আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ, ২০২৬

ফের চাঁদাবাজি, এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের নেতাকে নোটিশ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আবারও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক আন্দোলন দমাতে ৫ লাখ টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠে। এই চাঁদাবাজি নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে দলটি।

প্রকাশিত এক ভিডিওতে নিজাম উদ্দিনকে ভিডিওতে তাকে আফতাব হোসেন রিফাত নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে অর্থ লেনদেন নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।আফতাব হোসেন রিফাত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক সমন্বয়ক বলে জানিয়েছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

ভিডিওতে আফতাবকে বলতে শোনা যায়, যদি মীর ভাইয়েরা আন্দোলন বন্ধ না করে তখন কী করব? জবাবে নিজাম উদ্দিন বলেন, আন্দোলন বন্ধ করাব। তোমারে দিছে, টাকা দিছে? উত্তরে আফতাব বলেন, হ্যাঁ। কত টাকা দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাঁচ। এরপর নিজাম উদ্দিন বলেন, আরও বেশি নিতা প্রেশার দিয়ে, তোমরা দেখো ওর থেকে আরও পাঁচ লাখ নিতে পারো কি না। নিতে পারলে ওদেরকে আমি এনে, রোহান, মীরদেরকে এসে কিছু দিয়ে দিলাম।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইস্যুতে গত ২৩ এপ্রিল ‘বন্দর রক্ষা আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন মিছিল-সমাবেশ করে, যা নিয়েই মূলত এই বিতর্কের সূত্রপাত।

এদিকে ভিডিওটি ফেসবুকে আপলোড করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম নগর শাখার সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব রাহাদুল ইসলাম। তিনি পোস্টে লিখেছেন, সাইফপাওয়ার টেক বিরোধী আন্দোলন দমন করতে গিয়ে নিজাম উদ্দিন ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন‘এটা শুধু দুর্নীতিই নয়, এটি ছাত্র ও জনতার বিশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।

ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় সোমবার নগর এনসিপির পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। নগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী (দপ্তর) আরিফ মঈনুদ্দিন স্বাক্ষরিত নোটিশে নিজাম উদ্দিনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম নগরের প্রধান যুগ্ম সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক বরাবর লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে, গত ৫ জুলাই নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে এক নারী দুই কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ এনে পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেন। সেই সময় তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নগর শাখার সদস্যসচিব ছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তার পদ স্থগিত করা হলেও পরবর্তীতে তা ফেরত দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রমে আত্মসমর্পণকারী ১২৭ জন জলদস্যুর মাঝে র‌্যাবের ঈদ উপহার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে আত্মসমর্পণকারী ১২৭ জন সাবেক জলদস্যুর মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে র‌্যাবের চট্টগ্রাম ইউনিট। বুধবার চট্টগ্রাম ইউনিটের সদর দপ্তর পতেঙ্গা এলিট হলে র‌্যাব মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী ও পেকুয়া উপকূলীয় অঞ্চলের আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের মাঝে এসব উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।একইসঙ্গে তাদের বর্তমান জীবনযাপন নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

র‌্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংস্থাটি অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, ডাকাত, চাঁদাবাজ, খুনি ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে সফলতা অর্জন করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের ধারাবাহিক অভিযানে ২০১৮ ও ২০২০ সালে ৭৭ জন এবং ২০২৪ সালে আরও ৫০ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণের পর তাদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে বলে জানায় সংস্থাটি। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম র‌্যাবের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা র‌্যাবের কল্যাণমূলক উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অপরাধমুক্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তারা ভবিষ্যতে সৎ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার হস্তক্ষেপে অবশেষে নগরের বায়েজিদ এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। জেপি সনেট লিমিটেডের মালিকপক্ষ বুধবার (১৮ মার্চ) কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করতে বাধ্য হয়েছে।

জানা যায়, ডিসির নির্দেশে কারখানার যন্ত্রপাতি তাৎক্ষণিকভাবে ১৬ লাখ টাকায় বিক্রি করে মালিকপক্ষ। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ভোরে সেই অর্থ শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।কারখানার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সজিব দাস বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত যন্ত্রপাতি বিক্রি করেই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করতে হয়েছে।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় কোনো ধরনের ভাঙচুর বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।কারখানার সিনিয়র অপারেটর মো. মনির হোসেন বলেন, ডিসি স্যার প্রথমে নিজে টেলিফোনে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।তিনি অচলাবস্থা সার্বক্ষণিকভাবে অফিসারদের মাধ্যমে মনিটরিং করেন। এছাড়া তিনি মালিকপক্ষকে সতর্ক করে দেন—প্রয়োজনে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে হলেও বকেয়া পরিশোধ করতে হবে, না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরই মালিকপক্ষ তালবাহানা বন্ধ করে।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বায়েজিদ থানার সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় থানায় গিয়ে পুলিশ পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।তিনি বলেন, ডিসি স্যার হস্তক্ষেপ না করলে ঈদের আগে শ্রমিকরা তাদের পাওনা পেতেন না।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস জানান, প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া পরিশোধের সক্ষমতা ছিল না। জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে আমরা যন্ত্রপাতি ও স্টক মালামাল বিক্রির ব্যবস্থা করি। প্রথমে ক্রেতা গড়িমসি করলেও ডিসি স্যার কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তিনি রাজি হন। রাত ১২টার দিকে সমঝোতা হয় এবং ভোর ৬টায় পুরো টাকা পরিশোধ করা হয়।

চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, আমাদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আছে। তবে জেলা প্রশাসকের সক্রিয় ভূমিকার কারণে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়েছে বকেয়া পরিশোধ করতে। জেলা প্রশাসক বারবার খোঁজ নিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন—শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কারখানায় সার্বক্ষণিকভাবে মোতায়েন করা হয়। ঈদের আগে তিন মাসের বেতন বকেয়া এবং শ্রমিকদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে যন্ত্রপাতি বিক্রি করার মতো কঠোর নির্দেশ দিতে হয়েছে।

জানা গেছে, কয়েক মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা নিয়ে সৃষ্ট এই শ্রম অসন্তোষের সূত্রপাত হয় গত ১৪ মার্চ, যখন প্রায় ১৩০ জন শ্রমিক তিন মাসের বেতন-ভাতার দাবিতে কারখানার ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ১৬ মার্চ জেলা প্রশাসন, মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি, শিল্প পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মালিকপক্ষ যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধের লিখিত অঙ্গীকার করে।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ১৭ মার্চ রাত পর্যন্ত সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। নারী শ্রমিকসহ অনেকে কারখানায় অবস্থান অব্যাহত রাখেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মালিকপক্ষ সময়ক্ষেপণ করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। পরে ১৮ মার্চ ভোরে যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর আগে মোট পাওনার মধ্যে ১ লাখ টাকা আংশিক পরিশোধ করা হয়েছিল।জেলা প্রশাসন জানায়, শ্রমিকদের পাওনা নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষ, ক্রেতা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়েছিল এবং প্রশাসনের উপস্থিতিতেই অর্থ বিতরণ সম্পন্ন হয়।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ