ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করলে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় -ধর্ম উপদেষ্টা

প্রেস রিলিজ

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে জুলাই-২০২৪ শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে নিরবতা পালন ও প্রদীপ প্রজ¦লন করা হয়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করা, দাঙ্গা হাঙ্গামা করা বা কোন একজনের অপরাধে তার আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ী ঘরে হামলা বা সম্প্রদায়গতভাবে দোষারোপ করা সব ধর্মেই নিষিদ্ধ। এটা ফৌজদারী অপরাধ। এ ঘৃণ্য কাজ আমাদের আবহমানকালের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে, মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে। কাজেই আমাদের পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধারণ ও লালন করতে হবে। তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করে পার পাবে না, সরকার আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অবশ্যই তার বিচার করবে।

উপদেষ্টা আজ চট্টগ্রামের পিটিআই অডিটরিয়ামে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট চট্টগ্রাম আয়োজিত ‘ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এর ভূমিকা’ শীর্ষক জেলা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিতর্কিত পোস্ট ও শেয়ার করেন। একে অন্যের ধর্ম নিয়ে বা ধর্মীয় গুরুদের নিয়ে কটাক্ষ করেন, বিরুপ মন্তব্য করেন। আবার অনেকে অতি উৎসাহী হয়ে কোন কিছু না বুঝে সাধারণ মানুষের বাড়ী ঘরে হামলা করেন, অগ্নি সংযোগ করেন। এগুলো মারাত্বক অপরাধ। তাদের কোন ক্ষমা নেই। আমরা অপরাধীর ধর্মীয় সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয় দেখতে চাই না, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখতে চাই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সম্প্রদায়গত সৌহার্দ্য আশেপাশের দেশগুলোর তুলনায় সবচেয়ে ভাল। এখানে আমরা মিলে মিশে সকল ধর্মের অনুষ্ঠান পালন করি, উৎসব করি। কয়েকদিন পূর্বে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে উদযাপন করেছি। ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে পালনের পাশাপাশি উপদেষ্টাগণ আঞ্চলিক পর্যায়ে গিয়ে সনাতনী ভাইদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রোল মডেল।

অনুষ্ঠানে কয়েকজন বক্তা বেহাত হওয়া দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার এবং সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ মন্দিরে নতুন সিড়ি নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি প্রকল্পের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মানী বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের জনবল রাজস্বখাতে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়।

এসব দাবির বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, যদি দেবোত্তর সম্পত্তি নিষ্কণ্টক হয় এবং বেহাত হয়ে থাকে তবে তা আইনের আওতায় উদ্ধার করা হবে, তবে মামলা মোকদ্দমা থাকলে তা সহজে উদ্ধার করা যায় না। এছাড়া সীতাকুন্ডে সিড়ি নির্মাণের বিষয়ে মন্দির কমিটির সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকল্প রাজস্বখাতে স্থানান্তর বিষয়ে তিনি বলেন, মসজিদভিত্তিক বা মন্দির ও প্যাগোড়াভিত্তিক এসব প্রকল্প অনেক বছর ধরে চলমান আছে। কোনটির ৮ম পর্যায় আবার কোনটির ৬ষ্ঠ পর্যায় চলছে।

প্রকল্পে জনবল নিয়োগের সময় তাদের চাকুরির ধরণ ও শর্তাবলি উল্লেখ থাকে। কাজেই সে মোতাবেক প্রকল্পের কার্যক্রম চলবে। তবে চলমান এসব প্রকল্প যেন বন্ধ না হয় সে বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্মানী বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, মসজিদভিত্তিক প্রকল্পের শিক্ষকদের সম্মানীর পরিমাণ বৃদ্ধি করে ৬ হাজার করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাই আগামী বছর থেকে ডিপিপিতে অন্তর্র্ভূক্ত ও পাশ করে মন্দিরভিত্তিক প্রকল্পের শিক্ষকগণ যেন সমহারে সম্মানী পেতে পারেন-সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্দিরগুলো শুধু পূজা বা লেখাপড়া শেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মন্দিরে যেন অনাথ বিধবা বিপতিœক ও অসুস্থ্য মানুষ সেবা পায়- সে বিষয়ে ব্যবস্থা রাখার জন্য উপদেষ্টা মন্দির কমিটির প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, মন্দিরে আগত হতদরিদ্র মানুষ যদি বই খাতা, পোশাকসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে না পারে-তাহলে নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করলে সাহায্য দেওয়া হবে। সাহায্যের জন্য সরকারের নিকট পর্যাপ্ত বরাদ্দ আছে।

ড. খালিদ হোসেন বলেন, যারা নিজের দেশের অর্থ পাচার করে বিদেশে বাড়ী বানায় কিংবা অর্থ পাচার করে, তারা কখনো দেশপ্রেমিক হতে পারে না। আমাদের সকলকে প্রকৃত অর্থেই দেশপ্রেমিক হতে হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. শরিফ উদ্দিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক ও মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত, পরিমল কান্তি শীল, এডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অধ্যাপক ববি বড়–য়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক সরকার সারোয়ার আলম, উপ-প্রকল্প পরিচালক নিত্য প্রকাশ বিশ্বাস′, সহকারী প্রকল্প পরিচালক রিংকু কুমার শর্মা প্রমূখ বক্তৃতা করেন।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দুদকের তলবে হাজির হননি সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে তলব করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদিন দুদকের তলবে হাজির না হয়ে ৩০ দিনের সময় চেয়েছেন তিনি।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হওয়ার কথা ছিল। দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

১ লাখ টনের বেশি ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জন্য ১ লাখ টনের বেশি ক্রুড অয়েল নিয়ে একটি জাহাজ আসছে। ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙরে আসার কথা রয়েছে। অবশ্য জাহাজটি ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বাংলাদেশে প্রথম ক্রুুড অয়েলের চালান নিয়ে এসেছিল। বিপিসির শতভাগ ক্রুড অয়েল পরিবহন করে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।

বিএসসি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি সূত্রে জানা গেছে, মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার লম্বা, ৪৪ দশমিক ৪ মিটার প্রশস্ত, ১৪ দশমিক ৬ মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচের অংশ) এমটি নিনেমিয়া ১ লাখ ৪ হাজার ২৬ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আসছে। গত ২৩ জুলাই এমটি নিনেমিয়া ইয়ানবু বন্দর থেকে ক্রুড অয়েল লোড করে যাত্রা শুরু করেছে। ২০২৪ সালে তৈরি জাহাজটি ১১ নটিক্যাল মাইল গতিতে জাহাজটি চলছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে জাহাজটি। বরবারের মতো এমটি নিনেমিয়া বহির্নোঙরে আসলে ছোট ছোট ট্যাংকারে ক্রুড অয়েল লাইটারিংয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ বার্থিং, লাইটারিং, চলাচল ও খালাস কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে বিএসসি আফ্রিকা ঘুরে চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে ওই জাহাজের মালিকপক্ষ বা স্থানীয় এজেন্টের প্রস্তাবে রাজি হয়।

স্বাভাবিক সময়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে ৪ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পেরিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসত ১৩-১৫ দিনে।কিন্তু নতুন রুটে সুয়েজ খাল, জিব্রাল্টার প্রণালি ও দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ (কেপ অব গুড হোপ) ঘুরে আসায় পথ প্রায় ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেড়েছে। সময় লাগছে প্রায় ৫২ দিন। ঘুরপথে জাহাজটির নিজস্ব জ্বালানি লো সালফার ফুয়েল, মেরিন গ্যাস অয়েল, সুয়েজ খাল পার হওয়ার ফি, ভাড়া ইত্যাদি খরচও বাড়ছে কয়েক মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ফিসহ কিছু খরচ ফিক্সড হলেও পুরো হিসাব উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিপিসির অধীন ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এখন প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হচ্ছে। এর জন্য বিপিসি থেকে পরিশোধন বাবদ ফি পায় ইআরএল। পরিশোধিত তেলের মধ্যে ডিজেলই বেশি উৎপাদন হচ্ছে। এ ছাড়া বাই প্রোডাক্ট হিসেবে এলপিজি, ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন, এমএস অকটেন ইত্যাদিও উৎপাদিত হচ্ছে। ইআরএলের ট্যাংকে ক্রুড অয়েল মজুদ থাকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন। এর বাইরে এসপিএমের পাইপলাইনে কিছু ক্রুড অয়েল রাখা ছিল যা ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের শুরুতে হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক সংকটের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল ইআরএলের প্ল্যান্টে।

সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ক্রুড অয়েলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। এরপর এমটি নিনেমিয়া জাহাজে ক্রুড অয়েল আসার পর ৮ মে পুনরায় চালু হয়েছিল ইস্টার্ন রিফাইনারি। অবশ্য যুদ্ধকালীন জ্বালানি সংকট সামাল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করে সরকার।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের বার্ষিক ৭২ লাখ টন চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের চাহিদা মেটাতে ৯২ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। বাকি ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া যায়। জ্বালানি চাহিদার তালিকায় ডিজেল শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন এবং প্লেন চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ