পাবনায় বিপুল পরিমাণ নকল দুধ জনসম্মুখে নষ্ট ,১ জনের ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার পাবনা প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নকল দুধ উৎপাদনের বিরুদ্ধে অভিযানে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাবনার ফরিদপুর উপজেলায়  স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত এক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে শফি নামের এক দুধ ব্যবসায়ীর কারখানা থেকে বিশ মণ নকল দুধ জব্দ করে জনসম্মুখে তা নষ্ট করা হয়। একইসাথে কারখানা থেকে দুইজনকে আটক করা হয় এবং এক আসামিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।ফরিদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) সানাউল মোর্শেদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,অসৎ উদ্দেশ্যে নিয়ে শফির মালিকানাধীন দুধ কারখানায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাসায়নিক ও কৃত্রিম উপাদান মিশিয়ে ‘নকল দুধ’ তৈরি করা হচ্ছিল। এই দুধ স্থানীয় বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো। অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, কারখানায় সয়াবিন তেল ডিটারজেন্ট, ফ্যাট রিমুভার এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে বিশাল পরিমাণে দুধ প্রস্তুত করা হচ্ছিল।

অভিযান চলাকালীন জনসম্মুখে বিশ মণ নকল দুধ বড় বড় ড্রামে করে রাস্তায় ঢেলে দেওয়া হয়। স্থানীয় জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় এবং অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “এতদিন আমরা যে দুধ খেয়েছি, সেটা কি এই বিষ ছিল? এইসব ব্যবসায়ীদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন,জনস্বাস্থ্য নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে কোনভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এমন অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।
অভিযানে অংশ নেওয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ গোপেশ চন্দ্র সরকার বলেন, “নকল দুধে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

এই অভিযান পাবনা জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের এমন দৃঢ় পদক্ষেপে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তবে প্রশ্ন উঠেছে—এ ধরনের নকল পণ্য কারা কিনে নেয়? বাজারে কিভাবে এই দুধ সরবরাহ হতো? বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি উদ্যোগে ভেজালবিরোধী এমন অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনস্বার্থে এরকম অভিযান আরও বেশি প্রয়োজন—এটাই এখন সকলের প্রত্যাশা।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরুণীর মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়ন ফকিরাবাদে বকশিপাড়ায় স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে। তমা খাতুনের স্বামী বক্কর হোসেন এখন ভেড়ামারা থানা পুলিশ হেফাজতে। তমা খাতুন (১৮) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে মারা যান। নিহত তমা খাতুন ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ বকশীপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে।

নিহতের পরিবারের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতের মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তমার মৃত্যুর পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ জাহেদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই তরুণী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রমাণ পুলিশ পায়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তির সময় পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

সংস্কারবঞ্চিত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনা হচ্ছে: চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর উন্নয়নকাজে গতি আনতে সরেজমিনে তদারকি অব্যাহত রেখেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের চলমান কার্পেটিং কাজ পরিদর্শন করেছেন তিনি।

পরিদর্শনকালে মেয়র সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং কার্পেটিং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

দীর্ঘদিন সংস্কারের অপেক্ষায় থাকা অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে যাওয়ায় এ পথে চলাচলকারী নগরবাসীর দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। কার্পেটিং কাজ শেষ হলে সড়কটি দিয়ে চলাচল আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিন সংস্কারবঞ্চিত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনা হচ্ছে। কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকবে। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আমরা মাঠে থেকে কাজের অগ্রগতি তদারকি করছি।

কার্পেটিং কাজ শেষ হলে অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়ক ব্যবহারকারী বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ার পাশাপাশি নগরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ