আজঃ শুক্রবার ১০ জুলাই, ২০২৬

বোয়ালখালী হাসপাতালে থেকে নার্স-মিডওয়াইফ ৯জন বদলি

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়োজিত ৯ জন নার্স-মিডওয়াইফকে বদলি করেছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এ আদেশে অন্তর্বিভাগের (ইনডোর) স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চলতি বছরের ২৮ অক্টোবর থেকে পৃথক কয়েকটি পত্রে এ বদলি এবং সংযুক্তির অফিস আদেশ দিয়েছেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোসাম্মৎ মঞ্জু আখতার। এর বিপরীতে মাত্র ১ জন নার্সকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে।

এ আদেশের ফলে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্তর্বিভাগে (ইনডোর) স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রসূতি সেবা ও অপারেশন থিয়েটারের সেবা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে সিনিয়র স্টাফ নার্স ২৯টি ও মিডওয়াইফ (ধাত্রী) পদ রয়েছে ১০টি। এ পদে কর্মরত রয়েছেন নার্স ২৪ জন ও মিডওয়াইফ ৪ জন। এর মধ্যে ৫ জনকে বদলি ও ৪ জনকে সংযুক্তি করে আদেশ দেওয়া হয়ছে। ২ জন কোর্সে ও একজন মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করছেন।

জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে শিশু, মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ড রয়েছে। প্রায় সময় নির্ধারিত বেডের চেয়ে অধিক রোগী ভর্তি হন। নরমাল ডেলিভারি, সিজারিয়ান ডেলিভারি, নাক-কান-গলা ও অর্থোপেডিক্স সার্জারি হয়ে থাকে নিয়মিত। নার্স ও মিডওয়াইফ সংকটের কারণে এসব সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, ৩৯টি নার্স ও মিডওয়াইফ পদের বিপরীতে ২৮ জন নিয়োজিত ছিলেন। এই স্বল্প সংখ্যক জনবল দিয়ে তিনটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন সকাল, বিকেল ও রাত এই ৩ শিফটে স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হতো। ৩ জনের কাজ একজনকে করতে হয়। কেননা রোগীদের ওষুধ খাওয়ানো, স্যালাইন এবং ইনজেকশন দেওয়া, ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা (ড্রেসিং) ও সেবা-শুশ্রূষা সবকিছুই নির্ভর করে তাঁদের ওপর। এখন নার্সের সংখ্যা আরও অপ্রতুল হলে স্বাস্থ্যসেবা থেকে রোগীরা বঞ্চিত হবেন। হঠাৎ উপজেলা থেকে গণহারে নার্স ও মিডওয়াইফদের সরিয়ে নেওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো চিকিৎসাসেবায় স্থবিরতা নেমে আসবে বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বদলি বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.জাফরিন জাহেদ জিতি বলেন, ৫০ জন রোগীর জায়গায় হাসপাতালে ৮০-১০০ জন ভর্তি থাকে। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী থাকলেও নার্সের সংখ্যা অপ্রতুল। এর মধ্যে বদলি ও সংযুক্তির ফলে হাসপাতালের অন্তর্বিভাগীয় সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে। এমনিতে রোগীদের রাত দিন সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগের তুলনায় ৪/৫ গুন ডেলিভারি, মাইনর, মেজর সার্জারি চলমান রয়েছে জানিয়ে ডা. জাফরিন জাহেদ জিতি বলেন,’হঠাৎ এ বদলি আদেশ বিপাকে ফেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে বদলি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। কিন্তু নার্সদের গণহারে যে বদলি আদেশ দেওয়া হয়েছে তাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া হয়নি। নার্সরা অনলাইনে বদলির আবেদন করেছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় না করে এভাবে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের বদলি ও সংযুক্তি আদেশ করা ঠিক হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জন মহোদয়সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। জনস্বার্থে নার্স প্রতিভূ ছাড়া ছাড়পত্র দিলে হাসপাতালের সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের হালিশহরে গোলপোস্ট ভেঙ্গে প্রাণ গেল তরুণের

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর বেগমজান উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা শেষে গোলপোস্ট ভেঙ্গে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে আহত অবস্থায় মাহিদুলকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।মৃত্যুবরণকারী মাহিদুল ইসলাম পটুয়াখালীর বাউফল থানার কোনোপদিয়া এলাকার রাসেল গাজীর ছেলে।চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ সোহেল রানা জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কিশোরকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাহিদুলের খালাতো ভাই মোহাম্মদ মনির বলেন, মাহিদুল রংমিস্ত্রির কাজ করতো।সকালে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়েছিল। প্রতিপক্ষকে গোল দেওয়ার পর গোলপোস্টের ওপর ঝুলে আনন্দ করার সময় লোহার গোলবার ভেঙ্গে সে আহত হয়।পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।

উন্নত নগরীর অন্যতম পূর্বশর্ত কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা : চসিক মেয়র শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, একটি উন্নত নগরীর অন্যতম পূর্বশর্ত কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা। সড়ক উন্নয়নের ফলে শুধু যাতায়াত সহজ হয় না, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সম্প্রসারিত হয়। এ কারণে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রয়োজনভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগরীর ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ওয়ার্ডের শহীদ এনএমএমজে ডিগ্রি কলেজ সড়ক ও রাজাখালী সড়কের উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন। এসব সড়কের উন্নয়নের মাধ্যমে নাগরিকদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল ছিল কষ্টসাধ্য। জনগণের দুর্ভোগ কমানো এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এসব সড়কের উন্নয়ন কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেফ অ্যান্ড স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিক সেবার মানোন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

আলোচিত খবর

এইচএসসি-সমমান প্রথমদিন অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার -৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ১২০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে।০২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন।

অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জনকে। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৯৭, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৭৯৫, যশোর বোর্ডে দুই হাজার ৭৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজার ৩৪০, সিলেট বোর্ডে এক হাজার ১২৭, বরিশাল বোর্ডে এক হাজার ৩৪৬, দিনাজপুর বোর্ডে এক হাজার ৯৩৭ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে এক হাজার ১৪২ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ বিষয়ে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ১৩১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮৩ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে একজনকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ