আজঃ সোমবার ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

সিসিটি-এনসিটি চুক্তি থেকে সরে আসার আহবান বন্দর রক্ষা পরিষদের।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরের চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরকে দেওয়ার চুক্তি থেকে সরে আহার আহবান জানিয়েছেন রক্ষা পরিষদ। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি-এনসিটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কর্মচারীদের শোকজসহ নানাবিধ হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা শেষে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

নগরের আগ্রাবাদ মোড় থেকে পদযাত্রাটি বারিক বিল্ডিং এলাকায় বন্দর অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটকে দেন। এ সময় সড়কের একপাশে যানজট তৈরি হয়। সেখানেই সমাবেশ করে বক্তব্য দেন পরিষদের নেতারা। এ সময় পরিষদের আহ্বায়ক হাসান মারুফ রুমী বলেন, চুক্তির জায়গা থেকে সরে আসেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা বলেছেন। নির্বাচনে মনোযোগ দেন, অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করবেন না।

হাসান মারুফ রুমী বলেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী সরকার ওই চুক্তি করেছিল। আমরা দাবি করেছিলাম, সব চুক্তি জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে। গোপন চুক্তি আমরাসহ এ দেশের জনগণ পড়ে দেখেনি। জনগণের প্রতিনিধি, স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে বসেনি আলোচনা করেনি। চুক্তি নিয়ে কথা বলেনি। চুক্তির ফলে কী হবে সেটিও আপনারা গোপন করছেন। আর যখন শ্রমিকরা আন্দোলন করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ হুমকি দিচ্ছে। আমরা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, রক্তের ওপর কোনো সরকার টিকতে পারেনি।

গুম করে, খুন করেও টিকতে পারেনি। বন্দর শ্রমিকদের হুমকি দেবেন, চাকরিচ্যুত করবেন, গ্রেফতারের ভয় দেখাবেন এটা করে আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢাললে পরিণতি ইতিহাসে বার বার নজির আমরা দেখেছি। সুতরাং সময় থাকতে অবিলম্বে হুমকি ধামকি বন্ধ করেন। চুক্তির জায়গা থেকে সরে আসেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা বলেছেন। নির্বাচনে মনোযোগ দেন, অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করবেন না। চুক্তির জায়গা থেকে ফিরে আসেন। অবিলম্বে এনসিটি সিসিটির চুক্তি প্রক্রিয়া থেকে সরে আসেন। দুর্নীতি থাকলে তদন্ত করেন। সমাধান বের করেন।

তিনি বলেন, বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি সিসিটি এনসিটি কোনোভাবেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দিতে দেন না। বন্দরের লভ্যাংশ শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তার মানে এটি লাভজনক। এনসিটি সিসিটি আমরা মেনে নেব না। আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। উনারা মুখস্থ বলে দিচ্ছেন বন্দরের সক্ষমতা কম। নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে সরকারকে। রূপরেখা তৈরি করতে হবে।

বক্তারা বলেন, এনসিটি বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলছে। রেকর্ড আয় করেছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। এনসিটি বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়ে বাংলাদেশের অস্তিত্ব সংকটে ফেলা আমরা শক্তহাতে প্রতিরোধ করব। আমরা বন্দর রক্ষা করব। আমরা আমাদের দেশ রক্ষা করব।

বন্দরের সিসিটি এনসিটিতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল এবং লালদিয়া চর টার্মিনাল ও পানগাঁও টার্মিনালে বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিয়ে চুক্তি প্রকাশের দাবিতে পৃথক আন্দোলন করছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদও (স্কপ)। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বন্দরের টোল প্লাজা গেট ও বড়পোল মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি শেষে স্কপ নেতারা ঘোষণা দেন আগামী ৫ ডিসেম্বর পুরাতন রেল স্টেশন চত্বরে বৃহত্তর সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেশ বদলাতে থ্রি জিরো থিওরি আদর্শ মডেল: চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেছেন, দেশ বদলাতে তথা পৃথিবী বদলাতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর থ্রি জিরো থিওরি একটি আদর্শ মডেল। এ মডেল অনুসরণ করে আমাদের তরুণ সমাজ কাজ করলে দেশে যেমন ক্ষুধা এবং বেকারত্ব দূর হবে, তেমনি মানবজাতি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বেঁচে থাকবে।
কমিশনার রোববার চট্টগ্রামের জেলা তথ্য অফিস

আয়োজনে চট্টগ্রাম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে ‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই সব কথা বলেন।বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আজকের বিশ্বে তরুণদের জন্য সম্ভাবনা ও সুযোগের ক্ষেত্র দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমানে শুধু চাকরির পিছনে ছুটে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজেদের যোগ্যতা, সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হতে হবে।

সভপতির বক্তব্যে মোঃ বোরহান উদ্দীন বলেন, যুবক-যুবতীদের নিজেরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার এবং পরিবারের লোকদেরকে ভোট দিতে উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে নির্বাচন উৎসব হবে। এই উৎসবে সকল প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আশা করে সরকার। এজন্য নির্বাচনী পরিবেশকে অবাধ, সুষ্ঠু ও ভয়হীন করার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

জেলা তথ্য অফিস, চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোঃ বোরহান উদ্দীন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আবুল বাশার, আঞ্চলিক তথ্য অফিস, চট্টগ্রামের সিনিয়র তথ্য অফিসার বাপ্পী চক্রবর্তী, সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ এস এম গিয়াসউদ্দিন বাবর, আব্দুল বারী প্রমূখ বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন । যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণরত প্রায় ১৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী এবং প্রিন্ট ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা

ঠাকুরগাঁওয়ে নবাগত পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনের সাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৭ ডিসেম্বর রবিবার দুপুর ১২টায় জেলা পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।এসময় পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন বলেন, মিডিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষের বাকস্বাধীনতা একমাত্র মিডিয়ার মাধ্যমেই রক্ষা করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সেবা করাই আমার প্রথম কাজ। মাদক সব অপরাধের মূল উৎস। তাই যেকোনো মূল্যে সমাজকে মাদকমুক্ত করতে হবে। এসময় যানজট, মাদকমুক্ত করতে ও বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন পুলিশ সুপার।


এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) খোদাদাদ হোসেন,সহকারী পুলিশ সুপার রাণীশংকৈল সার্কেল স্নেহাশীষ কুমার দাস, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু সহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য,গত ২৯ নভেম্বর বেলাল হোসেন ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ