আজঃ মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬

কাল যাত্রী অধিকার দিবস যাত্রীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যাত্রী অধিকার আইন

এস মনির চৌধুরী রানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

‘কাল যাত্রী অধিকার দিবস
যাত্রীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য “যাত্রী অধিকার আইন

আগামী কাল ১৩ সেপ্টেম্বর শনিবার যাত্রী অধিকার দিবস। যাত্রী হয়রানি, ভাড়া অরাজকতা, পরিবহন বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য, দুর্ঘটনা, অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দাবি উত্থাপনের জন্য বাংলাদেশে ২০১৯ সালে এটিকে প্রতীকী দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো এই দিবসটি পালিত হয়। এবার দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “ন্যায্য ভাড়ায় হয়রানিমুক্ত ভ্রমণের অধিকার”। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি (পিডাব্লিউএবি) সহ যাত্রী অধিকার এবং সড়ক নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

দিবসটি উদযাপনের জন্য, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি (পিডাব্লিউএবি) ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১০ টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একটি সমাবেশ এবং একই দিনে সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে “হয়রানিমুক্ত ভ্রমণের অধিকার” শীর্ষক একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা ছাড়াও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায় আলোচনা সভা এবং মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, পরিবহন খাতে নৈরাজ্য থেকে লাভবান কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন উপায়ে যাত্রী মোজাম্মেল হক চৌধুরীর কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার চেষ্টা করে আসছে। জনসাধারণের এই আন্দোলন বন্ধ করার জন্য, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখে, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে রাতের অন্ধকারে একটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এই মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে দেশের বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ, দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ফলস্বরূপ, স্বার্থান্বেষীদের সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে, যাত্রীবন্ধু (যাত্রীবন্ধু) মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। লক্ষ লক্ষ নির্যাতিত ও নির্যাতিত যাত্রীর অধিকারের পক্ষে কথা বলা সৈনিকের মুক্তির সম্মানে, যাত্রী অধিকার এবং সড়ক নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সর্বসম্মতিক্রমে ১৩ সেপ্টেম্বরকে ‘যাত্রী অধিকার দিবস’ হিসেবে দেশব্যাপী যাত্রী অধিকার আন্দোলনকে বেগবান করার প্রতীকী দিন হিসেবে ঘোষণা করে।

সাধারণ যাত্রীদের একমাত্র সাহসী কণ্ঠ, যাত্রী আন্দোলনের প্রবক্তা, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির (পিডাব্লিউএবি) প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী, (৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) ৭ বছর আগে এদিনে কারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

তাই, একজন যাত্রী অধিকার ও সড়ক নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে, ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ‘যাত্রী অধিকার আইন’ প্রণয়নের বিকল্প আমার নেই। অসহায়দের মতো হয়রানি, নৈরাজ্য এবং মহামারী সড়ক দুর্ঘটনার শিকার যাত্রীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নের জন্য এই আইন প্রণয়ন করা অপরিহার্য।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের আত্মহত্যা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের আত্মহনন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাসাত্মক গল্প ভাইরাল হয়েছে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে, স্ত্রীকে দামি জুতা কিনে দিতে না পারার হতাশা থেকে ওই যুবক গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তার স্বজন এবং পুলিশের সঙ্গে কথা জানা গেছে ভিন্ন কথা।

শুক্রবার দুপুরে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ১টার দিকে কামাল উদ্দিন (৪০) নামের এক যুবক নিউমার্কেটের সামনে আনারসের দোকান থেকে ছুরি নিয়ে নিজে গলায় চালিয়ে দেয়।রক্তাক্ত অবস্থায় আমাদের টহলটিম স্থানীদের সহযোগিতা চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অস্ত্রোপচারে রক্ত প্রয়োজন হলে আমাদের সহকারী পুলিশ সুপার নুরে আলম মাহমুদ স্যার রক্ত প্রদান করেন। কিন্তু রাতেই কামাল মারা যান।নিহত কামাল উদ্দিনের বাড়ি ময়মনসিংহে, তিনি চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

তিনি বলেন, ওই যুবকের স্ত্রী ইপিজেডে চাকরি করেন। ঘটনার সময় স্ত্রী কামালের সঙ্গেই ছিলেন না। এস এম রিদুয়ান নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাতে আনারসের দোকান থেকে কামাল যখন ছুরি নিয়ে নিজের গলায় চালান তখন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশকে জানানো থেকে শুরু করে কামালের চিকিৎসা পর্যন্ত তিনি সঙ্গে ছিলেন।কামালের সঙ্গে কোনো নারী ছিল না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া গল্পটি মিথ্যা।

কামালের স্ত্রী তসলিমা আক্তার জানান, রাত ৮টার দিকে কামাল তার ভাগিনার কাছ থেকে হাত খরচের কিছু টাকা চায়। ভাগিনা তার মামাকে টাকা দিলে টাকা নিয়ে কামাল উধাও হয়ে যান। তাকে পতেঙ্গা এলাকায় আর দেখা যায়নি।ভোরে ফোন পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে কামালকে মৃত দেখতে পান।
কামালের ভাগিনা সামাদ বলেন, আমার মামা পেশায় রাজমিস্ত্রির হেল্পার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। মামা যখন আমার থেকে টাকা নিয়ে আসেন তখন মামি কারখানায় চাকরিতে ছিলেন। ঘটনার সঙ্গে মামির কোনো সম্পর্ক নেই। মামার চিকিৎসার জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিছুদিন ভালো থাকেন, তারপর আবার সমস্যা শুরু হয়।

চরম বিপাকে হাজার হাজার যাত্রী শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ৮ দিনে এই বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আসা মোট ৮০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির যুদ্ধাবস্থায় দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহার এয়ারফিল্ডগুলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। শনিবার নতুন করে বাতিল হয়েছে আরো ১২টি ফ্লাইট। এই টানা ৮ দিন ধরে ফ্লাইট বাতিলে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী, যাদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী শ্রমিক। অনেক যাত্রী দূর-দূরান্ত থেকে বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধাবস্থার কারণে দুবাই, আবুধাবি ও দোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডগুলো বন্ধ থাকায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এয়ারফিল্ডগুলো খুলে দিলেই পুনরায় নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক প্রবাসী তাদের ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। যথাসময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরি হারানোর ভয় কাজ করছে তাদের মনে।অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যারা দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা সেখানের এয়ারফিল্ডে আটকা পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া বা রি-শিডিউল করা নিয়ে এয়ারলাইনস অফিসগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, শনিবার সারাদিনে ১২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার।এয়ার আরাবিয়ারের ২টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। সালাম এয়ারের ১টি অ্যারাইভাল ও ১টি ডিপার্চার।
পুরো সূচি বিপর্যস্ত হলেও শনিবার সীমিত কিছু ফ্লাইট সচল রয়েছে। এর মধ্যে সালাম এয়ারের মাস্কাট-চট্টগ্রাম রুটে দুটি (ওভি-৪০১ ও ওভি-৪০২) এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মদিনা (বিজি-১৩৮) ও মাস্কাট (বিজি-১২২) থেকে আসা দুটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ