আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্কে নিবেদন করে জাতীয় কবিতা পরিষদের অনন্য এক আয়োজন ।।

রিপন শান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দ্রোহ, প্রেম ও প্রতিবাদের কবি, জাতীয় কবিতা পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র ৬৯তম জন্মদিনকে নিবেদন করে গত ২১ অক্টোবর২০২৫ মঙ্গলবার বিকেলে৫টায়, রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডের ‘কাজল মিলনায়তন’-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় কবিতা পরিষদের ৫১তম কবিতাপাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠান।

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র ঘনিষ্ঠ বন্ধু, জাতীয় কবিতা পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান সভাপতি কবি মোহন রায়হানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কবিকে নিয়ে আলোচনা করেন অ্যাটর্নী জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র ছোট ভাই চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফুল্লাহ, আসাদুজ্জামানের স্ত্রী শিরিন সুলতানা এবং রুদ্র’র আরেক বন্ধু কবি ও লেখক তুষার দাশ। কন্ঠশিল্পী পারহান উদ্দিনের কন্ঠে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র লেখা ‘ভালো আছি ভালো থেক, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখ’ এবং শিল্পী মিশু দাসের কন্ঠে প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের ‘আমি বাংলায় গান গাই’ সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।

সূচনা বক্তব্যে কবি মোহন রায়হান বলেন, জাতীয় কবিতা পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রুদ্রের অনেক কীর্তি । সে কবিতা লিখেছে, গান লিখেছে, গল্প লিখেছে, নাটক লিখেছে, অভিনয় করেছে, সাড়া জাগানো প্রেম করেছে, লড়াই লড়েছে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে। বাংলাদেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে দুটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্লাটফর্ম ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিল রুদ্র। রুদ্র তৎকালীন পাকিস্তানী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিল তাঁর উপনিবেশ বিরোধী চেতনার জাগরণের মধ্য দিয়ে। রুদ্র ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। রুদ্র ছিল আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাঁর সঙ্গে অনেক দুঃখ-বেদনা-বিরহ, আনন্দ ও সুখের স্মৃতি রয়েছে। তাঁর জন্মদিনকে স্মরণ করে আজকের অনুষ্ঠানটি আয়োজন করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আজ রুদ্রকে নিয়ে বলার জন্য ব্যতিক্রমী এক মানুষকে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি, বাংলাদেশের সম্মানীয় অ্যাটর্নী জেনারেল ও বিশিষ্ট লেখক আইনজীবী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে। তাঁর জীবনও বৈচিত্রময়, আন্দোলনমুখর এবং সংগ্রামে উত্তাল। মেধাবী আসাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় ছাত্রনেতা ছিল। আমার অত্যন্ত স্নেহভাজন আসাদ একসময় আমার সহযোদ্ধা ছিল। সেই সময় অবৈধ ক্ষমতার দখলদার সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আসাদ অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেছে।
অনুষ্ঠানে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌কে নিয়ে অ্যাটর্নী জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, আমার জীবনের প্রথম প্রেম রাজনীতি এবং শেষ প্রেমও রাজনীতি। এই রাজনৈতিক জীবনের ভাঙা-গড়া, উত্থান-পতন রয়েছে। এই ক্ষেত্রে যাঁরা অবদান রেখেছেন, উৎসাহ যুগিয়েছেন তাদের মধ্যে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও কবি মোহন রায়হান অন্যতম ভূমিকা রেখেছেন। আমি ক্লাস এইটের যখন ছাত্র তখন কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতাটি আমার রক্তে আগুন জ্বেলে দেয়। কবি মোহন রায়হানের রাউফুন বসুনিয়াকে নিয়ে লেখা কবিতাটিও আমাকে ভীষণভাবে আন্দোলিত করে। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ও মোহন রায়হানকে অনুসরণ করতে পেরে এবং মোহন রায়হানকে নেতা হিসেবে পেয়ে আমার রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় কবিতার প্রতি একটা মোহ জন্ম নেয়। চলছি চলছি হঠাৎ প্রেমে পড়ে গেলাম। নাম তার মাধবী। তাকে প্রথম যখন প্রেমের কথা বলি, তখন কবি রুদ্রের কাছ থেকে ধার করে নিয়ে বলেছিলাম-‘অভিলাষী মন চন্দ্রে না পাক, জ্যোৎস্নায় পাক সামান্য ঠাঁই।’ তাকে মুগ্ধ করার অন্য কোনো পন্থা ছিল না আমার, রাজনীতির প্রেমে যখন আমি মগ্ন তখন একজন নারীকে কীভাবে আকৃষ্ট করা যায় তার জন্য আমি রুদ্রের কাছে ফিরে গিয়েছিলাম। আমি নিজেকে রাজনৈতিকভাবে শাণিত করার জন্য রুদ্রের কাছ থেকে সাহস ধার করেছিলাম।

অনুষ্ঠানে কবিতাপাঠ করেন কবি মোহন রায়হান, কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, কবি তুষার দাশ, কবি লিলি হক, কবি গোলাম শফিক, কবি মনজুরুর রহমান, কবি কামার ফরিদ, কবি শ্যামল জাকারিয়া, কবি এবিএম সোহেল রশিদ, কবি নূরুন্নবী সোহেল, কবি তপন রায়, কবি আমিনুল ইসলাম, কবি মাহবুব শওকত, কবি ক্যামেলিয়া আহমেদ, কবি আসাদ কাজল, কবি দীরাজ মাহমুদ, কবি ইউসূফ রেজা, কবি জামিল জাহাঙ্গীর, কবি রোকন জহুর, কবি মনিরুজ্জামান রোহান, কবি শিমুল পারভীন, কবি আফিয়া রুবি, কবি শাহীন চৌধুরী, কবি কাব্য রাসেল, কবি মিঠু কবির, কবি সবুজ মনির, কবি জয়নুল আবেদীন জয়, কবি শ্যাম সুন্দর কুণ্ডু, কবি মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান , কবি কাওসার জসিম, কবি আব্দুর রাজ্জাক, কবি এম, এ, করিম, কবি মিলি হক, কবি রানা হামিদ, কবি টিমুনী খান রীনো, কবি মেহেদী হোসেন, কবি মনিরুজ্জামান পলাশ, কবি শরীফ খান দীপ, কবি মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম মনজু, কবি নীপা চৌধুরী, কবি সফিকুর রহমান, কবি শেখ সাদী মারজান, কবি ফরিদুজ্জামান, কবি ইলোরা সোমা, কবি সাইদুর রহিম বিটুল, কবি শিশির বিন্দু বিশ্বাস, কবি শাজু শাহজাহান, কবি উত্তম চক্রবর্তী, কবি ইসরাত ঝিমি, কবি কামরুজ্জামান কায়েম, কবি প্রভাবতী চক্রবর্তী, কবি আবীর বাঙালি, কবি ইমরুল কায়েস, কবি কৌমুদী নার্গিস, কবি সাবিনা ইয়াসমিন, কবি আউয়াল খন্দকার, কবি মো. মাহবুবুর রহমান, কবি আতিকুজ্জামান খান, কবি মোস্তাক মুকুল, কবি জামসেদ ওয়াজেদ, কবি মেসবাউর রহমান, কবি মেজবাহ মুকুল, কবি তাসকিনা ইয়াসমিনসহ সত্তর জন কবি । রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র কবিতা আবৃত্তি করেন- বাচিক শিল্পী মেহেদী হাসান, কবি মনিরুজ্জামান পলাশ, অনন্যা মাহমুদ ও ইশরাত ঝিমি। রুদ্রকে লেখা তসলিমার চিঠি পাঠ করেন কবি শিমুল পারভীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন কবি মনিরুজ্জামান রোহান ও কবি শিমুল পারভীন। গান, কবিতা, বাঁশি, আবৃত্তি, কথামালা আর ‘অয়েল ফ্রি’ স্বাস্থ্যসম্মত সুস্বাদু খাবারের আপ্যায়ন সবমিলিয়ে জাতীয় কবিতা পরিষদের রুদ্র স্মারক অনুষ্ঠানটি ছিল হৃদয়গ্রাহী ও জমজমাট ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

যশোরের চাড়াভিটায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


যশোরে বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা ও তার পার্শ্বতি এলাকায়  হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেলা ২টার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ডেকে   মেঘা আচ্ছন্ন হয়ে ঝড় বাতাসের সাথে বজ্র বূষ্টি শুরু হয়ে

টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় চলে এই ঝড়।চাড়াভিটা বাজারে পাশেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি উপ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।, গত কয়েক দিন ধরে যশোর অঞ্চলে  তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। দুপুরের পর আকাশ কালো মেঘে গুমোট আকার ধারণ করে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত।

বাঘারপাড়া  উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের চাড়াভিটা বাজার সহ কয়েকটি  এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে।যে কারণে  বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় ভূতুড়ে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসী জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি।। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভাঙ্গুড়ায় ন্যায্য মূল্যে কৃষকের ধান সংগ্রহের সময় শেষ, সরকারি মূল্য পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি খাদ্যগুদামের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ পেয়ে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করেছে খাদ্য বিভাগ।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো/২০২৬ মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় কর্তৃক তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্য থেকে আগে আসলে আগে বিক্রয় ভিত্তিতে ধান ক্রয় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষি বিভাগের নিবন্ধিত কৃষকরা কৃষি কার্ড ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পান। সংগ্রহ নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান গ্রহণের পর মূল্য সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমেছে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেয়েছেন।
উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৭০০ নিবন্ধিত কৃষকের কৃষি কার্ড ও কৃষক হিসাব রয়েছে। ধান বিক্রি করা অনেক কৃষক জানান, বাজারমূল্যের তুলনায় সরকারি মূল্য বেশি হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। উৎপাদন খরচ মিটিয়ে অতিরিক্ত আয় করতে পারায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ জানায়, ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। কৃষকদের পরিচয়, কৃষি কার্ড এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পরই ধান গ্রহণ করা হয়েছে। সব অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে।ভাঙ্গুড়া খাদ্যগুদামের উপ-পরিদর্শক নিরঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই করে ধান গ্রহণ করা হয়েছে এবং কৃষকদের নিজস্ব হিসাবেই অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

ভাঙ্গুড়া এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম জানান, সরকার চলতি বোরো/২০২৬ মৌসুমে গত ৩ মে থেকে সারাদেশে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু করে। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নির্ধারিত ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান ইতোমধ্যে সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে ধানের দাম কিছুটা কম থাকায় কৃষকরা প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহী হয়েছেন। ফলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ বর্ম্মন বলেন, ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের কৃষি কার্ড ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের পরই বিল অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি মূল্য পাওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের আশা, আগামী মৌসুমেও সরকার একইভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে। এতে কৃষকরা উৎপাদনে আরও উৎসাহিত হবেন এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ