কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্কে নিবেদন করে জাতীয় কবিতা পরিষদের অনন্য এক আয়োজন ।।

রিপন শান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দ্রোহ, প্রেম ও প্রতিবাদের কবি, জাতীয় কবিতা পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র ৬৯তম জন্মদিনকে নিবেদন করে গত ২১ অক্টোবর২০২৫ মঙ্গলবার বিকেলে৫টায়, রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডের ‘কাজল মিলনায়তন’-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় কবিতা পরিষদের ৫১তম কবিতাপাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠান।

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র ঘনিষ্ঠ বন্ধু, জাতীয় কবিতা পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান সভাপতি কবি মোহন রায়হানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কবিকে নিয়ে আলোচনা করেন অ্যাটর্নী জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র ছোট ভাই চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফুল্লাহ, আসাদুজ্জামানের স্ত্রী শিরিন সুলতানা এবং রুদ্র’র আরেক বন্ধু কবি ও লেখক তুষার দাশ। কন্ঠশিল্পী পারহান উদ্দিনের কন্ঠে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র লেখা ‘ভালো আছি ভালো থেক, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখ’ এবং শিল্পী মিশু দাসের কন্ঠে প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের ‘আমি বাংলায় গান গাই’ সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।

সূচনা বক্তব্যে কবি মোহন রায়হান বলেন, জাতীয় কবিতা পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রুদ্রের অনেক কীর্তি । সে কবিতা লিখেছে, গান লিখেছে, গল্প লিখেছে, নাটক লিখেছে, অভিনয় করেছে, সাড়া জাগানো প্রেম করেছে, লড়াই লড়েছে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে। বাংলাদেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে দুটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্লাটফর্ম ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিল রুদ্র। রুদ্র তৎকালীন পাকিস্তানী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিল তাঁর উপনিবেশ বিরোধী চেতনার জাগরণের মধ্য দিয়ে। রুদ্র ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। রুদ্র ছিল আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাঁর সঙ্গে অনেক দুঃখ-বেদনা-বিরহ, আনন্দ ও সুখের স্মৃতি রয়েছে। তাঁর জন্মদিনকে স্মরণ করে আজকের অনুষ্ঠানটি আয়োজন করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আজ রুদ্রকে নিয়ে বলার জন্য ব্যতিক্রমী এক মানুষকে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি, বাংলাদেশের সম্মানীয় অ্যাটর্নী জেনারেল ও বিশিষ্ট লেখক আইনজীবী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে। তাঁর জীবনও বৈচিত্রময়, আন্দোলনমুখর এবং সংগ্রামে উত্তাল। মেধাবী আসাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় ছাত্রনেতা ছিল। আমার অত্যন্ত স্নেহভাজন আসাদ একসময় আমার সহযোদ্ধা ছিল। সেই সময় অবৈধ ক্ষমতার দখলদার সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আসাদ অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেছে।
অনুষ্ঠানে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌কে নিয়ে অ্যাটর্নী জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, আমার জীবনের প্রথম প্রেম রাজনীতি এবং শেষ প্রেমও রাজনীতি। এই রাজনৈতিক জীবনের ভাঙা-গড়া, উত্থান-পতন রয়েছে। এই ক্ষেত্রে যাঁরা অবদান রেখেছেন, উৎসাহ যুগিয়েছেন তাদের মধ্যে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও কবি মোহন রায়হান অন্যতম ভূমিকা রেখেছেন। আমি ক্লাস এইটের যখন ছাত্র তখন কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতাটি আমার রক্তে আগুন জ্বেলে দেয়। কবি মোহন রায়হানের রাউফুন বসুনিয়াকে নিয়ে লেখা কবিতাটিও আমাকে ভীষণভাবে আন্দোলিত করে। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ও মোহন রায়হানকে অনুসরণ করতে পেরে এবং মোহন রায়হানকে নেতা হিসেবে পেয়ে আমার রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় কবিতার প্রতি একটা মোহ জন্ম নেয়। চলছি চলছি হঠাৎ প্রেমে পড়ে গেলাম। নাম তার মাধবী। তাকে প্রথম যখন প্রেমের কথা বলি, তখন কবি রুদ্রের কাছ থেকে ধার করে নিয়ে বলেছিলাম-‘অভিলাষী মন চন্দ্রে না পাক, জ্যোৎস্নায় পাক সামান্য ঠাঁই।’ তাকে মুগ্ধ করার অন্য কোনো পন্থা ছিল না আমার, রাজনীতির প্রেমে যখন আমি মগ্ন তখন একজন নারীকে কীভাবে আকৃষ্ট করা যায় তার জন্য আমি রুদ্রের কাছে ফিরে গিয়েছিলাম। আমি নিজেকে রাজনৈতিকভাবে শাণিত করার জন্য রুদ্রের কাছ থেকে সাহস ধার করেছিলাম।

অনুষ্ঠানে কবিতাপাঠ করেন কবি মোহন রায়হান, কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, কবি তুষার দাশ, কবি লিলি হক, কবি গোলাম শফিক, কবি মনজুরুর রহমান, কবি কামার ফরিদ, কবি শ্যামল জাকারিয়া, কবি এবিএম সোহেল রশিদ, কবি নূরুন্নবী সোহেল, কবি তপন রায়, কবি আমিনুল ইসলাম, কবি মাহবুব শওকত, কবি ক্যামেলিয়া আহমেদ, কবি আসাদ কাজল, কবি দীরাজ মাহমুদ, কবি ইউসূফ রেজা, কবি জামিল জাহাঙ্গীর, কবি রোকন জহুর, কবি মনিরুজ্জামান রোহান, কবি শিমুল পারভীন, কবি আফিয়া রুবি, কবি শাহীন চৌধুরী, কবি কাব্য রাসেল, কবি মিঠু কবির, কবি সবুজ মনির, কবি জয়নুল আবেদীন জয়, কবি শ্যাম সুন্দর কুণ্ডু, কবি মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান , কবি কাওসার জসিম, কবি আব্দুর রাজ্জাক, কবি এম, এ, করিম, কবি মিলি হক, কবি রানা হামিদ, কবি টিমুনী খান রীনো, কবি মেহেদী হোসেন, কবি মনিরুজ্জামান পলাশ, কবি শরীফ খান দীপ, কবি মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম মনজু, কবি নীপা চৌধুরী, কবি সফিকুর রহমান, কবি শেখ সাদী মারজান, কবি ফরিদুজ্জামান, কবি ইলোরা সোমা, কবি সাইদুর রহিম বিটুল, কবি শিশির বিন্দু বিশ্বাস, কবি শাজু শাহজাহান, কবি উত্তম চক্রবর্তী, কবি ইসরাত ঝিমি, কবি কামরুজ্জামান কায়েম, কবি প্রভাবতী চক্রবর্তী, কবি আবীর বাঙালি, কবি ইমরুল কায়েস, কবি কৌমুদী নার্গিস, কবি সাবিনা ইয়াসমিন, কবি আউয়াল খন্দকার, কবি মো. মাহবুবুর রহমান, কবি আতিকুজ্জামান খান, কবি মোস্তাক মুকুল, কবি জামসেদ ওয়াজেদ, কবি মেসবাউর রহমান, কবি মেজবাহ মুকুল, কবি তাসকিনা ইয়াসমিনসহ সত্তর জন কবি । রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র কবিতা আবৃত্তি করেন- বাচিক শিল্পী মেহেদী হাসান, কবি মনিরুজ্জামান পলাশ, অনন্যা মাহমুদ ও ইশরাত ঝিমি। রুদ্রকে লেখা তসলিমার চিঠি পাঠ করেন কবি শিমুল পারভীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন কবি মনিরুজ্জামান রোহান ও কবি শিমুল পারভীন। গান, কবিতা, বাঁশি, আবৃত্তি, কথামালা আর ‘অয়েল ফ্রি’ স্বাস্থ্যসম্মত সুস্বাদু খাবারের আপ্যায়ন সবমিলিয়ে জাতীয় কবিতা পরিষদের রুদ্র স্মারক অনুষ্ঠানটি ছিল হৃদয়গ্রাহী ও জমজমাট ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাংবাদিকের কাজ ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা -কাদের গনি চৌধুরী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেছেন- রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা এবং তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা সাংবাদিকতার কাজ। এটি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।২ আগস্ট রোববার দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব বলেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষে ২০ জন আহত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজধানীতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। নেপচুন এক্সেসরিজ নামে একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়।ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এক জরুরি বার্তায় গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

জানা যায়, উত্তর সিটির ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরখান রাজাবাড়ি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।ডিএনসিসির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় চারজন গুরুতর আহতসহ ১৫ থেকে ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে উত্তরা বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ