আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

পাবনায় বিপুল পরিমাণ নকল দুধ জনসম্মুখে নষ্ট ,১ জনের ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার পাবনা প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নকল দুধ উৎপাদনের বিরুদ্ধে অভিযানে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাবনার ফরিদপুর উপজেলায়  স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত এক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে শফি নামের এক দুধ ব্যবসায়ীর কারখানা থেকে বিশ মণ নকল দুধ জব্দ করে জনসম্মুখে তা নষ্ট করা হয়। একইসাথে কারখানা থেকে দুইজনকে আটক করা হয় এবং এক আসামিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।ফরিদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) সানাউল মোর্শেদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,অসৎ উদ্দেশ্যে নিয়ে শফির মালিকানাধীন দুধ কারখানায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাসায়নিক ও কৃত্রিম উপাদান মিশিয়ে ‘নকল দুধ’ তৈরি করা হচ্ছিল। এই দুধ স্থানীয় বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো। অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, কারখানায় সয়াবিন তেল ডিটারজেন্ট, ফ্যাট রিমুভার এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে বিশাল পরিমাণে দুধ প্রস্তুত করা হচ্ছিল।

অভিযান চলাকালীন জনসম্মুখে বিশ মণ নকল দুধ বড় বড় ড্রামে করে রাস্তায় ঢেলে দেওয়া হয়। স্থানীয় জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় এবং অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “এতদিন আমরা যে দুধ খেয়েছি, সেটা কি এই বিষ ছিল? এইসব ব্যবসায়ীদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন,জনস্বাস্থ্য নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে কোনভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এমন অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।
অভিযানে অংশ নেওয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ গোপেশ চন্দ্র সরকার বলেন, “নকল দুধে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

এই অভিযান পাবনা জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের এমন দৃঢ় পদক্ষেপে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তবে প্রশ্ন উঠেছে—এ ধরনের নকল পণ্য কারা কিনে নেয়? বাজারে কিভাবে এই দুধ সরবরাহ হতো? বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি উদ্যোগে ভেজালবিরোধী এমন অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনস্বার্থে এরকম অভিযান আরও বেশি প্রয়োজন—এটাই এখন সকলের প্রত্যাশা।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মতিউর রহমান চৌধুরী নোয়াব সভাপতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী  মালিকদের সংগঠন- নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ