্য প্রসূত সন্তানকে দ্রুত হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে চলে যেতে বাধ্য করে।

এই ঘটনায় চোরচক্রের মূল হোতাদের ছেড়ে দেওয়া ও ভুক্তভোগী বাবাকে হয়রানির বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আটককৃত আসামি মিনা একজন মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চোরচক্রের মূল হোতা মিনার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি একজন ডাক্তার। যিনি ডাক্তারি পেশার সাথে জড়িত তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী বানিয়ে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ায় আইনের সুবিচার নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রেসক্লাব পাবনার সকল সদস্য এই মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনা পাবনার চিকিৎসা খাতে চরম অবহেলা ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেছে। চোরচক্রের এই ঘটনায় জড়িত সকল দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরুণীর মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়ন ফকিরাবাদে বকশিপাড়ায় স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে। তমা খাতুনের স্বামী বক্কর হোসেন এখন ভেড়ামারা থানা পুলিশ হেফাজতে। তমা খাতুন (১৮) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে মারা যান। নিহত তমা খাতুন ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ বকশীপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে।

নিহতের পরিবারের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতের মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তমার মৃত্যুর পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ জাহেদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই তরুণী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রমাণ পুলিশ পায়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তির সময় পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে মাস্কাট থেকে যাত্রীর ব্যাগে মিলল স্বর্ণ সুতিকাকে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছবি-১
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাস্কাট থেকে আসা এক যাত্রীর ব্যাগ থেকে ৫৩৪ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোহাম্মদ হাসান মুরাদ নামে এক যাত্রীকে আটক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সালাম এয়ারের ওভি-৪০১ ফ্লাইটে মাস্কাট থেকে চট্টগ্রামে আসেন ওই যাত্রী।বিমানবন্দরের কাস্টমস হল থেকে বের হওয়ার সময় তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে ডিজিএফআই, এনএসআই ও কাস্টমস গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ দল তার ব্যাগেজে তল্লাশি চালায়। আটক মোহাম্মদ হাসান মুরাদ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নাসিরনগর এলাকার বাসিন্দা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, তল্লাশিতে ১০৬ গ্রাম স্বর্ণের অলংকার, ৪২৫ গ্রাম স্বর্ণপিণ্ড এবং ৩ গ্রাম স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করা হয়। মোট উদ্ধার করা স্বর্ণের পরিমাণ ৫৩৪ গ্রাম।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বর্ণগুলো ব্যাগেজের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এ কারণে কাস্টমসের স্ক্যানারে তা সরাসরি ধরা পড়েনি; বরং স্ক্যানারে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল।
বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার করা ৫৩৪ গ্রাম স্বর্ণের বিপরীতে ১ কোটি ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। চালানের পরিমাণ নির্ণয়ের পর উদ্ধার করা স্বর্ণ বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।স্বর্ণ পরিবহনের ঘটনায় আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা পাচার ও স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে বিমানবন্দরের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স, বিমানবন্দর কাস্টমস এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ