আজঃ বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

দুর্গাপূজায় মণ্ডপে-মন্দিরে সিসি ক্যামেরা বসান : ধর্ম উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দুর্গাপূজায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, রাতের বেলা অনেকসময় হামলা করে, অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়ে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় আছে।মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর গোলপাহাড় মহাশ্মশান কালীমন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় দুর্গাপূজা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আমাদের প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় এখন জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার জন্য নিউইয়র্কে আছেন। উনি যাবার সময় আমাকে ডেকে বলে গেছেন- আমার আসতে আসতে তো দশমী হয়ে যাবে, তুমি সতর্ক থাক, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপ করে যাতে মানুষ সুন্দরভাবে নির্বিঘ্নে পূজাটা উদযাপন করতে পারে, এ ব্যাপারে তোমাকে রাতদিন পরিশ্রম করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা মোতাবেক দুর্গাপূজা নিয়ে সার্বিক প্রস্তুতি আমরা গ্রহণ করেছি। নিরাপত্তার ব্যবস্থা আমরা নিশ্চিত করেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি।

বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে, এগুলো অনেকটা পলিটিক্যালি মোটিভেটেড, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়। মাজারে হামলা চালায়, মন্দিরকেও অপবিত্র করার চেষ্টা করে, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যাতে আমাদের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশকে কেউ বিনষ্ট করতে না পারে। আমি সবসময় বলে থাকি, যারা উপাসনালয়, যে কোনো ধর্মের উপাসনালয়, মাজার, ধর্মীয় স্থাপনায় যারা পাথর নিক্ষেপ করে অথবা অপবিত্র করতে চায়, তারা কালপ্রিট, তারা অপরাধী, তাদের কোনো ধর্মীয় পরিচয় নেই।

পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের তাগিদ দিয়ে উপদেষ্টা খালিদ বলেন, দুর্গাপূজা উদযাপন যেখানে হবে, মণ্ডপে-মন্দিরে সিসি ক্যামেরা বসান। রাতের বেলা অনেকসময় হামলা হয়, অন্ধকারের মধ্যে ঢিল মারে, অপবিত্র করতে চায়। এ ব্যাপারে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় আছে। গোয়েন্দারাও বিভিন্ন জায়গায় তৎপরতা চালাবে। আমি জেলা প্রশাসকদের বলে দিয়েছি, হটলাইন চালু থাকবে। আপনারা যদি কোনো আশঙ্কা অনুভব করেন, তাহলে হটলাইনে জানালে মুহূর্তের মধ্যে তারা আপনাদের পাশে এসে দাঁড়াবে।

ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষকে পূজায় সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আরেকটা কথা বলবো, লোকাল পিপলকে আপনারা ইনভলব করেন। আপনাদের ডানে-বামে যেসব মানুষেরা আছেন, যে ধর্মেরই হোক, তাদের সহযোগিতা আপনারা চান। তাহলে দুর্গাপূজাটা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য্য নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে আপনারা উদযাপন করতে পারবেন। এই যে নানা ধর্ম, নানা বর্ণ, নানা জাতি, মসজিদে আজান হয়, এখানে শঙ্খধ্বনি হয়, এই যে বৈচিত্র্য, এই বৈচিত্র্যের মাঝেই আমাদের ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে। এদেশ আমাদের সবার, আমাদের অন্তরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আমি আমার ধর্ম পালন করবো, আমি আমার ধর্ম চর্চা করবো, অন্যরা যাতে নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে, সেই সুযোগও আমাকে করে দিতে হবে।

ধর্ম অবমাননার দায় ব্যক্তির, পুরো সম্প্রদায়ের নয়- এ মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, ‘কেউ যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, সেই অপরাধের জন্য ব্যক্তি দায়ী হবে, সম্প্রদায় নয়। আমি আবার রিপিট করছি, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, ধর্ম অবমাননা করে থাকে, কটূক্তি করে থাকে, ব্যঙ্গ করে থাকে, এর জন্য সেই ব্যক্তিই দায়ী থাকবে, তার কমিউনিটি নয়, সম্প্রদায় দায়ী নয়।কিন্তু আমরা অনেক সময় আইন হাতে তুলে নিই। হামলা, মামলা, লুটপাট করি। আইন হাতে নিলেই আইনের শাসন নষ্ট হয়ে যাবে। অপরাধী শাস্তি পাবে, তার জন্য নিরপরাধ মানুষের বাড়িঘর আক্রান্ত হতে পারে না।

আমরা সবসময় এ ব্যাপারে সচেতন আছি। আমরা এখনও আছি, অতীতেও ছিলাম, আগামীদিনেও আমরা মিলেমিশে থাকতে চাই। এদেশ আমাদের সবার। আমরা প্রত্যেকে নির্বিঘ্নে আমাদের ধর্মীয় যে চর্চা, ধর্মীয় যে উৎসব, ধর্মীয় যে উপাসনা এটা আমরা চালিয়ে যাবো।
ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ। আমাদের দ্বিতীয় কোনো বাড়ি নেই, দ্বিতীয় কোনো ঠিকানা নেই। আমাদের সেকেন্ড হোম বলতে কিছু নেই। এই হোম, এই বাংলা, এই স্বাধীন,

সার্বভৌম বাংলাদেশই আমাদের ঠিকানা। আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি। এ দেশের যত অর্জন, নানা ধর্ম, নানা বর্ণ, নানা জাতির মানুষের অবদান আছে। আমরা কারও অবদানকে খাটো করতে চাই না।যারা সাম্প্রদায়িক

ভেদবুদ্ধি রাখেন, তাদের মানবিকতা বোধ থাকে না। অসাম্প্রদায়িক মানুষের ভেতরে মানবিকতা বোধ থাকে।
আমি যখন কোনো অভাবগ্রস্ত, কোনো অসুখী, কোনো দুঃখী মানুষ দেখি, আমি তার ধর্মপরিচয় জানতে চাই না। সে যে একজন মানুষ এটাই আমার কাছে বড়।
আমরা মানবতার জয়গান গাইতে চাই। ধর্ম যার যার সে পালন করবে। এদেশ আমাদের সবার, আমরা চাই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের রোলমডেল হিসেবে দুনিয়াতে পরিচিত হোক।

আমাদের প্রতিবেশি অনেক দেশ আছে, তার তুলনায় আমরা এটাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করতে চাই। এ সময় হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিতসহ মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শতভাগ বাস্তবায়ন করতে চান বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেছেন, সারা দেশের ন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়েও ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুদেরকে বিনামূল্যে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ চলমান রয়েছে। গত ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ ক্যাম্পেইন জেলা পর্যায়ে আগামী ১০ মে এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ মে পর্যন্ত এলাকায় চলমান থাকবে।

সরকারী ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময়ে এ বয়সী শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১ ডোজ এমআর টিকা দেয়া হবে। ৬-৫৯ মাস বয়সী কোন শিশু যাতে টিকা পাওয়া থেকে বাদ না পড়ে সে বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগে প্রায় ৪২ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২৭ এপ্রিল সোমবার পর্যন্ত টিকা প্রদানের হার প্রায় ৪৪ শতাংশ। হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন আমরা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে চাই। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রয়োজন। মঙ্গলবার সকালে নগরীর সিনেমা প্যালেস সংলগ্ন লয়েল রোডস্থ চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক এসোসিয়েশন (বিপিএ) সদস্যদের সাথে আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় সভার আয়োজন করেন।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. ইমং প্রু চৌধুরী। সভায় রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুছা মিয়া, বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক এসোসিয়েশনের সেক্রেটারী জেনারেল ও চমেক হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ) ডা. মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ঢালী, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা, চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কর্ণেল (ডা.) তাহমিদ হক, বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক এসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম জেলা শাখার উপদেষ্টা ডা. মোঃ আবুল কালাম ও ইউসিসেফ’র ন্যাশনাল ইপিআই স্পেশালিষ্ট ডা. সরোয়ার আলম। ওরিয়েন্টেশন সভায় বিপিএ’র চট্টগ্রাম জেলা শাখার কর্মকর্তা ও সদস্যরা হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, হাম-রুবেলা নির্মূলে টিকাদান ক্যাম্পেইন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মসূচী। বিভাগের কোন শিশু যাতে এই টিকার আওতার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্কদৃষ্টি রাখতে হবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে। হাম-রুবেলার টিকা অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকরী। তারপরও কখনও কখনও সামান্য কিছু প্রতিক্রিয়া বা লক্ষণ দেখা দিলে ভয়ের কোন কারণ নেই, এমনিতেই সেরে যাবে। হাম একদিকে যেমন দ্রুত ছড়ায়, অন্যদিকে সঠিক সময়ে টিকার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করাও বেশ সহজ।

এটি মূলত ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা গোষ্ঠীগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মতো কাজ করে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বড় অংশকে যদি টিকার আওতায় এনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা যায়, তবে ওই এলাকার সব শিশু সুরক্ষিত থাকবে। অধিকাংশ শিশুকে এই টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হলে হাম ছড়ানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। সঠিক তথ্য প্রদান ও টিকাদান কার্যক্রমে শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ওরিয়েন্টেশন সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকরী। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞদের চেম্বারে চিকিৎসার জন্য আসা ৬-৫৯ বয়সী শিশুদেরকে এমআর টিকা দেয়ার জন্য অভিভাবকদেরকে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে হবে।

মূলতঃ পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরপর মিজেলস ছড়িয়ে পড়ায় এটি নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথমে দেশের ১৮ জেলার টিকাদান কর্মসূচী শুরু করেন। এ সময়ে শিশুদের জন্য ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রয়োজন থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ অপ্রতুল। তাই এমআর টিকাদান ক্যাম্পেইন সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে সারাদেশে শিশুদের জন্য ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের সরবরাহ নিশ্চিতসহ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ক্যাম্পেইন যাতে শুরু করা হয় সে ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ’র মাধ্যমে সরকারকে অনুরোধ জানানো হবে।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, জনসুরক্ষা (পপুলেশন ইমিউনিটি) বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময় পর পর হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন জরুরী। পূর্বে এমআর টিকা পেয়ে থাকলেও অথবা হাম বা রুবেলা রোগ হলেও ৬-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এ ক্যাম্পেইনের সময় ১ ডোজ এমআর টিকা দেয়া হবে।

অসুস্থ শিশুরা সুস্থ হলে কিংবা উদ্দিষ্ট শিশু পূর্বে হাম বা রুবেলা রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকলেও ক্যাম্পেইন চলাকালে যে কোন টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবে। এমআর টিকা নিরাপদ হলেও কখনও কখন সামান্য কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ভয়ের কোন কারণ নেই, এগুলো এমনিতেই সেরে যাবে। ক্যাম্পেইনে টিকা পাওয়া সত্ত্বেও দুই বছরের কম বয়সী শিশুকে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় ২ ডোজ এমআর টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তবে দু’টি ডোজের মধ্যে অবশ্যই ২৮ দিনের বিরতি থাকতে হবে।

ক্যাম্পেইন নিয়ে যে কোন ধরনের গুজব রোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুর ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে এমআর টিকা নিতে পারবে, যাদের জন্মনিবন্ধন সনদ নেই তাদেরকে লাইন লিস্ট করে সরবরাহকৃত এমআর টিকা কার্ড পূরণ করে টিকা প্রদান করতে হবে। সভায় জানানো হয়, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ৫ এপ্রিল থেকেই দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় জরুরি ভিত্তিতে প্রথম দফায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। এ সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার রামু, মহেশখালী, চাঁদপুর জেলা সদর ও হাইমচর উপজেলাও কর্মসূচী শুরু হয়।

গত ১২ এপ্রিল ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বরিশাল ও ময়মনসিংহে দ্বিতীয় দফায় হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এই হাম-রুবেলার (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৪২ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে হাম-রুবেলার টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভাগের মোট ১৬৪টি স্থায়ী কেন্দ্র, ২৪ হাজার ৬৪০টি ভ্যাকসিনেশন সেন্টারে সরকারী ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ টিকা দেয়া হবে। ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে ১ হাজার ১৫টি মপ-আপ টিম ও সান্ধ্যকালীন ১৬টি টিম এ টিকা প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।

লোহাগাড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাস খাদে পড়ে ঘটনাস্থলে ৩ জন নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

লোহাগাড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাস খাদে পড়ে ঘটনাস্থলে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৫ জন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন-ইন্দাসারা ভিক্ষু প্রকাশ উচিমং মগ (৪৪)। তিনি খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি চৌধুরী পাড়ার মৃত মংশি মগের পুত্র। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত অন্যদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ