আজঃ বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করলে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় -ধর্ম উপদেষ্টা

প্রেস রিলিজ

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে জুলাই-২০২৪ শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে নিরবতা পালন ও প্রদীপ প্রজ¦লন করা হয়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করা, দাঙ্গা হাঙ্গামা করা বা কোন একজনের অপরাধে তার আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ী ঘরে হামলা বা সম্প্রদায়গতভাবে দোষারোপ করা সব ধর্মেই নিষিদ্ধ। এটা ফৌজদারী অপরাধ। এ ঘৃণ্য কাজ আমাদের আবহমানকালের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে, মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে। কাজেই আমাদের পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধারণ ও লালন করতে হবে। তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করে পার পাবে না, সরকার আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অবশ্যই তার বিচার করবে।

উপদেষ্টা আজ চট্টগ্রামের পিটিআই অডিটরিয়ামে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট চট্টগ্রাম আয়োজিত ‘ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এর ভূমিকা’ শীর্ষক জেলা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিতর্কিত পোস্ট ও শেয়ার করেন। একে অন্যের ধর্ম নিয়ে বা ধর্মীয় গুরুদের নিয়ে কটাক্ষ করেন, বিরুপ মন্তব্য করেন। আবার অনেকে অতি উৎসাহী হয়ে কোন কিছু না বুঝে সাধারণ মানুষের বাড়ী ঘরে হামলা করেন, অগ্নি সংযোগ করেন। এগুলো মারাত্বক অপরাধ। তাদের কোন ক্ষমা নেই। আমরা অপরাধীর ধর্মীয় সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয় দেখতে চাই না, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখতে চাই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সম্প্রদায়গত সৌহার্দ্য আশেপাশের দেশগুলোর তুলনায় সবচেয়ে ভাল। এখানে আমরা মিলে মিশে সকল ধর্মের অনুষ্ঠান পালন করি, উৎসব করি। কয়েকদিন পূর্বে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে উদযাপন করেছি। ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে পালনের পাশাপাশি উপদেষ্টাগণ আঞ্চলিক পর্যায়ে গিয়ে সনাতনী ভাইদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রোল মডেল।

অনুষ্ঠানে কয়েকজন বক্তা বেহাত হওয়া দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার এবং সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ মন্দিরে নতুন সিড়ি নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি প্রকল্পের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মানী বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের জনবল রাজস্বখাতে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়।

এসব দাবির বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, যদি দেবোত্তর সম্পত্তি নিষ্কণ্টক হয় এবং বেহাত হয়ে থাকে তবে তা আইনের আওতায় উদ্ধার করা হবে, তবে মামলা মোকদ্দমা থাকলে তা সহজে উদ্ধার করা যায় না। এছাড়া সীতাকুন্ডে সিড়ি নির্মাণের বিষয়ে মন্দির কমিটির সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকল্প রাজস্বখাতে স্থানান্তর বিষয়ে তিনি বলেন, মসজিদভিত্তিক বা মন্দির ও প্যাগোড়াভিত্তিক এসব প্রকল্প অনেক বছর ধরে চলমান আছে। কোনটির ৮ম পর্যায় আবার কোনটির ৬ষ্ঠ পর্যায় চলছে।

প্রকল্পে জনবল নিয়োগের সময় তাদের চাকুরির ধরণ ও শর্তাবলি উল্লেখ থাকে। কাজেই সে মোতাবেক প্রকল্পের কার্যক্রম চলবে। তবে চলমান এসব প্রকল্প যেন বন্ধ না হয় সে বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্মানী বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, মসজিদভিত্তিক প্রকল্পের শিক্ষকদের সম্মানীর পরিমাণ বৃদ্ধি করে ৬ হাজার করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাই আগামী বছর থেকে ডিপিপিতে অন্তর্র্ভূক্ত ও পাশ করে মন্দিরভিত্তিক প্রকল্পের শিক্ষকগণ যেন সমহারে সম্মানী পেতে পারেন-সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্দিরগুলো শুধু পূজা বা লেখাপড়া শেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মন্দিরে যেন অনাথ বিধবা বিপতিœক ও অসুস্থ্য মানুষ সেবা পায়- সে বিষয়ে ব্যবস্থা রাখার জন্য উপদেষ্টা মন্দির কমিটির প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, মন্দিরে আগত হতদরিদ্র মানুষ যদি বই খাতা, পোশাকসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে না পারে-তাহলে নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করলে সাহায্য দেওয়া হবে। সাহায্যের জন্য সরকারের নিকট পর্যাপ্ত বরাদ্দ আছে।

ড. খালিদ হোসেন বলেন, যারা নিজের দেশের অর্থ পাচার করে বিদেশে বাড়ী বানায় কিংবা অর্থ পাচার করে, তারা কখনো দেশপ্রেমিক হতে পারে না। আমাদের সকলকে প্রকৃত অর্থেই দেশপ্রেমিক হতে হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. শরিফ উদ্দিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক ও মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত, পরিমল কান্তি শীল, এডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অধ্যাপক ববি বড়–য়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক সরকার সারোয়ার আলম, উপ-প্রকল্প পরিচালক নিত্য প্রকাশ বিশ্বাস′, সহকারী প্রকল্প পরিচালক রিংকু কুমার শর্মা প্রমূখ বক্তৃতা করেন।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশে অনুমোদন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ – ২০২৬
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায় এতে অনুমোদন দেওয়া হয়।প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এর প্রেস রিলিজে বলা হয় উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জট নিরসনে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কলেজগুলোর নিজস্ব পরিচয়, অবকাঠামো এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর তাদের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এইপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন, মূল্যায়ন ও নির্দেশনার ক্ষমতা পাবে।

নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওযার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে পরিচালিত হবে।

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নবম জাতীয় বেতন কমিশন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন পেশ করেছে। ২৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে।এ সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের সকল পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে।
২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর এই কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত শেষ তারিখ ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। কমিশন তাদের জন্য নির্ধারিত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেদন গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বলেন-এটি একটি মস্ত বড় কাজ। কর্মজীবি মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করে চলেছে।
এ সময় কমিশনপ্রধান বলেন- গত এক দশকে বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতির প্রায় সকল সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সময়োপযোগী ও যথাযথ বেতন কাঠামো নির্ধারণ না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সুস্পষ্ট কার্যপরিধি নির্ধারণপূর্বক বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিশন কাজ করেছে। সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কমিশন বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইনে ১৮৪টি সভা করে এবং ২ গাজার ৫ শত ৫২ জনের মতামত ও প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করে ব্যাপক মতবিনিময় করেছে।
কমিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান নির্ধারণ এবং এর বাস্তবায়নযোগ্যতা পর্যালোচনা করা।

এসনয়ব অর্থ উপদেষ্টা বলেন-এপ্রস্তাব বাস্তবায়নই এখন পরবর্তী কাজ। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে, যে কমিটি বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবে।[
কমিশন সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি স্কেলে বেতন সুপারিশ করেছে। সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিশনপ্রধান জানিয়েছেন- প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।কমিশনের প্রতিবেদনে নতুন নতুন প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে— সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠন, সার্ভিস কমিশন গঠন, বেতন গ্রেড ও স্কেলের যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস, সরকারি দপ্তরসমূহে ভাতাসমূহ পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ