আজঃ শুক্রবার ১০ জুলাই, ২০২৬

রাতের অন্ধকারে ভোট চাই না : চট্টগ্রামে সিইসি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ হবে। আমরা ইন্টারনেট বন্ধ করার পক্ষে না। আমি চাই ইনফরমেশন ফ্লোটা চালু থাকুক। আমরা স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে চাই। রাতের অন্ধকারের ভোট চাই না। আমরা চাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সবার দৃষ্টিগোচর হয় এমন নির্বাচন। রোববার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক মতবিনিময়সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মতবিনিময়সভায় আলোচনার বিষয় তুলে ধরে সিইসি জানান, আগামী নির্বাচনটা সুন্দর ও ফেয়ার করার জন্য কি কি চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে।কিভাবে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে পারি, এ বিষয়ে একটু আলোচনা করছি কর্মকর্তাদের সঙ্গে। আলোচনা হয়েছে, এর মধ্যে অনেকগুলো বিষয় কিন্তু উঠে আসছে। যে সিকিউরিটি প্রশ্নের কথা যেটা আসছে, রিসেন্টলি আপনারা দেখছেন যে আমাদের হিল একটা সমস্যা হয়েছে, এখানে মব ভায়োলেন্স হয়। এসব বিষয় আসছে আলোচনায়। তারপরে সোশ্যাল মিডিয়ার যে অপব্যবহার, এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এনসিপির প্রতীক নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, যে দল নিবন্ধন পায়, তাদের আমাদের যে নির্ধারিত প্রতীকের তালিকা আছে ওখান থেকে প্রতীক নিতে হয়। এনসিপির প্রতীক যেহেতু আমাদের নির্ধারিত তালিকা নেই, এজন্য আমরা এটা দিতে পারিনি।
এখন আর দেওয়ার সুযোগ আছে কি না সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিধান হলো যে, আমাদের যে তালিকাভুক্ত প্রতীক আছে ওখান থেকে নিতে হবে। এখন পর্যন্ত তালিকার বাইরে আমরা কাউকে দিইনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা বলছেন শাপলা প্রতীক ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এনসিপিতে যারা নেতৃত্বে আছেন তারা কিন্তু ২০২৪ এর আন্দোলনে একটিভলি পার্টিসিপেটলি ইনভলভ ছিলেন। এই দলটা যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা গণতন্ত্র আনার প্রতি নিজেরা বাধা সৃষ্টি করবেন, এটা আমি মনে করি না। আমি তাদের দেশপ্রেমিক ভাবি। এনসিপিতে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অভ্যুত্থানে যোগদান করেছিলেন। সুতরাং তারাও দেশের মঙ্গল চান। তারাও দেশের ভালো চান। তারাও দেশের গণতন্ত্র চান। আমার বিশ্বাস এবং যাতে গণতন্ত্রের উত্তরণটা যাতে সুন্দর হয়, সুষ্ঠু হয়—সেই একটা পরিবেশে উনারা সম্মতি দেবেন।
তিনি বলেন, আমাদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে রাজনীতিবিদরা জানেন এবং বিশেষ করে এনসিপির নেতৃত্ব ফুললি সচেতন, আমাদের সীমাবদ্ধতা জানেন। আমি কোনো শঙ্কিত নই, ইলেকশনে পার্টিসিপেশন সম্পর্কে। আই এম ফুললি কনফিডেন্ট, আপনারা দেখবেন ওয়েট করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে কোনো অসুবিধা সৃষ্টি করবে এমন কোনো চিন্তা আমাদের নেই। আমরা সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই। আপনাদের পার্টনার হিসেবে পেতে চাই। কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা যদি ঘটে দয়া করে ফ্যাক্ট চেকিং না করে সংবাদ পরিবেশন করবেন না। শেয়ার করার আগে নিশ্চিত হতে হবে এই ঘটনাটা সঠিক কিনা। তিনি বলেন, একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে চাই। মানুষের জন্য একটা ভোটের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। প্রতিটা বাংলাদেশি যাতে ভোট দিতে পারেন। আমরা বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের ভোটের ব্যবস্থা করার উদ্যোগটা নিয়েছি, এটা তো আগে ছিল না।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টা কিন্তু এটা কন্টিনিউয়াস প্রসেস। এটা চলতে থাকবে। নির্বাচন পর্যন্ত এটা চলতে থাকবে। নির্বাচনে যাতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার না হয়, সে লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের ভোটের ইতিহাসটা বদলাতে চাই। আগের মতো যাতে না ঘটে। যাতে একটা সুষ্ঠু ভোট হয়, সেই বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ, চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমদ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাঁশখালী তীব্র স্রোতে ভেসে দুই শিশুর মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানির তীব্র স্রোতে ভেসে মিরাজ ও আশিক নামে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাহারচড়া ইউনিয়নের পৃথক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে আশিক বাহারচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা গ্রামের মেহের আলী বাড়ির প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে। অপর নিহত শিশু মিরাজ একই ইউনিয়নের রত্নপুর এলাকার বাসিন্দা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুই শিশু নিজ নিজ বাড়ির উঠানে বের হলে পূর্ব দিক থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল পানির স্রোতে ভেসে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাদের মৃত্যু হয়।

গাছ উপড়ে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সঞ্চালন লাইন চট্টগ্রামে বিদ্যুৎহীন বিভিন্ন উপজেলা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।কোথাও টানা দুইদিন, আবার কোথাও তিনদিন ধরে বিদ্যুৎহীন রয়েছে অনেক গ্রাম। এতে জনজীবনের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে তারা পড়াশোনা, অনলাইনে প্রয়োজনীয় নোট সংগ্রহ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার ৭১ হাজার ১১৬ জন পরীক্ষার্থী চরম বিপাকে পড়েছে।

জানা গেছে, কোথাও গাছ উপড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়েছে, কোথাও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার কোথাও তার ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।
তারা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের কাজ চলছে।দ্রুত সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামত করে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, সাবস্টেশন ও বিতরণ লাইনের অবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মাঠে একাধিক টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে।জানা গেছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারা, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, পটিয়া, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িতে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির, সাতকানিয়ার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় ৩৩ কেভি প্রধান সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা লাইন মেরামতের কাজ চালিয়ে গেলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না।সাতকানিয়া উপজেলায় গত বুধবার সকাল থেকে পল্লী বিদ্যুৎ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। টানা ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলার পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অধিকাংশ বাড়িতে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, পাওয়ার ব্যাংকসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের চার্জ শেষ হয়ে গেছে। জেনারেটরে চার্জ দিয়ে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। সড়কে হাঁটু সমান পানি মাড়িয়ে বাজারে যাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।আনোয়ারার বটতলী এলাকার বাসিন্দা মো. মামুনুল করিম জানান, ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন ছিলাম। মোবাইলে ছিল না নেটওয়ার্ক। বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যুৎ এসেছে।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় অনেকগুলো লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের প্রকৌশলী ও লাইনম্যানরা ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামত করে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় পানি জমে গেছে বা এখনও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে, সেখানে নিরাপদ পরিবেশ না পাওয়া পর্যন্ত মেরামতকাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে। এখন আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সব লাইনে মেরামত পর্যায়ক্রমে চলছে।

আলোচিত খবর

এইচএসসি-সমমান প্রথমদিন অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার -৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ১২০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে।০২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন।

অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জনকে। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৯৭, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৭৯৫, যশোর বোর্ডে দুই হাজার ৭৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজার ৩৪০, সিলেট বোর্ডে এক হাজার ১২৭, বরিশাল বোর্ডে এক হাজার ৩৪৬, দিনাজপুর বোর্ডে এক হাজার ৯৩৭ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে এক হাজার ১৪২ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ বিষয়ে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ১৩১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮৩ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে একজনকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ