আজঃ বুধবার ১৭ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে ব্যাটারি রিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বিয়ের মাত্র ২৮ দিনের মাথায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত যুবকের নাম মো.আলমগীর প্রকাশ আলাউদ্দিন।কর্ণফুলীতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া এলাকার মো. জয়নালের অটোরিকশার গ্যারেজে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আলমগীর একই এলাকার আবুল কাশের বাড়ির আব্দুল খালেকের ছেলে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সদ্য বিবাহিত আলমগীর নগরীর আন্দরকিল্লায় একটি ছাপাখানায় কাজ করার পাশাপাশি তার বন্ধু জয়নালের অটোরিকশার গ্যারেজে পার্টটাইম কাজ করতেন।পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, গত ২৮ আগস্ট ধুমধাম করে আলমগীরের বিয়ে হয়। জীবনের নতুন অধ্যায়ে পদার্পণের আনন্দে কাটছিল তাদের দিন।তবে বুধবার আন্দরকিল্লার ছাপাখানা থেকে এসে প্রতিদিনের মতো তিনি অটোরিকশার গ্যারেজে যান।

সেখানে রাত ১২টার দিকে একটি অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে শিকলবাহা সাউথ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে আফরোজা আব্বাসকে নিয়োগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসকে হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার ১৬ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আফরোজা আব্বাসকে জাতীয় মহিলা সংস্থা আইন, ১৯৯১ এর ধারা-৮(১) এবং ধারা-৮ (২) অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে নিম্নবর্ণিত শর্তে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, যোগদানের তারিখ হতে চেয়ারম্যানের কার্যকাল পরবর্তী দুই বছরের জন্য বলবৎ থাকবে; তবে উক্ত মেয়াদ সমাপ্তির পূর্বে সরকার ইচ্ছে করলে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবে। তিনিও সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রে যেকোনো সময় স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন। এ নিয়োগ অবৈতনিক।

পিতাকে‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে অপহরণের পর হত্যা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তিন বিয়ে করা এক বৃদ্ধ বাবাকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে অপহরণের পর হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পরিকল্পিতভাবে নারী ব্যবহার করে ফাঁদ পেতে বাবাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সম্পত্তি বিক্রি করে মেয়েকে টাকা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন বড় ছেলে। ক্ষোভ থেকেই বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। তবে কাজটি সরাসরি না করে বেছে নেন ভিন্ন পথ। নিজের এক প্রেমিকাকে লেলিয়ে দেন ষাটোর্ধ্ব বাবার পেছনে।

ফোনে প্রেমের অভিনয় করে ওই নারী ডেকে আনেন প্রবীণ বাবুর্চি মীর মজিবুর রহমান খানকে। এরপর ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে, গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় তাকে। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ দুই বছর পর গা শিউরে ওঠা এই ‘হানিট্র্যাপ’ ও খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ভুক্তভোগীর ছেলে মো. বেলাল হোসেন (৩৫) ও তার ভায়রা ভাই (স্ত্রীর বড় বোনের স্বামী) আব্দুল জলিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম রফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, নিহত মুজিবুর রহমান পেশায় একজন বাবুর্চি ছিলেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল এলাকায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিনটি বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্ত্রীর ঘরে একটি করে মেয়ে রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবনের শেষ সময়ে মুজিবুর রহমান তার দুই মেয়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে মেয়েদের পেছনে খরচ করতেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের দুই ছেলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা বাবাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

তদন্তে জানা যায়, বেলাল হোসেন তার পরিচিত এক নারীকে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। ওই নারী নিয়মিত ফোনে কথা বলে মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। তাকে নতুন করে বিয়ে দেওয়ার আশ্বাসসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিজের বাসায় ডেকে নেন।

পুলিশ সুপার এস.এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৭ জুন মুজিবুর রহমান ওই নারীর বাসায় যান। এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ। সেখানে তাকে আপ্যায়নের সময় কোমল পানীয় বা শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। ওষুধের প্রভাবে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে বেলাল ও তার বড় ভাই আবদুল জলিল সেখানে পৌঁছান।পরে তাকে অসুস্থ রোগী পরিচয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে সিআরবি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ভাড়া করা একটি মাইক্রোবাসে তুলে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হয়। হত্যার জন্য নির্জন স্থান খুঁজতে খুঁজতে তারা হালিশহরের আউটার লিংক রোড এলাকায় পৌঁছায়।

মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ধ্যার দিকে মাইক্রোবাসের ভেতরেই গামছা দিয়ে মুজিবুর রহমানের গলায় পেঁচিয়ে দুই পাশ থেকে টান দেন বেলাল ও জলিল। এতে তার মৃত্যু হয়। পরে রাস্তার পাশের ঝোপে মরদেহ ফেলে রেখে চলে যান তারা। ঘটনার পর মুজিবুর রহমানের মেয়ে কোতোয়ালী থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে নিহতের মোবাইল ফোন বেলালের শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়। এরপর মামলাটি নতুন মোড় নেয়।

পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পর বেলাল আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘ সময় কক্সবাজার এলাকায় অবস্থান করেন। সম্প্রতি এলাকায় ফিরে এলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন এবং ঘটনাস্থল শনাক্ত করেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল জলিলকেও গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, হত্যার দুই দিন পর হালিশহর এলাকার একই স্থান থেকে একটি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ওই লাশের গলায় থাকা গামছা ও পরনের পোশাকের বর্ণনা আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গে মিলে গেছে।

পুলিশ ধারণা করছে, সেটিই মুজিবুর রহমানের লাশ। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
পিবিআই এসপির দাবি, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থেকেই ছেলে বেলাল হোসেন ও তার সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার বেলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ