আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

সরকারী হাসপাতালে কিট সংকট চট্টগ্রামে আড়াই মাসে চিকনগুনিয়া রোগী শনাক্ত ২ সহস্রাধিক: ছয় এলাকা ঝুকিতে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


  1. চট্টগ্রামে জ্বরে আক্রান্তদের বেশির ভাগের শরীরেই শনাক্ত হচ্ছে চিকুনগুনিয়া। তবে আক্রান্ত প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীই স্বাস্থ্য প্রশাসনের তালিকায় আসছে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা। বন্দর নগরী চট্টগ্রামে আড়াই মাসে চিকনগুনিয়া আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ২৬১ জন।
  2. বেসরকারি হাসপাতালগুলোর পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিভিল সার্জন কার্যালয় এই তথ্য দিলেও সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকনগুনিয়ো রোগ পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। সরকারিভাবে প্রধান দুটি চিকিৎসাকেন্দ্র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে নেই চিকুনগুনিয়া পরীক্ষার কোনো সুযোগ। অথচ এই দুই হাসপাতালের ওপরেই নির্ভর করে এই অঞ্চলের প্রায় চার কোটি মানুষ।
  3. পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় সরকারিভাবে আক্রান্ত রোগীর সঠিক পরিসংখ্যান সংরক্ষণে নেই। এ অবস্থায় এইডিস মশাবাহিত রোগ চিকনগুনিয়া সংক্রমণের জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে নগরীর ছয়টি এলাকা চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর জুন মাসের একটি জরিপ এবং আক্রান্ত রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব এলাকা চিহ্নিত করার কথা বলেছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।
  4. সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে বুধবার পর্যন্ত জেলায় ১২৭২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। এরমধ্যে চলতি অগাস্ট মাসে ৫ জন এবং জুলাই মাসে ৭ জনের মৃত্যু হয়। ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে ৬৩৯ জন নগরীর এবং ৬৩৩ জন উপজেলাগুলোর বাসিন্দা।
    জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের অন্যতম বৃহৎত্তম প্রতিষ্ঠান পার্কভিউ হাসপাতাল, এপিক হেলথ কেয়ার সেন্টার, মেট্রোপলিটন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এভারকেয়ার, শেভরন, সিএসসিআর, আগ্রাবাদ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই কেবল রোগী শনাক্তের তথ্য পাঠায় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে।
  5. সরেজমিন চমেক হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতালসহ কয়েকটিতে গিয়ে চিকিৎসক দেখাতে আসা এমন অনেক রোগী পাওয়া গেছে, যারা স্থানীয়ভাবে চিকুনগুনিয়া শনাক্তের পর উন্নত চিকিৎসা করাতে ছুটে এসেছেন চট্টগ্রাম নগরে।
  6. চমেক ও জেনারেল হাসপাতালের তথ্য বলছে, প্রতিদিন জ্বর নিয়ে ডাক্তার দেখাতে আসেন তিন থেকে সাড়ে তিনশ রোগী। যাদের মধ্যে উপসর্গ ও শারীরিক জটিলতা থাকা অর্ধেকের বেশি রোগীকে পরীক্ষার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সরকারিভাবে সুযোগ না থাকায় পরীক্ষা না করেই ফিরতে হয় অনেককে। এ কারণে প্রকৃত রোগীর কোনো তথ্য সংগ্রহে নেই দুই হাসপাতালে। প্রধান দুই হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার গিয়েও এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পরও আক্রান্তদের অর্ধেকের বেশি রোগী তালিকার বাইরে থাকছে।
  7. এদিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ওই ছয়টি এলাকায় এইডিস মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে চিঠিও দিয়েছে আইইডিসিআর। একই সাথে নগরীর পাঁচটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে মশা নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)।তবে বর্ষা শেষ হলেও নগরীতে এইডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারণে স্বাস্থ্য বিভাগ কোনো জরিপ শুরু করেনি।
    এখন পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে নগরীর যে ছয়টি এলাকাকে চিকনগুনিয়া সংক্রমণের জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো হল- হালিশহর, বন্দর, বায়েজিদ, আগ্রাবাদ, ডবলমুরিং ও সদরঘাট।
  8. জানতে চাইলে চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, এবার নগরীর সবগুলো এলাকাতেই কম-বেশি চিকনগুনিয়া রোগী শনাক্ত হচ্ছে। আইইডিসিআর এর করা জুন মাসের জরিপ এবং আক্রান্ত রোগীদের তথ্যের ভিত্তিতে কোন এলাকাগুলোতে বেশি ঝুঁকি তা উল্লেখ করে আমরা সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিয়েছি। চিকনগুনিয়া আক্রান্ত রোগী প্রথম ১০ দিন জ্বর ও ব্যথায় বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। তবে মৃত্যুর ঘটনা নেই। ডাক্তারের পরামর্শ মত চিকিৎসা চালিয়ে গেলে আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে উঠবেন।
  9. ডেঙ্গু আক্রান্তদের মৃত্যু ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি জানিয়ে তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, উপজেলা পর্যায়ে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি যাতে কোনো ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা বিলম্ব করা না হয়।জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এএসএম লুৎফুল কবির শিমুল বলেন, এখনও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত অনেক রোগী পাচ্ছি। প্রধান দুই সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় আক্রান্তদের ব্যাপারে কোনো রেকর্ড থাকছে না। এতে অজানা থাকছে আক্রান্ত রোগীর প্রকৃত তথ্য। এ ছাড়া অনেকে স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা করালেও তাদের তথ্যও নিয়মিত পাচ্ছে না স্বাস্থ্য প্রশাসন। হাসপাতাল ও চেম্বারে আমরা প্রতিনিয়ত এমন অনেক রোগী পাচ্ছি, যারা ডাক্তার দেখান এক জায়গায়, আর পরীক্ষা করান আরেক জায়গায়।
  10. চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চট্টগ্রামে এবারের মতো এত বেশি চিকুনগুনিয়ার রোগী আর শনাক্ত হয়নি। তবে সরকারিভাবে পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা না থাকায় তাদের সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। বৈঠক করে বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানকে রোগী শনাক্তের প্রতিদিনের তথ্য দেওয়ার নির্দেশনা দিলেও সেটিও মানছে না তারা।চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন বলেন, কিট না থাকায় চিকুনগুনিয়া পরীক্ষা করাতে পারছি না। কিটসহ যাবতীয় যন্ত্রপাতি চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিলেও সাড়া পায়নি।
  11. জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ একরাম হোসেন বলেন, চিকুনগুনিয়া পরীক্ষার জন্য নেই কোনো পিসিআর মেশিন, ল্যাব ও কিট। নেই দক্ষ জনবলও।জানা গেছে, সিটি করপোরেশন নগরীর ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী, ২২ নম্বর এনায়েত বাজার, ২৮ নম্বর পাঠানটুলি, ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা এবং ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে।
  12. সিটি করপোরেশেনের এক কর্মকর্তা বলেন, মশক নিধনের এই এলাকাগুলোতে আমরা ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় সকালে ও বিকালে দুই বেলা প্রত্যেক বাড়ি ও আশেপাশের এলাকায় কীটনাশক ছিটাচ্ছি, লিফলেট বিতরণ করছি ও মাইকিং করছি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ও মশার প্রজনন ক্ষেত্র বিনষ্ট করার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেশে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সকল ধর্মের অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে চট্টগ্রামে নগরে আয়োজিত এক ‘আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলনে’। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব’র জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি হলে “পরিবর্তনশীল বিশ্বে ধর্মসাম্যের প্র‍য়োজনীয়তা ও ধর্মগ্রন্থসমূহে এর দিক নির্দেশনা” শিরোনামে সম্মিলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, বিশ্বসমাদৃত ‘ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া’-র প্রতিষ্ঠাতা গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.) এর জন্ম দ্বিশতবার্ষিকী ও মহান ১০ মাঘ ১২০তম পবিত্র উরস শরিফ উদযাপনের অংশ হিসেবে তাঁর মহান অসাম্প্রদায়িক মতাদর্শ প্রতিপালনে নিবেদিত প্রতিষ্ঠান শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি ট্রাস্টের (এস জেড এইচ এম) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ১৩তম আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলনের আয়েজন করেছে মাইজভান্ডারি একাডেমি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনের মাননীয় সাংসদ জনাব আবু সুফিয়ান এম.পি।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “সকল ধর্মের মর্মবাণী হচ্ছে, দেশপ্রেম, শান্তি ও মানব কল্যাণ। ইসলাম ধর্মের অনুসারী হিসেবে বলব ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। প্রত্যেক ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহনশীল হতে ইসলাম শিক্ষা দেয়। সমাজে মানবিক সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। উৎপীড়ন ও প্রতিহিংসা, সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে যারা সমাজকে, মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করতে চায়, প্রতিষ্ঠিত করতে চায় কুশাসন, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা করাই আন্তঃধর্মীয় সম্প্রতি সম্মিলনের অন্তর্নিহিত তাগিদ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্প্রতি সম্মিলনে আলোচক হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের সুপারনিউম্যারারি প্রফেসর অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পাঁচরিয়া তপোবন আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী রবীশ্বরান্দপুরী মহারাজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, চট্টগ্রাম ক্যাথিড্রাল প্যারিসের সহকারী পাল পুহিত ফাদার রুপক আইজেক রোজারিও এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনাব শশাঙ্ক বরণ রায়।

আলোচনায় বৌদ্ধতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. সকোমল বড়ুয়া বলেন,বর্তমান পৃথিবীর অস্থিরতার প্রধান কারণ হচ্ছে সহিংসতা, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, বিশ্বশক্তি কিংবা আগ্রাসন মনোবৃত্তি লালন করা। তাই আজ সর্বপ্রথম প্রয়োজন সকল সম্প্রদায়ের মন থেকে এ চারটি কুধারণা অপসারণ করা। দেহ ছাড়া মনের আশ্রয় যেমন কল্পনা করা যায় না, তেমনি নীতি বা ধর্ম ছাড়া সমাজ জীবনের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিন্তা অর্থহীন। দুই মেরুতে দুটি অবস্থান করলেও উভয়ের সমন্বয়ে বাংলাদেশে একটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতামুক্ত, শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে গড়ে উঠবে।

শ্রীমৎ স্বামী রবীশ্বরান্দপুরী মহারাজ বলেন, “দুঃখের বিষয় হলো এত ধর্মীয় চেতনায় সব ধর্মের সহাবস্থান এর কথা স্বীকৃত থাকলেও বিদ্বেষপূর্ণ ভাভ ধারার কোন পরিবর্তন হয়নি। দুঃখের সাথে আজ তা স্বীকার করতে হয়। আজ সমগ্র বিশ্বে ন্যায়বোধ, প্রীতিবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, সংযমবোধ, সহিষ্ণুতা, মানবতা ও শৃংখলার বড়ই দুর্ভিক্ষ। ধর্ম আচরণ পদ্ধতি ভিন্ন হলেও প্রতিটি মানুষের লক্ষ ও গন্তব্য কিন্তু এক ও অভিন্ন।”

ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন বলেন, “প্রায় সকল ধর্ম গ্রন্থই ন্যায়পরায়ণতা, সততা, দয়া ও পরোপকারের মতো সার্বজনিন নৈতিক গুণাবলির উপর জোর দেয়। এই সাধারণ নৈতিক ভিত্তি বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগীতার পথ সুগম করে ধর্মগ্রন্থগুলো প্রায়ই ঈশ্বর বা দিব্যসত্তার সামনে সকল মানুষের সমান মর্যাদার কথা ঘোষণা করে, যা আন্তঃধর্মিক, আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্মানের ভিত্তি তৈরি করে।
উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জ’র নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ শাহ হোসাইনের সঞ্চালনায় সম্প্রতি সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি (ক.) ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর।

শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ট্রাস্ট এর মাননীয় ম্যানেজিং ট্রাস্টি হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী এর বাণী পাঠ করেন এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট এর গবেষণা সহকারী জনাব সাইদুল ইসলাম সাইদু। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন হাফেজ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসনাইন, গীতাপাঠ করেন অধ্যাপক শ্রী স্বদেশ চক্রবর্তী, ত্রিপিটক পাঠ করেন ভদন্ত এম বোধি মিত্র ভিক্ষু, বাইবেল পাঠ করেন পাস্টর রিপন রায়। হামদ পরিবেশন করেন সৈয়দ সামিউল হক ফরহাদাবাদী এবং মাইজভান্ডারি সংগীত পরিবেশন করেন মাইজভান্ডারি মরমী গোষ্ঠীর সিনিয়র সদস্য সৈয়দ জাবের সরওয়ার।

আত্মসমর্পণ ও সংযমেই মকবুল হজ্বের শিক্ষা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আত্মঅহমিকা ও আমিত্ব পরিহার করে মহান আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ—এই চেতনায়ই নিহিত রয়েছে পবিত্র হজ্বের মূল শিক্ষা। ধৈর্য, সহনশীলতা ও আত্মসংযমের মাধ্যমে একজন মুসলমান নিজেকে পরিশুদ্ধ করে তুলতে পারেন—এমনটাই মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

চট্টগ্রাম নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় আল-মারচুচ হজ্ব কাফেলার উদ্যোগে আয়োজিত ‘পবিত্র হজ্ব প্রশিক্ষণ কর্মসূচি–২০২৬’-এ এসব কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনায় পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা নুরুল ইসলাম।

হজ্ব গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ মোরশেদুল আলমের সভাপতিত্বে এবং মাওলানা সরওয়ার আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বায়তুশ শরফ কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু ছালেহ মুহাম্মদ ছলিমুল্লাহ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. জুনাইদ, গারাংগিয়া মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মহিউদ্দিন, বাকলিয়া বায়তুন নূর জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আখতার হোসাইন ফারুকী, হাবের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি হাজী শরিয়ত উল্লাহসহ বিভিন্ন আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, পবিত্র হজ্ব হচ্ছে ধৈর্য ও ত্যাগের সর্বোচ্চ অনুশীলন। মকবুল হজ্বের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়। দীর্ঘ সফর, ভিড় ও নানাবিধ প্রতিকূলতার মধ্যেও সংযম ধরে রাখা এবং অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে বিরত থাকাই হজ্বের প্রকৃত তাৎপর্য।

তারা আরও বলেন, আল-মারচুচ হজ্ব কাফেলা গত ২৬ বছর ধরে হজ্বযাত্রীদের আন্তরিক সেবা দিয়ে দেশের হজ্ব ব্যবস্থাপনায় একটি আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহর ঘরের মেহমানদের সেবায় প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা ক্রমেই বিস্তৃত ও প্রশংসিত হচ্ছে।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পুরুষ ও নারী হজ্বযাত্রীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনায় হজ্বকালীন করণীয় বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করা হয়।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ