আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

দারুননাজাতের তরুণ শিক্ষাবিদের আল-আজহারে প্রথম স্থান অর্জন।

লেখক ও কলামিস্ট, শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের আকাশে সাফল্যের যে নক্ষত্রেরা ঝলমল করে, তাঁদের কাতারে যুক্ত হলো আরেক উজ্জ্বল নাম—মুহাম্মাদ শিহাব উদ্দীন আজহারী। মেধা, শ্রম ও অদম্য স্বপ্নের সমন্বয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কায়রোর প্রাচীনতম ও বিশ্বখ্যাত বিদ্যাপীঠ আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের হাদিস বিভাগ থেকে পিএইচডি তামহীদিতে প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি শুধু নিজেকে নয়, সমগ্র জাতিকে করেছেন গর্বিত।

শিহাব উদ্দীনের শিক্ষাযাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের মাটিতে, যেখানে শৈশব থেকেই তিনি মেধা ও নিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ২০১২ সালের দাখিল ও ২০১৪ সালের আলিম পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসায় উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন তিনি। পরে কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাযিল এবং বাংলাদেশ আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কামিল সম্পন্ন করে ইসলামী জ্ঞানের ভাণ্ডারে নিজেকে সমৃদ্ধ করেন। প্রতিটি ধাপে ছিল তাঁর সাফল্যের পদচিহ্ন, প্রতিটি স্তরে ছিল বিশ্বমঞ্চে নিজেকে গড়ে তোলার প্রস্তুতি।

২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ সরকারের মনোনীত স্কলারশিপ নিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হয় আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভাষা শিক্ষা কোর্স শেষে ২০১৭ সালে তিনি ভর্তি হন উসুলুদ্দীন অনুষদে। শুরু হয় দীর্ঘ সাধনা আর কঠোর পরিশ্রমের অধ্যায়। ২০২১ সালে সফলভাবে গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর ২০২১/২২ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় ৮৩ শতাংশ নম্বর অর্জন করেন, যা এ প্লাসের সমতুল্য। এক বছরের ব্যবধানে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর তাঁর এমফিল থিসিস সম্পন্ন করে তিনি পান সর্বোচ্চ গ্রেড মুমতাজ বা এক্সেলেন্ট। আর সর্বশেষ ২০২৫ সালে তাঁর অধ্যবসায়ের শীর্ষ ফসল মিলল—৯ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ফলাফলে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস বিভাগে পিএইচডি তামহীদির ফাইনাল পরীক্ষায় তিনি ৮৫.২২ শতাংশ নম্বর (A+) পেয়ে ডিপার্টমেন্টে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

শিহাব উদ্দীনের কৃতিত্ব কেবল পাঠ্যপুস্তক ও পরীক্ষার খাতায় সীমাবদ্ধ নয়। তিনি প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্যও হয়ে উঠেছেন এক নির্ভরতার ঠিকানা। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনের উপদেষ্টা হিসেবে টানা তিন বছর দায়িত্ব পালন করে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব ও দায়বদ্ধতা দিয়ে একটি প্রজন্মকে এগিয়ে নেওয়া যায়। তাঁর দিকনির্দেশনায় সংগঠনটি হয়ে উঠেছে প্রবাসী শিক্ষার্থীদের ঐক্য, সহযোগিতা ও আত্মপ্রত্যয়ের উজ্জ্বল প্রতীক।

এছাড়া ২০২০ সালের জুন মাসে তাঁর হাতেই প্রতিষ্ঠিত হয় মারকায সওতুল ইসলাম, যা আজ বাংলাদেশের অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। তাঁর প্রচেষ্টা ও অদম্য সাধনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৭ জন শিক্ষার্থী আল-আজহার, মদিনা, কিং আব্দুল আজিজ, তাবুক, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ, আল-কাসিমিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক ও ইরাকের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ স্কলারশিপ পেয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সহায়তায় আল-মদিনা অ্যাপ্লিকেশনস-এর মতো সহযোগী প্রতিষ্ঠানও তিনি গড়ে তুলেছেন, যা দিন দিন হয়ে উঠছে আগ্রহী তরুণদের আশার আলো।

মুহাম্মাদ শিহাব উদ্দীনের এই সাফল্য নিছক ব্যক্তিগত নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য এক বিরল গৌরব। তিনি প্রমাণ করেছেন—অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় আর নৈতিক দৃঢ়তার মাধ্যমে একজন তরুণ শুধু বিশ্বমানের শিক্ষাঙ্গনে আলো ছড়াতে পারে না, বরং প্রজন্মের জন্য প্রেরণার আলোকবর্তিকাও হয়ে উঠতে পারে। তাঁর এই অর্জন বাংলাদেশের নামকে যেমন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল করেছে, তেমনি নতুন প্রজন্মকে দেখিয়েছে স্বপ্ন দেখার নতুন দিগন্ত।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে বিআরটিএ’র সতর্ক সংকেত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন বাস চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অস্থায়ী পতাকা নয়-স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাঁকের উভয় পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ফলে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবেন।

কালিয়াকৈরে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হাটুরিয়াচালা–লস্করচালা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আবারও একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাসুম নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহন কার্যক্রম চলছিল। শনিবার রাতে মাটি পরিবহনের সময় একটি ড্রাম ট্রাক চলাচলের সময় মাসুম নামে ওই যুবক ট্রাকের নিচে পড়ে যান। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ