আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে একটানা বর্ষণে ডুবে গেছে সড়ক: কর্মজীবী-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে রাতভর বর্ষণের পর বুধবার সারাদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। যার ফলে কয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে গন্তব্যে যেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কর্মজীবী এবং শিক্ষার্থীদের।

বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেড়ে পাহাড় ধসের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। ভোর থেকে কখনো অঝোর ধারায়, আবার কখনো থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরীসহ আশপাশের এলাকায়। এতে নগরীর কয়েকটি এলাকায় পানি জমে সড়ক ডুবে গেছে। বেলা ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৫৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে। এরমধ্যে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৭০ দশমিক ৬ মিলিমিটার।এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই মূলত চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। রাতে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছিল। বুধবার সারাদিনও অব্যহত রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর জিইসি মোড়, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, বাদুরতলা, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ এলাকায় কোথাও কোথাও সড়ক ও অলিগলির রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে। তবে কোথাও আগের মতো হাঁটু কিংবা কোমরসমান পানি জমে থাকার অবস্থা সৃষ্টি হয়নি। এরপরও বৃষ্টির মধ্যে সকালে কর্মস্থল ও স্কুল-কলেজে যাবার জন্য বের হয়ে অনেককেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

বিশেষ করে বৃষ্টির কারণে সকালে গণপরিবহন কম থাকায় ভোগান্তি বেশি হয়েছে।পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটা অন্ত:ত আরও এক-দুইদিন অব্যাহত থাকবে। এদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে চট্টগ্রামসহ দেশের সমদ্র্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা আছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, ঢাকা ও খুলনা মহানগরের জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুরাদপুরের এক দোকানি বলেন, প্রতি বর্ষায় মার্কেটের নিচতলায় পানি উঠে। আজকেও সকাল থেকে অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে। এখন পানি উঠে গেছে।

এদিকে নগরীর তিন পোলের মাথা এলাকায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রায় হাঁটু সমান পানি ডিঙিয়ে সেখানে চলাচল করছিল রিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন। নগরীর তিন পোলের মাথা এলাকায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রায় হাঁটু সমান পানি ডিঙিয়ে সেখানে চলাচল করছিল রিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন।

চকবাজার কে বি আমান আলী সড়কের বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিক বলেন, সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে দেখি রাস্তায় পানি জমে আছে। ভিজে ভিজে পানির ভিতর হেঁটে কাজে এসেছি। সকালের দিকে ভারি বৃষ্টির কারণে সড়কে যানবাহনের পরিমাণ ছিল কম। তবে বেলা বাড়ার সাথে যানবাহন বাড়তে শুরু করে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ